মীরা, আমি তিনটে খুন করবো, বুঝলি? মীরা মাত্রই ঘুম থেকে উঠেছে। ঘুম থেকে উঠেই এই ধরনের কথা শুনলে একটা ধাক্কার মতো খাওয়ার কথা। তবে মীরার কোনো ভাবান্তর হলো না। সে সহজ গলায় বললো, ও আচ্ছা। আমি সিরিয়াস। মীরা লম্বা একটা হাই তুলতে তুলতে বললো, আমি কি বলেছি নাকি তুই ফাজলামি করছিস? মীরা, আমি সত্যিই সিরিয়াস। মীরা হাসানের দিকে তাকালো। সে তার পাশেই আধশোয়া হয়ে একটা বই পড়ছে। এখান থেকে বইয়ের নামটা পড়া যাচ্ছে না। মীরা জিজ্ঞেস করলো, কী পড়ছিস? হাসান বললো, কবিমৃত্যু।
লেখকের যে শেষ দুটো বই পড়েছি, তার তুলনায় অনেক ভালো।
দুটো আলাদা গল্প মিশে যায় এক স্রোতে। একটা রহস্যের চাদর থাকে, সেটাও উঠে যায় শেষমেশ।
বইয়ের প্লট খুবই চমৎকার। কিন্তু ততোটা চমৎকার নয় কাহিনীবিন্যাস। অনেক দ্রুত শেষ হয়ে যায় সব, আরও হাজার দশেক শব্দ অনায়াসে ঢুকতে পারতো, ফলে অসম্পূর্ণ থেকে যায় অনেক বর্ণনাই এবং একটা অসাধারণ প্লটের অনেকটাই অপচয় হয়ে যায়।
তারপরও চার তারা (আসলে ৩.৫) দেয়ার কারণ একটাই, লেখকের প্লট ভাবনা অনেক ভালো। পাশাপাশি অসম্পূর্ণ যেমন রেখেছেন তেমনই যতোটুকু বলেছেন ততোটুকু ভালোভাবেই বলেছেন- ভালোভাবে বলেছেন এই অর্থে একটু না একটু হলেও চরিত্রগুলো অনুভব করা যায়। বিশেষত অগুরুত্বপূর্ণ থাকা চরিত্র আশফাক আহমেদকেও আমি অনুভাব করি প্রবলভাবেই, হয়তো রিলেট করি এজন্যই! হয়তো নয়! কিন্তু সবমিলিয়ে ঝামেলায় থেকেও আহমেদ ইশতিয়াক একটা সুখপাঠ্য উপন্যাসই লিখেছেন।
[আহমেদ ইশতিয়াক এর নামে মূল অভিযোগ হুমায়ূন আহমেদ এর লিখনশৈলী কে অনুসরণ করা- এইটা আমার হাল আমলে পড়া অনেক লেখকের মধ্যেই আছে, বিশেষত সমকালীন ঔপন্যাসিক। এটাকে আমি, ব্যক্তিগতভাবে নেগেটিভ পয়েন্ট হিসেবে দেখিনা। রবীন্দ্রনাথ পরবর্তী যুগেও কবিরা ঠাকুরের প্রভাবের বাইরে যেতে পারেনি। আর আমি হুমায়ূন কে বাংলাদেশি বাংলা সাহিত্যের বিউপনিবেশিক সাহিত্যিক হিসেবে দেখি যিনি তার সময়ের ঢাকাই সাহিত্য যা মূলত কলকাতা মুখী ছিল- লেখার ঢঙে ও অন্যান্য অনেক দিক থেকে এবং ভাষাটাও হয়ে গিয়েছিল কলোনিয়াল বাংলা ভাষার মতো তাকে মোটামুটি ডজ করে হুমায়ূন নিজের মতো করে লিখেছেন, যেটা অবশ্যই শুদ্ধ বাংলা ভাষা আবার একইসাথে কলোনিয়াল বাংলা না, একদম ঢাকাই মধ্যবিত্ত ভাষা। তো তার হাতে এই যে সাহিত্যের ভাষার একটা পরিবর্তন, সেইটা যে অনেকের লেখায় পাওয়া যাবে এটাতে আসলে অস্বস্তির কিছু নেই। একজন লেখক যদি ওই শৈলীর বাইরে গিয়ে লিখতে পারে, এবং পাঠক সেটা পছন্দ করে, খুবই ভালো, আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু একজন লেখক যদি চেতন বা অবচেতনে ওই শৈলী ফলো করে তাকে নিয়ে সরাসরি ঋণাত্মক হওয়ার কিছু আমি দেখিনা, কারণ ওইটা ছাড়া একটা উপন্যাস/গল্পের আরও অনেক পয়েন্ট থাকে, সেসব পয়েন্টে আলোচনা ব্যতিরেকে শুধু এটা নিয়ে পড়া থাকা আমার মতে অন্যায্য। তবে অবশ্যই, প্রভাবের মধ্যে বেড়েও প্রভাবকে নাকচ করা একজন লেখকের ভালো গুণ৷ আহমেদ ইশতিয়াকের প্রতিও এই প্রত্যাশা রইলো যে উনি ওনার এরকম চমৎকার প্লটে আরও একটু সময় বিনিয়োগ করে আরও ভালো কিছু উপহার দিবেন।]