Syed Rashad Imam Tanmoy is known for his roles as a cartoonist, graphic novelist and storyteller. Tanmoy's storytelling journey originated in the domain of editorial cartooning for numerous esteemed national dailies of Bangladesh. Tanmoy's comic series, "Rustom Palowan," depicting a local hero, illustrated and written by him, has preserved widespread affection from children and parents alike, earning its place as a household favorite. Currently, Tanmoy passionately immerses himself in crafting Bengali fairy tales and fantasy series, aiming to revitalize these traditional narratives for a new generation of readers in his unique storytelling style, with a vision to take it to a global scale. Tanmoy's 'Where are the Chonchols?' is a children's book where children can explore 12 vibrant festivals of Bangladesh, filled with colourful illustrations and cultural elements that make learning about local traditions fun and fascinating. Tanmoy has started publishing chapters of his autobiographical novel, "Ochin Pakhi," (Strange Bird) that intends to gradually unveil his observations on Bangladesh's socio-political landscape and reflections on his soul-searching journey. As an author, Tanmoy adeptly navigates between the realms of fantasy writing and non-fiction. In 2016, Tanmoy founded Cartoon People, a community fostering young artists and visual storytellers. He also served as an Associate Editor at UNMAD, a satire magazine. Tanmoy engages in meaningful community work in his free time, conducting interactive visual storytelling workshops for children in underserved areas, including Rohingya refugee camps and hill tracts.
গত বছর প্রায় এই সময়টাতেই শেখ মুজিবের অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়ছিলাম। এই বইয়ের উপর ১২টি খন্ডে গ্রাফিক নভেলটার একেকটা ইস্যু বের করার কথা। প্রতি ইস্যু দেখলাম প্রতি বছর বইমেলায় বের হচ্ছে। ১৫ সালে শুরু হয়েছে - তাহলে আরও ৮ বছর লাগবে । এই চমৎকার জিনিসটার জন্য ৮ বছর অপেক্ষা করা ... -_- কার্টুনিস্ট তন্ময় দারুণ কাজ করেছে। মুজিবের একদম আলাদা নতুন একটা ইমেজ তৈরি করেছে। প্রতিটা সিকোয়েন্স খুবই ডাইনামিক এবং grand. একটা দুইটা লিমিটেশন চোখে পড়েছে, যেমন ইস্যু ৩ এ conversation এর দুই একটা সিকোয়েন্সে স্পিচ বাবল গুলো এমনভাবে প্লেস করা যে অর্ডার টা বুঝা যায় না, ইস্যু ৪ এর একটা সিকোয়েন্সে দেখলাম আবার ঠিকমত অর্ডার করতে পেরেছে। ইস্যু ৩ এ মিছিলের একটা সিকোয়েন্সে জনসমাবেশ আঁকাটা একটু ফাঁকিবাজি টাইপ লাগছে :p তবে সব মিলিয়ে কাজটা চমৎকার হয়েছে।
