মৃত্যু মানে এই ইহজগতের পরিসমাপ্তি হলেও, সেই মৃত্যু মানেই আখিরাতের জীবনের সূচনা। যার প্রথম ধাপই কবরের জীবন। মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামতের আগ পর্যন্ত যে বিশাল এক জীবনের যাত্রা শুরু হয়, সেই যাত্রার জন্য প্রয়োজন সঠিক ধারণা, পড়াশোনা ও পূর্ব প্রস্তুতি। অন্যথা, ভুল ধারণা ও মনগড়া প্রস্তুতিবিহীন অবস্থায় সেই যাত্রা কতখানি ধ্বংসাত্মক হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। কুরআন মাজীদে আখিরাত বা পরকালের বিস্তারিত বিবরণ আছে; কিন্তু ওই বিবরণের সম্পূর্ণ অংশ জুড়ে রয়েছে, কিয়ামত পরবর্তী অবস্থা। মৃত্যু থেকে কিয়ামত পর্যন্ত এ বিশাল সময় সম্পর্কে কুরআনে খুব বেশি তথ্য নেই; তবে কুরআনের শিক্ষক এবং ব্যাখ্যাকারী হিসেবে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ পেশ করেছেন। হাদিসের নির্ভরযোগ্য প্রায় প্রতিটি গ্রন্থেই মৃত্যু থেকে কিয়ামত পর্যন্ত সময়ের বিভিন্ন তথ্য বিক্ষিপ্তভাবে স্থান পেয়েছে। তবে ইসলামের বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসে ইমাম বাইহাকি (রহিমাহুল্লাহ)'ই প্রথম ব্যক্তি, যিনি এ বিষয়ের উপর স্বতন্ত্র আলাদা এক গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর গ্রন্থের শিরোনাম اثبات عذاب القبر/ইসবা তু আযাবিল কবর। যার আক্ষরিক অর্থ কবরের শাস্তি প্রতিপাদন। বিষয়বস্তুর বিস্তৃতির দিকে খেয়াল রেখে, বাংলা অনুবাদে শিরোনাম দেয়া হয়েছে 'মৃত্যু থেকে কিয়ামত '
বইঃ মৃত্যু থেকে কিয়ামাত মূলঃ ইমাম বাইহাকি রাহিমাহুল্লাহ অনুবাদঃ জিয়াউর রহমান মুন্সী প্রকাশনঃ মাকবাতুল বায়ান পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৭৯ মুদ্রিত মূল্যঃ ২৬৫৳
বারযাখের জীবন নিয়ে আমাদের অনেকেরই ধারণা ধোয়াশা টাইপের। অনেকেই এমন আছে যারা কেবল লোকমুখে শুনে শুনে এই বিষয়ের উপর ধারণা পেয়েছে, আবার অনেকে আছে এই বিষয়ের ধারণা মোতাবেক অনেক জাল হাদিস লালন করছে। তো বারযাখের জীবন সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা দিতে এবং এই বিষয়ের সকল সহিহ হাদিস গুলো নিয়ে মলাটবদ্ধ করা হয়েছে বক্ষ্যমাণ বইটি।
লেখক সম্পর্কে বলতে গেলে বলব, ইমাম বাইহাকি রাহিমাহুল্লাহকে আমরা কমবেশি সবাই চিনি। আলহামদুলিল্লাহ। একজন জগদ্বিখ্যাত লেখক। জ্ঞান অর্জনের জন্য বহুদেশ সফর করেছেন। তাঁর বইয়ের সংখ্যাও অনেক, এর মধ্যে খন্ড সংখ্যাই এক হাজারের মত। বক্ষ্যমাণ এই বইটি তার "ইসবাতু আযাবিল কবর" গ্রন্থের অনুবাদ। . বইটিতে যা আছেঃ
মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামাত পর্যন্ত সময়ের উপরের হাদিসগুলো নিয়ে সাজানো হয়েছে বইটি। এই বিষয়ক মোট ২০৬ টি হাদিসের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা এসেছে, পাশাপাশি আছে কুরআনের আয়াত,সালাফে সালেহিনের মতামত এবং বিষয়ানুক্রমিক পর্যাপ্ত টিকা। হাদিসগুলোকে টপিক মোতাবেক সাজানো হয়েছে। ৩২ টি টপিক রয়েছে পুরো বই জুড়ে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রশ্নোত্তর পর্বে মুমিনের শক্তি, অবাধ্যের জন্য কবরের আযাব, মৃত্যুর সময় ফেরেশতার আগমন, দ্রুত জানাযা দেওয়া, কবরের শাস্তির ভীতি প্রদর্শন, প্রস্রাবে অসতর্কতা ও কুৎসা রটনার দরুন কবরে শাস্তি ইত্যাদি। . বইটি কেন পড়বেন?
মৃত্যু সম্পর্কিত সহিহ হাদিসগুলো জানার জন্য পড়া উচিত। কবরের আযাব,মৃত্যু যন্ত্রণা, মৃত্যুর ফেরেশতার আগমন, পুনরন্থান ইত্যাদি বিষয়গুলো ক্লিয়ার হয়ে যাবে বইটি পড়ার পর ইন শা আল্লাহ। ঈমান বৃদ্ধির লক্ষ্যেও বইটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে আশা করি। . পাঠ্যানুভূতিঃ
বইটি পড়তে যেয়ে একটু ভয় ভয় লেগেছে। বেশিমত কবরের আযাব আর মৃত্যুর যন্ত্রণা বিষয়ক হাদিসগুলো পড়ে। রাতের নিদ্রাজেগে বইটি পড়াও তাই সম্ভব হয় নি। ব্যাক্তিগত ভাবে প্রচ্ছদ টা ভাল লাগে নি। কিন্তু ভেতরের অনুবাদ অনেক ভাল লেগেছে। কোন বিষয়ে বুঝতে অসুবিধা হয় নি। আলহামদুলিল্লাহ।
রাব্ব লেখক, পাঠকসহ বইটির সাথে যুক্ত সকলকে কবুল করে নিন। আমিন।
বেশ অসাধারণ বই। আসলে মুহাদ্দিসদের বই পড়ার মজাই আলাদা। উনারা সকল কিছু কুরআন ও হাদীসভিত্তিক সাজান। কোন বাহুল্য নেই। মৃত্যু, কবর, কিয়ামত সম্পর্কিত অন্য সব বই থেকে এটি অনন্য। তবে অনুবাদে গাম্ভীর্য আনতে গিয়ে বেশ কিছু কঠিন শব্দ না আনলেও পারতেন অনুবাদক। ঘুম না লিখে লিখেছেন নিদমহল, এরকম অনেক শব্দ চোখে পড়েছে।