এই সময়ের পাঠকের কাছে সৌরভ চক্রবর্তী মোটেই অপরিচিত নন। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা রহস্য-রোমাঞ্চ-অলৌকিক ছোটোগল্প পাঠক ও সমালোচকের দ্বারা সমাদৃত হয়ে এসেছে বেশ কয়েক বছর ধরেই। এবার, অবশেষে, এই সময়ের বাংলায় স্মার্ট, ঝকঝকে গ্রন্থনির্মাণে যারা নিজেদের উৎকর্ষ প্রমাণ করেছে বারংবার, সেই দিল জিতে নেওয়া কাফে টেবিলের সৌজন্যে লেখকের একঝাঁক গল্প ধরা পড়ল দু’মলাটের মাঝে এই আপাত সুমুদ্রিত, সৌজন্য চক্রবর্তী’র অসামান্য প্রচ্ছদে সুশোভিত হার্ডকভারে। বইটাকে কেন ‘আপাত’ সুমুদ্রিত বললাম বলুন তো? কারণ কাফে টেবিলের স্ট্যান্ডার্ডকে স্রেফ তুশ্চু করে এই বই জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে অজস্র মুদ্রণ প্রমাদ, সংসদ বা আকাদেমির রীতিকে বুড়ো (বা মাঝের আঙুল) দেখানো ভুল বানান, দেওয়াল পত্রিকার স্তরের সিনট্যাক্স, এবং সম্পাদনা ও পরিমার্জনার সর্বাত্মক অভাব। এর ফলে এমন সুন্দর বইটা খুলে পড়তে বসলে শিউরে উঠতে হয়। আজকের পাঠকের জন্য এমন একটা বই পেশ করেছে কাফে টেবিল, এ বিশ্বাসই হতে চায় না। কিন্তু, বানান ও প্রকরণের এই ধাক্কা উপেক্ষা করে বইয়ের গল্পগুলো পড়লে যে আশ্চর্য আলো-আঁধারি জগতে প্রবেশের সুযোগ মেলে, তা সর্বার্থে বিস্ময়কর।
এর মধ্যে অত্যন্ত বেমানান ঠেকেছে ‘বিপাকে বটব্যাল’ এবং ‘বিট্টুর বাবুইকাণ্ড’। এই দু’টি গল্প পড়তে চমৎকার লাগলেও এরা একান্তভাবেই শিশুপাঠ্য, এবং সেজন্যই সংকলনের সামগ্রিক সুর ও তালের সঙ্গে এদের মেলানো যায় না। এদের পরিবর্তে রহস্যভেদী সব্যসাচীর গল্প ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ এবং সন্দেশ-এর পাঠকদের চমকে দেওয়া ‘শেষ গল্প’ এই সংকলনে স্থান পেলে তা যথাযথ হত। অন্য গল্পদের মধ্যে সবগুলো আমার একই রকম ভালো লাগেনি, কিন্তু যেগুলো লেখেছে সেগুলোর বিশেষত্ব দ্বিবিধ: প্রথমত, লেখক এই গল্পগুলোয় অলৌকিকের আশ্রয় নেননি। বরং তিনি মানবমনের অন্ধকার দিকগুলোকে অল্প কথায় ফুটিয়ে তুলেছেন। এর ফলে চরিত্ররা, এমনকি পাঠকেরাও একটা কালো আয়নার সামনে দাঁড়াতে বাধ্য হন। এর ফলে তাঁরা নিজেদের সম্বন্ধে এমন অনেক কিছু বোঝেন, যা তাঁরা জানতেন না, বা জানলেও মানতেন না। দ্বিতীয়ত, খুব মিনিমালিস্ট ভঙ্গিতে লেখা কয়েকটি গল্পে লেখক পাঠকের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে তাঁকে নিজের মতো করে গল্পটা বুঝে নিতে দিয়েছেন। বাংলা ছোটোগল্পের ন্যারেটিভ কাঠামোয় ওপন-এন্ডেড কাহিনি পাঠকের দ্বারা সমাদৃত হয় না। কিন্তু সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ধাঁচে লেখা বলেই গল্পগুলো শুধু মনে দাগই কাটে না, বরং প্রায় টোয়াইলাইট জোন-এর কোনো এপিসোড দেখার মতো অনুভূতিরই জন্ম দেয়।
তবে এসব ছেড়ে দিন। ভুলে যান রোমাঞ্চ, বিশ্বাস-অবিশ্বাসের সীমায় দাঁড়িয়ে গল্পের শেষের চমকের জন্য অপেক্ষা করা, সব্যসাচীর সঙ্গে পা মিলিয়ে খুনিকে খুঁজে বের করার দৌড়। এই সংকলন আমি মনে রাখব স্রেফ দুটো গল্পের জন্য: ‘ব্রহ্মার খামখেয়ালি’ আর ‘বাঁধনছেঁড়া’। কেন? তা জানতে গেলে তো আপনাকে বইটা পড়তে হবে। আজ্ঞে হ্যাঁ, যদি আপনি প্রাপ্তমনস্ক পাঠকের জন্য লেখা স্মার্ট, বুদ্ধিদীপ্ত, যৌক্তিক গল্প পড়তে চান, তাহলে এই বইটি অবশ্যপাঠ্য। শুভেচ্ছা রইল।
ব্যাপারটা হচ্ছে সৌরভবাবুকে সবাই জানে চন্দ্রহাসের জন্য। এবারের এবং আগেরবারের বইমেলায় তার যে বইগুলো বেরিয়েছে (মৃতকৈটভ, উদ্ভবলিঙ্গ, পাপ, দেবীরাক্ষস ) সেগুলোর জন্যও তিনি এপার ওপার দুই বাংলাতেই সমাদৃত। কিন্তু এর মাঝে এই একটি বই রয়েছে যেটি বেমালুম হারিয়ে যায়। বইটিকে নিয়ে সেভাবে কথা হতেও দেখিনি (জানিনা কেনো)। বইয়ের নাম হলো "গল্পের ছদ্মবেশ", এটা সৌরভবাবুর প্রথম দিকের লেখা গল্পগুলোর একটা সংকলন। আর আমার মতে তার অন্যতম সেরা কাজগুলোর একটা। কুড়িটি গল্প রয়েছে, কিন্তু বইটি পড়া যায় এর প্রথম তিনটে গল্পের জন্য, ক্লাউন আতঙ্ক, অসুখ করেছে কিংশুকের এবং হোরেশিও, এমনি এক গল্প। He masterfully explored the dark side of the mind, যদিও গুগল প্লে স্টোর থেকে পাওয়া এই ইবুকে মারাত্মক রকমের মুদ্রণ প্রমাদ রয়েছে। আর দু তিনটে গল্প এই সংকলনের জন্য একেবারেই উপযুক্ত মনে হয়নি। But overall I think this book deserves more recognition, even if not the entire book please read the first three stories, those are brilliant. That's all I have to say, cheers.