দাসীপুত্র, ক্ষত্তা। বিদুষী, বিদুর। তার মাঝে চাপা পড়ে গেছে তাঁর মূল নাম - ধৃতবীর্য।
বিচিত্রবীর্য-এর তিন পুত্র ধৃতরাষ্ট্র, ধৃতসত্ত্ব আর ধৃতবীর্য যখন কৈশোরে, তখনই উত্তরাধিকারের প্রশ্ন ওঠে, কে হবেন পরবর্তী কুরুপতি। পান্ডু রাজা হয়েছিলেন আমরা জানি, জানি না তিন রাজকুমারকে ঘিরে কতটা চাপা উত্তেজনা তৈরী হয়েছিল হস্তিনাপুরে, কুরুপ্রাসাদে। দাসীপুত্র বলে সিঙ্ঘাসনের দাবি থেকে বাদ যাবেন, তা কি শুরুতেই মেনে নিতে পেরেছিলেন বিদুর? তারপরও তো সিংহাসনের ছায়ায় জীবন কাটাতে হয়েছে তাকে, না মন্ত্রী হয়েছেন, না বেছে নিতে পেরেছেন ঋষি অথবা স্বাধীন গৃহস্থের জীবন।
তার পরও জটিলতা বাড়ে যখন ভাইয়ের ক্ষেত্রে পুত্র দান করতে হলো তাঁকে। যে ধারণা সহসা উচ্চারিত হয় না আজও। যুধিষ্ঠির, তাঁর সন্তান। পুরো জীবনে যুধিষ্ঠির তথা পঞ্চপান্ডবকে আগলে রাখা, কুরুপক্ষে থেকেও দুর্যোধনাদি'র বিরোধিতা এবং কৌশলে ক্ষতি করে যাওয়ার চেষ্টা করা—কী বাদ রাখেননি! তবু পিতার স্বীকৃতি মেলেনি শেষ অব্দি, শুধু মৃত্যুর আগে, বনবাসে, যুধিষ্ঠিরের সাথে সাক্ষাতের কালে তাঁর মাঝে যুধিষ্ঠিরের বিলীন হয়ে যাওয়ার বর্ণনায় পুরাণ-পাঠক আন্দাজ করতে পারেন যে এই দুইয়ের নৈকট্য নেহাত চাচা-ভাতিজার নয়।
মহাভারতের অন্যতম একাকী চরিত্র, বিদুর-কে ঘিরে সাজানো হয়েছে 'ক্ষত্তা'। মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ যেমন হতে পারতো, ততটা ভালোভাবে হয়নি।