পচিশ বছর আগে শ্রাবণের টিপ টিপ বৃষ্টি ঝরা এক সকালে পাগল হয় সেকান্দার। সেদিন থেকে ঘরে ফেরে না। গোসলও করে না। গোসল করতে বললে কোথাও পানি নাই। সব দেখি রক্ত। কী দিয়ে গোসল করব? সেকান্দার বসে থাকে টুঙ্গিপাড়ায়। একটি কবরের কাছে। কবরটি বঙ্গবন্ধুর। সেকান্দারের সাথে রয়েছে একটি পুঁটুলি। সেই পুঁটুলির মধ্যে রয়েছে একটা ছবি। কার ছবি সেটা? কাউকে দেখায় না সেকান্দার। আড়ালে আড়ালে নিজে দেখে। আবার কাঁদে। আগস্ট মাসে সেকান্দার আসে ঢাকায়। বসে থাকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে। কয়েকদিন পর আবার চলে যায় টুঙ্গিপাড়ায়।
রুহুল আমিনে শেষ ইচ্ছে একবার ঢাকায় আসবেন। ৩২ নম্বর সড়কে। দেখবেন তার মুজিব ভাইর বাড়িটা। কাজল ঢাকায় নিয়ে এসেছে তাকে। তখন দেখা হয় সেকান্দারের সঙ্গে। সেকান্দারকে উঠিয়ে দিল পুলিশ। এখানে বসা যাবে না। পুলিশের কথা মানে না সেকান্দার। বসে থাকবে সে। কেন উঠে যাবে। এই বাড়িতে তার অংশ আছে। সেকান্দার যাচ্ছে আমিন আনতে। এই বাড়ি ভাগ করবে। কেন পুলিশ বসতে দিবে না তাকে। এই সময় রুহুল আমিনের সামনে এসে একজন দাঁড়ালেন। বললেন, আমাকে চিনতে পারছেন? আমি মুহিতুল। আপনি এখানে? আমি এসেছি এই বাড়িটা দেখতে। বাড়ি দেখতে এসেছেন? তা আপনি কি জানেন এই বাড়ির ইতিহাস? রুহুল আমিন মাথা নাড়ান। কিছুই জানেন না তিনি। শুধু জানেন এই বাড়িটা তার মুজিব ভাইর। মুহিতুল আজ তাকে এই বাড়ির ইতিহাস শুনাবেন। রুহুল আমিনও বসেন। শুনবেন একটা বাড়ির ইতিহাস। ইতিহাসের কি আছে এই বাড়ির। এভাবেই ইতিহাসের হাত ধরে শব্দের পর শব্দ, বাক্যের পর বাক্য, পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা এগিয়ে গেছে উপন্যাসটির কাহিনি।