নিশুতি থ্রিলার সংকলন আদি প্রকাশনী ১. মডেল নাম্বার ১০১:- সাগরিকা রায়ের লেখা। কিছুটা সায়েন্টিফিক এক্সপেরিয়েন্স কিছু হরর আর কিছু সিরিয়াল কিলিংয়ের কম্বিনেশন।
২. রেড হেডেড স্টেপ চাইল্ড/ অনু: আরফানুল ইসলাম। দুজন সৎ মেয়ের কাহিনী। মজার একটা থ্রিলার বলা যায়। টুইস্ট আছে।
৩. টেলিভিশন/রাসায়েত রহমান জিকো। একটা অদ্ভুত পুরানো টেলিভিশন এর আজব কিছু কীর্তি নিয়ে এই গল্প। দারুন প্লট। শেষটা হতাশ করছে একটু(যদিও ছোট গল্প "শেষ হইয়াও হইলো না শেষ"☺️)
৪.নজ্যুমি কিতাব/মুহাম্মদ আলমগীর তৈমুর। বইয়ের অন্যতম সেরা গল্প বলা যেতে পারে। একটা প্রাচীন রহস্যময় বই নিয়েই এ গল্প।
৫. ফাঁদ/ তৌফির হাসান:- এক মধ্যবিত্ত মানুষের চিরাচরিত সামাজিক সমস্যা নিয়ে থ্রিলার। সুন্দর একটা গল্প।
৬. বেঈমানি/ আনিসুল হক শোভন: গল্পের শুরু থেকে শেষ পুরাটাই বেঈমানি দিয়ে ভরা। এ গল্পের কাউকে বিশ্বাস নাই।
৭. দূত/আহনাফ তাহমিদ:- ফ্যান্টাসি ঘরনার গল্প। সামান্য দীর্ঘ। অলৌকিকতা, কল্পনা,অশুভ শক্তি, গুপ্ত সংঘ, সংখ্যা তত্ত্ব ইত্যাদিতে ভরপুর। সুখপাঠ্য।
৮. একটি গল্প.. এবং/ মো নাফিম উল আবির:- একজন সাইকোলজিকাল পেশেন্ট এর গল্প। তার সমস্যাগুলা এ গল্পে উঠে এসেছে। মোটামোটি মানের ছিল।
৯.দ্বৈত স্পন্দন/সজল চৌধুরী:- সুন্দর একটা গল্প। এক লোকের বুকের ডান এবং বাম দুপাশেই হৃৎপিন্ড। ডাক্তারের কাছে এসেছিল এ সমস্যার সমাধানে। এরপর ডাক্তারটাই সমস্যায় জড়িয়ে যায়। ভালো লেগেছে গল্পটা।
১০. চক্ষু/ফুয়াদ আল ফিদাহ:- একটা এপার্টমেন্টে পুলিশের একটা দুর্ধর্ষ খুনিকে খোঁজার মধ্যে দিয়ে গল্প শুরু হয়। গল্পের শেষে একটা চমকদার টুইস্ট আছে। বাকিটা পড়ে নিবেন। ভালো লাগবে।
১১. বাজি/সাজিদ রহমান:- দুই বন্ধুর মধ্যে একটা ব্যাপারে দু কোটি টাকার বাজি সম্পন্ন হয়। বাজি থেকে দুজন বন্ধুই কিছু শিক্ষা পায়। সুন্দর একটা ছোট গল্প।
১২. চুরি/নাসির খান:- সাইকোলজিকাল থ্রিলার টাইপ গল্প। একটা অলৌকিক রূপার ছুরি দিয়ে কিছু খুনের গল্প। মোটামোটি ছিল।
১৩. আঁধারের মায়া/ আবুল ফাতাহ:- প্রেমের গল্প। ভালোবাসার গল্প। এক ব্যক্তি কিভাবে তার স্ত্রীর সাইকোলজিকাল সমস্যা থেকে বের হয়ে আসে সেটাই গল্পের থিম। ভালো লেগেছে।
১৪. দ্য শটেস্ট হরর স্টোরি এভার রিটেন/ এন্থনী হরউইর্টজ, অনু: সেঁজুতি রোশনাই:- ধাধমূলক গল্প। একেবারেই ছোট তবে বুদ্ধিদীপ্ত।
১৫. জাস্ট ফলোয়িং অর্ডারস/ জর্জ স্নাইডার।অনু. আশিকুর রহমান:- এক ভাড়াটে খুনির তার বসের অর্ডার অনুযায়ী খুন করে যে পরিণীতি ঘটে তার গল্প। একটু স্লো ছিল।
১৬. মৃত্যুর ছায়া/ আদনান আহমেদ রিজন: বিখ্যাত অনুবাদক রিজন সাহেবের প্রথম মৌলিক। ছোট গল্প। কিন্তু ভালো লেগেছে। এক বাচ্চার মৃত্যুর ভবিষ্যতবাণী করা নিয়ে লেখা কাহিনী
১৭.সত্তা/ ফেরদৌস আহমেদ:- পিশাচ কাহিনী। জাদু স্পেল, পিশাচ, জাদুকর এবং এক মায়ের ভালোবাসার গল্প। খারাপ না।
