What do you think?


অরক্ষণীয়া
Arakkhaniya, (The Unprotected) is a bengali novels written in 1916 by Sarat Chandra Chatterjee.
100 pages, Hardcover
First published November 1, 1916
About the author
Sarat Chandra Chattopadhyay
300 books992 followersComplete works of Sarat Chandra (শরৎ রচনাবলী) is now available in this third party website:
http://sarat-rachanabali.becs.ac.in/i...
Sarat Chandra Chattopadhyay (also spelt Saratchandra) (Bengali: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) was a legendary Bengali novelist from India. He was one of the most popular Bengali novelists of the early 20th century.
His childhood and youth were spent in dire poverty as his father, Motilal Chattopadhyay, was an idler and dreamer and gave little security to his five children. Saratchandra received very little formal education but inherited something valuable from his father—his imagination and love of literature.
He started writing in his early teens and two stories written then have survived—‘Korel’ and ‘Kashinath’. Saratchandra came to maturity at a time when the national movement was gaining momentum together with an awakening of social consciousness.
Much of his writing bears the mark of the resultant turbulence of society. A prolific writer, he found the novel an apt medium for depicting this and, in his hands, it became a powerful weapon of social and political reform.
Sensitive and daring, his novels captivated the hearts and minds of thousands of readers not only in Bengal but all over India.
Some of his best known novels are Palli Samaj (1916), Charitraheen (1917), Devdas (1917), Nishkriti (1917), Srikanta in four parts (1917, 1918, 1927 and 1933), Griha Daha (1920), Sesh Prasna (1929) and Sesher Parichay published posthumously (1939).
"My literary debt is not limited to my predecessors only. I'm forever indebted to the deprived, ordinary people who give this world everything they have and yet receive nothing in return, to the weak and oppressed people whose tears nobody bothers to notice and to the endlessly hassled, distressed (weighed down by life) and helpless people who don't even have a moment to think that: despite having everything, they have right to nothing. They made me start to speak. They inspired me to take up their case and plead for them. I have witnessed endless injustice to these people, unfair intolerable indiscriminate justice. It's true that springs do come to this world for some - full of beauty and wealth - with its sweet smelling breeze perfumed with newly bloomed flowers and spiced with cuckoo's song, but such good things remained well outside the sphere where my sight remained imprisoned. This poverty abounds in my writings."
http://sarat-rachanabali.becs.ac.in/i...
Sarat Chandra Chattopadhyay (also spelt Saratchandra) (Bengali: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) was a legendary Bengali novelist from India. He was one of the most popular Bengali novelists of the early 20th century.
His childhood and youth were spent in dire poverty as his father, Motilal Chattopadhyay, was an idler and dreamer and gave little security to his five children. Saratchandra received very little formal education but inherited something valuable from his father—his imagination and love of literature.
He started writing in his early teens and two stories written then have survived—‘Korel’ and ‘Kashinath’. Saratchandra came to maturity at a time when the national movement was gaining momentum together with an awakening of social consciousness.
Much of his writing bears the mark of the resultant turbulence of society. A prolific writer, he found the novel an apt medium for depicting this and, in his hands, it became a powerful weapon of social and political reform.
Sensitive and daring, his novels captivated the hearts and minds of thousands of readers not only in Bengal but all over India.
Some of his best known novels are Palli Samaj (1916), Charitraheen (1917), Devdas (1917), Nishkriti (1917), Srikanta in four parts (1917, 1918, 1927 and 1933), Griha Daha (1920), Sesh Prasna (1929) and Sesher Parichay published posthumously (1939).
"My literary debt is not limited to my predecessors only. I'm forever indebted to the deprived, ordinary people who give this world everything they have and yet receive nothing in return, to the weak and oppressed people whose tears nobody bothers to notice and to the endlessly hassled, distressed (weighed down by life) and helpless people who don't even have a moment to think that: despite having everything, they have right to nothing. They made me start to speak. They inspired me to take up their case and plead for them. I have witnessed endless injustice to these people, unfair intolerable indiscriminate justice. It's true that springs do come to this world for some - full of beauty and wealth - with its sweet smelling breeze perfumed with newly bloomed flowers and spiced with cuckoo's song, but such good things remained well outside the sphere where my sight remained imprisoned. This poverty abounds in my writings."
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 30 of 65 reviews
October 1, 2020
4.5 stars
শেষ পাতাটা পড়ার পর কিছুতেই আর ৫/৫ দেয়া গেল না। অনেক চেষ্টা করেও অরক্ষণীয়ার মতো এত চমৎকার একটি গল্পের এহেন পরিসমাপ্তি কিছুতেই মেনে নিতে পারলাম না।
বইটি পড়াকালীন কতবার যে মনে হয়েছে একে নির্দ্বিধায় ৫ তারা দিয়ে ফেলতে পারি! কোথাও এতোটুকু খুঁত খুঁজে পাইনি। শরৎচন্দ্রের কলমে সেকালের গ্রাম্য বাঙালি হিন্দু সমাজের যে প্রতিকৃতি ফুটে উঠেছে তার সাথে আজকের সাধারণ সমাজের সামান্যই অমিল। জ্ঞানদা ও তার মা দুর্গামণির দুঃখ-দুর্দশার বিবরণ পড়তে গিয়ে কত যে মন খারাপ হয়েছে, কতবার রাগ উঠেছে, কতবার নীরবে চোখের পানি ফেলেছি, আবার কত সময় সমাজের লুকিয়ে থাকা ভালোমানুষগুলোর পরিচয় পেয়ে আনন্দে বুকটা হুহু করে উঠেছে - সেসব কথা গুছিয়ে লেখার ক্ষমতা আমার নেই। বহুদিন এরকম করুণ, মর্মস্পর্শী লেখা পড়িনি, এরকম চরিত্রের দেখা পাইনি। বহুদিন কোনো উপন্যাস এমন একটানা এক নিঃশ্বাসে পড়ে শেষ করতে পারিনি।
তথাপি মনে আমার একটা আশংকা ছিল। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কেবল সমাপ্তিির জন্য একটা বই সম্পূর্ণই আমার কাছে গুরুত্ব হারায়। পৃষ্ঠা ছিঁড়ে ফেলে নিজের হাতে নতুন একটা সমাপ্তি লিখতে ইচ্ছে হয়। লেখক/লেখিকা হয়তো বেশ ভেবেচিন্তেই কিংবা একটা বিশেষ উদ্দেশ্যে অমনটা লিখে থাকেন, তবুও।
এ ক্ষেত্রেও যে ভয় পেয়েছিলাম তাই হল শেষে।
শেষ পাতাটা পড়ার পর কিছুতেই আর ৫/৫ দেয়া গেল না। অনেক চেষ্টা করেও অরক্ষণীয়ার মতো এত চমৎকার একটি গল্পের এহেন পরিসমাপ্তি কিছুতেই মেনে নিতে পারলাম না।
বইটি পড়াকালীন কতবার যে মনে হয়েছে একে নির্দ্বিধায় ৫ তারা দিয়ে ফেলতে পারি! কোথাও এতোটুকু খুঁত খুঁজে পাইনি। শরৎচন্দ্রের কলমে সেকালের গ্রাম্য বাঙালি হিন্দু সমাজের যে প্রতিকৃতি ফুটে উঠেছে তার সাথে আজকের সাধারণ সমাজের সামান্যই অমিল। জ্ঞানদা ও তার মা দুর্গামণির দুঃখ-দুর্দশার বিবরণ পড়তে গিয়ে কত যে মন খারাপ হয়েছে, কতবার রাগ উঠেছে, কতবার নীরবে চোখের পানি ফেলেছি, আবার কত সময় সমাজের লুকিয়ে থাকা ভালোমানুষগুলোর পরিচয় পেয়ে আনন্দে বুকটা হুহু করে উঠেছে - সেসব কথা গুছিয়ে লেখার ক্ষমতা আমার নেই। বহুদিন এরকম করুণ, মর্মস্পর্শী লেখা পড়িনি, এরকম চরিত্রের দেখা পাইনি। বহুদিন কোনো উপন্যাস এমন একটানা এক নিঃশ্বাসে পড়ে শেষ করতে পারিনি।
তথাপি মনে আমার একটা আশংকা ছিল। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কেবল সমাপ্তিির জন্য একটা বই সম্পূর্ণই আমার কাছে গুরুত্ব হারায়। পৃষ্ঠা ছিঁড়ে ফেলে নিজের হাতে নতুন একটা সমাপ্তি লিখতে ইচ্ছে হয়। লেখক/লেখিকা হয়তো বেশ ভেবেচিন্তেই কিংবা একটা বিশেষ উদ্দেশ্যে অমনটা লিখে থাকেন, তবুও।
এ ক্ষেত্রেও যে ভয় পেয়েছিলাম তাই হল শেষে।
September 21, 2020
অরক্ষণীয়া: বয়স্কা কন্যা যাহার বিবাহ না দিয়া ঘরে রাখা যায় না।
মেয়ের বয়স যে ১৫ ছাড়িয়ে যাচ্ছে!ওদিকে মেয়ের শ্রী নেই তার ওপর শ্যাম বর্ণ! নিরীহ মা তো শয্যাশায়ী। তাহলে আর কি করার! ঘরে যখন রাখাই যাচ্ছে না তবে বুড়ো,দুশ্চরিত্র যা-ই মেলে তার কাছেই দিয়ে দাও। নিরীহ মেয়েটি চুলোয় যাক গে, সমাজ-সংসার নিয়ে স্বয়ং আপনি স্বর্গে গেলেই হয়!!!
