বংশের জ্যেষ্ঠ যে সে-ই নাকি সিংহাসনের অধিকারী। অর্থাৎ যুধিষ্ঠির না হয়ে যদি দুর্যোধন জ্যেষ্ঠ হত, তা হলে সে-ই রাজ্য রাজ্য পেত। একথা বলামাত্র নিয়মকানুন সব গুলিয়ে গেল। যদি এমন হত যে পাণ্ডু বনবাসী হলে ধৃতরাষ্ট্র সিংহাসনে বসলেন, সেক্ষেত্রে ধৃতরাষ্ট্রর মৃত্যুর পর তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্ররই সিংহাসন পাওয়ার কথা। পাণ্ডবদের প্রশ্ন সেখানে উঠছেই না। পাণ্ডুনন্দনদের বিশেষত অর্জুনের বীরত্বের পটভূমিকায় ধৃতরাষ্ট্রর কাতর জিজ্ঞাসা, জ্যেষ্ঠ বলে যুধিষ্ঠির তো রাজা হবে তো? এ আশারই বা মানে কী? যুধিষ্ঠিরের সঙ্গে দুর্যোধনের বয়সের তফাত তো বড় দু'বছর, তা হলে যুধিষ্ঠিরের পর দুর্যোধনের আর রাজা হওয়ার সম্ভাবনা কী করে থাকে? যদি না মাঝখানে এঁরা কেউ যুধিষ্ঠিরকে হত্যা করেন!
Bani Basu is a Bengali Indian author, essayist, critic and poet. She was educated at the well-known Scottish Church College and at the University of Calcutta.
She began her career as a novelist with the publication of Janmabhoomi Matribhoomi. A prolific writer, her novels have been regularly published in Desh, the premier literary journal of Bengal. Her major works include Swet Patharer Thaala (The Marble Salver), Ekushe Paa (twenty One Steps), Maitreya Jataka (published as The Birth of the Maitreya by Stree), Gandharvi, Pancham Purush (The Fifth Man, or Fifth Generation?) and Ashtam Garbha (The Eighth Pregnancy). She was awarded the Tarashankar Award for Antarghaat (Treason), and the Ananda Purashkar for Maitreya Jataka. She is also the recipient of the Sushila Devi Birla Award and the Sahitya Setu Puraskar. She translates extensively into Bangla and writes essays, short stories and poetry.
Bani Basu has been conferred upon Sahitya Academy Award 2010, one of India's highest literary awards, for her contribution to Bengali literature.
হরিশংকর জলদাসের তুলনাবিহীন বাজে উপন্যাস "দুর্যোধন" পড়ার পর এ বইটা পড়া দরকার ছিলো। ভালোই কিন্তু হুট কোরে শেষ হয়ে গেলো। মনে হচ্ছে লেখিকার "কৃষ্ণ বাসুদেব" পড়তেই হবে মহাভারত নিয়ে তাঁর পূর্ণ বিশ্লেষণ জানার জন্য।
আমি দুর্যোধন , ধৃতরাষ্ট্র পুত্র, জ্যেষ্ঠ কৌরব। আমার জন্মগ্রহণ করা ছিল পিতা ধৃতরাষ্ট্রের কাছে পরম আকাঙ্ক্ষার,কারণ পাণ্ডু বিহীন হস্তিনাপুরের নামমাত্র শাসক ছিলেন জন্মান্ধ তিনি। আমাকে মাতা গান্ধারী একটি মাংসের পিন্ড আকারে জন্ম দেন, সেদিন আবহাওয়াও ছিল বৈরি ও একসাথে ডেকে উঠেছিল কাক-শকুন। ধূর্ত বিদুর পিতাকে বোঝালেন আমাকে তৎক্ষণাৎ পরিত্যাগ করার জন্য।স্নেহান্ধ পিতার হস্তক্ষেপে সেই যাত্রায় বেঁচে যাই। হঠাৎ পিতার আশায় জল ঢেলে দিয়ে কোত্থেকে যেন হাজির হলো কুন্তী ও পঞ্চপাণ্ডব। যুধিষ্ঠিরকে দাবি করলো জ্যেষ্ঠ উত্তরাধিকারী হিসেবে। তাদের জন্ম বৃত্তান্ত ঢাকা পড়ে গেল বিদুর ও পিতামহের হস্তক্ষেপে। সময়ের সাথে পঞ্চপাণ্ডব ও আমরা শত ভাইরা একসাথে অস্ত্রশিক্ষা নিতে লাগলাম। গুরুগৃহে অকারণে ভীমের শক্তি প্রদর্শন আমাকে রাগান্বিত করে ফেলে।