জীবিত মানুষ- প্রায়শই এক ইন্দ্রিয় পরায়ন ঘটনা সে। বিশেষত চোখের ব্যবহারে। চোখের দেখার সাথে ধরে/ছুয়ে দেখার মানে যাপন অভিঙ্গতার কনট্রাস্ট আর মগজে তদন্তের বাছবিছার- প্রসেসিং উপক্রমের পর বাদবাকি যা থাকে (বোধ হয়) সে হলো একপ্রকার মনের দেখা।
মন আর মগজের অনুসঙ্গে আমরা দৃশ্য তৈরি করি। আমাদের আধেক বুলি আর আধেক ভাব, এদেরই সহগামী হয়ে উঠে আমাদের সেই স্বভাবে কিছুটা এমবিসাস আর কিছুটা সংস্কারবাদী একপ্রকার- মনের দেখাটা। পলিওলিথিক আমরা আলতামিরার দেয়ালে, ছাদে একে রাখি তেজ্যোদীপ্ত বাইসন আর ষাড়ের ছবি। ভীমবেটকার পাথরের আড়ালে লাল আর সাদায় এঁকে রেখেছি আমাদের প্রাগৈতিহাসিক হাতের ছাপ, নিয়ত জন্ম মৃত্যুর মধ্যপ্রস্তর ডেপিকসন, প্রস্তর জ্যামিতি রেখা, অনন্য শিকার কাণ্ড আর ময়ূর.. আমরা এঁকেছি হায়রোগ্লিফিকস, অটোমান-মোঘল উপাখ্যান, পারস্য কথা, সিস্টিয়ান চ্যাপেল, সিন্ধের শাদাদকোটে লোকায়ত প্রেম-ফোক রোমান্স, সোমপুর বিহারের টেরাকোটায়, আমাদের বাঙলায়- গাজীর পটে।
দৃশ্যের পর দৃশ্যের ধারপাতে লৌকিক গল্প, পৌরানিক গাঁথা, লোকাল মিথ, ধর্মীয় আখ্যান, ট্রায়াম্ফ অফ দেশপ্রেম, শ্রেণী সংগ্রাম, ব্যক্তির বিশেষায়িত বীরত্বপনার গল্প-সংস্কার আর ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলিকে নিয়ে ছাপাখানার কল্যাণে দৈনন্দিন জীবনে স্টোরিটেলিং এবং গল্পপাঠের যে অবকাশ আর শিক্ষামূলক অনুশীলনের নূতন আবেদন উৎপাদন প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে আমরা যাই তাতে আরও এক নয়া সংস্করণ আর ডাইমেন্সন নিয়ে হাজির হয় সিকোয়েন্সিয়াল আর্ট বা কমিকবুক অর গ্রাফিক নভেল ঘরানার ফর্মগুলি।
কোন জাতিস্বত্তার বিকাশ, প্রতিষ্ঠাপর্ব এবং টিকে থাকার উদ্যম-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কালেকটিভলি স্বীকৃত ইতিহাসের যে পাঠটি জন্ম নেয় তাতে স্বভাবসূলভ ভাবেই স্থান পায় তার সেই সকল মহিমান্বিত ঘটনা, স্মারক, টুকে নেয়া কিম্বা জন্মের সহচর চিহ্ন-পরিচয় আর রক্ত মাংসের চরিত্রেরা; যারা তাকে দেয় গর্ব করার মত এক ও ঢের উপলক্ষসমূহ আর আত্মপরিচয়ের অপরিহার্য শ্লাঘা।
এটা একপ্রকারের অনগোয়িং- চলতে থাকা প্রকিয়া, যাতে প্রতিনিয়ত নূতন আর অভিনব সব উপাদান মালা গাঁথার মত করে সিলেক্টিভলি যেমন যোগ হতে থাকে তেমনি পুরাঘটিত প্রভাবশালী ফিগারগুলির রিপ্রেজেন্টেসনও সময়ের চলনসই প্রবণতার সাথে সাথে প্রকাশের ভঙ্গিমা-ফর্ম বদলায়।
