“উনিশ শাে পঁচাশি সালের চব্বিশে সেপ্টেম্বর ৩ তারিখটি বাংলা তথা ভারতীয় সাহিত্যেরই একটি স্মরণীয় দিন। ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে ওইদিনই নির্ধারিত হল সাহিত্যে শ্লীলতা-অশ্লীলতার স্পষ্টতর সীমারেখা। আঠারাে বছর ধরে অশ্লীলতার দায়ে নিষিদ্ধ গ্রন্থ, সমরেশ বসুর 'প্রজাপতি’, পেল সসম্মান পুনর্বাসন। মুক্ত ‘প্রজাপতি' ভারতীয় সাহিত্যের ক্ষেত্রে তৈরি করল এক নতুন, অনন্য নজির। সত্যিই ঐতিহাসিক এই ঘটনা, সেইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের এই উদার, সংস্কারবর্জিত রায়ও অবিস্মরণীয়। দু-দুটি নিম্ন আদালতের রায়কে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে সুপ্রিম কোর্টের দুই মহামান্য বিচারপতি, শ্রীআর. এস পাঠক ও শ্রীঅমরেন্দ্রনাথ সেন, অশ্লীলতা সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণার নিরসন ঘটালেন। স্বচ্ছ, বাস্তবধর্মী দৃষ্টিভঙ্গির পরিচ্ছন্ন দৃষ্টান্ত রেখে তাঁরা তাঁদের রায়ে দেখালেন যে, কীভাবে পূর্ববর্তী আদালতের রায়ে ‘অমার্জিত’কে ‘অশ্লীল’-এর সঙ্গে এক করে ফেলা হয়েছে। তাঁদের সুচিন্তিত অভিমতে, ‘অমার্জিত (ভালগার) লেখা মাত্রেই যে ‘অশ্লীল’ (ওবসিন) হবে, একথা বলা যায় না। প্রজাপতির অংশবিশেষ হয়তাে কিছু পাঠকের কাছে অমার্জিত মনে হতে পারে, এর মধ্যে ব্যবহৃত অগতানুগতিক ও অশিষ্ট ভাষা (স্ল্যাং) একশ্রেণীর পাঠকরুচিকে আহত করতে পারে, অংশবিশেষের কিছু বর্ণনা কারও কারও কাছে মনে হতে পারে আপত্তিকর, কিন্তু তা সত্ত্বেও, সামগ্রিকভাবে, এ-গ্রন্থ'অশ্লীল নয়। পাঠকের নৈতিক চরিত্রকে কোনওভাবেই কলুষিত করবে না এবই বা এ-উপন্যাস পড়ে তাঁরা দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে উঠবেন না । প্রায় একই কথা বলেছিলেন কবি-সমালােচক বুদ্ধদেব বসুও। চিফ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে চাঞ্চল্যকর ‘প্রজাপতি’-মামলায় অভিযুক্ত পক্ষের সাক্ষী হিসেবে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বুদ্ধদেব বসু এক প্রশ্নের উত্তরে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন, দুর্নীতিপরায়ণ করে তােলার বদলে এ-বই পাঠকের মনে সহানুভূতির উদ্রেক করবে। প্রজাপতি’র ভাষা সম্পর্কে বলতে গিয়ে বুদ্ধদেব বসুর দৃঢ় মন্তব্য, এর ভাষা অশ্লীল নয়। তাঁর কথায়, “এই বইয়ের নায়ক বা অ-নায়ক সমসাময়িক পশ্চিমবঙ্গের রকবাজ ছেলেদের টাইপ। এরা আমাদের সকলেরই পরিচিত। এই যুবকেরা সাধারণত যেসব ভাষায় কথা বলে, সেই ভাষাতেই এই উপন্যাস লেখা। এই বইতে এত বেশি স্ল্যাং’ ব্যবহারের এটাই যৌক্তিকতা। এই স্টাইল জীবন্ত এবং জীবনের অবিকল প্রতিচ্ছবি। এখানেই এ-উপন্যাসের