BARO BHOOT BHAYANKAR A Collection of Bengali Ghost Stories For Juveniles by DEBAL DEBBARMA
প্রচ্ছদ ও অলংকরণ – রঞ্জন দত্ত
ভূতের গল্প বা ভৌতিক কাহিনি শুধু শিশু কিংবা কিশোর নয়, বয়স্কদেরও সমান আকর্ষণ করে। যেমন বাঁকুড়ার লাশঘরের পাশে ডাঁই করে রাখা খালি পিপে কারা যেন রাত্রে ঢালু পথে গড়িয়ে নিয়ে চলে আবার চড়াই ভেঙে ওপরে আনে। লাশঘরের ভিতর থেকে দুটো কুচকুচে কালো মূর্তিকে কেউ-কেউ বেরিয়ে আসতেও দেখেছে। আবার মামলা সেরে ফেরার পথে রাত্তিরে কোচড়ির শ্মশানে এলে পঞ্চাশটি রসগোল্লার এক হাঁড়ি মিষ্টি কারা যেন বাহককে ঠেলে ফেলে দিতে চায়। শেষপর্যন্ত সেই হাঁড়ির কি হল তারই গা-ছমছম করা কাহিনি। আর গভীর রাত্রে ফালাকাটা বাংলোয় কে এসে চা দিল? বাংলোতে চিনি ছিল না। তবু চায়ে মিষ্টি? আর সেই ছেলেটা ? যে নাকি হাতল ফস্কে ট্রেন থেকে পড়ে গিয়েছিল নদীতে। অনেকেই তাকে দেখেছে নির্জন ট্রেনের কামরায়। সমবয়সি ছেলেদের পেলেই বালুকাময় নদীগর্ভে দাঁড়িয়ে কাছে ডাকে। আর চশমা? গিরিজাশঙ্কর ফের দেখা দিতে পারেন ভেবে যিনি নাকি ফার্স্ট ক্লাসের টিকিট থাকতেও জনতা কম্পার্টমেন্টে আশ্রয় নেন। বারোটি এমনই গা-ছমছম করা গল্পের সংকলন। দিনের আলোয় পড়া ভৌতিক কাহিনি। রাত্রে মনে হলেই খুব ভয় করবে।
সূচি –
সেই ছেলেটা চশমা নীলমাধববাবু দেখা দেন ভরত মাহাতো খেঁকশিয়ালের লেজ ভাড়া বাড়ি রাইচরণ কি এসেছিল? কোচডির মহাশ্মশান এবং মিষ্টির হাঁড়ি আধিভৌতিক ফালাকাটা বাংলোর রাত্রি লাশঘর বগলাপিসি এবং সত্যি ভূত
ছোটোবেলায়, মানে আজ থেকে প্রায় সাড়ে তিন দশক আগে আনন্দমেলা আর শুকতারা পত্রিকায় এই গল্পগুলো পড়েছিলাম। তখন পৃথিবী অনেক বেশি গাছপালা, ফাঁকা জায়গা, লোডশেডিং আর অতিপ্রাকৃত ভয়ে ভরা ছিল। গল্পগুলো পড়ে বেশ গা-ছমছম করত। গল্পগুলো হল: ১) সেই ছেলেটা ২) চশমা ৩) নীলমাধববাবু দেখা দেন ৪) ভরত মাহাতো ৫) খেঁকশিয়ালের লেজ ৬) ভাড়া বাড়ি ৭) রাইচরণ কি এসেছিল? ৮) কোচডির মহাশ্মশান এবং মিষ্টির হাঁড়ি ৯) আধিভৌতিক ১০) ফালাকাটা বাংলোর রাত্রি ১১) লাশঘর ১২) বগলাপিসি এবং সত্যি ভূত আজ পড়তে গিয়ে বুঝলাম, গল্পগুলো এখনকার শিশুরা পড়তে পারবে না, কারণ আজাইরা প্যাচাল, এবং শেষে অতি মোলায়েম একটি ঠান্ডা ছোঁয়া ছাড়া গল্পগুলোয় কিচ্ছু নেই। তবে হ্যাঁ, রঞ্জন দত্তের অলংকরণ বইটিকে সুদৃশ্য করেছে। ধ্বংস করার মতো শ'খানেক টাকা থাকলে বইটা কিনুন। নইলে এটা কেনার কোনো কারণ নেই, অন্তত আমার মতে।