আগের যে কোন সময়ের থেকে ভিজ্যুয়াল মিডিয়াম গুলি এ্যাজ এ আর্ট ফর্ম এবং অন্যান্য বিনোদন ও তথ্যের উৎস তৈরি এবং বিনির্মাণে অনেক বেশি আধিপত্য নিয়ে আমাদের রোজকার জীবনের ঘটনাপ্রবাহের সাথে জড়িয়ে যাচ্ছে- আমাদের পাঠ্যাভাসের নিয়ন্ত্রিত চর্চার সাথে পাল্লা দিচ্ছে বারবার।
গ্রাফিক নভেল- এটা ঠিক সেই ভাবে বইয়ের অলঙ্করণ না বরং কমিক-স্ট্রিপের ঢংয়ে বলা (আঁকা) আখ্যান বা কাহিনী চিত্র বড়জোড়, যেটা এ্যাজ এ ফিকশন (যত রকমের গদ্য সাহিত্য আশ্রিত) হতে পারে, আত্মজীবনী-স্মৃতিচারণও হতে পারে কিন্তু সম্ভবত একটা উপন্যাসের যে প্রাপ্তবয়স্কতা বা ব্যপ্তি বা ভারিক্কি ভাবটা থাকে তার কিছু ছিটে ফোটা দৃশ্যকল্প সহযোগে- থাকতে হবে; এমনটা বলা যায়।
গোটা দুনিয়ার কথা জানি না তবে অর্থনৈতিকভাবে সচল আর মোটামোটি হৃষ্টপুষ্ট রাষ্ট্রগুলির পপ কালচার এরেনাতে কমিক বুক, মাঙ্গা এবং গ্রাফিক নোভেল ঘরানার শৈল্পিক তৎপরতাগুলি গত একশতকের ধারাবাহিক পরম্পরা যোগে এখন এক আধিপত্যশালী ফেনমনা। বয়স, রুচি এবং সংস্কৃতি ভেদে এর নানান বিচিত্রতা। নন্দিত এবং বহুল পঠিত উপন্যাস, নাটকের গ্রাফিক সংস্করণ বের হচ্ছে এবং বিক্রিবাট্টাও ভাল। পাল্প-রোমাঞ্চ গল্প-সায়েন্স ফিকশন, কুদরতী অতিমানবদের গল্প থেকে শেকস্পিয়ার, ক্লাসিক সাহিত্য, ফ্রান্জ কাফকা কেউ বাদ যাচ্ছেন না।
আত্মজীবনী-মেমরিয়া ঘরানার গ্রাফিক নভেল গুলোও আরেক চমকপ্রদ অভিঙ্গতা। লিখে রাখা বা ঘটে যাওয়া সময়কে- ইতিহাসের কোন এক বা একাধিক উন্মাতাল প্রেক্ষাপট বিন্দুতে দাড়িয়ে ব্যক্তি যখন চারপাশটাকে নিজস্ব বয়ান, অনুভূতি, প্রঙ্গা আর জীবনবোধের আয়না দিয়ে বাস্তবতা, সাকার আর আকারের দুনিয়াটাকে মোকাবেলা করেছেন নিজের ভেতর আর বাইরের সাথে; তার ভিজ্যুয়াল রিপ্রেজেন্টেশন-প্রতিরূপ দাড় করানোটা একজন আঁকিয়ের জন্য একেবারে সহজতর কোন কাজ নয় মোটেও। শৈল্পিক মুনসিয়ানা ছাড়াও লিখা বা মূল গদ্যের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, মোটিফ আর উত্তম পুরুষের আত্মজ বোধকে এঁকে এঁকে এক এবং একাধিক পাঠকদের মগজে ভিজ্যুয়াল মেমরির প্রতীতি তৈরি করাটা একই সাথে শ্রমসাধ্য এবং সাবধানী এক ব্যাপার। এ রকম এক আক্ষরিক চ্যালেঞ্জের কাজটিই করছেন কার্টুনিস্ট সৈয়দ রাশাদ ইমাম তন্ময়, তার আঁকা বঙ্গবন্ধুর অটোবায়োগ্রাফিক্যাল গ্রাফিক নভেল ‘মুজিব’ এ।
