নেহাতই বেকার বসে আছেন আন্ডার কাভার এজেন্ট বিলিতি বোস। হঠাৎই টপ প্রাইভেট এজেন্সি তাঁকে নিয়োগ করে রাশিয়ান জঙ্গি হানার বিরুদ্ধে লড়ার জন্য। একরাশ অস্ত্রের বিরুদ্ধে তার সম্বল যদিও কেবলমাত্র বুদ্ধি এবং নিরীহ অ্যাসিস্ট্যান্ট টফি দে। এরই মধ্যে পাড়া থেকে ব্যবসায়ী তিলু রায়ের মেয়ে লাভলিকে কিডন্যাপ করার বদলে স্যান্ডো মোহনের একমাত্র ছেলে বাইক বাপিকে তুলে নিয়ে আসে গ্যাং লিডার ছোটা মহেন্দ্র-র লোকজন। সে এক মহা জটিল পরিস্থিতি। কিন্তু একা হাতে কেবল বুদ্ধির জোরে এই দুই জটই কীভাবে ছাড়ালেন বিলিতি, শ্রীজাত-র এই উপন্যাস তারই বিস্ময়কর উদ্ঘাটন। ভাষায়, দৃশ্যকল্পে, বুনোটে একেবারে নতুন স্বাদের এই লেখা পাঠকদের এক অন্য দুনিয়ার সন্ধান দেবে।
Srijato Bandopadhyay (born 21 December 1975 in Kolkata), is an eminent poet of the Bengali younger generation. He won the Ananda Puroskar in 2004 for his book Udanta Sawb Joker: All Those Flying Jokers. He has also attended a writer's workshop at the University of Iowa.
His notable works include Chotoder Chiriyakhana: The menagerie for kids (2005), Katiushar golpo: Tales untold (2006), Borshamongol : The monsoon epic (2006), Okalboisakhi: Storms unprecedent (2007), Likhte hole bhodrobhabe lekho: Write politely, if you have to (2002), Ses Chithi: Last Letter (1999), Bombay to Goa (2007), Coffer namti Irish : Irish Coffee (2008), Onubhob korechi tai bolchi : Revealing the feeling (1998).
Having worked as journalist, he is now on the editorial board of the magazine "Prathama". He lived at Garia and spend his childhood at Kamdohari, Narkelbagan.
Srijato is the grandchild of classical vocalist Sangeetacharya Tarapada Chakraborty and nephew of musician and the Khalifa of Kotali Gharana Pandit Manas Chakraborty; his mother is also a classical vocalist Gaan Saraswati Srila Bandopadhyay.
Other than poetry he has also penned the lyrics of many popular playbacks in several movies like Autograph (2010 film,)Jaani Dyakha Hawbe, c/o Sir (2013 film),Mishawr Rawhoshyo,Iti Mrinalinee, charulata, Abosheshe etc.
আনন্দ সাহিত্য পুরষ্কার প্রাপ্ত কবি শ্রীজাতের লেখা প্রথম উপন্যাস । আনন্দলোকে পূজাবার্ষিকীতে 'শালিমারে সংঘাত' চোখে পড়লেও পড়া হয়ে ওঠেনি তখন।
হঠাত এক পরিচিত ভাইয়ের কাছে বইটা দেখে আগ্রহ বোধ করলাম। লাইট রিড হিসেবে ঘন্টা দুয়েকের বেশি সময় লাগেনি পড়তে।
স্যাটায়ার অথবা কমিডি হিসেবে বইটাকে খারাপ বলা যাবে না। বিলিতি বোস থেকে শুরু করে বইয়ের প্রতিটা ক্যারেক্টারই অদ্ভুত। তবে একের পর এক চরিত্রের আগমণে বেশ খানিকটা হযবরল পাকিয়ে গেছে, কিছু ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ও বোধ করেছি।
ভাষার কারণে বিরক্ত হয়েছি। ইংরেজি বাংলা মেশানো এবং সেই সাথে ইচ্ছেমতো কিম্ভুতকামার শব্দ/গ্রামারের প্রয়োগ দেখলে ভ্রু কুচকে যাওয়া স্বাভাবিক।