“কালো যদি মন্দ তবে কেশ পাকিলে কান্দ কেনে?"
~তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ( কবি )
৬ষ্ঠ শ্রেণীতে যখন সবেমাত্র ক্লাস শুরু করেছি তখন একদিন জানতে পারলাম শরৎ বাবু নামে কারও কাছে কেউ একজন খোলা চিঠি দিয়েছিল -
গেল বছর বন্যা হলো, এ বছরে খরা।
খেতে ফসল ভাসিয়ে নিলো,
মাঠ শুকিয়ে মরা।
এক মুঠো ঘাস পায় না মহেষ
দুঃখ ঘোচে না !
শরৎ বাবু এ চিঠি পাবে কিনা
জানি না
জানেন শরৎ বাবু! এই সমাজের আসল খরা এখনও ভাল মত কাটে নি।এখনও গ্রামের বাড়িগুলোতে খোঁজ করলে জ্ঞানদা আর তার মা দুর্গামণির দেখা পাওয়া যায়। তবে সমস্যা হয়েছি কি শেষটায় হলেও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার মত কারো দেখা কদাচিৎ পাওয়া যায় কিনা সন্দেহ!
মেয়ের বয়স যে ১৫ ছাড়িয়ে যাচ্ছে!ওদিকে মেয়ের শ্রী নেই তার ওপর শ্যাম বর্ণ! নিরীহ মা তো শয্যাশায়ী। তাহলে আর কি করার! ঘরে যখন রাখাই যাচ্ছে না তবে বুড়ো,দুশ্চরিত্র যা-ই মেলে তার কাছেই দিয়ে দাও। নিরীহ মেয়েটি চুলোয় যাক গে, সমাজ-সংসার নিয়ে স্বয়ং আপনি স্বর্গে গেলেই হয়!!!
“কালো যদি মন্দ তবে কেশ পাকিলে কান্দ কেনে?"
~তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ( কবি )
৬ষ্ঠ শ্রেণীতে যখন সবেমাত্র ক্লাস শুরু করেছি তখন একদিন জানতে পারলাম শরৎ বাবু নামে কারও কাছে কেউ একজন খোলা চিঠি দিয়েছিল -
গেল বছর বন্যা হলো, এ বছরে খরা।
খেতে ফসল ভাসিয়ে নিলো,
মাঠ শুকিয়ে মরা।
এক মুঠো ঘাস পায় না মহেষ
দুঃখ ঘোচে না !
শরৎ বাবু এ চিঠি পাবে কিনা
জানি না
জানেন শরৎ বাবু! এই সমাজের আসল খরা এখনও ভাল মত কাটে নি।এখনও গ্রামের বাড়িগুলোতে খোঁজ করলে জ্ঞানদা আর তার মা দুর্গামণির দেখা পাওয়া যায়। তবে সমস্যা হয়েছি কি শেষটায় হলেও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার মত কারো দেখা কদাচিৎ পাওয়া যায় কিনা সন্দেহ!
August 18, 2021
অন্য কোনো সময় পড়লে পাঁচ তারা হয়তো দিতাম না। কিন্তু আজকের দিনটা আলাদা। ১৯১৬ সালে লিখে যাওয়া শরৎবাবুর এই উপন্যাসটা আজকের দিনেও জীবনের সাথে কেমন মিলে গেল, ভাবতেই অবাক লাগছে।
হায় নারী! হায় সমাজ!
খানিক থিতু হয়ে বইটার একটা রিভিউ লিখবো। এই বই অনেক-অনেক মানুষের পড়া উচিৎ।
হায় নারী! হায় সমাজ!
খানিক থিতু হয়ে বইটার একটা রিভিউ লিখবো। এই বই অনেক-অনেক মানুষের পড়া উচিৎ।
May 24, 2016
ওহ, শরৎবাবু, কি একটা চড়ই না মারলেন আমাদের গালে। কিন্তু আফসোস, আপনার সে চড়ের দাগ গালেই লেগে রয়েছে, পাষাণ অন্তর ভেদ করে অন্তঃস্থলে পৌঁছুতে পারে নাই। তা না হলে কবেই আমাদের সমাজ পরিবর্তন হয়ে যেত। কি নির্লজ্জ আমরা! লজ্জা থাকবেই কিভাবে? লজ্জা, সে তো কবেই মরে গেছে। কিংবা ঐ বিজ্ঞাপনটির মতই বলতে হয়, আমাদের লজ্জায় আমরা ফরমালিন দিয়ে রেখেছি যাতে পঁচে গেলেও গন্ধ না ছড়ায়। তা না হলে নিজেদের আধুনিক মানুষ বলতে পারব না যে!
February 16, 2022
প্রায় ১০০ বছর আগের লেখার সাথে এখনকার সমাজব্যবস্থার পুরোপুরি মিল। দিন যায়, কিন্তু মানুষ বদলায় না। অমানুষিক চিন্তাভাবনা সময়ও বদলাতে পারে না....
April 25, 2026
সমাজের কালো চিত্র অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। কিন্তু মেয়েদের এত অবলা ভাবা ও ছোট করে দেখানো ভালো লাগেনি।
November 29, 2022
পড়া শেষ করে শুধু কবি উপন্যাসে তারাশঙ্করের বলা "কালো যদি মন্দ তবে কেশ পাকিলে কান্দ কেনে?" কথাটা বারবার মনে পড়তেছে। শরৎ বাবুর লেখা গভীর থেকে গভীরে প্রবেশ করে রবীন্দ্রনাথের গানের মতো মর্মে লাগে। এখন বাঙালি আগের মত আর এতটা কুসংস্কারচ্ছন্ন নয় মোটেই। উচ্চশিক্ষা মেয়েদের কালো রঙ-কে সাদা করে দিতে সক্ষম।
তবে মেয়েদের কাছে আমার একটা প্রশ্ন, অনেক সুন্দরী মেয়েরা কালো মেয়েদের দেখে মায়া করে এবং কালো মেয়েরা সুন্দরীদের দেখে ঈর্ষা করে কেন? এটা কি যথেষ্ট শিক্ষা কিংবা পরিপক্কতার অভাবে নাকি মানবজাতির gene এ এমনকিছু লোকানো আছে। আমার আপন বোন থাকলে জিজ্ঞেস করতাম। আমি কিন্তু সব মেয়েদের বলি নাই; শুধু যাদের মনোভাব এমন তাদের বলেছি।
আর আমরা ছেলেরা কিন্তু সুন্দরী মেয়েদের প্রতিই দুর্বল। তবে উচ্চশিক্ষিত চাকরিওয়ালা কিংবা বেশি যৌতুক মানে উপহার পেলে আমরা কালো মেয়েদেরও বিয়ে করতে প্রস্তুত থাকি। যদিও আমি শাশ্বত চিরকুমার।
তবে আমাদের সমাজের বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে নিম্নশ্রেণীর মানুষের মধ্যে দেখেছি; তারা অর্থাৎ নিম্নবিত্ত পরিবারের
বেশিরভাগ ছেলে ভালো অঙ্কের যৌতুক সহকারে কালো কালো দুই-তিনটা করে মেয়ে বিয়ে করতে পারে। আর গ্রামাঞ্চলে গাঞ্জা প্রচুর চলে। নিম্নবিত্ত স্বামীরা গাজা খেয়ে রাতে-সকালে বউকে পিটুনি দেয়। নিজের চোখে এসব দেখেছিলাম; যখন গ্রামে থাকতাম।
সূর্যের গ্যাস নিঃশেষ হওয়ার আগে কি মানবজাতির মধ্যে জাত,ধর্ম,পতাকা,বর্ণ এর বিভেদ দূর হবে?