সাফল্য।” বুদ্ধদেব বসু আরও বলেছিলেন, “হয়তাে এ-ভাষা সাহিত্যে বেশি ব্যবহৃত হয়নি। কিন্তু এ-ভাষা এখন ব্যাপকভাবে চালু। লেখক এই ভাষা ব্যবহার করে সাহিত্যের শ্রীবৃদ্ধিই ঘটিয়েছেন।” প্রায় একই কথা বলেছিলেন এ-মামলার অন্যতম সাক্ষী কবি-অধ্যাপক ডঃ নরেশ গুহও| তাঁরও দৃঢ় অভিমত, প্রজাপতি কোনওভাবেই পাঠকের নৈতিক চরিত্র কলুষিত করবে না। প্রজাপতি অশ্লীল নয়। না সামগ্রিকভাবে, না অংশত। কিন্তু মাননীয় চিফ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট সম্পূর্ণ ভিন্নমত পােষণ করেছিলেন। তাঁর মনে হয়েছিল, ‘প্রজাপতি’ সাহিত্যগুণবর্জিত এক রচনা। এর কোনও শিক্ষাগত বা সামাজিক মূল্য নেই। সমাজের কল্যাণসাধনের অছিলায় বৃহত্তর ক্ষতিই করেছে প্রজাপতি। তাই তাঁর বিচারে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯২ ধারায়, লেখক দোষী সাব্যস্ত হন। ২৯২/১০৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত হন প্রকাশক। লেখক ও প্রকাশক-প্রত্যেকের ২০১ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে দু-মাসের বিনাশ্রম কারাবাস, শাস্তি হিসেবে ধার্য হয়। সেইসঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২১ ধারায় শারদীয় ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘প্রজাপতি’ উপন্যাস থেকে মােট ৫৩ পৃষ্ঠা বর্জনের আদেশও দেন বিচারক। এই আদেশের বিরুদ্ধে অভিযােগকারী ও আসামী, উভয়পক্ষই দ্বারস্থ হন মহামান্য হাইকোর্টের। অভিযােগকারীর দাবি ছিল, কঠোরতর শাস্তিপ্রদান। নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ছিল আসামীপক্ষের আপিল । হাইকোর্টেও পুরােপুরি বজায় রইল নিম্ন আদালতের রায়। সেইসঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হল, শারদীয় ‘দেশ’ পত্রিকা ও গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রজাপতি বাজেয়াপ্ত করে আপত্তিকর পৃষ্ঠাগুলি বর্জিত করা হােক। প্রকাশক ও লেখক মহামান্য হাইকোর্টের এই রায় মেনে নিতে পারেননি। এরপর তাঁরা গেলেন সুপ্রিম কোর্টে। সুপ্রিম কোর্টের চুড়ান্ত রায়ে ‘প্রজাপতি’ আজ সেই উপলক্ষেই মুক্ত প্রজাপতি’র এই নতুন সংস্করণ। মূল গ্রন্থের অবিকল পুনর্মুদ্রণ ছাড়াও এই সংস্করণে যুক্ত হয়েছে লেখক সমরেশ বসুর নতুন ভূমিকা, আদালতের সাক্ষ্য ও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পূর্ণ বয়ানের বাংলা অনুবাদ। সাড়াজাগানাে, বিতর্কিত গ্রন্থকে ঘিরে যাবতীয় কৌতূহলের অবসান ঘটাবে এই নতুন সংস্করণ।
Samaresh Basu (Bengali: সমরেশ বসু) was born in December 22, 1924. He spent his early childhood in Bikrampur, Dhaka. He also wrote under the pen-name of Kalkut.