১৮.অঙ্কুর/ সৈয়দ অনির্বাণ: শুভ অকাল্ট বোদ্ধা আর অশুভ অকাল্ট বোদ্ধার লড়াই নিয়ে লেখা গল্পটা। বইয়ের অন্যতম সেরা গল্প বলা যেতে পারে। গল্পে উঠে এসেছে এক চরিত্রহীন পিশাচ সাধক, চরিত্রহীন নারী , কিছু অকাল্ট বোদ্ধা আর নিরীহ এক ব্যাক্তি।
১৯. সংক্ষোভ/ওয়াসি আহমেদ:- চাইল্ড সাইকোলজি নিয়ে লেখা গল্প। ভালো লেগেছে। কিছুটা আনকম্ফোর্টেবলে ফিল করছিলাম। লেখক কিছুটা নিষ্ঠুরতা দেখিয়েছেন।
২০. দ্য কিডন্যাপড প্রাইম মিনিস্টার/ আগাথা ক্রিস্টি/ শুভঙ্কর শুভ:- আগাথা ক্রিস্টির গল্প নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নাই। ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অপহরণ হন আর এ কেইস সমাধান করেন এরকুল পোয়ারো। বুদ্ধিদীপ্ত।
২১.মূর্তি/ইমতিয়াজ:- এক মূর্তি নির্মাতার সাক্ষাৎকার নিতে এসে নিখোঁজ হয়ে যায় এক জার্মান সাংবাদিক। এই রহস্য নিয়েই গল্পটা লিখা। ছোট তবে ইন্টারেস্টিং।
বইয়ের প্রথম গল্পটাই এমন মাথামুণ্ডহীন জড়ানো টাইপের যে সংকলনের ওপর থেকে ভক্তি উঠে গেছিল। তবে ধৈর্য ধরে লেগে থেকে বেশ ভালো বিনোদন পাওয়া গেল বইটা থেকে। বইয়ের সেরা লেখা তৈমূর সাহেবের 'নজ্জুমি কিতাব'। এছাড়া ভালো লাগল~ ১. ফাঁদ: তৌফিক হাসান উর রাকিব ২. দ্বৈত স্পন্দন: সজল চৌধুরী ৩. চক্ষু: মোহাম্মদ ফুয়াদ আল ফিদাহ ৪. বাজি: সাজিদ রহমান ৫. আঁধার মায়া: আবুল ফাতাহ মুন্না ৬. মৃত্যুর ছায়া: আদনান আহমেদ রিজন ৭. অঙ্কুর: সৈয়দ অনির্বাণ এই লেখাগুলো প্লটের অভিনবত্বের বদলে গল্প বলার কৌশলে মনোনিবেশ করায় অভিজ্ঞতাটা আরও আনন্দদায়ক হয়েছে। পরবর্তীকালে লেখকদের একক গল্প-সংকলন পড়তে অত্যন্ত আগ্রহী হয়ে রইলাম।
দূত গল্পটা বেশ ভালো লেগেছে। তারপর অঙ্কুর। এরমধ্যে দূতের কনসেপ্টটা সুন্দর। অঙ্কুরের কনসেপ্ট পরিচিত। লেখার ধাঁচের জন্য এই ভালো লাগা। চক্ষু গল্পটার ক্ষেত্রেও একই কথা-পরিচিত কনসেপ্ট, তবে ধাঁচটা সুন্দর। প্রায় একই ধাঁচের আরেকটি গল্প মূর্তি।
ছুরি গল্পটা বর্ণনাভঙ্গির জন্য স্বাদু লেগেছে। ফাঁদ উপভোগ করার মতো। বাজি গল্পটা বইয়ের কনটেক্সটের সাথে যায় না। তবে গল্পটার ভাষ্য (অনেকে বলেন, মেসেজ) সুন্দর।
নজ্জুমি কিতাব যেন গড়ে উঠতে গিয়েও উঠল না। আশা বেশি ছিল, সেটাও কারণ হতে পারে।
সবচেয়ে সুন্দর এবং ছোট্ট গল্পটা হচ্ছে, দ্য শর্টেস্ট হরর স্টোরি এভার রিটেন। এমেইজিং। রূপান্তর, ফার্স্ট ক্লাস!
অন্যান্য গল্পগুলো মোটামুটি, মন্দ না, তবে আলাদা করে বলার মতো লাগেনি। সব মিলিয়ে এই হচ্ছে নিশুতি-খানিকটা আঁধার, খানিকটা রোমাঞ্চের মিশেল।
কুফরি কালামের বই নিয়ে লেখা মুহম্মদ আলমগীর তৈমুরের 'নিজ্জুমি কিতাব' বইয়ের সেরা গল্প। সজল চৌধুরীর 'দ্বৈত স্পন্দন' আর সৈয়দ অনির্বাণের 'অঙ্কুর' গল্প দুইটা চমৎকার। বাকি গল্পগুলো গড়পড়তা।
এই বইটা অনেক আগ্রহ নিয়ে কিনসিলাম। কিন্তু পড়ার পর হতাশ হলাম। বিশেষত আলমগির তৈমুর সারের গল্প পড়ে পুরো বিরক্ত হলাম। এই প্রথম উনার কোন গল্প পড়ে এত বাজে লাগলো ।