ফ্ল্যাপে লেখা কিছু কথা সোবাহান তার ঘরের বারান্দায় উঠে এলো নিঃশব্দে। চারদিকে অন্ধকার। রাত কত হয়েছে ? সবাই কি ঘুমিয়ে পড়েছে ? সো্বাহান মৃদু স্বরে ডাকল, যূথি!যূথি! কেউ সাড়া দিল না সোবাহান গলা উঁচিয়ে দ্বিতীয়বার ডাকল, যূথি!যুথি! মনসুর সাহেব বেরিয়ে এলেন। জলিল সাহেব এলেন। যূথিও এলো। তার হাতে একটা হারিকেন। সে তাকাল অবাক হয়ে। সোবাহান ভাঙা গলায় বলল, যুথি, আমার আজ বড় কষ্ট। যূথি কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে রইল। তারপর এগিয়ে এসে তার দুর্বল রোগা হাতটি রাখল সোবাহানের গায়ে। বাতাসের ঝাপটায় তার অন্য হাতের হারিকেনটি দুলছে। চমৎকার সব নকশা তৈরি হচ্ছে দেয়ালে। যূথি নরম স্বরে বলল, কাঁদবেন না। সব ঠিক হয়ে যাবে। কিছুই ঠিক হয় না। তবু মমতাময়ী নারীরা আশ্বাসের কথা বলে। আশ্বাসের কথা বলতে তারা বড় ভালোবাসে।
Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
এই হুমায়ূন আহমেদ সাহেবের গভীর কোনো সমস্যা ছিল। এ মাননীয় লেখক যে পাঠকের সাথে সংসার পেতেছিলেন, তা তো আর জানাই আছে সকলের। কিন্তু তিনি যে পাঠককে ন্যাকাবোকা স্ত্রী গণ্য করে ইচ্ছেমতো সংসার ধর্ম পালন করেছেন, সেটা ঠিক হজম করতে পারি না।
ঘরের কর্ত্রী পাঠকসমাজ দাবি করলো,"ওগো, ওখানে একটু ট্র্যাজেডি দাও না!" হুমায়ূন স্যার বললেন,"আচ্ছা, এক্ষুনি দিচ্ছি!" পাঠকসমাজের মন ভালো নেই। আবদার করে বসলো, "ওগো একটু হাসাও না!" হুমায়ূন স্যার বললেন,"আহা আহা মন খারাপ তোমার? এই নাও দুটো সস্তা দম ফাটানো হাসির জোকস। হাহা!"
বড়ই কাজের জিনিস সেজন্য এসব বই, কিন্তু কাদের জন্য? আমার এক পরিচিত জনের ভাষা ধার করে বললে, পিপল সম্প্রদায়ের লোকদের জন্যে। কিন্তু আমি নিজেকে যেহেতু এই পিপল সম্প্রদায়ের পাঠক মনে করি না, সেজন্য হুমায়ূন স্যারের এই বইগুলো পড়েও আমার ঠিকঠাক হজম হয় না। প্রেডিক্টেবল, অবাস্তব। আর যা-ই বলি না কেন, এগুলোকে অন্তত সামাজিক উপন্যাস বলা যায় না।
এ বইয়ের কথাই ধরি না! ঐ পুরনো ফর্মুলা। বেকার ছেলে, চাকরি খোঁজা, নায়কের নানা জায়গায় অপমানিত হওয়া, আর দুই তিনটি রূপসী ললনা! আহা! কি রূপ মাইরি একেকজনের। ফর্সা হাত, লাল চুরি, গভীর কালো চোখ...ইশশ!