বইটা এডাল্ট, খোলামেলা ভাষায় বেশ কিছু আদিরসাত্তক বর্ণনা আছে। এডাল্ট কমিডি হিসেবে সেটা হয়তো অনেকের চোখ এড়িয়ে যাবে। তবে, একটা কথা বলতে হয়; বিলিতি বোস এর এসিস্ট্যান্ট টফির সাথে হারুর সমকামীতার সম্পর্ক না হয় মানা গেল! তাই বলে রাস্তাঘাটে দুই যুবকের চুম্বনদৃশ্যের বিস্তারিত বর্ণনা.... -_-
লেখকের হিউমার সেন্স ভালো, বইটাও আংগিকে সম্পূর্ণ আলাদা। কিন্তু ওইযে বললাম, অপ্রয়োজনীয় চরিত্র, এডাল্ট কন্টেন্ট টেনে সুড়সুড়ি প্রয়োগ এবং অদ্ভুত ভাষার ব্যবহার; শেষমেশ তাই ভালো লাগার ব্যাপারটা মাথা থেকে উধাও হয়ে গেলো।
আমুদে লেখা। এন্টারটেইনিং। পড়ে মজা পেলাম। ভাষা নিয়ে শ্রীজাতের নিরীক্ষাটা ভালো লাগলো। এরকম বাংলা-ইংরেজি-হিন্দির অভিনব ভাষারীতি পুরো বই জুড়ে বজায় রাখাটা বিশেষ কৃতিত্বের ব্যাপার।
গুণীজনেরা বলে গেছেন, "If you can't explain it simply, you don't understand it well enough." তো আমিও সেইমত চেষ্টা-চরিত্তির করছিলাম সদ্য পড়া বই থেকে অ্যাকোয়ার্ড কিছু শব্দের (টব্দও বলা যেতে পারে) মানে মনে মনে নিজেকেই এক্সপ্লেইন করতে। দু-একটাতে যে সফল হইনি --- এমন কথা আমাকে ক্লাস সেভেনে বাংলার রচনাধর্মী প্রশ্নে দশে চার দেওয়া স্যারও বলতে পারবেন না। এই যেমন- "ডগাডাঁই রকমের এফিসিয়েন্ট" --- এফিসিয়েন্সি যার ডগায় (উপরের দিকের) ডাঁই হয়ে রয়েছে (?!!)। "ডিগনাই সন্ত্রাস" --- ডিগ করেও যে সন্ত্রাসের শেকড় পাওয়া যায় নাই (!!$&)।
এরকম তিন-চারটে এলোপাথারি ব্যাসবাক্য বিনির্মাণ করার পর একটা প্রিয় সত্য আবিষ্কার করলাম --- সব গুণীগাম্ভীর্যে ভরা কথা অক্ষরে অক্ষরে মানবার দরকার নেই। কারণ এ বইয়ে যেসব নাগেধিন অব্যয়, বিশেষণ, বিশেষ্যের মোলাকাত হবে, সেগুলো কন্টেক্সচুয়াল --- বন্যেরা বনে সুন্দর টাইপ আর কী। পড়বেন, নিজে বুঝবেন, অন্যকে বোঝাতে গেলে স্রেফ বইটা ধরিয়ে দেবেন, ব্যস।
কথা বলছি শ্রীজাতর লেখা 'শালিমারে সংঘাত'-এর। সাবহেডিং-এ যার লেখা আছে "একটি বিলিতি বোস থ্রিলার"। তার আরেকটু নীচে প্রচ্ছদের বাকি অংশটা দেখলেই বোঝা যায় এ থ্রিলার সে থ্রিলার নয়।
স্ট্রাকচারটা চেনা। গোটা আট-দশটা মূল ক্যারেক্টার, যাদের গল্প প্যারালেলি চলবে। মাঝে মাঝে মূল কাহিনীর গ্রাভিটিতে পরে কনভার্য করে আবার বেরিয়ে যাবে। ফাইনালি ক্লাইম্যাক্সে মিলন (পড়ুন, সংঘাত)। অদ্ভুতুড়ে সিরিজের কথা মনে পড়ছে কি? তাহলে ঠিকই ভাবছেন। এই উপন্যাসেও রয়েছে ক্যারেক্টারগুলির পিক্যুলিয়ারিটি, যেটা সম্পর্কে তারা নিজেরা অবশ্যই অবগত নন। রয়েছে প্রতি পাতায় হাসির খোরাক। আবার এ উপন্যাস সম্পূর্নভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যও বটে।