তাইতো তাকে হত্যার পরিকল্পনা করি কিন্তু কিছুতেই কিছু হল না। কুন্তীর তার সন্তানদের প্রতি অপত্য স্নেহ আমাকে প্রায় ব্যথিত করে,কই মাতা গান্ধারী তো কখনো আমাকে বা অন্য ভাইদের স্নেহ কিংবা খোঁজখবর নেয় না।সেই যে চোখে পট্টি বাঁধলেন, নিজের সন্তানকে দেখার জন্য পর্যন্ত পট্টি খুললেন না।ছেড়ে দিলেন আমাদের দাইমার হাতে।তাই মাতার চেয়ে দাইমা ,মামা শকুনি আমাদের কাছের মানুষ। অস্ত্রশিক্ষা শেষে শক্তি প্রদর্শনের দিনও যখন সবার কাছ থেকে আমরা লাঞ্চিত হচ্ছিলাম তখন কর্ণ এসে আমাদের সম্মান বাঁচায়।তাইতো কর্ণকে পরম মিত্র হিসেবে অঙ্গরাজ্য প্রদান করি। এই কর্ণের কাছেই ছিলাম আমি সুযোধন।অথচ লোভী ,স্বার্থপর হিসেবে সবাই আমাকে দুর্যোধন বলতো,যদিও দুর্যোধন অর্থ যাকে যুদ্ধে জয় করা কঠিন। সত্যিই আমি অজেয়। জ্যেষ্ঠপুত্রের জ্যেষ্ঠ সন্তান হয়েও যখন সিংহাসনের অধিকারী হতে পারেনি তখন তো নিজ স্বার্থের জন্য আমাকে অধর্মের পথ নিতেই হলো।
লেখিকা অন্য সবার মত দুর্যোধনের চরিত্র বিশ্লেষণ না করে বরং দুর্যোধন চরিত্রের মানবিক দিকটি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
খুবই ছোট একটা বই, যা বিশাল মহাভারতের একটা চরিত্রকে এখানে তুলে এনেছেন। বিস্তৃত এ চরিত্রের বিশেষ বিশেষ ঘটনা এখানে তুলে ধরে তার ব্যাখা করে দিয়েছেন। মহাভারতের কাহিনি নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিজেই তার সুন্দর ব্যাখা দিয়েছেন।
পুস্তক পরিচয় : সুযোধন দুর্যোধন লেখক : বাণী বসু প্রকাশনা : দেজ পাবলিশিং 🌿 সম্প্রতি "সুযোধন দুর্যোধন" বইটি পড়া শেষ করলাম। সংক্ষেপে পাঠ অনুভূতি ব্যক্ত করছি। 🌷 মহাভারতের খুব গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হল দুর্যোধন। আমরা সকলে দুর্যোধনের চরিত্রের খারাপ দিকগুলি জানি। এটাও জানি যে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ হওয়ার জন্য দুর্যোধন খুব বড় ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু এই ভূমিকার পিছনে কি কি কারণ থাকতে পারে সেই নিয়েই এই বইতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। 🌿 দুর্যোধনের পিতা ধৃতরাষ্ট্র জন্মান্ধ ছিলেন। ওনার এই অক্ষমতার সুযোগ নিয়ে বিদুর এবং ভীষ্ম ওনাকে সিংহাসন থেকে বঞ্চিত করেন। রাজা হন তাঁর ছোট ভাই পান্ডু, যিনি রাজ্যশাসন কম, দিগ্বিজয় করতে বেশি ভালোবাসতেন। পান্ডু যখন রাজ্যের বাইরে থাকতেন তখন ধৃতরাষ্ট্র হস্তীনাপুরের রাজ্যশাসনের দায়িত্ব নিতেন। কিন্তু কখনোই তাঁকে রাজার মর্যাদা এবং সম্মান দেওয়া হতো না। 🌷 আর এখান থেকেই বঞ্চনার শুরু। যদি ধৃতরাষ্ট্র রাজা হতেন তাহলে তাঁর জেষ্ঠ পুত্র দুর্যোধনের রাজা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যেহেতু ধৃতরাষ্ট্রের বদলে পান্ডু ছিলেন রাজা তাই জেষ্ঠ পান্ডব যুধিষ্ঠির হলেন রাজ সিংহাসনের উত্তরাধিকারী। 🌿 বলাবাহুল্য, দুর্যোধন কোনোদিনই এই ব্যবস্থা মেনে নিতে পারেন নি। ঈর্ষার বশবর্তী হয়ে বারবার তিনি পান্ডবদের ক্ষতি করতে চেয়েছেন। এমনকি পান্ডবদের ক্ষতি করার জন্য তিনি অনেকবার অসদুপায় অবলম্বন করেছেন। 