এ বইয়ের নায়ক সোবহান সাহেবও একবার যেমন এই টাইপের একটা কথা বললেন,"ফর্সা মেয়েদেরকে খাটো হলেও মানায়। কিন্তু মেয়ে কালো কিন্তু খাটো হলে একদমই চলে না। কালো মেয়েরা হবে লম্বা এবং তাদের থাকবে কোমড় পর্যন্ত লম্বা চুল।" আমার ছাতার মাথা লিখেছেন উনি! এখন কোনো মেয়ে কালো এবং খাটো হলেই সে কুৎসিত? বর্ণবাদের চূড়ান্ত রূপ আর কাকে বলে! এখানে অনেকেই বলবে, আরে এ-তো বইয়ের এক চরিত্রের বয়ান। লেখককে রেসিস্ট বললেন কি করে আপনি? আরে বাবা, এ কথা যে উঠবে সে-কি আর আমি জানি না! কিন্তু একবার ভেবে দেখুন তো, হুমায়ূন আহমেদের বেশিরভাগ বই-ই এরকম বর্ণবাদী চরিত্রে ঠাসা কেন? একই টাইপের কথা নানা চরিত্রের মুখ দিয়ে বারবার বের করলে কি আমি লেখককে বর্ণবাদী না বলে সাম্যবাদী বলবো? যত্তোসব! ছেলেরা এইসব কিভাবে নেয় জানি না, কিন্তু বঙ্গদেশের ললনারা এসব পড়ে ভ্যা ভ্যা করে কাঁদে ঠিক কি মনে করে তা মাথার উপর দিয়ে যায় আমার।
হুমায়ূন আহমেদের ঝাক্কাস একটা বই পড়েছিলাম দু' তিনদিন আগে। সেটা পড়ে এক্সপেক্টেশন বেড়ে গেছিল বোধহয়। কিন্তু এ বই পুরো শেষ করতেই দমবন্ধ লেগেছে। এক কথায় বলি? পিওর বুলশিট!
(আমার এই পিওর বুলশিটকে হুমায়ূন আহমেদ যেভাবে বর্ণনা করতেন—ভ্যাপসা গরমে রাস্তায় দাঁড়িয়ে তরুণ কবি বিমুক্তি সিগারেট ফুঁকছে। কিছু মেয়ে আছে, যাদেরকে বিরক্ত হতে দেখলে ভালো লাগে। তাই, তার লেখা কবিতা পড়ে ঐন্দ্রিলা যখন নিজের ফর্সা মুখটা কুচকে বলেছিল,"পিওর বুলশিট!" তখন ওর খারাপ লাগে নি। আচ্ছা, পিওর বুলশিট আলাদা করে বলতে গেল কেন? বুলশিট তো পিওরই হবে! ষাঁড়ের মলে ভেজাল থাকে বলে তো মনে হয় না। ''আচ্ছা, আপনি আমার কবিতাকে ষাঁড়ের খাঁটি গু বললেন কেন?" ঐন্দ্রিলাকে এ কথা জিজ্ঞেস করবে বলে ঠিক করলো সে। ফর্সা মেয়েরা বিস্মিত হলে দেখতে ভালো লাগে। গোলাপি ঠোট দু'টো কেমন হালকা ফাক হয়ে আসে।) কিহ আবেগ! আবেগে কেঁদে ফেলেছি। এই ঐন্দ্রিলা, কই গেলেন? আপনার শাড়ির আচলটা একটু দেন তো, চোখ মুছি!
আমি মাত্রই ২০১৩ তে পড়লাম বইটি, অরিজিনালি লেখা ও প্রকাশিত সেই সত্তর দশকের মাঝামাঝি। সে হিসেবে বলা যায় হুমায়ূন আহমেদের একেবারে প্রথম দিককার লেখা। বহুবছর আউট অফ প্রিন্ট থেকে সম্প্রতি অন্যপ্রকাশ পুরনো এই উপন্যাসটা রিপ্রিন্ট করাতে কিনে ফেলেছিলাম। পড়ে আমার বেশ ভাল লেগেছিল, নাতিদীর্ঘ একটা উপন্যাস, তেমন বড় বা জটিল কোন কাহিনী নেই, কিন্তু প্রতিটা চরিত্র আর ঘটনাপঞ্জি যেন অত্যন্ত বাস্তব সম্মত ও রক্তমাংসের... এবং সবচেয়ে যেটা ভাল লাগল, বইটাতে অনর্থক কোন ইয়ার্কি ফাজলামি নেই, যথেষ্ট সিরিয়াস ঘটনাক্রম ও উপস্থাপন। হয়তো বইটা হুমায়ুন আহমেদের এতো