একেনবাবু সমগ্রের প্রথম খণ্ডের কাহিনিগুলো পড়তে গিয়ে শেষদিকে কিঞ্চিৎ হতাশ হয়েছিলাম। সেই তালেগোলে দ্বিতীয় খণ্ড পড়াটাও মুলতুবি হয়ে ছিল অনেকদিন। এবার অবশেষে বইটা পড়া গেল। কী-কী লেখা আছে এই বইয়ে? ১. শান্তিনিকেতনে অশান্তি ~ প্রেম, খুন, চুরি, বংশপরিচয় এবং ভূরি-ভূরি স্পেকুলেশন দিয়ে গড়া এই কাহিনিটি জটিল, কিছুটা ক্লান্তিকর, এবং বেশ কিছুটা কনফিউজিং। তবে হ্যাঁ, এই কাহিনিতে ভাবনার খোরাক আছে যথেষ্ট মাত্রায়। তাই পাঠক কাহিনিটি পড়ার ফাঁকে নিজের মগজাস্ত্র সদ্ব্যাবহারের সুযোগ পাবেন পুরোমাত্রায়। ২. হরপ্পার শিলালিপি ~ ইতিহাস, প্রেম, টাকা-পয়সা, খুন, আত্মহত্যা... একেবারে রহস্য-রোমাঞ্চ সিরিজের কাহিনি লেখা হয়েছে এতে। পড়তে মন্দ লাগে না। ৩. স্পোকেন ইংলিশ মার্ডার মিস্ট্রি ~ 'সুখী গৃহকোণ'-এ এই গল্পটি পড়তে গিয়ে চমকে উঠেছিলাম। গোয়েন্দা একেনবাবু'র উপাখ্যানে এমন ঘনিয়ে আসা অন্ধকারের পরিচয় পাব, ভাবিনি। আমার মতে, এই বইয়ের সবচেয়ে ট্র্যাজিক অথচ অন্ধকারাচ্ছন্ন কাহিনি এটিই। ৪. মেলাবেন তিনি মেলাবেন ~ ইতিহাস, খুনখারাপি আর বংশগতি নিয়ে গাদাগাদা স্পেকুলেশন দিয়ে গড়ে উঠেছে এই গল্পটা। পড়তে মন্দ লাগে না, তবে সবই কেমন যেন "কী হইতে কী হইয়া গেল" হয়ে ওঠে। সব মিলিয়ে একবার পড়ার পক্ষে বইটিকে আমার বেশ লাগল। তবে একেনবাবু'র সান্নিধ্য আর খুব একটা ভালো লাগছে না। তাই তৃতীয় খণ্ডটি কেনার ইচ্ছে নেই।
প্রথমটা উপন্যাস, পরেরগুলো বড়গল্প বলা যায়। একেনবাবু, বাপি, প্রমথ--তিনজনের চরিত্র এবং জীবনযাপন এই খণ্ডে ডেভেলপ করা শুরু হয়েছে। প্রমথ'র একজন সুইস গার্লফ্রেন্ড আমদানি হয়েছে ফ্রান্সিসকা নামে, বাপি ব্যাচেলর জীবনযাপন করছে তবে হৃদয়ে কিঞ্চিৎ ছ্যাঁকা খাওয়ার বেদনা নিয়ে, এবং সেজন্যই তার সুন্দরি অফিস অ্যাসিসটেন্ট বেভারলি তার দিকে ঝুঁকলেও সে বিশেষ সাড়া দিচ্ছে না। একেনবাবু'র নিউ ইয়র্কে কাজকর্ম বেড়েছে ক্যাপ্টেন স্টুয়ার্টের সৌজন্যে। গল্পগুলো নিয়ে তেমন কিছু বললাম না, খুব যে জমজমাট রহস্য তা না, বরং তিন মাস্কেটিয়ারের ডেইলি লাইফ নিয়েই কাহিনী এগোয় বেশি। যেটা ভাল সেটা হলো, দুই দেশে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনাকে মোটামুটি ভালভাবে জোড়া দিয়েছেন লেখক। সবমিলিয়ে তিন তারা।
এই খন্ডে গল্প আছে মোট চারটি। 'শান্তিনিকেতনে অশান্তি', 'হরপ্পার শিলালিপি', 'স্পোকেন ইংলিশ মার্ডার মিস্ট্রি' আর 'মেলাবেন তিনি মেলাবেন'। চারটি গল্পের মধ্যে 'মেলাবেন তিনি মেলাবেন' গল্পটি মোটেও ইন্টারেস্টিং লাগেনি। গল্পের নামের মতো কাহিনীও কেমন যেন বিদঘুটে লেগেছে। সবচেয়ে ভাল লেগেছে 'হরপ্পার শিলালিপি' আর 'স্পোকেন ইংলিশ মার্ডার মিস্ট্রি' 'শান্তিনিকেতনে অশান্তি' ও খারাপ লাগেনি, তবে এই গল্পের মাধ্যমে 'বাপি'র' একটা 'গতি' হলে আরো ভাল লাগতো। মানে কাহিনীটা একটু অন্যরকম হলে আরকি... গোয়েন্দা হিসেবে একেনবাবু ও গোয়েন্দা কাহিনি হিসেবে একেনবাবুর গল্পগুলো ভাল না বলে মজার বললে বোধহয় বেশি জাস্টিফাইড হয়। কাহিনি খুব উঁচুদরের না হলেও বেশ মজার ও উপভোগ্য মনে হয়েছে আমার কাছে।
বিঃদ্রঃ নিচের রিভিউখানা আসলে বাংলাদেশের বাতিঘর প্রকাশনী থেকে বের হওয়া "নির্বাচিত একেনবাবু" সমগ্রের। বইটা এখনও গুডরিডসে কেউ অ্যাড না করায় এ বইতেই দিতে হল।
নির্বাচিত একেনবাবু সুজন দাসগুপ্ত সূচিপত্রঃ ১। ম্যানহাটনে মুনস্টোন ২। ঢাকা রহস্য উন্মোচিত ৩। স্পোকেন ইংলিশ মার্ডার মিস্ট্রি ৪। মেলাবেন তিনি মেলাবেন ৫। হাউজবোটে নিখোঁজ