বঙ্গবন্ধু, বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ, মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশ.. এই প্রসঙ্গগুলি ঐতিহাসিক এবং আন্তর্জাতিকভাবে আরও কিছু ব্যক্তি-বিষয়-বর্গকে নিয়ে এমন করে পরস্পর জড়িয়ে আছে যে বেশ একটা গুরুগম্ভীর, স্পর্শকাতর এবং অতি অবশ্যই আবেগের মধ্যে দিয়ে আমরা বাংলাদেশীরা এগুলোকে জীবনের বহুধা পর্যায়ে ডিল করি। সেখানে পূর্ব বাঙলার এক মধ্যবিত্ত কৃষক শ্রেণীর ভেতর থেকে তরূণ ছাত্রনেতা হিসেবে উঠে এসে এই উপমহাদেশের প্রথম সারির প্রভাবশালী একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিতে পরিণত হওয়া এবং ‘বাঙালি-জাতির জনক’ মহিমার ভেতর দিয়ে ৭৫ এর পনের আগষ্টের যবনিকায় যে এক প্রকার মহাকাব্যিক আখ্যান তৈরি হয় তাকে এবং সেই ঘটনা প্রবাহকে গ্রাফিক নভেলের মলাটে নিয়ে আসার ভারিক্কি কাজটি কার্টুনিস্ট তন্ময় এবং তার ব্যাক আপ টিম বেশ চিন্তাশীল পদক্ষেপে মেপে মেপে করছেন বলেই মনে হচ্ছে। যেহেতু এর রেফারেন্স হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ কে ব্যবহার করা হচ্ছে সেখানে মধূর সমস্যা হলো সম্ভবত এই যে, বঙ্গবন্ধুর নিজের বয়ান-অভিঙ্গতা সত্বেও কোন কোন ঘটনাগুলোকে সম্পাদনা-আঁকবার সময় ছেড়ে যেতে হচ্ছে তা ঠিক করা।
নাম বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোন রকমের নির্দেশনা ছিল কি না জানি না কিন্তু ‘মুজিব’ নামটিই তুলনামূলকভাবে যূতসই মনে হচ্ছে- শুধুমাত্র এই কারণে না যে এটি বঙ্গবন্ধুর অন্যান্য উপমা, ডাক নাম বা লোকের মুখে মুখে ফিরতে থাকা নাম গুলোর সাথে লেপ্টে থাকা আবেগপ্রবণতা আর রাজনৈতিক পরিচয়-অবস্থান থেকে কিছুটা ডিটাচ্ড করে। এর চেয়ে তৎসময়ের টুঙ্গিপাড়া, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির ধূলা, কাঁদা আর পরিবার-এলাকা-লোকাল ডানপিটে ছোকড়া থেকে দেশ-রাষ্ট্রের নিখিল রাজনৈতিক কর্মকলাপে জড়ায়ে যাওয়ার মধ্য খানের যে সময়গুলিতে পারিবারিক ‘শেখ’ আর পিতার ‘রহমান’এর ব্র্যাকেটের ভেতর শুধু যে মুজিবটুকু নিজ সংকল্প আর সাহসে- তার হাতেখড়ির কাল পার হয়ে, দুই হাত যখন মুষ্টিবদ্ধ-প্রতিবাদী হওয়া শিখতে শিখতে বিরুদ্ধ শক্তির দিকে আঙুল তাক করা শিখে ফেলতেছে; এই সময়কালীনতার দিকে আমাদের মনোযোগ দাবি করে, এটাও।
‘মুজিব’-এর প্রথম প্রকাশ ২০১৪তে। ১২ টি পর্বে পুরো ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ কভার করার নিয়তে এখন পর্যন্ত চারটি পর্ব প্রকাশ হয়েছে যেগুলিতে বঙ্গবন্ধু তার শৈশব, কৈশোর পার হয়ে ১৯৪৪ এ উনার বয়স যখন চব্বিশ- মুসলিম লীগ ও ছাত্র লীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী তিনি, দিল্লী থেকে কোলকাতা, কুষ্টিয়া ছুটে বেড়াচ্ছেন দলের প্রয়োজন-সংকটে, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর স্নেহভাজন ও একনিষ্ঠ হয়ে।