আগের লেখা উপন্যাস বলেই এই টোনটা বজায় থেকেছে, আমি নিশ্চিত ২০০০-পরবর্তী কোন লেখা হলে অবধারিত ভাবে কিছু আউট-অফ-প্লেস আজাইরা জোকস চলে আসত! সেটা ক্ষেত্রবিশেষে আমি উপভোগ করি, কিন্তু এক্ষেত্রে একেবারেই মানানসই হত না। আমাদের আর দশ জনের মতই জীবন-যুদ্ধে হেরে যাওয়া ক্লান্ত পরিশ্রান্ত সাধারণ দুজন মানুষ শেষে একজন আরেকজনের উপর নির্ভর করে বেঁচে থাকার মানে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা সমাপ্তিটা আমাকে স্পর্শ করেছিল।
আমার ধারণা "অরণ্য" বলতে আসলে শুধু ইট-পাথর-কঙক্রিটের জঙ্গল বোঝাতে চান নি হুমায়ূন, অরণ্যের আদি নিয়ম সবলের দূর্বলের উপর কর্তৃত্ব, যা আমাদের সমাজেও হয়ে আসছে চিরন্তন, আর এই "সুশীল" সমাজ তো আদতে একখানা পুরোদস্তুর জঙ্গলই সেখানে জঙ্গলের আদিম আইন চলে আসছে... উপন্যাসের প্রতিটা বাঁকেই মূল চরিত্রগুলো কোন না কোন ভাবে নিষ্পেষিত হয়েছে উপরের শক্তিশালী, ক্ষমতাধারীদের মাধ্যমে, এখানেই মনে হয় "অরণ্য" নামের সার্থকতা।
যাইহোক, যা বলতে চেয়েছি, খুব অবিষ্মরনীয়-অসাধারণ-কালজয়ী কিছুই না, কিন্তু আমার মতে একটি শক্তিশালী লেখনির উপন্যাস হুমায়ুন আহমেদের।
২.৫/৫ বেকার নায়ক,বেকার বন্ধু,রূপবতী নিষ্পাপ নায়িকা,বিরক্তিকর বাড়িওয়ালা, বাচাল রুমমেট -হুমায়ূনের কতগুলো বইতে আছে এরা?৪০?৫০?১০০?একই ধরনের চরিত্র নিয়ে লেখক এতো বেশি লিখে ফেলেছেন যে,এদের জন্য মায়া অনুভব করা আমার পক্ষে দুরূহ।
কমন হুমায়ূনীয় গল্প। বেকার নায়ক, তার বেকার বন্ধু, নায়কের উদ্ভট চরিত্রের বড় ভাই, অতি আলাপী রুম্মেট, কোনো রকমে দাঁড়িয়ে থাকা মেস, ভাড়া বাসা, বাড়িওয়ালা, অফিসের বড় স্যার, অতি সুন্দরী মায়াবতী আর রূপবতী নারীরা...
না জেনে, হুটহাট পড়ে একটু সময় কাটানো যায় এমন বই তাও যদি নিতান্তই অলস সময় থাকে। কিন্তু কাজের ফাঁকে একটু বিরতির জন্য এই বই না ধরাই অতি উত্তম।
নবীজিকে নিয়ে একটা কথা বলা হয়েছে যা নিয়ে ডাউট আছে৷ এছাড়া পুরো গল্পে কোন কিছুই নেই৷ কিন্তু ব্যাপারটা হচ্ছে হুমায়ুন আহমেদের লেখা হচ্ছে মদের নেশার মত। খেয়ে লাভ নাই তাও খেতে ইচ্ছে করে।
কাহিনি সংক্ষেপঃ সোবাহান শিক্ষিত বেকার যুবক। পুরো ঢাকা শহর চষে বেড়াচ্ছে একটা চাকরির সন্ধানে। একটা বাসায় সাবলেট হিসেবে আছে জলিল সাহেবের সাথে। মুক্তিযুদ্ধের সময় নিখোঁজ হওয়া (সম্ভবত শহীদ) এক বন্ধুর মায়ের সুপারিশ নিয়ে চাকরির জন্য ইদানীং নিয়মিত এক অফিসে যাতায়াত শুরু করেছে সে। কিন্তু চাকরিদাতার দেখা বলতে গেলে পায়-ই না সে। আর এসবের কারণেই হয়তো বাউন্ডুলে জীবনাচরণ সোবাহানের।
