হুমায়ূনের লেখালেখির ভাষাভঙ্গি বোঝার জন্য চমৎকার এক বই।
উনি সমালোচকদের কাছে কখনো তেমন পছন্দের ছিলেন না। কিন্তু যতদিন বেঁচেছিলেন ততদিন তো বটেই, মৃত্যুর পরও পাঠকদের কাছে অন্যতম প্রিয় নাম। হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস যে আমাকে খুব একটা টানে তা না, তবে উনার জনপ্রিয়তা বা কেন তিনি ‘সাধারণ’ পাঠকশ্রেণির অন্দরে ঢুকে যেতে পারলেন তা বোঝার একটা ইচ্ছে আমার ছিল। ইফতেখার মাহমুদ তার এই বইটিতে সে কথাগুলো একদম ধরে ধরে দেখিয়েছেন বলা যায়।
এত জনপ্রিয় একজন অথচ উনাকে নিয়ে এ ধরনের কোনো পূর্ণাঙ্গ বই আগে বের হয়েছে বলে জানি না।
একজন অনুবাদক হিসেবে আমি সবসময় চেয়েছি সহজ ভাষায় পাঠকের দুয়ারে পৌঁছাতে। এজন্য হুমায়ূন আহমেদের আত্মজীবনীমূলক কিছু বই পড়ে তার ভঙ্গিটা বোঝার চেষ্টা করেছি। এই বইটা আমার সেই বুঝকে আরও পোক্ত করেছে। আমি হুমায়ূনের মতো উপন্যাস বা গল্প হয়তো লিখব না, কিন্তু তার ভঙ্গিটি ধার করে ‘সাধারণ’ পাঠকের হেরেমে পৌঁছানোর তকলিফটুকু করতেই পারি।
"কোনো সংগ্রামী চরিত্রও নেই তার লেখায়, যার কাছে প্রেরণা পাওয়া যায়, যার জন্য জীবন বদলের প্রতিজ্ঞা করা যায়, যে নিজে সয়ে অন্যের জন্য বৃহত্ততর কল্যাণে পরিকল্পিতভাবে বড় কাজে নামে, যে লড়াই করে। এরকম মানুষ এই জমিনে যে নেই, তা নয়; হুমায়ূন সম্ভবত নির্মাণ চাননি সেসবের। কিংবা মেনে নিয়েছিলেন, তার কাজ এসব নয়। নিজিকে তিনি ক্রমশ যেভাবে গড়েছিলেন, তার চেয়ে ভিন্নভাবে গড়ার ইচ্ছা তার হয়তো ছিল না।
যে সমাজে তার বাস, তাকে এগিয়ে দেয়া তার কাজ নয়, এ কথা অন্যভাবে হলেও তিনি বলেছেন। তিনি যে জীবন দেখেছেন, তাই লিখেছেন।
তার দেখা—দেখার জন্য তার দরকার চিরকালই রয়ে যাবে—তবে সাদা চোখে অদেখার জীবন না দেখানোর দায় থেকে তিনি হয়তো মুক্তি পাবেন না।"