ইতিহাস বা বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিজীবনের একটা বড় অংশকে গ্রাফিক সংস্করণের মাধ্যমে কম বয়েসী এবং বই পড়তে সপ্রনোদনায় ভুগেন না-এমন লোকদের কাছে পৌছে দেয়ার সিআরআই-এর এই উদ্যোগকে তার রাজনৈতিক ও আদর্শের ডোমেইনে না ঢুকেও কিছুটা তারিফ করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে মহানগর ঢাকার বাইরে অন্যান্য বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলি এবং বিশেষ করে গ্রামগুলিতেও ‘মুজিব’ এর প্রচার সঞ্চলন বিক্রির কার্যক্রমও তারা দাড় করিয়ে ফেলতে পারে বোধহয় চাইলে।
গ্রাফিক নভেল ঘরানায় প্রথমেই নজর কেড়ে নেয়ার জায়গাটি হচ্ছে এর আঁকা এবং সংলাপ। আঁকাগুলি চলতে থাকে প্যানেলে প্যানেলে আর সংলাপের বাকসো প্লাস থট বেলুনে গল্পের ঝাঁপি খুলতে থাকে পাতার পর পাতায়। ‘মুজিব’ এর সংলাপের বাকসো বা ডায়গল বেলুনগুলির ভেতরকার লেটারিংটা হাতে লিখা হলে খারাপ হতো না অনুমান করি। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত চারটি পর্বেই কাহিনী বিস্তার বেশ মাপা এবং টানটান হয়ে আছে, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র অবিচ্ছেদ্য ছায়াটা সাথে সাথে থাকে বলেই হয়ত প্রসঙ্গক্রমেই আরও কিছু আকাঙ্খা অচেতনেই তৈরি হয়ে থাকে। যেমন, চোখের চিকিৎসা করে মাদারীপুর ফিরে এসে স্বদেশী আন্দোলনের এক ছোট্ট টুকরা দলের সাথে ভীড়ে যাওয়া, কিশোর বয়সেই স্বাধীনতার বোধ মানে রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি হওয়া, এটা থাকতে পারত বোধ হয় যদিও আকড় গ্রন্থের বেশিরভাগ অংশই এখনো বাকি সে হিসেবে এরকম দু’একটা ছাড় কবুল করা যেতেই পারে।
সম্পূর্ণ রঙিন হওয়ায় জায়গা এবং মুড বুঝে শিল্পী সাহেবকে কালার করতে হয়েছে আর এ ব্যাপারে পরীক্ষণমূলক কোন ঝুঁকি সচেতন ভাবেই উনি নিতে চান নি সম্ভবত। আঁকার ব্যাপারেও বেশ সংযত ছিলেন। অনেক ফিগার এঁকে পাতা ভরিয়ে ফেলেন নি। চোখের আরামটাও পাওয়া গ্যাছে তাতে। পোশাক, ব্যাকগ্রাউন্ড, খুটিনাটি ডিটেলিঙ আর চরিত্রগুলি আঁকার সময় তখনকার যে রেওয়াজ আর প্রচলিত ফ্যাশনের রেফারেন্স সচেতন ভাবে ঠিক রাখার সংকল্পে অনেক জায়গাতেই মিনিমালিস্টিক ভাবে অগ্রসর হয়েছেন আঁকিয়ে সৈয়দ রাশাদ ইমাম তন্ময়। আরেকটু উদার হস্ত তিনি হতেই পারতেন এসব ক্ষেত্রে যদিও কিছু কিছু জায়গায় গল্পের পরিস্থিতি চাহিদায় এবং আবেশের যথার্থ আবেদন ফুটিয়ে তুলতে কল্পনা শক্তির স্বাধীন ব্যবহারে পিছু হটেন নি তিনি। যেমন দিল্লি অভিযানের প্রচ্ছদে। সম্মেলন শেষ করে, এদিক সেদিক বেড়িয়ে, পকেট একেবারে ফুঁটো অবস্থায়, টিকেট না কেটে ধরা পরে যাওয়ার ঝুঁকির মধ্যেও তরুণ বয়সের যে কোন বাঁধাকেই পরোয়া না করার উদ্দীপণা-হরমোনাল রাশ সেটাকেই সম্ভবত উনি ইঙ্গিত করেছেন কিছুটা সিনেমাটিক এই প্রচ্ছদ কল্পে।
