লেখালেখি শুধু একটা শখ না, এরচেয়েও বেশি কিছু। যান্ত্রিক জীবন থেকে একটু পরিত্রাণ, কিংবা না বলা কথাগুলো বলার জন্য একটা আশ্রয়।
পৃথিবীটা অদ্ভুত বৈচিত্র্যময়, এই দেখা-অদেখা বৈচিত্র্য নিয়েই লেখকের গল্পগুলো। পেশায় প্রকৌশলী হলেও সাহিত্য-পৃথিবীর দুর্বার আকর্ষণের কাছে লেখক বরাবরের মতই নতজানু।
দিগন্তে নতুন সূর্য উঠেছিল, সেটি অস্ত গিয়েছে। মানে রিজাল কবীরের প্রজেক্ট অর্ফিয়াস পড়া শেষ হয়ে গিয়েছে। লেখকের প্রথম বই চক্রলীন পড়ার পর প্রত্যাশা যেটা বেড়েছিল, সেটির যথার্থ প্রতিফলন ঘটেছে এই বইটিতে।
সামরিক বাহিনীর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার দেশপ্রেম, সঙ্গীতের মত একটি ভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে একটি দেশকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসার চেষ্টা, বৈশ্বিক রাজনীতির চক্রান্ত, এই সবকিছুর মধ্যে সায়েন্স ফিকশন বড়ই বেমানান। কিন্তু সেই বেমানান কাজটিই অত্যন্ত কৌশলের সাথে উপস্থাপনা করেছেন লেখক। এবং আমার মতে সফলও হয়েছেন।
কেননা, গল্পকে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে লম্বা না করে ক্লাইম্যাক্স যেখানে এসেছে, সেখানেই যেন আসার ছিল। তথ্য যেখানে এসেছে, সেখানেই যেন আসার ছিল। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ আর সিরিয়াস পরিস্থিতির সমন্বয় হয়েছে সচেতনভাবেই, আতিশয্য লাগেনি কোথাও। গল্পের শেষভাগে এসে লেখাটা যেভাবে ধাক্কা দিচ্ছিল, তাতে লেখকের ক্ষমতার প্রমাণ পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, একবারে শেষ বাক্যটিতেই শেষ না হলেই কি চলতো না? এরকম ধাক্কাটা আমার লেগেছে।
গল্প যেভাবে আগাচ্ছিল, তাতে গল্পকে আরও একটু সময় দেয়া যেতে পারতো, প্রতিটা চরিত্রকে আরেকটু ফুটিয়ে তোলা যেত। তবে সার্বিক বিবেচনায়, বইটি যারপরনাই খুব ভালো লেগেছে।