ফরিদ আলি সোবাহানের বড় ভাই। গ্রামে থাকেন। ইদানীং ধর্মকর্মে খুব মন দিয়েছেন তিনি। পাকা মসজিদ ঘর তুলেছেন বাড়ির অদূরে। সেখানে সারারাত বসে থাকেন। ইবাদত বন্দেগি করেন। তাঁকে নিয়ে স্ত্রী পারুলের অনেক চিন্তা। চিন্তা ঢাকায় বসবাসকারী দেবর সোবাহানকে নিয়েও। কিন্তু দুই ভাইয়ের কেউ-ই পারুলের চিন্তার কোন মূল্য দেয়না।
জলিল সাহেব মাঝবয়েসী একজন মানুষ। চাকরি করেন। এখনো ব্যাচেলর। অবসর সময়ে রুমমেট সোবাহানের সাথে নানা অশ্লীল বিষয়ে ইয়ার্কি করার চেষ্টা করেন। সফল হতে পারেননা। সোবাহান সম্ভবত এসব বোঝেনা। তবুও তিনি দমে যাননা। চেষ্টা চালিয়ে যান।
বাড়িওয়ালা মনসুর সাহেবের স্ত্রী মানসিকভাবে অসুস্থ। তাঁর শ্যালিকা যূথিও তাঁদের সাথেই থাকে। গভীর রাতে মনসুর সাহেবের বাড়ি থেকে কান্নার আওয়াজ পাওয়া যায়। সোবাহান ও জলিল সাহেব দুজনেই সেই কান্না প্রায়ই শুনতে পান।
বুলু ওরফে বুলবুল সোবাহানের বন্ধু। বোহেমিয়ান এই যুবকও চাকরির চেষ্টায় আছে। মামা-মামীর সাথে থাকে। মামা'র সাথে তার সম্পর্ক খুব খারাপ। যেকোন সমস্যা হলেই সোবাহানের শরণাপন্ন হয় বুলু।
সোবাহান, বুলু, ফরিদ আলি, মনসুর সাহেব, জলিল সাহেব, মিলি, যূথি এদের সবার গল্প আলাদা হয়েও যেন আলাদা না। কোন এক অদৃশ্য সুতা দিয়ে যেন গল্পগুলো একসাথে গাঁথা আছে। মানুষের এই অরণ্যে বসবাস করে গল্পের জাদুকর পাঠককে সেই অরণ্যের গল্পই বলতে চেয়েছেন।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের লেখনী নিয়ে আসলে নতুন করে বলার মতো কিছু নেই। জীবনমুখী যেকোন গল্পকে তিনি বরাবরই পাঠকের সামনে উপস্থাপন করেই দারুন এক জাদুময়তার সাথে। আর এই কারণেই তাঁকে গল্পের জাদুকর বলা হয়। 'অরণ্য' বইটাতেও এর কোন ব্যতিক্রম হতে দেখিনি।
বেকার দুই যুবক সোবাহান ও বুলুর মানসিক ও পারিপার্শ্বিক যে চিত্র লেখক এঁকেছেন, তা যেন বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ বেকার যুবকের প্রতিনিধিত্ব করছে। সেই সাথে জলিল সাহেব, মনসুর সাহেব, যূথি, মিলি সহ অন্যান্য চরিত্রগুলোকেও একেবারে জীবন্ত মনে হয়েছে হুমায়ূন আহমেদের জাদুময় লেখনীর কল্যাণে। এই উপন্যাসে মানবমনের মানবিক আবেগ সমূহের এমন যুগপৎ আসাযাওয়া সত্যিই মুগ্ধকর।
একটা ব্যাপারে সামান্য খটকা আছে। 'অরণ্য'-এর শুরুতে ফরিদ আলির স্ত্রী নাম ময়না থাকলেও পরবর্তীতে তা পারুল হয়ে গেছে। ব্যাপারটা বেখেয়ালে ঘটেছে নাকি প্রিন্টিং মিসটেক বুঝলামনা। সম্পূর্ণ কাহিনিটা মোটামুটি উপভোগই করেছি। এক বসায় শেষ করার মতোই বই।
চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে করে ঢাকা ফিরতে ফিরতে বইটা পড়লাম। কিছু সময় পড়ছিলাম, কিছু সময় বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। সবুজ গাছ,মাঠ চলে যাচ্ছে পিছনের দিকে.. বেকার যুবক সোবহান, বুলু সারাদিন চাকরির জন্য ঘুরেফিরে আবারো ঘরে ফিরে আসে। কখনো বাইরে তাকিয়ে দেখি মাঠের মধ্যে জমে থাকা পানিতে আকাশ। বইয়ে তখন হুমায়ূন তার স্বভাবগত বর্ণনা দিয়ে যাচ্ছেন নায়িকার- চুড়ি, টিপ, শাড়ি ব্লা ব্লা।
বইয়ের কাহিনী আহামরি কিছু নয়- বেকার যুবকের হতাশা, গ্রাম্য বড়ভাই, কিছু মায়াবতী নারী- একদম টিপিক্যাল হুমায়ূন। তবে ২০০০ পূর্ববতী হুমায়ূনের লেখার প্রতি আমার চিরন্তন ভালোলাগা, মায়া কাজ করে৷ তার উপর রেলপথ আর এর দুপাশের দৃশ্য বোধহয় বইটাকে ভালো লাগাতে ভূমিকা রেখেছিলো।
এই গল্পটাও ভালো লাগে নি। কেমন জানি। চলতেছে চলতেছে,হঠাৎ শেষ! মাঝে মাঝে কিছু সময় আসে কিচ্ছু ভালো লাগে না। সাময়িক সময়ের জন্য কিছু করা দরকার হয়ে পড়ে,তখন এসব বই পড়া উচিত। পড়ব,তারপর ভুলে যাব। খেল খতম!
এ বছরে পড়া ৪র্থ বইটা হুমায়ূন আহমেদের। হুমায়ূন আহমেদের বইগুলোতে কেমন যেন একঘেয়েমি একটা ধরন আছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। একেবারে খারাপ না লাগলেও, তেমন ভালও লাগে নি।
সোবাহান তার ঘরের বারান্দায় উঠে এলো নিঃশব্দে। চারদিকে অন্ধকার। রাত কত হয়েছে ? সবাই কি ঘুমিয়ে পড়েছে ? সো্বাহান মৃদু স্বরে ডাকল, যূথি!যূথি! কেউ সাড়া দিল না সোবাহান গলা উঁচিয়ে দ্বিতীয়বার ডাকল, যূথি!যুথি! মনসুর সাহেব বেরিয়ে এলেন। জলিল সাহেব এলেন। যূথিও এলো। তার হাতে একটা হারিকেন। সে তাকাল অবাক হয়ে। সোবাহান ভাঙা গলায় বলল, যুথি, আমার আজ বড় কষ্ট। যূথি কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে রইল। তারপর এগিয়ে এসে তার দুর্বল রোগা হাতটি রাখল সোবাহানের গায়ে। বাতাসের ঝাপটায় তার অন্য হাতের হারিকেনটি দুলছে। চমৎকার সব নকশা তৈরি হচ্ছে দেয়ালে। যূথি নরম স্বরে বলল, কাঁদবেন না। সব ঠিক হয়ে যাবে। কিছুই ঠিক হয় না। তবু মমতাময়ী নারীরা আশ্বাসের কথা বলে। আশ্বাসের কথা বলতে তারা বড় ভালোবাসে।
ভার্সিটিতে চান্স পেয়েছি, ক্লাস শুরু হয় নাই, গ্রামে বেড়াতে গেছি । মামাতো বোনের শেলফ থেকে নিয়ে পড়া শুরু করেছিলাম । খুব ভাল লেগেছিল । অনেক বছর পরে goodreads এ যোগ করছি । এতদিন পরে কাহিনী মনে থাকার কথা না, নেইও । কিন্তু এক রকম কষ্ট হচ্ছে । মনে আছে, বইটা পড়ে অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম । হয়ত বয়স কম ছিল, জীবনের অনেক জটিলতাই বুঝতাম না । এখন কেমন লাগবে জানি না । কিন্তু যে বই একটা অনুভূতি রেখে গেছে তাকে অতটাও খারাপ বলা যায় না বোধহয় । আবার পড়ে নাহয় রিভিউ লিখব ।
আরেকটা শেষ হয়ে গেল। আর কয়েকটা মাত্র বাকি। তারপর?
