"নারগিসের বাসায় যাওয়া, ওর আমার বাসায় আসা কিংবা ওর সাথে মেলামেশায় আমার আম্মার খুব আপত্তি। কারণটা বেশ গুরুতরই বটে।
নারগিসের আব্বা বিদেশে থাকে। আমি তাকে কখনো দেখি নাই। আট দশ বছরে একবার দেশে আসেন বলে শোনা যায়। নারগিসের আম্মার একজন প্রেমিক আছেন। উনি নারগিসদের বাসাতেই থাকেন। আমার সাথেও অনেকবার দেখা হইছে। আমি উনাকে ডাকি ‘বাদশা আংকেল’ বলে। দেখলে সালাম দেই। উনিও সহজভাবে কথা বলেন। বাদশা আংকেল নারগিসের আম্মার রুমে থাকেন। নারগিস বা তার ছোটবোন—ওরাও ‘বাদশা আংকেল’ বলেই ডাকে উনাকে।
এটা নিয়ে ওদের মধ্যে কোনো জটিলতা দেখি নাই। তবে জটিলতা আছে আমার আম্মা এবং আম্মা জাতীয় অনেকের মনে। ওরা বলে, নারগিসের আম্মা নাকি চরিত্রহীন।
আমাদের পাড়ার কেউই ওই পরিবারের সাথে মেশে না। বিষয়টা আমার ভালই লাগে।"
ব্রাত্য রাইসুর একটা স্ট্যাটাসে দেখেছিলাম, নারগিস এমন একটা উপন্যাস যেখানে নারীকে নারীর মতো দেখানো হয়েছে। (বি:দ্র: তিনি বহি:প্রকাশ প্রকাশনীর প্রকাশক)
কথাটার সাথে পুরোপুরি একমত না হলেও, আংশিকভাবে সমর্থন জানাচ্ছি। নারগিস আক্ষরিক অর্থেই ভিন্নধর্মী একটা উপন্যাস; 'তথাকথিত ফেমিনিজমের' উগ্রবাদী মনোভাব নেই, আবার ম্যাড়মেড়ে চিরাচরিত সামাজিক উপন্যাসও নয়। এক নিশ্বাসে পড়ে শেষ করলাম! একটা কথা মোটামুটি নিশ্চিতভাবে বলা যায়, 'কীবোর্ড চাপলেই সাহিত্যিক' যুগে নারগিস একটা শক্তপোক্ত খুঁটি গাড়বে; সহজেই হারিয়ে যেতে আসেনি বইটা।
বইয়ের প্যারা উল্লেখ করে দিচ্ছি:
"এখনকার মেয়েদের তুমি চেনো না। তারা নিজেরা কোনো নারীর উন্নতি সহ্য করতে পারে না। পারবেও না। কীভাবে তাকে টেনে হিঁচড়ে নামানো যায় সে চিন্তাই করবে। এসব নারীবাদ ভুয়ার চেয়েও ভুয়া। হাতাকাটা ব্লাউজ পরলে আর ক্লিভেজ একটু বেশি দেখাইলেই নারীবাদ হয় না। নারীবাদ হইল নারীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সেক্সুয়াল স্বাধীনতায় বিশ্বাস করা।”
দুই টিনএজার বন্ধু। একজন গুডি গার্ল আরেকজন মুটামুটি বখাটে বলা যায়। অথচ তারা দুজন ঘনিষ্ট বন্ধু। একজনের জীবনের ঘটনায় আরেকজন জড়িয়ে যায়, কখনো ভ্যাজাল হয়ে যায়।
এই বন্ধুত্বের নানান চড়াই-উতরাই পার হওয়ার গল্পই এ বই। সেই সাথে উঠে আসছে দুজনের জীবনের চারপাশের আরো আরো সব ঘটনা। এই বয়সে মেয়েরা যেমন হয়ে থাকে তেমন করেই চরিত্র দুটোকে তুলে আনা হয়েছে কোথাও হয়তো একটু বাড়াবাড়িও হয়েছে। তবুও মনে হয়েছে যেন দুই পরত মেকাপ লাগিয়ে চেহারা না ঢেকে ফেলে আসল চেহারাই দেখানো হলো পাঠককে।
এরা দুজনই আবার নারীবাদী। নানান জায়গায় নারীবাদীর যে কনসেপ্ট তার সাথে নানান সময়েই একমত হতে পারি নাই। এই বইতে নারীবাদী বিষয়টা বেস চমৎকার করে তুলে আনা হইছে।
একবন্ধুর চট্টগ্রাম থেকে আমেরিকায় ফের আবার ফিরে আসা ঢাকা। আরেকবন্ধুর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা সেখান থেকে কানাডা। মাঝে আরো কিছু মনে দাগকাটা চরিত্রের সাথে পাঠকের পরিচয়। আহা জীবন!
