কখগ বাবু হঠাৎ মারা গেলেন। তিনি খুব ভালো লোক ছিলেনঃ পরোপকারী, সৎ, ন্যায়নিষ্ঠ ইত্যাদি, ইত্যাদি। সুতরাং তার স্বর্গে যাওয়াই ঠিক। তবে ছোটবেলায় কবে একটা ছোট মিথ্যা কথা বলেছিলেন সেজন্য তাকে একবার নরক-দর্শন করতে হল কয়েক মিনিটের জন্য।
কখগ বাবু নরকে ঢুকে দেখলেন অনেক কিছু, তার মধ্যে খাওয়ার টেবিলের কথা বলি। কয়েক মাইল লম্বা চওড়া বিশাল এক খাওয়ার টেবিল, তার চারপাশে চেয়ারে দুর্দান্ত সব পাপী বসে রয়েছে। টেবিলের উপর জগৎ সংসারের যত রকম সব সুখাদ্য থরে থরে সাজানো। পোলাও-মাংস, দই-মিষ্টি, মাছভাজা, চিকেন রোল, আঙুর-নাসপাতি, সবই আছে। প্রত্যেকটি পাপীর হাতে একটা তিনহাত লম্বা চামচে, তারা সেই চামচে দিয়ে খাবার তুলে যেই মুখে দিতে যাচ্ছে, চামচেটা অত লম্বা হবার জন্য খাবার মুখের মধ্যে না গিয়ে বাইরে কিংবা পাশের লোকের গায়ে পড়ে যাচ্চে। ক্ষুধার্ত, ক্রুদ্ধ নারকীদের সে কি চিৎকার, চেঁচামেচি।
সামান্য নরক-দর্শনের পর স্বর্গে ঢুকে কখগ বাবু কিন্তু আরও অবাক হলেন। এখানেও ভোজনের একই রকম বন্দোবস্ত, সেই বিশাল টেবিল, প্রচুর সুখাদ্য। তারও চেয়ে বড় কথা এখানেও পুণ্যবানদের হাতে সেই লম্বা তিনহাত চামচে। এখানে কিন্তু কোনও কোলাহল, মারামারি নেইঃ সকলেই পরিতৃপ্ত আনন্দিত, সন্তুষ্ট।
কখগ বাবু অবাক হয়ে বললেন, 'স্বর্গ আর নরকে প্রভেদটা কি ?' পরলোকের যে কর্মচারী তাঁর সংগে এতক্ষন ধরে আছে সে বলল, 'না, কোন পার্থক্য নেই। তবে নরকে ওরা নিজেরাই নিজেদের মুখ্যে খাবার দিতে গিয়ে ফেলে দিচ্ছে আর এখানে স্বর্গে লম্বা চামচ দিয়ে একজন আরেকজনকে খাওয়াচ্ছে।'