তবে মেয়েদের কাছে আমার একটা প্রশ্ন, অনেক সুন্দরী মেয়েরা কালো মেয়েদের দেখে মায়া করে এবং কালো মেয়েরা সুন্দরীদের দেখে ঈর্ষা করে কেন? এটা কি যথেষ্ট শিক্ষা কিংবা পরিপক্কতার অভাবে নাকি মানবজাতির gene এ এমনকিছু লোকানো আছে। আমার আপন বোন থাকলে জিজ্ঞেস করতাম। আমি কিন্তু সব মেয়েদের বলি নাই; শুধু যাদের মনোভাব এমন তাদের বলেছি।
আর আমরা ছেলেরা কিন্তু সুন্দরী মেয়েদের প্রতিই দুর্বল। তবে উচ্চশিক্ষিত চাকরিওয়ালা কিংবা বেশি যৌতুক মানে উপহার পেলে আমরা কালো মেয়েদেরও বিয়ে করতে প্রস্তুত থাকি। যদিও আমি শাশ্বত চিরকুমার।
তবে আমাদের সমাজের বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে নিম্নশ্রেণীর মানুষের মধ্যে দেখেছি; তারা অর্থাৎ নিম্নবিত্ত পরিবারের
বেশিরভাগ ছেলে ভালো অঙ্কের যৌতুক সহকারে কালো কালো দুই-তিনটা করে মেয়ে বিয়ে করতে পারে। আর গ্রামাঞ্চলে গাঞ্জা প্রচুর চলে। নিম্নবিত্ত স্বামীরা গাজা খেয়ে রাতে-সকালে বউকে পিটুনি দেয়। নিজের চোখে এসব দেখেছিলাম; যখন গ্রামে থাকতাম।
সূর্যের গ্যাস নিঃশেষ হওয়ার আগে কি মানবজাতির মধ্যে জাত,ধর্ম,পতাকা,বর্ণ এর বিভেদ দূর হবে?
September 1, 2022
শরৎবাবুর নায়িকাদের সব সময় কেনো যে সেবা দিয়ে পুরুষের ভালোবাসার পাত্রী হতে হয় তা যদি উনাকে জিজ্ঞেস করা সম্ভব হতো জিজ্ঞেস করতাম। উনার বই পড়ে মনে হয় নারী পুরুষের ভালোবাসা পাওয়ার অধিকার রাখে কারণ নারী সেবা দিয়ে পুরুষকে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারে তাই।
কালো মেয়েদের বিয়ে নিয়ে যে সমস্যা ১০০ বছর আগে শরৎ বাবু দেখিয়েছিলেন আজও তা রয়ে গেছে। বাঙালিরা আজও বিয়ের ক্ষেত্রে ত্বকের জন্য দায়ী gene খুঁজলেও বুদ্ধিমত্তার জন্য দায়ী gene খুঁজে না।
কথা হলো, এ গল্পের নায়কের মতো বিবেচক নায়ক আমাদের সমাজে কয়টা আছে?
কালো মেয়েদের বিয়ে নিয়ে যে সমস্যা ১০০ বছর আগে শরৎ বাবু দেখিয়েছিলেন আজও তা রয়ে গেছে। বাঙালিরা আজও বিয়ের ক্ষেত্রে ত্বকের জন্য দায়ী gene খুঁজলেও বুদ্ধিমত্তার জন্য দায়ী gene খুঁজে না।
কথা হলো, এ গল্পের নায়কের মতো বিবেচক নায়ক আমাদের সমাজে কয়টা আছে?
September 15, 2021
অতুল চরিত্রটাকে পছন্দ করব নাকি করব না সেই দ্বিধায় আছি!
January 20, 2026
আমাকে ত্যাগ করে শাস্তি দেবে এ সাধ্য তোমার কিছুতেই নেই....এতো কিছুর পারও অতুলই কেন???
May 26, 2020
বিংশ শতাব্দীর প্রাচীন পাড়াগাঁয়ের হিন্দুসমাজ,তাদের কুসংস্কার আর একটি দুর্ভাগা কালো মেয়ের গল্প।ফিনিশিংটা ভালো লাগেনি - যে অতুলের অবহেলাই এতসব দুর্ভাগ্যের কারণ শেষ পর্যন্ত তার মুখেই বড় বড় কথা শুনতে একদমই ভালো লাগেনি।হয়তো তৎকালীন সমাজের নারীদের অবস্থানই ছিলো সবকিছু মুখ বুজে মেনে নেয়ার মতো তবুও সেজন্যেই এক তারা কেটে রাখলাম!
This entire review has been hidden because of spoilers.
February 15, 2022
শরৎচন্দ্রের ছোট ছোট উপন্যাসগুলো সবসময়ই আমার বেশী প্রিয়। কোথাও একবিন্দু বোর করে না এগুলো। অরক্ষণীয়াও সেরকম একটা উপন্যাস।
মেয়ের বয়স তের পেরিয়েছে। গরীবের মেয়ে তারপর কালো! এখনই বিয়ে না দিলে সমাজে জাত যাবে,এরমধ্যে বাবা মারা গেলেন। দুঃখিনী সেই মেয়ের দুঃখের আঁচ এটুকু পড়েই পাওয়া যায়।
রং দেখে একজন মানুষকে বিচার করা অবশ্যই ঘৃণ্য মন মানসিকতার পরিচয়। বর্তমান সমাজ একটা মেয়ের রং,বয়স এসবে ছাড় দিয়েছে। যেকোনো মেয়েই তার যোগ্যতা দিয়ে একজন পরমসুন্দরীর থেকে ওপরে চলে যেতে পারে এবং পছন্দের মানুষকে বিয়ে করতে পারে। কিন্তু তখনকার সমাজ এমন ছিল না। তখন মেয়েদের পড়াশোনা করতে দেয়া হতো না এবং কোনোরকমে বেড়ে উঠতে না উঠতেই পাত্রের সন্ধান শুরু হয়ে যেত। আর সেই কারণেই তখন একমাত্র মুখ্য বিষয় ছিল রুপ। দুঃখের বিষয় বউ ঠেঙ্গানো,বিপত্নীক,বুড়ো,আধবুড়ো,কানা,বোবা যাই হোক ছেলেদের বউ জোটার ব্যাপারে সমাজ উদার কিন্তু একটা নিস্পাপ কুমারী বাচ্চা মেয়েরও তের পেরোতে বিয়ে না হলে সমাজের মাথা কাটা যায়। খুশীর ব্যাপার যে এমন কুৎসিত সমাজ বদলেছে। তারপরেও সেই সমাজের মানুষদের বংশধরদের কেউ কেউ সিকি পরিমাণ তুচ্ছ মানসিকতা নিয়ে এখনো বহাল তবিয়তে বেঁচে আছে যারা মেয়ের জোর করে বিয়ে দেয়, যারা মেয়ে কালো বলে গালি দেবার সময় মেয়েটার কেমন অনুভূত হচ্ছে তাকিয়েও দেখে না। সেসব মেয়েরা এই বই পড়ে নিশ্চয়ই নিজেদের রিলেট করতে পারে আজও।
গল্পে আসি, দুর্গার মেয়ে জ্ঞানদার বয়স তের ছাড়িয়েছে। তার বাসায় প্রায়ই যাতায়াত করে অতুল। চমৎকার একটা ছেলে। এবং জ্ঞানদাকে পছন্দও করে সে। এটা সেটা উপহার নিয়ে আসে। মৃত্যুশয্যায় ওর বাবাকে কথা দিয়ে বলে, মেয়েকে নিয়ে চিন্তার কোন কারণ নেই।
কিন্তু মানুষের মন বদলাতে কতক্ষন? যখন তোমার আত্নীয়স্বজন কানের কাছে সারাক্ষণ মেয়েটিকে শাকচুন্নী,পেত্নী বিশেষণে বিশেষায়িত করছে। বিশেষ করে স্বামী মারা যাবার পর দুর্গা অতুলকে একদন্ড তিষ্ঠোতে দিচ্ছে না মেয়েকে নেবার জন্য। যা মানুষ ভালোবেসে গ্রহন করে তাই যখন চাপিয়ে দেবার চেষ্টা করা হয় সেটাকে বোঝা মনে হতে কতক্ষন?