গল্পসমগ্রের রিভিউ দেয়া বেশ কঠিন, কেননা অনেকসময় একই বইতে কিছু গল্প থাকে বেশ ভালো,আবার কিছু একেবারেই অখাদ্য। এই বইতেও তিনটে গল্প চমৎকার, আর দুটো একদম সাদামাটা। কিন্তু ৬ খণ্ড বের হওয়া একটা গোয়েন্দা সিরিজ থেকে বাছাইকৃত ৫টা গল্প যদি যদি অসাধারন না হয় তাহলে দোষ প্রকাশকের নাকি লেখকের?
একেন্দ্র সেন ওরফে একেন বাবু কলকাতার পুলিশের প্রাক্তন সদস্য,উনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বাপি আর তার বন্ধু প্রমথকে নিয়ে নিউ ইয়র্কে গোয়েন্দাগিরি করে বেড়ান। বাপির পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে উত্তম পুরুষে লেখা গল্পগুলো। তেমন মাথা ঘোরানো টুইস্ট নেই, যারা শুধুমাত্র চমকের উদ্দেশ্যে বই পড়েন, তাদের হয়তো ভালো লাগবে না। লেখক "Chekhov's gun" ফর্মুলা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন, গল্পে কোনও এক জায়গায় কিছুর বর্ণনা থাকলে সেটা পরবর্তীতে রহস্য উদ্ধারে অবশ্যই কাজে আসবে, রেড হেরিং বা পাঠককে বোকা বানানোর মত অপ্রয়োজনীয় কোনও বর্ণনা চোখে পড়ে নি। আমার অবশ্য এরকম ছোট ছোট ক্লু থেকে ডিডাকশন করতে ভালই লাগে। আর রহস্য সমাধানের পাশাপাশি প্রবাসে একেনবাবু-প্রমথ-বাপির প্রত্যাহিক জীবনযাপনের চিত্র লেখক বেশ সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, রহস্যপোন্যাস হিসাবে চিন্তা না করে পড়লেও খারাপ লাগার কথা না।
তবে বইতে আমার সবচেয়ে সমস্যা হয়েছিল একেন বাবু কে কল্পনা করতে গিয়ে। হইচই থেকে একেনবাবু নিয়ে সিরিজ ও সিনেমা বের হয়ে গিয়েছে, ওগুলো আগেই দেখে ফেলেছিলাম। কোনও এক অদ্ভুত কারনে সিরিজের নীতিনির্ধারকদের হয়তো মনে হয়েছিল – "কেমন হবে যদি ফেলুদার জটায়ূ একটু বুদ্ধিমান হয়ে গোয়েন্দাগিরি শুরু করেন?" তাই হয়তো তারা সেই প্রশ্নের জবাব খুজতে অনির্বাণ চক্রবর্তীকে কাস্টিং করেন একেন বাবু হিসাবে, যিনি কিনা জটায়ুর চরিত্রেও অভিনয় করেছেন পরে! আমার কল্পনায় একেন বাবু হিসাবে বার বার সেই টেকো অভিনেতার কথাই মনে হচ্ছিল, অথচ বইয়ের একেন বাবুর বর্ণনা এমনঃ ঢ্যাঙ্গা, বিশাল মাথা, উস্ক খুস্ক চুল, ময়লা পোশাক, গোফ নেই!
First off, I enjoyed this book more than the previous one. With my Bangla reading abilities improving I was able to finish this faster than the first one. The familiarity with the characters increases in this one, and their familiar antics are more enjoyable. There is this typical Bengali humour in this book which made me chuckle a quite a bit. There is also more to and fro between the USA and India in this novel. Though I must confess, in both the installments, I enjoyed the stories set in the USA more than the ones set in India, even though Kolkata's landscape is more familiar to me. I suppose this has to do with the author's comfort with the country. The stories follow the same pattern like in the previous book, with the first story being much longer than the other ones in the collection. While I liked the twists and the complicated plot (especially in the first story), I must say that I still found the conclusion slightly predictable. Perhaps with my acquaintance with the material getting better, the mystery element is growing faint for me. The USP of this book remains the Bengali humor and the human element of the stories, including the commentary on daily life and politics of Bengalis, both in India and abroad. Though I must add, that not setting a murder in the cruise ship was a missed opportunity!