ভাদুরী সমগ্র (খন্ড ১) - নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী (দে'জ)
বাংলায় যে মুষ্টিমেয় বর্ষীয়ান কজন গোয়েন্দা নিয়ে গল্প লেখা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর চারু ভাদুরী। পেশায় বীমা কোম্পানির অফিসার হলেও ভাদুরী মশাইয়ের গোয়েন্দা হিসেবেও পরিচিতি রয়েছে বিলক্ষণ। গল্পের কথক তাঁর বন্ধু সাংবাদিক কিরণ চ্যাটার্জি। ভাদুরী মশাইয়ের ভাগ্নে কৌশিকও মাঝে মাঝে তাঁর হয়ে গোয়েন্দার কাজ করে।
চারটি উপন্যাস রয়েছে এই বইটিতে - মুকুন্দপুরের মনসা, শ্যামনিবাস রহস্য, বিষানগড়ের সোনা ও চশমার আড়ালে। দ্বিতীয়টি কলকাতা কেন্দ্রিক, বাকি সব কটিই কলকাতার বাইরের ঘটনা। নীরেন বাবুর লেখনীর গুনে প্রত্যেকটি উপন্যাসই বেশ সুখপাঠ্য। বাংলায় অনেক গোয়েন্দা গল্প বেশ গতিময় হয় (যেমন কৃষানু বন্দোপাধ্যায়ের বাসব) তবে ভাদুরীর উপন্যাসগুলো বেশ ধীর, মজলিসি গতিতে লেখা। এর কারনে পাঠকের গোয়েন্দা বা কথক (এবং তাঁর পরিবার) বা অন্যান্য চরিত্রদের সাথে পরিচয় হওয়ার সুযোগ থাকে। বিভিন্ন জায়গার বর্ণনাও লেখক বেশ সুন্দর ভাবে দিয়েছেন।
উপরোক্ত গুনগুলো থাকা সত্ত্বেও ভাদুরী মশাইকে খুব বেশী নম্বর দেওয়া যাচ্ছে না। শখানেক পাতার উপন্যাস পড়েও রহস্যের মারপ্যাঁচের অভাব ভীষন ভাবে অনুভব করলাম। শ্যামনিবাস রহস্য বাদ দিলে কোন গল্পেই সেরকম মনে রাখার মতো ডিটেকশন নেই। ভাদুরী মশাইয়ের চারিত্রিক বৈশিষ্ট লেখক ভালো ভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারলেও ওনার রহস্যের কিনারা করার পদ্ধতিতে সেরকম কোন অভিনবত্ব নেই।