দজ্জালের মধ্যে একমাত্র দুর্গার বড় জা। কোনো কথাই মুখে বাঁধে না তার। ছোট জা মানুষটা ভালো কিন্তু নিজের মতো থাকে, মাঝেমধ্যে জ্ঞানদার জন্য তার প্রাণও কাঁদে। বাপের বাড়িতে ভাইবৌটা তার ভালো, কিন্তু ভাইটা নিজের কিছু ধার শোধ করার জন্য উঠেপড়ে লাগে বউমরা এক গাঁজাখোরের সাথে ভাগ্নির বিয়ে দেবে বলে।
পাত্র যে একেবারে জোগাড় হয়না তা না। আধবুড়ো ঘাটের মড়া মাঝেমধ্যে জোটে। চেহারা একদম খারাপ জ্ঞানদার তাও না। ম্যালেরিয়ায় ভোগার পর থেকে তাকে দেখলে আর ঘাটের মরাও পছন্দ করেনা।
শহর থেকে মাধুরী আসে। সম্পর্কে জ্ঞানদার বোন। রুপে গুণে অনন্য। তার রুপের সামনে ছোট এতটুকু হয়ে থাকে মেয়েটা। সবাই তাদের দুজনের তুলনা করে তাকে ছিঃ ছিঃ করে। অথচ তার যে রুপ নেই,সে যে গরীবের মেয়ে,তার যে বাবা নেই,সে যে ম্যালেরিয়ায় ভুগে চেহারা হারিয়েছে,তার যে প্রসাধন কেনার পয়সা নেই এতে তার দোষ কোথায়? আর সুন্দর চেহারা হওয়ায় মাধুরীর কৃতিত্বই বা কোথায়? এটার কোনোটাতেই কি হাত আছে তাদের কারো? চেহারা সুন্দর না হলে একটা মেয়ে যত কটুক্তি শোনে,রং কালো হলে সে যতবার পাত্রপক্ষের সামনে থেকে 'না' শুনে ফেরত আসে এটা কি সে ডিজার্ভ করে? সমাজ বদলেছে,এযুগের মেয়েদের এসব সহ্য করতে হয় না। কিন্তু সে যুগের মেয়েরা যারা এই আধুনিক যুগে জন্মায়নি বলে বলির পাঁঠা হয়েছে তাদের এতে কি যায় আসে? তারা জন্মেছে,একগাদা না পাওয়া নিয়ে চলে গেছে। আর কি তারা ফিরে আসবে?
ছোট্ট কিন্তু চমৎকার একটা উপন্যাস। পদে পদে জ্ঞানদাকে বিয়ে না হবার জন্য,রুপ নিয়ে,রং নিয়ে যত কথা যত কটুক্তি যত হাসাহাসি সহ্য করতে হয়েছে পড়তে অসম্ভব কষ্ট লাগে। খুব খারাপ লাগে,রাগ হয়। আর এটাই উপন্যাসের কৃতিত্ব। লেখক সত্যের কাছাকাছি যেতে পেরেছেন। পাঠককে ভাবাতে পেরেছেন, রাগাতে পেরেছেন। লেখক জিতে গেছেন।
মেয়ের বয়স তের পেরিয়েছে। গরীবের মেয়ে তারপর কালো! এখনই বিয়ে না দিলে সমাজে জাত যাবে,এরমধ্যে বাবা মারা গেলেন। দুঃখিনী সেই মেয়ের দুঃখের আঁচ এটুকু পড়েই পাওয়া যায়।
রং দেখে একজন মানুষকে বিচার করা অবশ্যই ঘৃণ্য মন মানসিকতার পরিচয়। বর্তমান সমাজ একটা মেয়ের রং,বয়স এসবে ছাড় দিয়েছে। যেকোনো মেয়েই তার যোগ্যতা দিয়ে একজন পরমসুন্দরীর থেকে ওপরে চলে যেতে পারে এবং পছন্দের মানুষকে বিয়ে করতে পারে। কিন্তু তখনকার সমাজ এমন ছিল না। তখন মেয়েদের পড়াশোনা করতে দেয়া হতো না এবং কোনোরকমে বেড়ে উঠতে না উঠতেই পাত্রের সন্ধান শুরু হয়ে যেত। আর সেই কারণেই তখন একমাত্র মুখ্য বিষয় ছিল রুপ। দুঃখের বিষয় বউ ঠেঙ্গানো,বিপত্নীক,বুড়ো,আধবুড়ো,কানা,বোবা যাই হোক ছেলেদের বউ জোটার ব্যাপারে সমাজ উদার কিন্তু একটা নিস্পাপ কুমারী বাচ্চা মেয়েরও তের পেরোতে বিয়ে না হলে সমাজের মাথা কাটা যায়। খুশীর ব্যাপার যে এমন কুৎসিত সমাজ বদলেছে। তারপরেও সেই সমাজের মানুষদের বংশধরদের কেউ কেউ সিকি পরিমাণ তুচ্ছ মানসিকতা নিয়ে এখনো বহাল তবিয়তে বেঁচে আছে যারা মেয়ের জোর করে বিয়ে দেয়, যারা মেয়ে কালো বলে গালি দেবার সময় মেয়েটার কেমন অনুভূত হচ্ছে তাকিয়েও দেখে না। সেসব মেয়েরা এই বই পড়ে নিশ্চয়ই নিজেদের রিলেট করতে পারে আজও।
গল্পে আসি, দুর্গার মেয়ে জ্ঞানদার বয়স তের ছাড়িয়েছে। তার বাসায় প্রায়ই যাতায়াত করে অতুল। চমৎকার একটা ছেলে। এবং জ্ঞানদাকে পছন্দও করে সে। এটা সেটা উপহার নিয়ে আসে। মৃত্যুশয্যায় ওর বাবাকে কথা দিয়ে বলে, মেয়েকে নিয়ে চিন্তার কোন কারণ নেই।
কিন্তু মানুষের মন বদলাতে কতক্ষন? যখন তোমার আত্নীয়স্বজন কানের কাছে সারাক্ষণ মেয়েটিকে শাকচুন্নী,পেত্নী বিশেষণে বিশেষায়িত করছে। বিশেষ করে স্বামী মারা যাবার পর দুর্গা অতুলকে একদন্ড তিষ্ঠোতে দিচ্ছে না মেয়েকে নেবার জন্য। যা মানুষ ভালোবেসে গ্রহন করে তাই যখন চাপিয়ে দেবার চেষ্টা করা হয় সেটাকে বোঝা মনে হতে কতক্ষন?
দজ্জালের মধ্যে একমাত্র দুর্গার বড় জা। কোনো কথাই মুখে বাঁধে না তার। ছোট জা মানুষটা ভালো কিন্তু নিজের মতো থাকে, মাঝেমধ্যে জ্ঞানদার জন্য তার প্রাণও কাঁদে। বাপের বাড়িতে ভাইবৌটা তার ভালো, কিন্তু ভাইটা নিজের কিছু ধার শোধ করার জন্য উঠেপড়ে লাগে বউমরা এক গাঁজাখোরের সাথে ভাগ্নির বিয়ে দেবে বলে।
পাত্র যে একেবারে জোগাড় হয়না তা না। আধবুড়ো ঘাটের মড়া মাঝেমধ্যে জোটে। চেহারা একদম খারাপ জ্ঞানদার তাও না। ম্যালেরিয়ায় ভোগার পর থেকে তাকে দেখলে আর ঘাটের মরাও পছন্দ করেনা।
শহর থেকে মাধুরী আসে। সম্পর্কে জ্ঞানদার বোন। রুপে গুণে অনন্য। তার রুপের সামনে ছোট এতটুকু হয়ে থাকে মেয়েটা। সবাই তাদের দুজনের তুলনা করে তাকে ছিঃ ছিঃ করে। অথচ তার যে রুপ নেই,সে যে গরীবের মেয়ে,তার যে বাবা নেই,সে যে ম্যালেরিয়ায় ভুগে চেহারা হারিয়েছে,তার যে প্রসাধন কেনার পয়সা নেই এতে তার দোষ কোথায়? আর সুন্দর চেহারা হওয়ায় মাধুরীর কৃতিত্বই বা কোথায়? এটার কোনোটাতেই কি হাত আছে তাদের কারো? চেহারা সুন্দর না হলে একটা মেয়ে যত কটুক্তি শোনে,রং কালো হলে সে যতবার পাত্রপক্ষের সামনে থেকে 'না' শুনে ফেরত আসে এটা কি সে ডিজার্ভ করে? সমাজ বদলেছে,এযুগের মেয়েদের এসব সহ্য করতে হয় না। কিন্তু সে যুগের মেয়েরা যারা এই আধুনিক যুগে জন্মায়নি বলে বলির পাঁঠা হয়েছে তাদের এতে কি যায় আসে? তারা জন্মেছে,একগাদা না পাওয়া নিয়ে চলে গেছে। আর কি তারা ফিরে আসবে?
ছোট্ট কিন্তু চমৎকার একটা উপন্যাস। পদে পদে জ্ঞানদাকে বিয়ে না হবার জন্য,রুপ নিয়ে,রং নিয়ে যত কথা যত কটুক্তি যত হাসাহাসি সহ্য করতে হয়েছে পড়তে অসম্ভব কষ্ট লাগে। খুব খারাপ লাগে,রাগ হয়। আর এটাই উপন্যাসের কৃতিত্ব। লেখক সত্যের কাছাকাছি যেতে পেরেছেন। পাঠককে ভাবাতে পেরেছেন, রাগাতে পেরেছেন। লেখক জিতে গেছেন।
This entire review has been hidden because of spoilers.
