কবি'র সাথে গোয়েন্দাগল্পের ব্যাপারটা ঠিক যায় না, অন্তত আমার সেরকমই ধারণা ছিল। কাজেই নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ভাদুড়ি সিরিজটা তেমন কোন প্রত্যাশা নিয়ে শুরু করিনি। কিন্তু নীরেন্দ্রবাবুর সাথে গোয়েন্দাকাহিনীটা বেশ ভালভাবেই গেছে। বরং কবি বলে, এবং তার গল্পের গোয়েন্দা চারুচন্দ্র ভাদুড়ি এবং তার সহকারি ও বন্ধুস্থানীয় কিরণ চ্যাটার্জী আর সদানন্দ বোসের কথাবার্তা চালচলনে বেশ একটা মজলিশি ভাব আছে বলে (মানে কথায় কথায় মূল কাহিনী থেকে সরে গিয়ে তারা একটা আড্ডা জমিয়ে ফেলেন, আবারো প্রসঙ্গে ফিরতে বেশ দেরি হয়, কিন্তু নীরেনবাবুর উদ্দেশ্যও মনে হয় সেটাই ছিল) পড়তে বেশ ভাল লাগে। ভাদুড়ি সমগ্র ২-এ মোট ছয়টা উপন্যাস আছে; এর আগে এই সিরিজের 'চশমার আড়ালে' আর 'কামিনীর কণ্ঠহার' পড়েও মোটামুটি লেগেছিল বলে সমগ্রটা ধরলাম। সময়টা নষ্ট হয়নি, সেটা বলতে পারি। চরিত্র হিসেবে চারু ভাদুড়ি একমেবাদ্বিতীয়ম বা ট্রেন্ড সেটার কোনটাই নন, বরং এ যাবৎ বাংলা সাহিত্যে যেসব গোয়েন্দা এসেছেন তাদের নানাজনের মিশেলই বলা যায়। কিন্তু লেখার গুণে, এবং কাহিনীতে গোঁজামিল নেই বলে পড়ে ফেলা যায় এক বসায়। আপত্তি একটাই; কমিক রিলিফ দিতে গিয়ে সদানন্দবাবুর চরিত্রটাকে যেন লালমোহন গাঙ্গুলির দুর্বল একটা কপি-পেস্ট বানিয়ে ফেলা হয়েছে। অবশ্য লেখকের দোষ দিতে পারি না, সত্যজিৎ রায় ফেলু-তোপসে-জটায়ু দিয়ে পরের লেখকদের সর্বনাশ করে গিয়েছেন; নিজের অজান্তেই অনেকের লেখায় এই ত্রয়ীর ছাপ চলেই আসে। সমগ্রটার জন্য আমার রেটিং সোয়া তিন।