🌷 কোনও শিশু জন্ম থেকে অপরাধী হয় না। জন্মের পর শিশুটি নিষ্পাপই থাকে। তারপর তার চারপাশের বিভিন্ন কারণে শিশুটি পাল্টে যেতে থাকে। শিশুটির এই পরিবর্তন ধনাত্মক হবে নাকি ঋনাত্মক হবে সেটা ওই শিশুর সামাজিক ও পারিবারিক পরিস্থিতির উপরে নির্ভরশীল। মহাভারতের দুর্যোধনের জন্ম হয়েছিল খুব অদ্ভুত এবং অলৌকিক ভাবে। এবং দুর্যোধনের জন্মের পরে কিছু শেয়াল এবং কুকুর ডেকে উঠেছিল। পশুপ্রাণী তার নিজের খেয়ালখুশি মতো ডাকতেই পারে, কিন্তু এই পশুর ডাককেই কারণ হিসেবে দেখিয়ে দুর্যোধনের জন্মকে অশুভ প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। মহামতি (?) বিদুর স্বয়ং ধৃতরাষ্ট্রের কাছে আবেদন করেছিলেন যাতে দুর্যোধনের বিসর্জন দেওয়া হয়। বলাবাহুল্য ধৃতরাষ্ট্র বিদুরের কথা গ্রাহ্য করেন নি, বরং তাঁর জেষ্ঠ পুত্র দুর্যোধনকে পরম আদর এবং স্নেহে লালন পালন করেছিলেন। 🌿 বাবার স্নেহ ভালোবাসা পেলেও দুর্যোধন কোনোদিন তাঁর মাতা গান্ধারীর ভালোবাসা পাননি। কেন গান্ধারী তাঁর সন্তানদের ভালোবাসতে পারেননি সেটা জানা যাবে বইটির শেষের দিকের একটি ঘটনা থেকে। যদিও মূল মহাভারতে এই ঘটনার উল্লেখ না থাকলেও যুক্তিগত দিক দিয়ে আলোচনা করলে এই সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করা যায়না। 🌷 বইটির ভালো দিক হল মহাভারতের কাহিনী বলার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি চরিত্র, প্রতিটি ঘটনাকে লেখিকা খুব যুক্তিসংগত ভাবে উপস্থাপনা করেছেন। আবার লেখিকা এমন ভাবে কোনও কোনও বিষয়কে open ended করে রেখেছেন যা বিশ্লেষণের ভার স্বয়ং পাঠকের উপরেই ছেড়ে দিয়েছেন। 🌿 সামগ্রিক ভাবে দুর্যোধনকে মহাভারতের কেন্দ্রিয় খলচরিত্র হিসেবে সবাই ধরে নি আমরা, কিন্তু মহাভারত যারা বিস্তারিত ভাবে পড়েছেন তাঁরা জানেন দুর্যোধন এমন একটি মানুষ যার মধ্যে দোষগুণ উভয়ই আছে, তবে দোষের পরিমাণ কিছু বেশি। নিজ মস্তিষ্ক প্রয়োগ না করে পরের বুদ্ধিতে চলাটাই অধিকতর শ্রেয় বলে গণ্য করে। 🌷 আমাদের এই উপন্যাস দুর্যোধনের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েই লেখা। লেখিকার কলমের মুন্সিয়ানায় একসময় দুর্যোধনকেই মহাভারতের ট্র্যাজিক হিরো এবং এত দিন ধরে জেনে আশা মহাভারতের বাকি সমস্ত নায়কদের আসলে ভিলেন বলে মনে হতে থাকে। কিন্তু আমাদের মনে রাখা দরকার মহাভারত কোনো নায়ক বনাম খলনায়ক সূলভ হলিউডের একশ্যান সিনেমা নয়। এটি একটি মহাকাব্য যা আমাদের জীবনের পথ চলা শেখায়। আমাদের মনে রাখা দরকার মহাভারতের প্রতিটি চরিত্রই আসলে মানুষ ( এমন কি কৃষ্ণও মানুষ রূপে ছিলেন) এবং প্রতিটি মানুষই নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী কর্ম করে। 🌿 এক কথায় বলতে পারি এই বইটি বারবার পড়ার মতো এবং সংগ্রহে রাখার মতো একটি বই। লেখিকার মহাভারত সম্পর্কিত আরও বইগুলি পড়ার ইচ্ছা রইলো।
খুবই স্বপ্লদৈর্ঘ্যের এই উপন্যাসে লেখিকা দুর্যোধনের জীবনের কয়েকটি ঘটনার ব্যাখ্যা করতে চেয়েছেন। এখানে তার কোনও ভালো গুণের কথা বলা হয়নি। প্রধানত কেন তিনি এরকম খারাপ ব্যবহার করলেন তার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। আমি আশা করেছিলাম তার রাজ্যশাসন এবং রাজ্যশাসন সম্পর্কে যুধিষ্ঠির কে প্রদত্ত জ্ঞান সম্পর্কে কিছু বলা থাকবে। সেসব কিছুই না পেয়ে হতাশ হয়েছি অনেকটাই।