January 6, 2026
যুগ যুগ ধরে মেয়েরা সমাজের চোখে অরক্ষণীয়া হয়ে থেকেছে। বর্তমান সমাজে তাও কিছুটা রেহাই আছে কিন্তু সেই প্রাচীন কালে সমাজে যে আরো বেশি অন্ধ গোঁড়ামি ছিলো। নারীদের শুধু যেন একটাই কাজ বিয়ে করতে হবে। বাবা মায়ের চিন্তা মেয়ের বিয়ে নিয়ে। বয়স যদি হয় এগারো বারো তবেই তো আরো মুশকিল, গ্ৰামের লোক নানান নিন্দা জানিয়ে যাবে সকাল বিকাল।
জ্ঞানদা বা গেনির বয়স অল্প। কিন্তু মেয়েকে নিয়ে মা দুর্গা মনির চিন্তার শেষ নেই। মেয়েটা দেখতে কালো এটাই তো বড় সমস্যা। কালো মেয়েকে কে বিয়ে করবে? দুর্গা মনির বড় জায়ের মামাতো বোনের ছেলে অতুলকে কাছে পেয়ে তিনি সেই দুঃখের কথাই শোনাচ্ছিলেন। অতুল এবং গেনির মধ্যে এক সুন্দর সখ্যতার সম্পর্ক দেখা যায় যেটা দুর্গা মনিরও চোখ এড়ায় না। এমন সময় হলো সর্বনাশ। দুর্গা মনি স্বামীহারা হলেন। পিতার যাবার বেলায় সকলের সামনে জ্ঞানদা কাঁদতে কাঁদতে অতুলের পায়ে লুটিয়ে পড়েছিল দেখেই কী তখন অতুল জ্ঞানদার বাবাকে কথা দিয়েছিল যে সে গিনিকে বিয়ে করবে? দুর্গা মনি স্বামীর চলে যাবার পর আশায় বুক বেঁধে রইলেন এবার বুঝি গেনির একটা গতি হলো। সব চিন্তা দূর হলো। কিন্তু দুর্গা মনি যখন অতুলের সাথে গেনির বিয়ের জন্য কথা বলে অতুল রীতিমতো সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে। এই কথা শোনার পরে দুর্গা মনির মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। অতুলের জন্য এতদিন যে তিনি মেয়ের চিন্তা থেকে মুক্ত ছিলেন। কিন্তু সব যে শেষ!
তারপর কী করবেন দুর্গামনি? একে তো সবার কাছে অপ্রিয় কালো কুৎসিত চেহারার মেয়েটাকে বিয়ে দিতে পারছেন না। ওদিকে যে এসে মেয়েটাকে আগলে রাখার কথা দিয়েছিল সেও মুখ ফিরিয়ে নিলো! জ্ঞানদা তবে কী সারাজীবন অপরের গঞ্জনা সহ্য করে বেঁচে থাকবে? অতুলের সাথে কী গেনির মিলন সম্ভব?
------------পাঠ প্রতিক্রিয়া-----------
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অরক্ষণীয়া সামাজিক জনরায় বেশ বাস্তব জীবনের চিন্তা লেগেছে আমার কাছে। এই সমাজে মেয়েদের বিয়ে নিয়ে বাবা মায়ের যে কতটা হেনস্থা হতে হয় বিশেষ করে মেয়ে যদি হয় কালো। কালো মানেই কুৎসিত। কালো মেয়ের কপালে বিয়ে জোটাতে তখনকার দিনে আরো হিমশিম খেতে হয়েছে বাবা মায়েদের।
কিন্তু সমাজ কী এখনো কালো মেয়েদের নিয়ে বিচার ধারা বদলেছে? আজও বিয়ের পাত্রী দেখতে এলে পাত্রের মা ছেলের জন্য তো ফর্সা মেয়েই খোঁজেন। শরৎচন্দ্রের লেখায় প্রতিটি সামাজিক জনরার উপন্যাসে কিছু না কিছু সামাজিক এমন ব্যাধি দেখতে পাই আমরা। কালো মেয়েকে কেন পছন্দ করা যাবে না? কেন অতুল রাখতে পারলো না নিজের দেয়া কথা? জ্ঞানদা একদিন অসুস্থ অতুলের সেবা করে তাকে সুস্থ করে তুলেছিল। বেরি বেরি রোগে ভুগে অতুল তো প্রায় জীবনের মায়া ত্যাগ করে ছিলো। তবে কেন কালো রঙ বাঁধা হয়ে গেল? নিজেই তো কথা দিয়েছিল জ্ঞানদার বাবাকে। পড়তে পড়তে এমনি সব বিষয় চিন্তা করছিলাম।
শরৎচন্দ্রের লেখা ও বর্ণনা এই বইয়ে কিছু কিছু জায়গায় এত আবেগী হয়ে উঠেছে যে এক সময় আপনার ও মনে মায়া হবে ওই বাবা হারা দুঃখী কালো মেয়েটার জন্য। এই সমাজে মেয়েদের বিয়ের বাজারে কালো মেয়ের কদর যদিও নেই তবুও জ্ঞানদার মতো শান্ত স্বভাবের মেয়ে নিঃসন্দেহে ভালো। গেনির মা দুর্গা মনিকেও দোষ দেয়া যায় না। মেয়ের জন্য কোন মা চিন্তা না করে। কিন্তু অতুল! নাহ তাকে আসলে ক্ষমা করা যায় না সহজে। যখন সে তার নিজের দেয়া কথা অস্বীকার করলো কত সহজেই!
এই সমাজে ভালোদের কদর থাকবে কীভাবে যদি শুধু সাদা চামড়ার উপরই নির্ভর করে বিয়ের সিদ্ধান্ত। অরক্ষণীয়ারা শুধু সেই যুগে নয়, যুগে যুগে ছিলো আছে থাকবে।
✨বইয়ের নাম: "অরক্ষণীয়া"
✨ লেখক: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
জ্ঞানদা বা গেনির বয়স অল্প। কিন্তু মেয়েকে নিয়ে মা দুর্গা মনির চিন্তার শেষ নেই। মেয়েটা দেখতে কালো এটাই তো বড় সমস্যা। কালো মেয়েকে কে বিয়ে করবে? দুর্গা মনির বড় জায়ের মামাতো বোনের ছেলে অতুলকে কাছে পেয়ে তিনি সেই দুঃখের কথাই শোনাচ্ছিলেন। অতুল এবং গেনির মধ্যে এক সুন্দর সখ্যতার সম্পর্ক দেখা যায় যেটা দুর্গা মনিরও চোখ এড়ায় না। এমন সময় হলো সর্বনাশ। দুর্গা মনি স্বামীহারা হলেন। পিতার যাবার বেলায় সকলের সামনে জ্ঞানদা কাঁদতে কাঁদতে অতুলের পায়ে লুটিয়ে পড়েছিল দেখেই কী তখন অতুল জ্ঞানদার বাবাকে কথা দিয়েছিল যে সে গিনিকে বিয়ে করবে? দুর্গা মনি স্বামীর চলে যাবার পর আশায় বুক বেঁধে রইলেন এবার বুঝি গেনির একটা গতি হলো। সব চিন্তা দূর হলো। কিন্তু দুর্গা মনি যখন অতুলের সাথে গেনির বিয়ের জন্য কথা বলে অতুল রীতিমতো সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে। এই কথা শোনার পরে দুর্গা মনির মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। অতুলের জন্য এতদিন যে তিনি মেয়ের চিন্তা থেকে মুক্ত ছিলেন। কিন্তু সব যে শেষ!
তারপর কী করবেন দুর্গামনি? একে তো সবার কাছে অপ্রিয় কালো কুৎসিত চেহারার মেয়েটাকে বিয়ে দিতে পারছেন না। ওদিকে যে এসে মেয়েটাকে আগলে রাখার কথা দিয়েছিল সেও মুখ ফিরিয়ে নিলো! জ্ঞানদা তবে কী সারাজীবন অপরের গঞ্জনা সহ্য করে বেঁচে থাকবে? অতুলের সাথে কী গেনির মিলন সম্ভব?
