মরুদেশ কেনানের সারগন বা রাজা শলোমন এই উপন্যাসের নায়ক। তিনি প্রথমে রাজা, তারপর নবি। তাঁর হাতের অস্ত্রগুলি দিব্যাস্ত্র নয়, লোহার তৈরি। এই উপন্যাসের পরতে পরতে দ্বন্দ্বের বীজ। যে-বীজ দিব্যতন্ত্র এবং রাজতন্ত্রের সংঘাত থেকে উদ্গত। দিব্যতন্ত্রীদের সকল আকাঙ্ক্ষাকে রাজতন্ত্র পরীক্ষা করতে চেয়েছে এবং রাজতন্ত্রী শলোমন চেয়েছেন পরীক্ষা দিতে। তাঁর রাজসত্তা এবং নবিসত্তার দ্বন্দ্ব তাঁরই পক্ষে হৃদয়বিদারক হয়েছে। যদিও এই হৃদয়কে দিব্যবলে হোক, কী মনুষ্য-চেতনা থেকেই হোক, আবিষ্কার করতে পেরেছিলেন তিনি। ওল্ড টেস্টামেন্ট ও লোকপুরাণ নির্ভর হলেও ‘রাজাবলি’র প্রতিটি চরিত্র উঠে এসেছে রক্তমাংসের শরীর নিয়ে। ইশ্মায়েল, আব্রাহাম, বৎসেবা, আনাথ প্রমুখ চরিত্র এখানে শরীরীসত্তায় স্পন্দিত। বস্তুত, ধর্মে নিহিত মানুষের আদি অস্তিত্ব ও ইতিহাসের বিশ্বব্যাপ্ত সমগ্রতায় পৌঁছতে চেয়েছে এই অভিনব উপন্যাস।
আবুল বাশারের জন্ম ১৯৫১ খ্রীস্টাব্দে। ছয় বছর বয়সে সপরিবার গ্রাম তাগ। মুর্শিদাবাদের লালবাগ মহকুমার টেকা গ্রামে বসবাস শুরু। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্যের স্নাতক। হিন্দিভাষা-সাহিত্যেরও ডিপ্লোমা। গ্রামের স্কুলে ১০-১২ বছর চাকুরি। কাজ করেছেন সাপ্তাহিক ‘দেশ’ পত্রিকায়। দারিদ্র্যের চাপ আর সামাজিক বিষমতা ও পীড়ন কৈশোরেই লেখালেখিতে প্ররোচিত। উত্তীর্ণকৈশোরে, ১৯৭১ সালে, প্রথমে কবিতাগ্রন্থের প্রকাশ। নাম : ‘জড় উপড়ানো ডালাপা ভাঙা আর এক ঋতু’। পরবর্তী এক দশক লেখালেখি বন্ধ। জড়িয়ে পড়েন সক্রিয় রাজনীতিতে। বহরমপুরের ‘রৌরব’ পত্রিকাগোষ্ঠীর প্রেরণায় লেখালেখিতে প্রত্যাবর্তন। কবিতা ছেড়ে এবার গল্পে। প্রথম মুদ্রিত গল্প ‘মাটি ছেড়ে যায়’। ‘ফুলবউ’ উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন ১৩৯৪ সালের আনন্দ-পুরস্কার।