দীনেন্দ্রকুমার রায়ের অনুবাদে "রহস্য লহরী" সিরিজ অথবা "ডিটেকটিভ রবার্ট ব্লেক" সিরিজ আমার বড় পছন্দের। বিদেশে নানা লেখকের হাতে লিখিত সেক্সটন ব্লেকের যেসকল পাল্প-ফিকশন জ্যঁরভুক্ত রহস্য কাহিনি সে দেশে বাজারে বিকোতো, তা বঙ্গে দীনেন্দ্রকুমার রায় আমদানি করেছিলেন এই রহস্য লহরী সিরিজে। গোয়েন্দার নাম বদলে রবার্ট কেন দেন জানা নেই। হয়তো সেক্সটনের শুরুতে সেক্স থাকায় তা তৎকালীন রক্ষণশীল বাবু সমাজে গ্রাহ্য হতো না সেই ভয়ে।
এই সিরিজের প্রায় দুই শতাধিক গোয়েন্দা কাহিনিগুলিতে রহস্য বলতে তেমন কিছু না থাকলেও, আছে থ্রিলিং চেজিং সিকুয়েন্স, হিরো ও ভিলেনের বুদ্ধির লড়াই, আর টানটান গতিময় লেখনী। ব্লেকের অনেক সুপারভিলেন গোছের শত্রু আছে - পল সাইনস, ড. সাটিরা, গিডন প্রিস ইত্যাদি। তারাই কাহিনির গোড়ায় উৎপাত শুরু করে, তাদের ধরতে ধরতেই কাহিনি শেষের দিকে গড়ায়। এই ধরছে এই পালালো, এই পালালো এই ধরছে - এমন ধারাতেই বেশীরভাগ কাহিনি রচিত।
হট্টমন্দিরে দস্যুলীলাও তার ব্যতিক্রম নয়। কসমোপলিটান হোটেলে দস্যু প্রিসের বিরুদ্ধে এবারের অভিযান। "মরা মানুষ জাল", "জর্মনীর ষড়যন্ত্র", "সাদা ঠগী" ইত্যাদি বইগুলির (এই সমস্ত বইগুলি আজও বসুমতী প্রকাশনীর কাছে পুরোনো প্রিন্টে ৬টাকা, ২০টাকা ইত্যাদি দামে এভেলেবল) তুলনায় "হট্টমন্দিরে দস্যুলীলা" একটু কম থ্রিলিং মনে হলেও মন্দ বলা চলে না।
পাল্প ফিকশন পড়তে ভালো লাগলে অবশ্যই পড়ুন। কিন্তু বিশাল বিরাট সফিস্টিকেটেড বিদেশী গোয়েন্দা সাহিত্যের বিচক্ষণ পাঠক যদি আপনি হন তবে আপনার এলিট রুচিতে এসব বাধোবাধো ঠেকবে তা বলাই বাহুল্য।