He would in later days recall the deep impressions that the Brata-kathas (fantastic folk-tales recited by women while performing certain religious rites) narrated by his mother left on him as a child. His adolescent years were spent in Naihati, a suburb of Kolkata, in West Bengal. His life was rich with varied experiences. At one point, he used to hawk eggs from a basket carried on his head; later, he worked for meager daily wages. From 1943 through 1949 he worked in an ordnance factory in Ichhapore. He was an active member of the trade union and the Communist Party for a period, and was jailed for during 1949-50 when the party was declared illegal. While in jail, he wrote Uttaranga,his first published novel. Soon after his release from the jail, he began to write professionally, refusing to join the factory even when offered his old job. When he was only 21, he wrote his first novel Nayanpurer Mati, later published in Parichay. it was never published as a book. Adab was his first short story published in Parichay in 1946. A prolific writer with more than 200 short stories and 100 novels, including those written under the aliases "Kalkut" and "Bhramar", Samaresh Basu is a major figure in Bangla fiction. His life experiences populated his writings with themes ranging from political activism to working class life to sexuality. Two of his novels had been briefly banned on charges of obscenity. The case against one of these, Prajapati (Bangla:প্রজাপতি), was settled in the Supreme Court of India which overturned, in 1985, the rulings of the two lower courts. Among other intellectuals, Buddhadeva Bose, himself once accused of similar charges for his রাত ভ'রে বৃষ্টি, came out strongly in support of Samaresh. To quote from Sumanta Banerjee's recent translation Selected Stories (Vol.1), Samaresh Basu "remains the most representative storyteller of Bengal's suburban life, as distinct from other well-known Bengali authors who had faithfully painted the life and problems of either Bengal's rural society or the urban middle class. Basu draws on his lived experience of Calcutta's `half-rural, half-urban,' industrial suburbs." While the pen-name "Kalkut" was adopted in 1952 for the immediate need to publish an overtly political piece, the real "Kalkut" can be said to have been born with the publication of Amritakumbher Sandhane, a hugely popular, semi-autobiographical narrative centered around the Kumbha-mela. The many subsequent books by Kalkut had depicted the lives of the common people from all over India and all walks of life (including those who live on the periphery of the "mainstream") with their varied cultures and religious practices in a unique style that was Kalkut's own. He also drew upon the recollections of the Puranas and Itihas; Shamba (Bangla:শাম্ব), an interesting modern interpretation of the Puranic tales, won the Sahitya Akademi Award in 1980. Samaresh Basu breathed his last on March 12, 1988.
"ক্যাচার ইন দ্য রাই" উপন্যাসের প্রধান চরিত্র " হোল্ডেন কলফিল্ডের " কথা খুব মনে পড়ছিল,যখন "প্রজাপতি " পড়ছিলাম। সুখেন আর হোল্ডেন, কিছু কাজ বাদ দিলে, একজন ই মূলত। ঘুণে ধরা,নোংরা, বিচ্ছিরি এই সমাজ। এই সমাজের আর্জি মেনে চলা লোকগুলো আরো বেশি নোংরামি বহনকারী। ঠিক এই কারণে-ই, তারা সমাজের হর্তা,কর্তা,বিধাতা। সমাজ তাদের কাঁধে ভর দিয়ে চলে। সমাজের অন্য লোকেরাও তাদের "ভদ্দরলোক" বলে চিনে। মানে "চোরে চোরে মাসতুতো ভাই" ব্যাপার আরকি! যত ভন্ডের দল উত্তরীয় পরে সাজে সাধু!
অথচ যে লোকটা সমাজের এই ভন্ডামি মেনে নেয় না। যে এইসব ভন্ডামির বিরুদ্ধাচারণ করে,সমাজে হর্তা কর্তা বিধাতাদের চোখে আঙ্গুল হেনে দেখিয়ে দেয়,তাদের জোচ্চুরি; ঠিক তখন,ঐ লোক গুন্ডা,খারাপ,মস্তান!
এই সুখেন চরিত্র টা কে সবাই শুধু খারাপ ভাবে,মানে তার মধ্যে খারাপ টা ই দেখে। অথচ এই খারাপের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সারবস্তু টা ক'জন দেখেছে? সুখেন ভাবে,আমি কেন এরকম হলাম --মানে এইরকম একটা লোফার গুন্ডা--সবাই ভয় পায় আর ঘেন্না করে--একমাত্র একজন ছাড়া। আমি বুঝতে পারি, সবাই আমাকে তাই করে,ভয় আর ঘেন্না যেন তারা সবাই ভাল,ভাল ভাল কথা ভাবে, চিন্তা করে,ভাজার মাছটি উল্টে খেতে জানে না,রাজ্যের যত খারাপ কাজ সব আমি একা করছি,আর ওরা সব মঙ্গলসাধন করছে। দেখলে, আর যাই হোক,এই বইয়ের বিরুদ্ধে "নিষিদ্ধকরণ " দাবী উঠত না। আসলে সাপের লেজে পা পড়ে গেছে , এজন্য সাপ ফণা তুলেছিল।
এই সমাজের উপর পুরু কাঁদার আস্তরণ পড়ে গেছে। এটা সরিয়ে, সমাজকে পরিষ্কার আরশি বানাতে গেলে সুখেনের মত চরিত্র ই দরকার। হয়ত স্বভাব দোষে দুষ্ট, কিন্তু এসব লোকের মস্তিষ্কে এখনো ঘুণ পোকা আক্রমণ করেনি!
নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি মানুষের আকর্ষণ স্বভাবতই বেশি। আমিও তার ব্যতিক্রম নই এবং বলতে দ্বিধা নেই এই বইটাও শুরু করেছিলাম সেই প্রেরণায়! ‘ দেখি তো কি আছে যার কারণে এত সমালোচিত/নিষিদ্ধ ‘ সেই তাগিদ থেকেই বইটা পড়া শুরু করি যেমন পড়েছি ‘ রাত ভ'রে বৃষ্টি' বা ‘ খেলারাম খেলে যা ‘ বা ‘ সবকিছু ভেঙ্গে পড়ে'।
বইটা শহরের সর্ব স্বীকৃত এবং স্ব স্বীকৃত গুন্ডা সুখেন্দু বা সুখেনের। আর দশটা গুন্ডার মতোই গালাগালি, মারামরি, মাদক আর নারী নিয়ে তার কাজকারবার। গালাগালি ছাড়া সে কথা বলতে পারে না, অল্পতেই রেগে গিয়ে হুলস্থুল কান্ড বাঁধিয়ে ফেলে, মদ খায় পানির মতো আর নারী তার কাছে ভোগের সামগ্রী ব্যতীত আর কিছু নয়। কিন্তু একটা বিষয়ে সে সৎ, তার কোনো মুখোশ নেই, সে যা ভাবে তাই বলে। সে বড় দুই ভাই কেশব আর পূর্ণেন্দুর মতো মুখে এক কথা আর মনে আরেক নিয়ে চলতে পারে না। আর আছে শিখা যে ‘ সব রকম করে অথচ বেশ্যা না'। ওদের দুজনের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে সুখেনও নিশ্চিত নয়, ও শুধু এটাই জানে ‘ ওর মধ্যে কি যেন একটা আছে'। এই বেপরোয়া সুখেনকে নিয়েই এগিয়েছে বইটা; ওর অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন, শিখার সাথে সম্পর্ক নিয়ে ভাবনা আর মুখোশ পরা সমাজের সাথে ওর মিথস্ক্রিয়া।
বইটা কি কারণে এত বিখ্যাত বা কি কারণে এত কুখ্যাত দুটোর কোনো প্রশ্নেরই উত্তর পেলাম না বইটা পড়ে! কুখ্যাত হওয়ার কারণ হয়তো সুখেনের বয়ানে যে ভাষা দেওয়া হয়েছে এবং ওর যৌনতা কেন্দ্রিক যে চিন্তাভাবনা সেসব ( হয়তো অনেকে এর মাধ্যমে নিজেকে খুঁজে পায় বলেই!) আর বিখ্যাত হয়তো ভঙ্গুর এক সমাজে এক গুন্ডার গুন্ডা হয়ে ওঠার চিত্রায়নের জন্য।
একদিকে যেমন বেশ কিছু ব্যাপার ভালো লেগেছে আবার অন্যদিকে কিছু কিছু ব্যাপার খারাপও লেগেছে। সুখেনের মাধ্যমে যেভাবে সমাজের মুখোশ উন্মোচন করা হয়েছে তা অসাধারণ। দিনে ‘ গরীবদের রাজনীতি' করা আর রাতের আঁধারে গরীরদের চেটেপুটে খাওয়া রাজনীতিবিদ যেমন উঠে এসেছে তেমনি উঠে এসেছে নীতিবান তর্কবাগীশদের নীতির সীমা! শিখার ভালোবাসায় নিজেকে বদলের চেষ্টা করা সুখেনকেও ভালো লেগেছে। আর প্রতিবাদহীন, সবকিছু মেনে নেওয়া ‘সাধারণ মানুষ' প্রতি সুখেনের যে ঘৃণা ফুটে উঠেছে সেটাও ভালো একটা দিক। যদিও বইয়ে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা সুখেনকে ঠিকভাবে প্রকাশের স্বার্থেই তবু কেমন যেন অস্বস্তি হয় বইটা পড়তে। বাবা-মার সম্পর্ক নিয়ে যেভাবে ভাবে সুখেন তা নিঃসন্দেহে বিরক্তির জন্ম দেয়। মোটের উপর, খারাপ কি!