সমাজের বঞ্চিত, অবহেলিত কয়েকটা মানুষ, জীবন যুদ্ধ, পরাজয়, তারপর আশ্রয় খুজে নেয়ার চেষ্টা। আবেগহীনতার মাঝেও থাকে আবেগের প্রবলতা এটা হুমায়ুন আহমেদ এর থেকে ভাল বোধহয় কেউ দেখাতে পারেনি।
নামঃ অরণ্য লেখকের নামঃ হুমায়ূন আহমেদ পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৭২ প্রকাশনীঃ নওরোজ সাহিত্য সম্ভার ব্যাক্তিগত রেটিংঃ 🌟🌟🌟 . গল্পের প্রধান চরিত্র সোবাহান। শিক্ষিত বেকার যুবক ই বলা চলে। পুরো ঢাকা শহরেই ঘুড়ছেন তিনি। মাঝ রাতে জলিল সাহেবের সাথে দুশ্চিন্তা কমাতে চা খেতেও দেখা যায় তাকে। বেশ সময় ই দুপুরের খাবার বাদ পড়ে। পাশের কোন হোটেল থেকে শিঙারা খেয়ে নেয়। এক বন্ধুর মায়ের সুপারিশে প্রায় ই এক অফিসে যায় কিন্তু তার কোন দিক ই পাকাপক্ত হয় নাহ। এলোমেলো জীবন তার। গল্পের অন্যান্য চরিত্রের মাঝে জলিল সাহেবের চরিত্র ও বেশ নজর কাটে। বেশী বয়সে আজেবাজে কথায় মাঝে মাঝে সোবাহানের বিরক্তির পাত্র ও হন বটে। তাদের সাথে জড়িত ছিলেন বাড়িওয়ালা মনসুর সাহেব, তার স্ত্রী এবং তার শালি যূথি। মাঝে যূথির সাথে সোবাহানের বিয়ের কথা চললেও তেমন পূর্ণতা পায় নি। এখানে বলা যায়, যূথির মাঝ রাতে কাঁদার ব্যাপার টা বেশ রহস্যময় মনে হয়েছিলো। শেষ দিকে সোবাহান তাকে জিজ্ঞেস করতে যেয়েও করলো নাহ। মানুষ এর নানাবিধ কষ্ট থাকে এই ভেবে তার কান্নার রহস্য আর জানা হয় নি। অন্যতম চরিত্রের মাঝে রয়েছে ফরিদ আলী, সোবাহানের বড় ভাই। ধর্ম কর্ম তার মধ্যকাল প্রধান লক্ষনীয় বিষয়। নামাযের জন্য জমি বেঁচে পাকা ঘড় ও তৈরি করেছেন তিনি। তার বৌ এর ভাষ্যে তাকে আবার বিয়ের জন্য বলা হয়, সম্পত্তির ব্যাপারে সচেতন হতেও বলা হয়। ছোট ভাই সোবাহান এর প্রতিও তার এক নিঃস্বার্থ ভালোবাসা লক্ষনীয়। এছাড়াও বুলু চরিত্রটি বেশ স্বচ্ছ মনে হয়েছে।মামার পরিবারে থেকে বড় হয় সে।চাকরির পেছনেও সেও ছুটছে।মাঝে বুলু আর সোবাহান মিলে টুকটাক কাজ করলেও কোনটাতেই তেমন আর টিকে থাকা হয় নি।মিলির সহায়তায় সাত হাজার টাকা এক যায়গায় ঘুষ দিলেও ভাগ্যের পরিণামে তা আর তার করা হয় নি। এক পর্যায়ে তার জীবনের সমাপ্তির মাধ্যমেই গল্পের ইতি। . পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ হুমায়ুন আহমেদ এর লেখা পড়তে বেশ ভালোই লাগে। তেমন এই লিখাটি পড়তেও মন্দ লাগে নি। তবে কিছু কিছু যায়গায় লেখকের