বিশ্বমনিবের এই ভূমিতে কিছু মানুষ সাময়িক সাফল্য, ক্ষুদ্র সার্থের বিনিময়ে দ্বীনকে বিক্রি করে। অপরপক্ষে কিছু মানুষ নানা বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে দ্বীনের উপর সীসা ঢালা প্রাচীরের ন্যায় অটল অবিচল থাকতে চায়। এতে তাদেরকে ত্যাগ করতে হয় অনেককিছু, এমনকি জীবন পর্যন্তও। তারা হাজার বছর বিড়ালের ন্যায় বেচেঁ থাকার চেয়ে একদিন সিংহের ন্যায় বেচেঁ থাকাকেই শ্রেয় মনে করে। এরকম কিছু গল্প, উপদেশ দিয়ে সাজানো এই বই।
বইটি মূলত শায়েখের মুজাহিদ ভাইদের প্রতি কিছু নসিহাহ। সম্ভবত এটা শায়েখের এক বা একাধিক দারস থেকে নেয়া। বইটিতে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে নাসিহাহ দেয়া হয়েছে যা মুজাহিদিনদের বেলায় যেভাবে প্রযোজ্য আমাদের বেলায়ও একই ভাবে বা আরো বেশি প্রযোজ্য।
বইয়ে যেসকল বিষয় আলোচনা হয়েছে সেগুলো এরকম- খোদপছন্দি, গীবত ও চোগলখোরি, আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী, আল্লাহর রাস্তায় দৃঢ় থাকা, উপমহাদেশের মুসলিমদের জিহাদের প্রতি আহবান বিশেষ করে ভারতের মুসলিমদের।
খোদপসন্দি অধ্যায়ে মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু, নফসের স্বরুপ ও তার চক্রান্ত নিয়ে অসাধারণ একটি আলোচনা করা হয়েছে। কিভাবে তা একজনকে নিজের সম্পর্কে অহংকারী করে তুলে এমনকি তা এমন পর্যায়ে চলে যায় যে সে একসময় নিজেকে সবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও অন্য সকল মুসলিম ভাইদের তুচ্ছ মনে করতে থাকে। শাইখ এই ব্যাধি থেকে উত্তরণেরও উপায় বলে দিয়েছেন। কিভাবে নিজেকে ওপর মুসলিম ভাইয়ের চেয়ে উত্তম মনে না করা ইত্যাদি।
গীবত ও চোগলখোরির অধ্যায়ে দুনিয়া ও আখিরাতে এই রোগের ভয়াবহ পরিনতি নিয়ে অলোচনা করা হয়েছে। সবচেয়ে ভালো লেগেছে যেভাবে শায়েখ আদর্শ মুসলিম সমাজের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। যেখানে কেউ ইচ্ছা করলেও এসব গুনাহের কাজ করতে পারবে না। কিভাবে আল্লাহর নবীর দেখানো পথে এই রোগের জড় সমাজ থেকে মূলোৎপাটন করা যায়।
বাকি তিনটি অধ্যায় একই সূত্রে ঘাতা। মুজাহিদদের ও হ্বক পথের দায়িদের আল্লাহর রাস্তায় দৃঢ় থাকার জন্য উৎসাহ দেয়া হয়েছে। যতোই বিপদ মসিবত ও কষ্ট আসুক না কেন আল্লাহর রাস্তায় জমে থাকার জন্য বলা হয়েছে। কিভাবে আগেকার নবী-রাসুলগণ ও তাদের অনুসারীগণ বিভিন্ন ভয়াবহ পরিনতির শিকার হয়েছেন কিন্তু তার পরও আদর্শ থেকে এক সুতাও সরে যাননি।
জান-মাল সবকিছু খুইয়েছেন কিন্তু নিজের ইমানকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে ছিলেন। আর এভাবেই এসেছিলো আল্লাহর সাহায্য ও আসন্ন বিজয়। আর আমরাও যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চাই আমাদেরও আল্লাহর রাস্তায় এগিয়ে যেতে হবে দৃঢ়পদ থাকতে হবে। জান গেলে চলে যাক সে তা যাওয়ারই, ইমান যেন না যায়।
এতো সুন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ একটি বই সম্পর্কে নেতিবাচক কিছু বলতেও খারাপ লাগছে। কিন্তু তারপরেও বলতে হয় অনুবাদের মান হতাশাজনক ছিল। বাক্যগঠনও অনেক জায়গায় বেখাপ্পা মনে হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় আরবির বাংলা অনুবাদ দেয়া হয়নি যা আমার মতো আরবি না-জানা ব্যক্তির জন্য দুঃখ জনক। সবশেষে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দিন সুন্দর একটি বই উপহার দেয়ার জন্য। আমীন। সব প্রশংসা বিশ্ব জাহানের মালিক আল্লাহর।