আফসার আমেদের জন্ম হাওড়া জেলার কড়িয়া গ্রামে। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। প্রথমদিকে আফসার মূলত কবিতা রচনায় মনোনিবেশ করলেও পরবর্তীকালে গদ্যরচনা শুরু করেন। ১৯৮০ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস ‘ঘর গেরস্তি’। লেখালেখির পাশাপাশি তিনি ‘প্রতিক্ষণ’ শিরোনামের একটি সাহিত্য সাময়িকীতে কয়েক বছর কাজ করেছেন। এছাড়া কাজ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমিতে।
আফসার আমেদ রচিত বই ‘বিবির মিথ্যা তালাক ও তালাকের বিবি এবং হলুদ পাখির কিসসা’ আসামের বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত ছিল। মৃণাল সেন পরিচালিত ‘আমার ভুবন’ চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছিল তাঁর ‘ধানজ্যোৎস্না’ উপন্যাস অবলম্বনে। ‘রাত কটা হলো?’ শিরোনামের একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছিল তাঁর ‘হত্যার প্রমোদ জানি’ শিরোনামের উপন্যাস অবলম্বনে।
আফসার আমেদ অন্যান্য ভাষার বইও বাংলায় অনুবাদ করেছেন। উর্দু উপন্যাস ‘দো গজ জমিন’ বাংলায় ‘সাড়ে তিন হাত ভূমি’ শিরোনামে অনুবাদ করেন। এছাড়া হরি মোতোয়ানি রচিত সিন্ধি ভাষার একটি গ্রন্থ ‘আশ্রয়’ শিরোনামে বাংলায় অনুবাদ করেছেন।
১৯৯৮ সালে আফসার আমেদ সোমেন চন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন। ‘দো গজ জমিন’ অনুবাদের জন্য বঙ্গানুবাদ শাখায় ২০০০ সালে পান সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার। ২০০৯ সালে পেয়েছিলেন বঙ্কিম পুরস্কার। আর ২০১৭ সালে ‘সেই নিখোঁজ মানুষটা’ উপন্যাসের জন্য সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার।
নিজের বিয়ের ঠিক আগে পালিয়ে গিয়েছিলো আবিদ। সেই নিখোঁজ মানুষটা ফিরে এসেছে হঠাৎ। গ্রামে তাকে নিয়ে প্রচণ্ড আলোড়ন। সে ঘুরে ঘুরে সবার সাথে মিশছে, অনেকের সমস্যা সমাধান করছে। দেখা হচ্ছে না শুধু একজনের সাথে-তার সেই প্রাক্তন বাগদত্তা। সেই নারী অপেক্ষায় আছে তার,গোপনে। দেখা হবে কি দুজনের?আবিদ কি ধরা দেবে? "জীবনের রঙ তবু ফলানো কি হয়?এইসব ছুঁয়ে ছেনে?"
বইটিকে ঠিক উপন্যাস নয়,বরং বড়গল্প মনে হয়েছে। গল্পের পরিণতি উপসংহারের অনেক আগেই বোঝা যাচ্ছিলো। তবু, আফসার আমেদের লেখা যেহেতু,আগ্রহ নিয়ে পড়তে হয়। সব মিলিয়ে সুন্দর গল্প কিন্তু কিছুতেই "সাহিত্য অ্যাকাডেমি" পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য বলে মনে হয়নি। লেখকের প্রথমদিকের লেখাগুলো এর চাইতে অর্থবহ, তীক্ষ্ণ, শ্লেষাত্মক ও আনন্দদায়ক। আশার কথা একটাই, "সেই নিখোঁজ মানুষটা" পড়ে অনেকেই হয়তো লেখকের অন্য গল্প উপন্যাস পড়তে উদ্বুদ্ধ হবে আর আবিষ্কার করবে এক অচেনা, অদেখা জগত; যে জগতটা আমাদের খুব কাছেই কিন্তু কোনোদিন দেখার প্রয়োজন মনে করিনি আমরা।
A standard predictable bed-time story. Poor narration and plot. Filled with inconsistencies (of space, time, and character). However, it can still entertain the reader. Contains a touch of Indian television drama. I am not sure how it got the Sahitya Akademi Award!
আপনি আজ পর্যন্ত কতবার ভেবেছেন ঘর-সংসার ,চেনা পথ-ঘাট, চেনা মানুষ-জন ছেড়ে হারিয়ে যাওয়ার কথা? পেরেছেন কি? পারেননি । এরকমটা প্রত্যেকেই জীবনে অন্তত একবার ভাবে। সবাই পারে না। কেউ কেউ পারে সমস্ত বন্ধন ছিন্ন করে নিখোঁজ হয়ে যেতে। যেমনটা পেরেছিল বাগনানের মালিয়া গ্রামের আবিদ। যে কিনা প্রেমিকা জুলেখার সঙ্গে বিয়ের চার দিন আগে নিখোঁজ হয়ে গেল। ছোটবেলায় সাহসিকতার জন্য রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাওয়া ছেলেটা কেন যে পালিয়ে গেল তা আজও পাশাপাশি আট-দশ গ্রামের মানুষের চর্চার বিষয়। আবিদ ফিরে আসে চার বছর পর । আবার আলোড়ন পড়ে যায় ওই অঞ্চলে । দারিদ্রক্লিষ্ট প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে যে তার নাড়ির টান। দারিদ্রতা এখানে ধর্মের বাঁধা মানে না। তাই সকলেই তাকে তাদের বাড়িতে নিমন্ত্রণ করতে চাই। যতটুকু সম্বল তাই দিয়েই তার আপ্যায়ন করতে চাই। আবিদও যায় প্রত্যেকের বাড়ি । তাদের অভাব অভিযোগ শোনে , সাধ্যমতো তার প্রতিকার করে । আজও অনেক মানুষের কাছে সে-ই একমাত্র ভরসা।
এই মানুষটার জন্য একজন অপেক্ষা করছে , যে তার প্রেমিকা ছিল যে তার স্ত্রী হতে পারত । জুলেখা তার নাম। আজও সে জানেনা কেন আবিদ তাকে ছেড়ে নিখোঁজ হয়েছিল। সে তার ছেলের জন্য দোয়া চেয়ে আবিদকে নিমন্ত্রণ জানায় । আবিদ কি জুলেখার সামনে দাঁড়াতে পারবে? সেই আবিদ যে সাহসিকতার জন্য রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেয়েছিল। নাকি আবার রাতের অন্ধকারে এই ভালোবাসার সমস্ত বন্ধন কেটে নিখোঁজ হবে?
আফসার আহমেদের এই ছোট উপন্যাস ' সেই নিখোঁজ মানুষটা' পড়ার সময় আমার শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের "মানুষ বড়ো কাঁদছে, তুমি মানুষ হয়ে পাশে দাঁড়াও মানুষ বড়ো একলা, তুমি তাহার পাশে এসে দাঁড়াও।" এই লাইনদুটো বারবার মনে পড়ছিল। এই উপন্যাসের ভাষা এবং বর্ণনাশৈলী আলাদাভাবে পাঠকের চোখে পড়বে। বিশেষ করে কথোপকথনের জায়গাগুলোতে। ২০১৭ সালে এই বইটির জন্য লেখক অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। হৃদয়বান পাঠকদের জন্য এটি অবশ্যপাঠ্য উপন্যাস।