খামখেয়ালি বা প্রিন্টিং মিস্টেক ই বোধহয় কিছু কিছু নাম ওলট-পালট হয়েছে বলে মনে হলো। ফরিদ আলীর স্ত্রীর নাম প্রথমে ময়না থাকলেও পরবর্তী তে তা পারুল আর মনসুর সাহেবের নাম এক যায়গায় জব্বার সাহেব হিসেবে লেখা দেখা যায়। এক বসায় শেষ করার মতো একটি বই। খুব আহামরি কিছুনা তবে মন্দ ও নাহ। অলস সময় কাটাতে বই টি পড়া যেতেই পারে।
বইটার নাম দেখে মনে হয়েছিল, হয়ত প্রকৃতিকে নিয়ে কাহিনীর আবর্তন হবে। অনেকটা বিভূতিভূষণের আরণ্যকের মতন। কিন্তু বইটা শেষ করে মনে হল... কাহিনীর সাথে নামটা কেন জানি মিলছে না বা হয়ত মেটাফোরটা আমি ধরতে পারছি না। বেকার হিসাবে, আমার বইটা পড়তে ভাল লাগছিল। কারণ ক্ষেএ বিশেষ বেশ রিলেট করতে পারছিলাম। আর উপন্যাস পড়ার সময়টা কাহিনির মাঝে কেমন করে জানি এঁটে গিয়েছিলাম। শেষ না করে বের হতে মন চাচ্ছিল না। "জীবন যেথায় যেমন" এই কনসেপ্টের দারুণ এক প্রতিফলন ঘটিয়েছেন লেখক৷ হুমায়ূন আহমেদের লেখায় একধরনের আসক্তি রয়েছে। এই বইটা পড়ার সময়ও তা অনুভব করতে পারছিলাম। তবে একটা সমস্যা কী, উনি একই জিনিস অনেক বেশি মাত্রায় লিখে ফেলছেন। বেকার যুবক, সাহায্যকারী বন্ধু, অতিরঞ্জিত রূপের নারী এছাড়া কত কী। মাঝেমধ্যে বই পড়তে গিয়ে মনে হয়, এই বইটা কী আমি আগেও পড়েছি? জানিনা এটা শুধু আমার সাথেই হচ্ছে কিনা৷
সোবহান সাহেব রোদের মাঝে হাঁটছেই, দুপুরের খাওয়া হয় নি। খুদা লাগছে প্রচুর কিন্তু খেতে ইচ্ছে না। রহমান সাহেবের সাথে দেখা হয় নি, হলেও কি চাকরি টা পেয়ে যেত? বেকারদের সহজে চাকরি হয় না। বুলুর তাও চাকরি হবে হবে ভাব, সাত হাজার টাকা ঘুস দিতে হয়েছে। সেই সাত হাজার টাকা দিয়েছে রেশমা! এদিক মুনসুর সাহেবের এক দিনে তিনটা লটারি লেগে গেছে। যূথির সাথে শেষ পর্যন্ত সোবহানের বিয়েও হবে কি না সন্দেহ!
হুমায়ূন আহমেদ শেষের দিকে গিয়ে সুন্দর করে পুরো কাহিনী যে ঘুরায় দিবেন এটা ভাবতেও পারি নাই। সব কিছু কেমন অদ্ভুত ভাবে শেষ করে দিলেন! শেষ কষ্টের হলেও সুন্দর হয়েছে। এমন বন্ধুত্ব হয়তো গল্প, উপন্যাসে খু্ব সুন্দর মানায়!
এটা কোনো উপন্যাস না বলে বড় একটা গল্প বলাটাই উত্তম হবে। অসাধারণ কিংবা কালজয়ী কিছুই না, কিন্তু শক্তিশালী লেখনির ছাপ খুব সুস্পষ্ট বুঝা যায়। আহামরি কিছু না তবে মন্দও না। অলস সময়ে কোনো সামাজিক গল্প পড়ার জন্য এটা পড়া যেতে পারে।