------------পাঠ প্রতিক্রিয়া-----------
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অরক্ষণীয়া সামাজিক জনরায় বেশ বাস্তব জীবনের চিন্তা লেগেছে আমার কাছে। এই সমাজে মেয়েদের বিয়ে নিয়ে বাবা মায়ের যে কতটা হেনস্থা হতে হয় বিশেষ করে মেয়ে যদি হয় কালো। কালো মানেই কুৎসিত। কালো মেয়ের কপালে বিয়ে জোটাতে তখনকার দিনে আরো হিমশিম খেতে হয়েছে বাবা মায়েদের।
কিন্তু সমাজ কী এখনো কালো মেয়েদের নিয়ে বিচার ধারা বদলেছে? আজও বিয়ের পাত্রী দেখতে এলে পাত্রের মা ছেলের জন্য তো ফর্সা মেয়েই খোঁজেন। শরৎচন্দ্রের লেখায় প্রতিটি সামাজিক জনরার উপন্যাসে কিছু না কিছু সামাজিক এমন ব্যাধি দেখতে পাই আমরা। কালো মেয়েকে কেন পছন্দ করা যাবে না? কেন অতুল রাখতে পারলো না নিজের দেয়া কথা? জ্ঞানদা একদিন অসুস্থ অতুলের সেবা করে তাকে সুস্থ করে তুলেছিল। বেরি বেরি রোগে ভুগে অতুল তো প্রায় জীবনের মায়া ত্যাগ করে ছিলো। তবে কেন কালো রঙ বাঁধা হয়ে গেল? নিজেই তো কথা দিয়েছিল জ্ঞানদার বাবাকে। পড়তে পড়তে এমনি সব বিষয় চিন্তা করছিলাম।
শরৎচন্দ্রের লেখা ও বর্ণনা এই বইয়ে কিছু কিছু জায়গায় এত আবেগী হয়ে উঠেছে যে এক সময় আপনার ও মনে মায়া হবে ওই বাবা হারা দুঃখী কালো মেয়েটার জন্য। এই সমাজে মেয়েদের বিয়ের বাজারে কালো মেয়ের কদর যদিও নেই তবুও জ্ঞানদার মতো শান্ত স্বভাবের মেয়ে নিঃসন্দেহে ভালো। গেনির মা দুর্গা মনিকেও দোষ দেয়া যায় না। মেয়ের জন্য কোন মা চিন্তা না করে। কিন্তু অতুল! নাহ তাকে আসলে ক্ষমা করা যায় না সহজে। যখন সে তার নিজের দেয়া কথা অস্বীকার করলো কত সহজেই!
এই সমাজে ভালোদের কদর থাকবে কীভাবে যদি শুধু সাদা চামড়ার উপরই নির্ভর করে বিয়ের সিদ্ধান্ত। অরক্ষণীয়ারা শুধু সেই যুগে নয়, যুগে যুগে ছিলো আছে থাকবে।
✨বইয়ের নাম: "অরক্ষণীয়া"
✨ লেখক: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
June 30, 2020
সেই চিরায়ত শরৎচন্দ্র যেখানে তাঁর প্রতিটি চরিত্র একদম আলাদা আলাদা মাত্রায় এবং সবাই মিলে এক বহুমাত্রিক মিলনস্থল সৃষ্টি করে আছে।
April 30, 2025
সুন্দর। অতুলের ওপর অভিমান হচ্ছে।
August 26, 2023
অসাধারণ গল্প
July 30, 2017
i don't have any more ratings to give it.
January 16, 2025
আজকের দিনে এসেও মানুষ গায়ের রং দেখে বিচার করে। বিয়ে না হলে আজকের দিনেও মানুষ ঐ মেয়ে ও তার পরিবারের লোকদের কথা শুনাতে ছাড়ে না। সময় বদলায় কিন্তু বদলায় না মানসিকতা।
"যদি জন্মই নিয়েছিলি, ছেলে হয়ে কেন জন্মাস নি মা!"এই কথার মাধ্যমেই বুঝা যায় একজন মায়ের অসহায়ত্ব। মেয়ে হয়ে জন্মানোটাই যেন একটা বড় অপরাধ। আর অতুল এর মতো মানুষেরা যারা বাহিরের চাকচিক্য দেখে গুণের কথা ভুলে যায়, ভুলে যায় মরণাপন্ন মানুষকে দেওয়া ওয়াদা তাদের কিছুই হয় না। আর জ্ঞানদার মতো মেয়েরাও সমাজের দিকে তাকিয়ে তাদের ক্ষমা করে দেয়।
গল্পটি পড়ে শুধু মনে হলো শেষটা এমন না হলেও পারতো। সবসময় হ্যাপি এন্ডিং পছন্দ করা আমিও খুব করে চাইছিলাম হ্যাপি এন্ডিং না হোক, জ্ঞানদা যেন কিছুতেই অতুলকে ক্ষমা না করে। কিন্তু এই সমাজে থেকে জ্ঞানদার মতো মেয়েদের তো সেই অধিকার নেই।
"যদি জন্মই নিয়েছিলি, ছেলে হয়ে কেন জন্মাস নি মা!"এই কথার মাধ্যমেই বুঝা যায় একজন মায়ের অসহায়ত্ব। মেয়ে হয়ে জন্মানোটাই যেন একটা বড় অপরাধ। আর অতুল এর মতো মানুষেরা যারা বাহিরের চাকচিক্য দেখে গুণের কথা ভুলে যায়, ভুলে যায় মরণাপন্ন মানুষকে দেওয়া ওয়াদা তাদের কিছুই হয় না। আর জ্ঞানদার মতো মেয়েরাও সমাজের দিকে তাকিয়ে তাদের ক্ষমা করে দেয়।
গল্পটি পড়ে শুধু মনে হলো শেষটা এমন না হলেও পারতো। সবসময় হ্যাপি এন্ডিং পছন্দ করা আমিও খুব করে চাইছিলাম হ্যাপি এন্ডিং না হোক, জ্ঞানদা যেন কিছুতেই অতুলকে ক্ষমা না করে। কিন্তু এই সমাজে থেকে জ্ঞানদার মতো মেয়েদের তো সেই অধিকার নেই।
September 23, 2024
বেশ ভালো গল্প, শেষ পাতা অব্দি মনোযোগ ধরে রাখতে সক্ষম। কিন্তু এই চমৎকার গল্পটির এহেন সমাপ্তি অপ্রত্যাশিত। তবে সমসাময়িক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যবেক্ষণ করলে তৎকালীন অরক্ষণীয়াদের এমনই পরিসমাপ্তি অদৃষ্টে জুটতো বৈকি! শেষ পাতায় তাই লেখক যেন সত্যকেই স্থান দিলেন। কলমের বলে আর তাদের অসহায়ত্ব লুকানোর চেষ্টা করলেন না।
January 4, 2025
কি লিখসে এটা ভাই। এতটাই দুর্বিষহ লাগছিল যে পড়তেও কষ্ট হচ্ছিল। সমাজকে গলাটিপে যদি হত্যা করা যেত অনেক ভালো হতো।
May 26, 2016
এস এস সি দিয়ে শরৎচন্দ্র সমগ্র ধরি, রচনাবলির প্রথম খণ্ডের শেষ উপন্যাস ছিল।আট বছর আগের স্মৃতি হাতড়ে যেটুকু মনে পড়ে, নায়িকার নাম জ্ঞানদানন্দিনী।হুমায়ূন আহমেদের নায়িকাদের মতো হুরপরী কেউ নয়, শ্যামাবর্ণা বলে সবার দৃষ্টিতে অসুন্দরী। কষ্ট লেগেছিল পড়ে এটুকুই মনে আছে।গল্পবলিয়ে কাউকে অসুন্দরী ঘোষণা দেবার পরেও , পঠনকালীন সময়ে 'অপরিণত ফ্যান্টাসিবঞ্চিত' মনকে মোহময় করে রাখতে পারার পর, তার জাদুকরী বলনভঙ্গী নিয়ে আর কোন প্রশ্নের অবকাশ থাকেনা।হুমায়ূন আহমেদকে একালের শরৎ বলে থাকেন অনেকে (জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে), এইসব ফ্যান্টাসি না ঢুকিয়ে ক'টা উপন্যাসে পাঠক ধরে রাখার মত লিখে গেছেন এনিয়ে সন্দেহ হয়।
April 22, 2025
🔰কাহিনী সংক্ষেপ:
জ্ঞানদা কালো বর্ণের হওয়ায় তার বিয়ে নিয়ে কি কি কষ্ট সহ্য করতে হয়, সেটা তুলে ধরা হয়েছে।
🔰মন্তব্য:
উপন্যাসটি আজ থেকে ১০০ এর পুরোনো হওয়া সত্ত্বেও এখনও প্রত্যেকটি চরিত্রের সাথে relate করা যায়। চিরায়ত উপন্যাসের এটাই সার্থকতা। তখনকার দিনে মুখে না বলেও যেন ভালোবাসা প্রকাশ করা যেত।
জ্ঞানদা ও দুর্গামণির করুণ পরিস্থিতির জন্য মন খারাপ হয়ে যাবে। ফলে আমার অতুল চরিত্রটার প্রতি ঘৃণা বৃদ্ধি পেতে থাকে। শেষে যদিও বা সে তার ভুল বুঝতে পারে। জ্ঞানদার মামী (ভামিনী) চরিত্রটা ও ছোটখুড়ীমার চরিত্রটা প্রথমে negative মনে হলেও, তাদের স্বরূপ জানার পর তাদের প্রতি শ্রদ্ধা বেড়ে যাবে।
প্রধান চরিত্র: দুর্গামণি, জ্ঞানদা ও অতুল
প্রিয় চরিত্র: ভামিনী (মামি) ও ছোটখুড়ী
জ্ঞানদা কালো বর্ণের হওয়ায় তার বিয়ে নিয়ে কি কি কষ্ট সহ্য করতে হয়, সেটা তুলে ধরা হয়েছে।
🔰মন্তব্য:
উপন্যাসটি আজ থেকে ১০০ এর পুরোনো হওয়া সত্ত্বেও এখনও প্রত্যেকটি চরিত্রের সাথে relate করা যায়। চিরায়ত উপন্যাসের এটাই সার্থকতা। তখনকার দিনে মুখে না বলেও যেন ভালোবাসা প্রকাশ করা যেত।
জ্ঞানদা ও দুর্গামণির করুণ পরিস্থিতির জন্য মন খারাপ হয়ে যাবে। ফলে আমার অতুল চরিত্রটার প্রতি ঘৃণা বৃদ্ধি পেতে থাকে। শেষে যদিও বা সে তার ভুল বুঝতে পারে। জ্ঞানদার মামী (ভামিনী) চরিত্রটা ও ছোটখুড়ীমার চরিত্রটা প্রথমে negative মনে হলেও, তাদের স্বরূপ জানার পর তাদের প্রতি শ্রদ্ধা বেড়ে যাবে।
প্রধান চরিত্র: দুর্গামণি, জ্ঞানদা ও অতুল
প্রিয় চরিত্র: ভামিনী (মামি) ও ছোটখুড়ী
June 6, 2025
সমাজ!