কেমন হত এক ছাত্রলীগের গুণ্ডা যদি নিজের গল্প লিখত? যে হয়ত গুণ্ডা হতে চায় নাই, একটা সাধারণ জীবন চালাতে চেয়েছিল বউবাচ্চা নিয়ে, যে হয়ত তার নিকৃষ্ট চোখেও একটা প্রজাপতি দেখে ভেবেছিল, "আমি এই সালার মত এত ফরফর করছি কেন? আমার শিরদাঁড়া বেয়ে ঠাণ্ডা কিছু নেমে যাচ্ছে কেন? আমি কি নিরাপদ হইতে পারতাম না?"
১৭ বছর নিষিদ্ধ ছিল শুনেই বইটা পড়ার ইচ্ছে ছিল। বইয়ের ভাষা, বর্ণনাভঙ্গি প্রথমে একটু খটকা লাগে। কিন্তু সুখেনের চরিত্রের জন্য এটাই মানানসই ছিল। সুখেনের জন্য খারাপই লাগে আসলে। গুন্ডা সে হতে চায়নি কিন্তু ভদ্রলোক হবার পথও তার বন্ধ। সুখেনের পরিণতিও আঁচ করতে পারছিলাম। প্রজাপতির ডানাতেই সুখেনের ডান হাতের ভাগ্য লেখা ছিল।
এটা আমার পড়া সমরেশ বসুর প্রথম বই। 'প্রজাপতি' সম্বন্ধ্যে রাজ্যের controversy'র কথা শুনে এটাই প্রথম পড়ার উদ্যোগ নিলাম। এখানে ষাটের দশকে দুর্গন্ধময় রাজনীতির মাঝে এক তরুণের angst উঠে এসেছে, বাংলার 'রক সংস্কৃতি' থেকে উঠে আসা এক যুবক, যে কিনা গুন্ডা হয়ে গেছে। 'Stream of Consciousness'-এর ব্যবহার সারা উপন্যাসজুড়ে কিন্তু এটাকে কেটে ছেঁটে এর শিল্পমান বাড়ান যেত। এটাকে মোটেও Vulgur বা Obscene মনে হয়নি বরং মূল চরিত্র সুখেনের যৌনচিন্তা বাস্তবকে তুলে ধরে বলেই বোধ হয় হিপোক্রিট বাঙালি জাতির গায়ে লেগেছিল। বুদ্ধদেব বসুও এই বইটার সমর্থনে এগিয়ে এসেছিলেন, তিনি নিজেও তাঁর চমৎকার উপন্যাস 'রাত ভ'রে বৃষ্টি' নিয়ে কম ভোগেননি। তবে সমরেশ বসু, বুদ্ধদেব না, সমরেশের লেখা গোছানো না, বেজায় ছন্নছাড়া, অনেকটা যেন জিদের বশে লিখেছেন। ওনার ব্যবহৃত ভাষায় প্রচুর রাস্তার স্ল্যাং আছে, তাতে অনেকের বইটা প'ড়তে কষ্ট হোতে পারে। সমরেশ বসুকে আমার তেমন উচ্চমানের লেখক মনে হ'লো না। দেখি, ওনার আরো কয়েকটা বই সংগ্রহে আছে, সেগুলো আমাকে আটকে রাখতে পারে কিনা? ওনার ক্যালিবার সম্বন্ধ্যে আমার ধারণা পালটায় কিনা!
সমাজের নিচতলার এক গুন্ডার দৃষ্টিকোণ থেকে লেখক ঘটনার পূর্ণতাদান করেছেন। অশ্লীলতার দায়ে আঠারো বছর নিষিদ্ধ ছিলো বইটি। রংবাজ সত্তার বাইরেও সুখেনের অন্য একরকম সত্তার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে চেয়েছেন লেখক, প্রেমের প্রকাশে উত্তরণের পথ দেখিয়েছেন.....অমার্জিত ভাষাই চরিত্রায়নকে অলঙ্কৃত করেছে। একজন গুন্ডার মানসিকতা,চিন্তার ধরন,ব্যক্তিত্ব –সব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তথাকথিত ভালোমানুষদের ভালোমানুষির মুখোশের আড়ালেও যে এক একটি ঘৃণ্য সত্তার বসবাস তাও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সর্বোপরি সমাজবাস্তবতার দিকটি উপন্যাসে পুরোপুরিভাবেই উঠে এসেছে। অন্যান্য উপন্যাস থেকে একটু আলাদা ধাঁচে লেখা উপন্যাসটি ভালোলাগাই সঞ্চার করবে 😇 #হ্যাপিরিডিং😊
Extremely realistic and obvious story. But Samaresh Basu did an excellent job in his writing. The rawness of Sukhen's soliloquy depicts the unspoken truth of our feeble socio-economic structure in such a way that the readers are bound to disagree with the author due to their current social thoughts.