প্রথম তিনটি পর্বের সাবটাইটেল বা আলাদা করে পর্ব শিরোনাম না থাকলেও চতুর্থ পর্বে ‘দিল্লি অভিযান’ যেহেতু ছিল বাকিগুলোতেও এরকমটা থাকতে বলে আশা। গল্পের গ্রাফ ধরে ধরে ‘মুজিব’ এর প্যানেল লেআউট গুলি একটা শৃঙ্খলেই বার বার রিপিট হয় নি, ছাঁচ বদলিয়েছে। এখন সম্ভবত দেড় ফর্মা করে যে আকার-বিনাস-ফরমেটে নভেলটি পাওয়া যাচ্ছে বারোটা পর্ব বের হয়ে যাওয়ার পর মানে কলেবর বাড়লে একসাথে আরেকটু হ্যান্ডি একটা সংস্করণও বের করা যেতে পারে। গ্রাফিক নভেলের এক পৃষ্ঠার পুরোটা জুড়েই আঁকার ব্যাপারটাকে স্প্যালস বলে ইংরেজিতে, তিন নম্বর পর্বের দু’একটা জায়গায় এরকম জমকালো পুরোটা আঁকা পৃষ্ঠায় ভুলবশত পৃষ্ঠা নম্বর দেয়া নাই। এটা গ্রাফিক নভেলীয় কোন রীতি কি না ঠিক জানি তবে অন্য পর্বগুলিতে এমন নাই।
‘মুজিব’ গ্রাফিক নভেলটা যে ভঙ্গিমায় শিল্পী এঁকে যাচ্ছেন তাতে সাবলীল, কসরৎপূর্ণ ড্রয়িং না করে যতটা সাধ্য সহজ থাকা যায় এরকম- একটা প্রবণতা আছে। তাই হয়ত ফিগার এবং পার্সপেক্টিভ ড্রইং-এ উনি ছাড় দিয়ে গ্যাছেন। বঙ্গবন্ধুর বয়ান ধরে ধরেই যেহেতু গল্পের আখ্যান এগোচ্ছে উনার দৃষ্টিভঙ্গি, আর্দশ, বেড়ে উঠার মধ্য দিয়ে উনি যেভাবে তার সময়টাকে দেখেছেন এবং বিলঙ করেছেন আঁকিয়ের মারফতে পাঠক এবং আঁকিয়ে নিজেও সেই সময়ের ছায়াপথ ধরে এগিয়ে যাবেন। যেমন চতুর্থ পর্ব পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু ফ্ল্যাশব্যাকে যে সমাজ ব্যবস্থায় বাস করছেন তাতে ঘরে বাইরের কর্মচাঞ্চল্যে, রাস্তাঘাটে মেয়েদের নিয়ন্ত্রিত চলাচলের হালহকিহত আমরা নেগেটিভ স্পেস ড্রইং-এর মত করে পেয়ে যাই একরকম।
গ্রাফিক নভেলটির প্রতিটি পর্বের মূল্য ১৫০ টাকা।আঁকিয়ে সৈয়দ রাশাদ ইমাম তন্ময়কে কাহিনী ও সংলাপে সাহায্য করেছেন সিদ্দিক আহমেদ এবং সম্পাদনায় শিবু কুমার শীল। আমাদের গণপ্রজাতন্ত্রের বর্তমান সরকার দলীয় প্রধান, তিনিও স্বয়ং- ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র মত প্রতক্ষ্য না হলেও গ্রাফিক নভেল ‘মুজিব’ এর পুরো প্রক্রিয়ার সাথে শুরু থেকেই সম্পৃক্ত ছিলেন বলে আঁকিয়ে মারফত জানা গ্যাছে। খুব সম্ভবত এর ৫ম পর্বটিও কিছুদিনের মধ্যেই বের হবে এবং পরের পর্বগুলি প্রকাশের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের দীর্ঘসুত্রীতার আড়মোড় কাটিয়ে উঠবেন- এইটুকুই। আমেন