পড়বো কি পড়বো না.. দুনোমনো করে বইটা শুরু করলেও শুরুর পাতাতেই চমক কেননা বইয়ের ভাষা হচ্ছে আজকালকার কথ্যভাষা। আরেহ মজা ত! আরো কয়েক পাতা পড়ার পর নারগিস-রোকসানার কান্ড-কারখনায় মজা পেয়ে গেলাম। আর একটানে বই শেষ করে ফেললাম।
আমি এই বইয়ের রিভিউ দিব না। শুধু লেখকের অকুন্ঠ প্রশংসা করতে চাই। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে পারমিতা হিম গত কয়েক বছরে নবাগত লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে প্রতিভাবান, সবচেয়ে বেশি স্বচ্ছন্দ আর আমার যেটা প্রিয় তা হল- তিনি সবচে নিরীক্ষাধর্মী। ম্যাড়ম্যাড়া আবেগধর্মী ত্যানা গদ্য তিনি লিখেন না। অনেক বেশি প্রত্যাশা নিয়ে লেখকের দ্বিতীয় বইয়ের অপেক্ষা থাকবে, আর অনুরোধ থাকবে হূমায়নীয় কেতায় প্রতি বছর একটি করে বই উপহার না দেয়ার
আমি আশির দশকের পরে জন্ম নেয়া বাংলাদেশি লেখকদের বই পড়তে ভয় পাই। কেন জানি তাদের চল বুঝতে পারি না। পারমিতা হিম আপা বলে বইটা পড়ছি, শেষ দিকে দারুণ একটা টুইস্ট আছে বলে শুনেছি। the subtle art of not giving a f*** বইটা অর্ধেক পরে নারগিস পড়ছি, দেখি কি হয়।
পড়ে ফেললাম পারমিতা হিমের লেখা "নার্গিস"। অনেকদিন পর কোন বই একটানা পড়লাম। বাংলা উপন্যাস তো নয়ই।
বইয়ের প্রথমভাগে সবকিছু বেশ ধীরেই আগায়। নার্গিস আর রোকসানার কৈশোরের খুনসুটি আর অ্যাডভেঞ্চার নিয়ে গেলো নিজের কৈশোরের শহর চট্টগ্রামে। এই অংশে (রোকসানার চট্টগ্রাম জীবনে) সবচেয়ে ভালোলাগার বিষয় হচ্ছে চরিত্রগুলো সমাজের প্রায় প্রতিটা শ্রেণীকেই উপস্থাপন করেছে। অল্পবয়সী কৌতুহলের মাঝেই চরিত্রগুলো আমাদেরকে তাদের সমসাময়িক রাজনৈতিক আর সামাজিক বিতর্কগুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। (ধরে নিয়েছি, রোকসানা আর নার্গিসের কিশোরীবেলা ১৯৯৮-২০০৯ এর মাঝে)
উপন্যাসের দ্বিতীয় অংশটা শহুরে পাঠকের আরও পরিচিত মনে হবে। এই অংশটা আসলে মনোযোগী পাঠককে নিশ্চিন্ত হতে দেয় না। (সমাপ্তিসহ) বেশ কিছু ভালো টুইস্ট আছে। খুব দ্রুত উপন্যাস শেষ হয়ে গেছে বলে ভ্রম হয়। কিন্তু আবার মনে হয় এমন কিছুই হয়ত আমি আশা করছিলাম।
বইয়ের দাম দেখে প্রথমে ইতস্তত করেছিলাম কিনব কিনা। অনেকটা কৌতুহল বশেই বুক সাইনিং ইভেন্টে যাওয়া এবং বই কেনা। পড়াশেষে দামটা যথাযোগ্যই মনে হয়েছে। কিংসাইজের বই আর ফন্টের কারণেই গতকয়েকদিন অফিস আর ঘোরাঘুরির মাঝে বই পড়ে যেতে পারলাম। লেখিকার গল্প বলার ক্ষমতা বেশ। শুভকামনা রইল।
নারগিসকে অনেক ভাল্লাগছে। নারগিসের কথাবার্তা, চালচলন, খামখেয়ালি এর সাথে পরিচিত হয়ে মজা পাইছি। একটানা শেষ করছি বইটা। লেখার ভঙ্গি অসাধারণ। দারুণ একটা গতি ছিলো পুরোটা গল্পে। নারগিসের চিন্তাভাবনাগুলো ভালো লেগেছে। নারগিসের চাইতে রোকসানার সাথে যেনো বেশি পরিচিত হলাম। রোকসানার চরিত্রও সুন্দর ছিলো। এবার একটু বলা লাগে উপন্যাসটা নিয়ে। আমার কাছে মনে হয়েছে, নারগিস একটা লক্ষ্যভ্রষ্ট উপন্যাস। বললাম এজন্যে যে, ছয় বছর ধরে লিখার কারণে পারমিতা হিম তার লক্ষ্যে যেনো ঠিকমতো পৌঁছাতে পারেননি। শেষে গিয়ে একটা সিনেমাটিক এন্ডিং দেয়ার কোনো দরকার ছিলোনা। বিরক্ত লাগছে নারগিস দেশে ফেরার পরের আহামরি কাহিনীগুলো। মঞ্চে উঠা, সারা দেশ কাঁপানো বক্তৃতা এসব ভালো লাগেনাই। এইরকম ফ্যান্টাসিতে লেখক না গেলেই পারতেন। প্রথম উপন্যাস, আশাকরি আরো ভালো ভালো গল্প অপেক্ষা করছে। শুভকামনা রইলো পারমিতা হিমের জন্যে।