এই উপন্যাস প্রথম প্রকাশের পর দীর্ঘ আঠারো বছর নিষিদ্ধ ছিল অশ্লীলতার দায়ে।
১৩৭৪ বাংলা সনের শারদীয় ‘দেশ’এ প্রথম প্রকাশিত হয় সমরেশ বসুর উপন্যাস ‘প্রজাপতি।’প্রকাশের পর এক তরুণ আইনজীবী এই উপন্যাসের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সেই মামলায় সমরেশ বসুর পক্ষে সাক্ষ্য দেন সব্যসাচী লেখক বুদ্ধদেব বসু। বিপক্ষে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি শেষ পর্যন্ত উপস্থিত হননি।
নিম্ন আদালতে প্রথমে নিষিদ্ধ ঘোষণার পর উচ্চ আদালতেও সেই রায় বহাল থাকে। তারপর সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court) উপন্যাসটিকে অশ্লীলতার অভিযোগ থেকে মুক্ত করে ১৯৮৫ সালে। আর এই সম্পূর্ণ কার্যক্রমে ব্যয় হয়েছে ১৮ বছর সময়।
সুখেন নামক এক মফস্বলের গুণ্ডার আত্মকথন এই উপন্যাস। ধনী পরিবারের সন্তান হয়েও সমাজের কিছু প্রভাবকের কারণে অন্ধকার জগতে পা বাড়ায় সে।ভূমিকা অংশে সমরেশ বসু লিখেছেন, ‘আমি সুখেনের স্রষ্টা নই। পাঠকরাও চিন্তাশীল অনুসন্ধিৎসু মানুষ। সুখেনের স্রষ্টাদের আপনারা নিশ্চয়ই চিনে নেবেন। আমি সুখেনের অন্যতম এক সত্তার সন্ধানী মাত্র। যে সত্তার মধ্যে ছিল প্রেম ও উত্তরণের আর্তি।’
বিশেষ দ্রষ্টব্য: উপন্যাসের শেষে ৪৯ পৃষ্ঠা জুড়ে ‘প্রজাপতি মামলা’এর সারসংক্ষেপ উল্লেখ করা হয়েছে বইটিতে।
সুখেন নামের এক গুণ্ডার নিজের বয়ানে উঠে এসেছে পুরোটা উপন্যাস। ১৮+ অবশ্যই। তবে বাস্তবিক অর্থে মাত্র দুই দিনের ঘটনা, বাকি সব অতীত টেনে এনেছে সুখেন নিজেই।
বইটি যেন এক গুন্ডার জবানবন্দী যে কিনা কোন সুবিধাবাদী রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত না। গুন্ডা সুখেন্দু বা সুখেন। শিখা নামের এক প্রেমিকা আছে তার। ভালবাসে কি না সে তা নিজেও জানে না। ইচ্ছাধীন জীবন যাপন করে না সে। যখন খুশী মাল খায়,বেয়াদবি করে, মারামারি করে। ভালো না লাগলে বন্ধু শিবের বোন মঞ্জুরিকে চটকিয়ে আসল। বড় দুই ভাই দু-বিপরীত দলের নেতা। সুযোগ পেলেই সুখেনকে তারা নিজের দলে ভিড়াতে চায়। সুখেন তাদের হাতে ধরা দেয় না। সবই জানে সে, রাজনৈতিক দলের সাহায্যে তারা গরিব লোকেদের অধিকারের টাকায় ভাগ বসায়। সুখেন কেন যাবে অসবে? এর অর খেয়ে মস্ত যাচ্ছে তার দিন। নিজের বাবাও তার উপর আশা ছেড়ে দিয়েছে যেন। মাঝে মাঝে মনে শিখাকে পাওয়ার নেশা উঠে তার। ছুটে যায় তার বাড়ি। শিখা যে সুখেনকে চায় না তা নয়। সে সুখেনকে সাধারণ মানুষ হিসেবে