প্রণব বর্ধন আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন, বাঙালী যৌনতা নিয়ে হাজার রকমের ছুঁতমার্গিতার ট্যাবুর কারণে অ্যাডাল্ট উপন্যাসও লেখে একঘেয়ে ও বিরক্তিকরভাবে। প্রফেসর বর্ধনের বক্তব্যের জ্বলন্ত প্রমাণ এই বইটি।
কী ভয়াবহ! শিম্পাঞ্জির সাথে মানুষের সঙ্গম দ্বারা এ উপন্যাস রচিত হয়েছে (কোনো উপমা নয়, সত্যিই আছে গল্পে)! এ গল্পে মিলির সাথে যা যা হয়, পড়লে চোখ থেকে রক্ত পড়বে! ইংরেজিতে একটা শব্দ আছে gasp, অর্থ হলো প্রচন্ড চমকে অনেকটা বাতাস একবারে টানতে গিয়ে গলায় আটকে হেঁচকির মত আওয়াজ হওয়া। প্রতি দুই প্যারা অন্তর গাস্প করতে করতে গলা ব্যাথা হয়ে যাবে। কোভিড পেশেন্টদের জন্য এই গল্প এতদ্বারা নিষিদ্ধ করা হলো।
লেখকের কাছে প্রশ্ন থাকবে, বইয়ের নাম আর কাভার পেইজ এমন এও টাইপের দেওয়ার পিছনের কারণ কি?
নাম আর কাভার দেখে যতটাও বিশ্রী মনে হচ্ছে কাহিনি পুরোটা তা না! একটা ১৬ বছরী মেয়ের সাথে ঘটে যাওয়া কিছু দূর্ঘটনা। যে কিনা আশ্রয়হীন হওয়ায় কিছু কুমানুষ সেটার ফায়দা নিয়ে তাকে নানাভাবে নির্যাতন করে, একজনের কাছ থেকে পালালে আরেকজনের কাছে পড়ে! ভাষাগত পরিবর্তন থাকলেও মেইন থিম হুমায়ূন আহমেদের "অমানুষ" এবং অন্বয় আকিবের "দা মোস্ট ডেঞ্জারাস গেম" এর কাহিনীর অংশবিশেষ!
অমানুষ এর মধ্যে ছিলো রেপ এর দৃশ্য আর ডেঞ্জেরাস গেইমে বিভিন্ন সাইকোপ্যাথ এর কাহিনি, এই বইটাতে দুইরকমই পাওয়া গেছে শুধুমাত্র ভাষাগত অনেক নিম্নতা লক্ষ্যণীয় সেইসাথে বইয়ের নাম এবং কাভার নির্বাচন কুরুচিপূর্ণ
প্রথমেই বলে দেই বইটি হুট করেই পেয়েছি। নাম চটকদার এজন্য নয় নাম আমার কাছে বেশ উদ্ভট লেগেছে। এর আগেও একটি উদ্ভট নামের বই পেয়েছিলাম কি জানি গলা টিপে টিপে মারে এমন।
তো লেখক কেন এই নাম রেখেছেন সেটা জানি না। চেষ্টাও করছি না। তবে এটা বেশ বুঝতে পারছি উনি ক্রেতা আকর্ষণের জন্যই এটা করেছেন।
তবে গল্পটি এডাল্ট হলেও একদম খারাপ নয়। নামটি পরিবর্তন প্রয়োজন।