শুরুতে যেমন বলেছি, 'শালিমারে সংঘাত' পড়ে আপনার ভক্যাবুলারী ভারী হবে এমন অনেক শব্দে যেগুলোর আদতে কোনও মানে নেই, কিন্তু অবস্থানগত সাযুজ্যে, এবং স্থানবিশেষে বাক্যের বিভিন্ন অংশের মধ্যে অন্ত্যমিল এবং অনুপ্রাস তৈরির মাধ্যমে, পাঠের মধ্যে ফ্লো আর ফীল-গুডের ফাইন ফ্রাগরান্স নিয়ে আসে। এরকম বহু উদাহরণ দুই শব্দাংশের মধ্যে (যেমন- ট্যাগনাট্যাডর, ডগাডাঁই ইত্যাদি), পাশাপাশি দুই শব্দের মধ্যে (যেমন- লোকেন সেন, কাঁইনানা কেলেঙ্কারি, কলাবন্ত কেলো ইত্যাদি) কিংবা একই বাক্যে দুটো দূরবর্তী শব্দের মধ্যে (নান্টু ডিস্টেটেন্সে দাঁড়িয়ে জুগনু গরমে, সিটের উপর সেটল, ইত্যাদি) রয়েছে। বাক্যে বহুল ব্যবহৃত হয়েছে ইংরেজি ও হিন্দি শব্দ। কিন্তু এ জগাখিচুড়ি ভাষা এই উপন্যাসের সঙ্গে একদম মানিয়ে ম্যাচ হয়েছে বলে আমার মনে হয়। সিরিয়াস কোনও গদ্য যেসব ঘেঁটে যাওয়া 'মিক্সড চাউমিন' ভাষা দেখে নাক সিটকোয়, সেটাই এই ননসেন্স কমেডিতে খাপ খেয়েছে, কারণ সিরিয়াস ইন্টারপ্রিটেশন এই উপন্যাস পাঠের লক্ষ্য নয় আদৌ।
এবার আসি খারাপ লাগার বিষয়গুলোতে। 'মেরে' শব্দের অত্যধিক ব্যবহার একটু দৃষ্টিকটু লেগেছে। উদাহরণ - "চান মেরে বাইক টেনে বেরিয়ে পড়ে", "কচুর শাক দিয়ে ভাত মেরেছেন", "বেশ একটা টাইম ট্র্যাভেল মেরে", "নানাবিধ প্ল্যানিং মেরে", "স্যান্ডো মোহনের নম্বর সাপ্লাই মেরে দিল" ইত্যাদি ইত্যাদি। যৌনতার দৃশ্য-বর্ণনা এবং আভাস এসেছে বহু জায়গায়, গল্পের প্রয়োজনে। কিন্তু টফি দে-র সমকামিতা কিংবা হারুর সাথে টফির সম্পর্ক - মূল গল্পে কোথাও ঠিকমতন কন্ট্রিবিউট করতে পারলো না। কিছুটা অদরকারী অ্যাপেন্ডিক্স হয়ে রয়ে গেল ওই খানিকটা।
সবশেষে বলব, যেসব বই দ্বিতীয়বার পাঠের ইচ্ছা আছে, তার মধ্যে এ বই থাকবে, বিশেষ করে যখন হাসির দরকার পড়বে, কিন্তু অন্য কোনও খোরাক থাকবে না।
খুব খুব চমৎকার একটা বই পড়লাম, বাংলা বই। মজার একটা গল্প, খুব সাবলীল গল্পের বর্ণনা, আর কিছু মজার চরিত্র নিয়ে উপন্যাসটা একদম আপাদমস্তক 'পাড়ান্তর্জাতিক' উপন্যাস। শ্রীজাত বরাবরই কলকাতা থেকে আমার প্রিয় লেখক, বিশেষত বর্তমান সময়গুলোতে। বইটা কলকাতার একটা কাল্পনিক পাড়ায় বসবাস করা কিছু কাল্পনিক অথচ বেশ মজার মানুষের বিভিন্ন মজাদার ঘটনা এবং এদের শেষদিকে একটা রাশিয়ান এক্সট্রিমিস্ট দলকে নাস্তানাবুদ করার অভিযানের মিলিত ফল। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত বেশ একটা হাস্যরসাত্বক ধারায় গল্পটা জমিয়েছেন লেখক। মাঝখানে কিছু দৃশ্য বা ঘটনার বর্ণনাগুলো আমার কাছে নতুন লেগেছে। মানে অনেকটা নতুন স্টাইল। অনেক জায়গায় ১৮+ কথাবার্তার চোটে আমি জাস্ট হোহো করে হেসেছি। গল্পের বেশ কিছু জায়গায় ইংরেজি ও প্রায়-অশালীন শব্দচয়ণ (যেমন- লাগানো, মারা ইত্যাদি) কিছুটা অতিরিক্ত-তিক্ততা সৃষ্টি করলেও ক্ষেত্রবিশেষে সেগুলো হাস্যরসেরও যোগান দেয়। হারু ও টফি দে এর সমকামীতা একটা খুব মজার অংশ হিশেবে দেখা দেয় শেষদিকে, যখন টফি বইয়ের দোকানের পাশে দাঁড়িয়ে শুনে, একজন মহিলা জিজ্ঞেস করছেন, 'হারু কি মুরাকামি?' তখন দোকানদার হ্যাঁ বোধক উত্তর দিলে টফি ভাবে হারু তাকে চিট করেছে। হারু আসলে সমকামী না, মুরাকামী। পরে এটা শুনে হাসতে হাসতে বিলিতি বোস তাকে জানান, হারুকি মুরাকামি একজন ইঞ্জিনিয়ার। এখানেও লেখক মজার ছলে বুঝিয়েছেন বিলিতি বোস অনেককিছুই না জেনে টফিকে কনফিডেন্টালি বলে দেন। হারুকি মুরাকামি মূলত একজন জাপানী বিখ্যাত লেখক, প্রচুর বেস্টসেলার বই আছে তার।