দেখতে চায়। গুন্ডা সুখেনকে চায় না সে। যা সুখেনের কল্পনারও বাইরে। চাকরি! বাসা! বৌ! বাচ্চা! সম্ভব? কিভাবে মানুষ এসব করে জীবন পার করে দেয়। গুন্ডার জীবনে ক্ষতি কি? ফ্রিতে মাল খেতে পাচ্ছি। ভয় পেয়ে না চাইতেও টাকা দিচ্ছে কেউ কেউ। কিন্তু শিখাকে তার চাই। কাজ করছে তার প্রতি একটা নিষিদ্ধ বাসনা। তার এই অশ্লীল কল্পনা বইয়ে তুলে ধরেছেন লেখক। যার কারনে তাকে লড়তে হয়েছে আদালতে মামলা। ১৭ বছর ধরে বইটি ভারতে ছিল নিষিদ্ধ। আমার কাছে এতটাও অশ্লীল মনে হয়নি উনার লেখনী। প্রাপ্তবয়স্কদের কাছে স্বাভাবিক ঠেকবে আমার মতে।
সমরেশ বসু র লেখা সেই বহুল আলোচিত-সমালোচিত এবং অনেক সাধ্য সাধনার পর প্রকাশিত বইটির banned হওয়ার কারণ জানতেই বইটি অনেক কষ্টে পুরনো হলেও সংগ্রহ করি এবং পড়ি। অনেকের কাছে অখাদ্য মনে হওয়ার কারন অশ্লীল মনের ভাব প্রকাশ হতে পারে। কিন্ত এটাও খেয়াল করার বিষয়, যে, একজন গুন্ডার মনের প্রকাশ ভংগীতে শ্লীলতা থাকলে সে গুন্ডা হবে কেন! যাহোক , এখানে protagonist একজন গুন্ডা, যার ভাইয়েরা দুই বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা, বাবা রিটায়ার্ড পুলিশ অফিসার। মা হারা সুখেন যার ডাকনাম টুকু কিভাবে সুখেন গুণ্ডা হল তা বই পড়ে জানা যায়। ভাইদের সাথে তার বিরোধ সৎ কারনেই, বাবার সাথে সুখেনের সম্পর্ক, আর তাদের মায়ের মৃত্যর পর বাবার নিভৃতচারী হয়ে যাওয়া, শিখার সাথে আন্দোলনে যোগ দেয়ার পর সম্পর্ক হওয়া, সেই সম্পর্কে জড়িয়ে সুখেনের জীবন সম্পর্কে সিরিয়াস হওয়া, সুপথে ফিরতে চাওয়া এবং হয়তো আর কোনদিন ই না ফেরার গল্প একটা প্রজাপতি কে ঘিরে কি করে হল, সেটা জানতে হলে দুইদিনের (বুধবার আর বৃহস্পতিবার) কাহিনী প্রজাপতি পড়তে হবে আর পড়লে সুখেনের দৃষ্টিতে সমাজ বা আশেপাশের মানুষ, রাজনৈতিক অস্থিরতা , প্রেম এসব জানা যাবে। এই গল্পে শিখা প্রকৃতঅর্থে একজন প্রেমিকা, শিখা দের প্রেম স্বার্থক হোক!
অন্য রকম আঙ্গিকে লেখা...মাস্তানের জবানীতে ভাষার প্রয়োগ লেখাটিকে বলিষ্ঠ করেছে... তবে যে অশ্লীলতা দোষে বইটিকে ব্যান করা হয়েছিল তার ছিটে মাত্র কিছু মনে হয় না... অবশ্য সময়টাও ৫০ বছরের বেশি পেরিয়ে গেছে... এখন সাহিত্যের ভাষা আরো সমৃদ্ধ হয়েছে, নারী পুরুষের মিলন বর্ণনা অনেক বাস্তবমুখী ও অকপট হয়েছে... তার পিছনে এই বইটির অবদান আছেই... একথা মানতেই হবে বাংলা সাহিত্যের এ এক ঐতিহাসিক রচনা... লেখনীগত এবং ব্যানকরা জনিত দুটি কারণেই...