বহুদিন পর কোনো বই পড়ে এভাবে চোখ থেকে পানি ঝরলো। জীবনের প্রথম উপন্যাস 'আমি তপু' পড়ে ছোটোবেলা এভাবে কান্না করেছিলাম। অরক্ষণীয়া পড়তে গিয়ে নিজের অজান্তেই চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছিলো। তবে, গল্পের শেষটা নিয়ে আমার অভিযোগ। অতুলের মতো ছেলে যে কিনা জ্ঞানদাকে বিয়ের ব্যাপারে সকলের সামনে বলেছিলো, "আমার কি মরবার দড়ি-কলসি জোটে না?" এমন ছেলের সাথে গল্পের শেষটায় জ্ঞানদার বিয়ে কিংবা বিয়ের ইঙ্গিত মোটেও পছন্দ হয়নি। জীবনে সকলের দ্বিতীয় সুযোগ পাওয়াটা বোধ করি ঠিক না। অতুলের জন্য আত্মগ্লানিতে ভোগাটাই শ্রেয় ছিলো। সমাজের ভয়ে অতুলের কাছে জ্ঞানদার মাথা নত করাটা পছন্দ হয়নি। নাহলে এ বই পাঁচ তারা পাওয়ার মতোনই বই।
বহুদিন পর কোনো বই পড়ে এভাবে চোখ থেকে পানি ঝরলো। জীবনের প্রথম উপন্যাস 'আমি তপু' পড়ে ছোটোবেলা এভাবে কান্না করেছিলাম। অরক্ষণীয়া পড়তে গিয়ে নিজের অজান্তেই চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছিলো। তবে, গল্পের শেষটা নিয়ে আমার অভিযোগ। অতুলের মতো ছেলে যে কিনা জ্ঞানদাকে বিয়ের ব্যাপারে সকলের সামনে বলেছিলো, "আমার কি মরবার দড়ি-কলসি জোটে না?" এমন ছেলের সাথে গল্পের শেষটায় জ্ঞানদার বিয়ে কিংবা বিয়ের ইঙ্গিত মোটেও পছন্দ হয়নি। জীবনে সকলের দ্বিতীয় সুযোগ পাওয়াটা বোধ করি ঠিক না। অতুলের জন্য আত্মগ্লানিতে ভোগাটাই শ্রেয় ছিলো। সমাজের ভয়ে অতুলের কাছে জ্ঞানদার মাথা নত করাটা পছন্দ হয়নি। নাহলে এ বই পাঁচ তারা পাওয়ার মতোনই বই।
January 18, 2019
অহ্ কি বই লিখলেন শরৎবাবু! সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন পুরুষের চেহারার আড়ালের রূপ। কি থাপ্পড়টা দিলেন মুখোশ পড়া পুরুষ সমাজের গালে৷
April 20, 2019
What a strong and pure of a character Ganada is! It is obvious she doesn't deserve a mind shifting and cruel character like Atul.
September 13, 2021
Didn't like the ending. But I suppose that's how life went back in those days
August 28, 2023
বাংলায় জন্মানো কালো মেয়ে হিসেবে কাহিনীটা মন এর রন্ধ্রে রন্ধ্রে বাজলো যেন। খুব ভাগ্যবান মনে হলো নিজেকে যে আজ জন্মেছি সেযুগে না। এখনো অনেক কথা শুনতে হয় কিন্তু জ্ঞানোদার লাঞ্ছনার তুলনায় সে তুচ্ছ।
October 14, 2025
অরক্ষণীয়া:শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
যখন জন্মই নিয়েছিলি তখন ছেলে হয়ে জন্মাসনি কেন মা।কতটুকু অসহায়,মনে কতটুকু কষ্ট পেলে একজন মা এই কথা বলে তার মেয়েকে।সমাজে কালো মেয়ের বিবাহ নিয়ে আজও মেয়ে পক্ষের মানুষকে বেগ পোহাতে হয়।উপন্যাসের জ্ঞানদা কালো,বিয়ের বয়স হয়ে গেছে কিন্তু কালো বলে কেউ বিয়ে করতে রাজি হয়নি।অন্যদিকে মরণাপন্ন অতুল কে সেবা যত্ন করে ভালো করে তুলে জ্ঞানদা।তখন কথা দিয়েছিল জ্ঞানদা কে বিয়ে করবে।কিন্তু হঠাৎ জ্ঞানদাকে বিয়ে করতে রাজি হয়নি।অরক্ষণীয়া পড়ে ভাবতেছি ১৯১৬ সালে লেখে যাওয়া বই বর্তমান সময় এসে কত মিল।সময় বদলায় কিন্তু মানুষের অমানুষিক মনুষত্ব বদলায় না।মেয়েদের কি নির্মম কষ্ট,পরিহাস এর মধ্যে দিয়ে যেতে হয়।সময় মতো কোনো মেয়ের বিয়ে না হলে সমাজের নিজের আত্মীয়-স্বজনদের কত যে বিষবাক্য সহ্য করতে হয়,আমি ছেলে হয়ে হয়তো তা পুরোপুরি অনুধাবন করতে পাড়ব না।উপন্যাসে জ্ঞানদার জন্য কোনো ছেলে বিবাহ করতে যখন রাজি হয়নি,বিবাহ সম্বন্ধ আসা বন্ধ হয়ে গেছে দূর্গামনি তখন চিন্তায় পড়ে গেলেন।একদিন এক পাত্রপক্ষ দেখতে আসবে তাই আয়োজনে ব্যস্ত মা,দুর্গামনি মেয়েকে সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন,কোন শাড়িটা পড়লে মেয়েটাকে একটু সুন্দর দেখাবে, কোন টিপটা দিলে মুখ টা মিস্টি লাগবে কীভাবে বসবে,কীভাবে কথা বলবে,কীভাবে চোখে চোখ রাখবে সব শেখাচ্ছে।আর জ্ঞানদা চুপচাপ,তার কোনো উচ্ছাস নেই আছে ক্লান্তি।কারণ এই সাজগোজ তার আত্মসম্মানের বিরুদ্ধে।এক মা তার মেয়েকে শেখাচ্ছে কিভাবে পাত্রকে আকর্ষণ করতে হয়।কারন মা জানে এই সম্বন্ধ ভেঙে গেলে আর মেয়ের আর বিয়ে হবে না।তখন সমাজের মানুষের বিষবাক্য সহ্য করার চেয়ে আত্মহত্যা করাই একমাত্র অবলম্বন।এই দৃশ্য শুধু একটি মেয়ের সাজগোজ নয়, এটা এক মায়ের অসহায়তা, এক নারীর আত্মসম্মান, আর এক সমাজের নিষ্ঠুরতা।এই অংশ টুকু পড়ার সময় চোখের কোণায় জল চলে আসছে।উপন্যাসটি পড়তে গিয়ে অনেক বার চোখে পানি চলে আসছে।বিশেষ করে একজন মায়ের কষ্ট সেটা সহ্য করা যায় না সেটা গল্পে হোক বা বাস্তবে হোক।
“আমি জানি, আমাকে কেউ বিয়ে করবে না। আমি অরক্ষণীয়া।”
