মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে মায়া।বাবাকে হারায় দেড় বছর আগে।মায়া ও তার মা পরিবারের হাল ধরে।টেনে তুলে তাদের চোট পরিবারটিকে।চোট বোন নিধিকে এসব কিছু থেকে দূরে রাখে।জানতে দেয়নি জাগতিক দুঃখ -বেদনা।মায়া এখন একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে।
আরিফ তার অফিসের বস।বস হলেও, অফিসের কর্মচারীদের আরিফ নিজেই তাকে ভাইয়া বলে সম্বোধন করতে বলে।এর পিছনে, 'অফিসের বস না হয়ে সহকর্মী হওয়ার' যুক্তিটা অব্যশই স্বচ্ছ।তাছাড়া, আরিফের বন্ধুসুলভ আচরণও একটা ফ্যাক্ট।
এস. এস. সি. পরীক্ষা শেষে নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ভয়াবহ ঘটনার শিকার হয় মায়া।যেটির রেশ তাকে কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিন ভ্রমণে তাড়িয়ে বেড়িয়েছিল।(আসলে, এমন ঘটনা প্রতিটি মেয়ের জীবনকে ধ্বংস করে দেয়)।এরই মধ্যে তার সবচেয়ে প্রিয়মানুষ, মেঝো খালা রাহেলাকে হারিয়ে প্রচন্ড মানসিক যন্ত্রণায় ভোগে।
অপূর্বকে সাথে নিয়ে মায়া চেয়েছিল জীবনের বাকি পথ পাড়ি দিতে। পৃথিবীটাকে ঘুরে ঘুরে দেখতে। কিন্তু, তা সম্ভব হয়নি।লেখকের ভাষায়,'মধ্যবিত্ত মন চাইলেও মধ্যবিত্ত বাস্তবতা ওকে এগোতে দেয়নি'। আরিফ ও তরীর মধ্যে যে সম্পর্কটা ছিল তা হল ভালোবাসার। দশ বছর আগে, তাদের অনেকদিনের পুরোনো স্বপ্ন সত্যি করতে চেয়েছিল। কিন্তু, কোন এক অদৃশ্য সুতোয় আটকা পরে যায়।ঐ দিন থেকে তারা তাদের নিজস্ব জীবন নিয়ে ব্যস্ত ছিল।
প্রিয় পাঠক, কোন ব্যক্তি বিশেষ এর জন্য জীবন থেমে থাকে না।জীবনে চলার পথে নানা বাধা, প্রতিকূলতা সামনে এসে পরে। কেউ কেউ সে বাধা অতিক্রম করে, কেউ কেউ আবার পারেনা।মায়া ও আরিফ পেরেছিল।পেরেছিল তাদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে। যদিও বা তা ভিন্ন মানুষের সাথে। লেখক গল্পটি শেষ করলেন, মায়া ও আরিফের কাছে আসার মাধ্যমে। . পরিশেষে লেখকের নিজের বলা কিছু অংশ তুলে ধরছি- কাছে আসার দুটি ভিন্ন মানুষকে আপনি চেনেন কিংবা আপনিই হয়তো এদের একজন! কারণ,এইসব ভালোবাসা মিছে নয়।