তবে বইটির থেকেও আরও যা বেশি ভাল লাগল, বইয়ের শেষে দেওয়া কেস ডিটেইলস... ১৯৬৮ থেকে নিম্ন আদালত, উচ্চ আদালত ও সর্বোচ্চ আদালতের সাক্ষ্য ও খুঁটিনাটি বেহ মনোগ্রাহী... বিশেষ করে আমরা এখন এমন এক সময়ে চলেছি যখন সত্য লেখার অপরাধে কথায় কথায় FIR হচ্ছে বা কোপ পড়ছে গলায় সেই সময়ে এই বইটির জন্যে হওয়া বিচারটি এখনও প্রাসঙ্গিক...
Definitely one of the most controversial Bengali books of all times. It maybe easy to say today that a lot of noise was created about the book when it deserves not to and possibly that’s true. However interesting to note the context and the background when it was originally written around 1968 and published in mainstream literary magazine Desh. Perhaps it was shocking more than anything else coming from an established author like Samaresh Basu. Hats off to the man who had the courage to pick up a social topic like this amongst the bhadro novels of erstwhile Bengali literature. Shall not delve into the story as many detailed spoilers are available in Wikipedia and elsewhere, but have to say I didn’t feel titillated rather felt sorry for sukhen.
Was very difficult for me to read because of the language but it was worth the exercise for going back to reading Bangla. This was written back in the late 60's. Samaresh Basu is a genius for getting into the mind of a thug. I can see why this book was banned. Very raw and gritty. I wish I could have given it a better rating because it might have deserved it but for the language and not being able to relate to the character kind of made it a grind for me at most cases. Regardless if you are a Bengali this book is worth the read.
অশ্লীলতার দায়ে অনেকদিন (১৭ বছর) নিষিদ্ধ ছিল 'প্রজাপতি'। পড়তে গিয়ে বিরক্তি এসেছে, অশালীন লেগেছে, অস্বস্তি হয়েছে (লেখক হয়ত তাইই চেয়েছিলেন), কিন্তু অশ্লীল মনে হয়নি। যৌনতা মানেই অশ্লীল, এই ধারণা বয়ে নিয়ে বেড়াবার কোন দায় আছে বলে মনে হয় না। সমাজের এত দুর্নীতি, অনিয়ম তুলে ধরা হল ওগুলো অশ্লীল নয়, নোংরা নয়, শুধু যৌনতাই অশ্লীল - এই চিন্তা যারা করেন তাদেরই আমার বেশী অশ্লীল মনে হয়।
গুন্ডা সুখেন তার দেখা দুনিয়ার গল্পটাই বলে যায় আদ্যোপন্ত, সাবলীল, তার কাঁচা জীবনবোধের আতশীকাঁচে সে বয়ান হয়ে ওঠে ঘোলা জল ছেঁকে ধোয়াওঠা ধবধবে সাদা ভাত। যে সমাজে সুখেন গুন্ডা হয়ে ওঠে, সে সমাজকে অশ্লীল না বলে, ওর জবান বন্ধ করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের সমাজ ১৭ বছর যে লড়াইটা লড়েছে, সেও তো আরেক কাহিনী, সেও এই সুখেনের বয়ানের সমাজ বলেই সম্ভব।
নাহ! চেষ্টা করেও শেষ করতে পারলাম না। মাঝ পথে ছাড়তে বাধ্য হলাম। এই বই পড়ার ক্ষমতা আমার নেই। সে যাই হোক। এখন আমার এই বই নিয়ে দুটো চিন্তা মাথায় ঘুরছে। এক, আমি এই বই কিনে টাকা নষ্ট করলাম। অন্য বই কিনতে পারতাম। আর দুই, এই বই বাড়িতে রাখা নিয়েও সমস্যা। কারণ বই আমার মা ও পড়ে। তাই খুবই চিন্তিত।
এই বই নিয়ে কেনো যে এত্ত বিতর্ক, কেস কাছারি ঠিক বুঝলাম না। মাস্তান এর মুখের ভাষা বা ব্যবহার যদি ভদ্র হতো তাহলে তো আর তাকে মাস্তান বলা হতো না। মোটামুটি পড়ার মতো বই। গল্পটা দারুন কিছু মনে হয়নি। সব ধরনের বই পড়ার অভ্যাস যাদের আছে তারা একবার পড়ে দেখতেই পারেন।