যখন জন্মই নিয়েছিলি তখন ছেলে হয়ে জন্মাসনি কেন মা।কতটুকু অসহায়,মনে কতটুকু কষ্ট পেলে একজন মা এই কথা বলে তার মেয়েকে।সমাজে কালো মেয়ের বিবাহ নিয়ে আজও মেয়ে পক্ষের মানুষকে বেগ পোহাতে হয়।উপন্যাসের জ্ঞানদা কালো,বিয়ের বয়স হয়ে গেছে কিন্তু কালো বলে কেউ বিয়ে করতে রাজি হয়নি।অন্যদিকে মরণাপন্ন অতুল কে সেবা যত্ন করে ভালো করে তুলে জ্ঞানদা।তখন কথা দিয়েছিল জ্ঞানদা কে বিয়ে করবে।কিন্তু হঠাৎ জ্ঞানদাকে বিয়ে করতে রাজি হয়নি।অরক্ষণীয়া পড়ে ভাবতেছি ১৯১৬ সালে লেখে যাওয়া বই বর্তমান সময় এসে কত মিল।সময় বদলায় কিন্তু মানুষের অমানুষিক মনুষত্ব বদলায় না।মেয়েদের কি নির্মম কষ্ট,পরিহাস এর মধ্যে দিয়ে যেতে হয়।সময় মতো কোনো মেয়ের বিয়ে না হলে সমাজের নিজের আত্মীয়-স্বজনদের কত যে বিষবাক্য সহ্য করতে হয়,আমি ছেলে হয়ে হয়তো তা পুরোপুরি অনুধাবন করতে পাড়ব না।উপন্যাসে জ্ঞানদার জন্য কোনো ছেলে বিবাহ করতে যখন রাজি হয়নি,বিবাহ সম্বন্ধ আসা বন্ধ হয়ে গেছে দূর্গামনি তখন চিন্তায় পড়ে গেলেন।একদিন এক পাত্রপক্ষ দেখতে আসবে তাই আয়োজনে ব্যস্ত মা,দুর্গামনি মেয়েকে সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন,কোন শাড়িটা পড়লে মেয়েটাকে একটু সুন্দর দেখাবে, কোন টিপটা দিলে মুখ টা মিস্টি লাগবে কীভাবে বসবে,কীভাবে কথা বলবে,কীভাবে চোখে চোখ রাখবে সব শেখাচ্ছে।আর জ্ঞানদা চুপচাপ,তার কোনো উচ্ছাস নেই আছে ক্লান্তি।কারণ এই সাজগোজ তার আত্মসম্মানের বিরুদ্ধে।এক মা তার মেয়েকে শেখাচ্ছে কিভাবে পাত্রকে আকর্ষণ করতে হয়।কারন মা জানে এই সম্বন্ধ ভেঙে গেলে আর মেয়ের আর বিয়ে হবে না।তখন সমাজের মানুষের বিষবাক্য সহ্য করার চেয়ে আত্মহত্যা করাই একমাত্র অবলম্বন।এই দৃশ্য শুধু একটি মেয়ের সাজগোজ নয়, এটা এক মায়ের অসহায়তা, এক নারীর আত্মসম্মান, আর এক সমাজের নিষ্ঠুরতা।এই অংশ টুকু পড়ার সময় চোখের কোণায় জল চলে আসছে।উপন্যাসটি পড়তে গিয়ে অনেক বার চোখে পানি চলে আসছে।বিশেষ করে একজন মায়ের কষ্ট সেটা সহ্য করা যায় না সেটা গল্পে হোক বা বাস্তবে হোক।
“আমি জানি, আমাকে কেউ বিয়ে করবে না। আমি অরক্ষণীয়া।”
May 8, 2023
কিছু গল্প তৈরী করে লেখক শুধু মানুষকে কাঁদানোর জন্য। দুঃখ প্রকাশ করার জিনিস হলেও সে দুঃখ অপরকে কতটা পুড়ায় যারা উপলব্ধি করতে পারে তাদের হৃদয়ের ভালোবাসার কথাটা নাই বলি। দুখী সবাই তাই বলে চরম দুঃখে দিনাতিপাত করা মানুষ গুলোকে দেখলে চোখের জলে বুক ভাসে। আমি হয়তো নদীর মত কখনো বন্যা হয়ে নিজের দুঃখে কাঁদতে পারব না কিন্তু বৃষ্টির মত খুব কাঁদতে পারব ফোঁটা ফোঁটা বিন্দু দিয়ে।
মানুষের চরম সার্থকতা তার মুক্তিতে। মুক্তি মানে ভালোবাসা। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রেমিক যারা বিদ্রোহী। যারা ভালোবাসার মঞ্চে নিজেদের প্রতিনিয়ত প্রমাণ করতে চায়। মাটির সোঁদা গন্ধের মত ভালোবাসা ছড়িয়ে দেয় জীবনের স্বাদ। জীবন মানে কি তা বোঝা যায় প্রেমিকার পরশে।
"অরক্ষণীয়া" উপন্যাসটা অধরা পৃথিবীর মত। জ্ঞানদার দুঃখ গুলো, তার কালো ছাইয়ের বর্ণের রুপ যেন খোদা অন্য কাউকে না দেয়। তার মত লাঞ্ছিত যেন কোনো নারী না হয়। বিয়ে যেন মুক্তির প্রধান উপায় না হয়। ওর মতো কেউ যেন বুকে পাথর বেঁধে ভালোবাসার বিদায় না দেয়। খোদা সকলকে তার ভালোবাসা দিক! দুজন মানুষের মাঝে পূর্ণতা আসুক স্রোতের মত।
দূর্গা ভালোবাসা থাকলেও মেয়ের প্রতি তার বিদ্বেষ তখনকার সমাজে যর্থাথ। তার ভালোবাসা যে মেঘের মত। সারাক্ষণ জ্ঞানদাকে চেয়ে ছিল।
অরক্ষণীয়া সারসংক্ষেপ হলো, দুটো মা মেয়ের কাহিনী। জ্ঞানদা কালো, যার রুপ ছাইয়ের মত সুন্দর। কিন্তু বিয়ের বাজারে সে অনূঢ়া। কিন্তু জ্ঞানদাকে অতুল ভালোবাসে। সে জ্ঞানদার সেবায় ভালো হয়ে উঠেছিল ম্যালেরিয়া থেকে। কিন্তু হঠাৎ করে অতুল পরিবর্তন হয়ে যায়। সে জ্ঞানদাকে বিয়ে করতে চায় না। অনেক বিয়ে আসলো কালো বলে কেউ ঘরে নিতে চায় না। এর ধরুন তার মা সারাক্ষণ গালি দেয়, জেষ্ঠ্যামা বকে। সে যেন নীরব আকাশ। কোন শব্দ করে না।
মানুষের চরম সার্থকতা তার মুক্তিতে। মুক্তি মানে ভালোবাসা। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রেমিক যারা বিদ্রোহী। যারা ভালোবাসার মঞ্চে নিজেদের প্রতিনিয়ত প্রমাণ করতে চায়। মাটির সোঁদা গন্ধের মত ভালোবাসা ছড়িয়ে দেয় জীবনের স্বাদ। জীবন মানে কি তা বোঝা যায় প্রেমিকার পরশে।
"অরক্ষণীয়া" উপন্যাসটা অধরা পৃথিবীর মত। জ্ঞানদার দুঃখ গুলো, তার কালো ছাইয়ের বর্ণের রুপ যেন খোদা অন্য কাউকে না দেয়। তার মত লাঞ্ছিত যেন কোনো নারী না হয়। বিয়ে যেন মুক্তির প্রধান উপায় না হয়। ওর মতো কেউ যেন বুকে পাথর বেঁধে ভালোবাসার বিদায় না দেয়। খোদা সকলকে তার ভালোবাসা দিক! দুজন মানুষের মাঝে পূর্ণতা আসুক স্রোতের মত।
দূর্গা ভালোবাসা থাকলেও মেয়ের প্রতি তার বিদ্বেষ তখনকার সমাজে যর্থাথ। তার ভালোবাসা যে মেঘের মত। সারাক্ষণ জ্ঞানদাকে চেয়ে ছিল।
অরক্ষণীয়া সারসংক্ষেপ হলো, দুটো মা মেয়ের কাহিনী। জ্ঞানদা কালো, যার রুপ ছাইয়ের মত সুন্দর। কিন্তু বিয়ের বাজারে সে অনূঢ়া। কিন্তু জ্ঞানদাকে অতুল ভালোবাসে। সে জ্ঞানদার সেবায় ভালো হয়ে উঠেছিল ম্যালেরিয়া থেকে। কিন্তু হঠাৎ করে অতুল পরিবর্তন হয়ে যায়। সে জ্ঞানদাকে বিয়ে করতে চায় না। অনেক বিয়ে আসলো কালো বলে কেউ ঘরে নিতে চায় না। এর ধরুন তার মা সারাক্ষণ গালি দেয়, জেষ্ঠ্যামা বকে। সে যেন নীরব আকাশ। কোন শব্দ করে না।
Displaying 1 - 30 of 65 reviews




























