বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। আলহামদুলিল্লাহ, ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু 'আলা সায়্যিদিনা মুহাম্মাদ। ওয়া 'আলা আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম। সমস্ত প্রশংসা শুধুমাত্র আল্লাহ 'আযযা ওয়া জালের যিনি তাঁর বান্দাদের পথ দেখান। যিনি তাঁর ভুলে ডুবে থাকা বান্দাদের কখনোই ভুলে যান না, যদিও তাঁর বান্দারা তাঁকে আশ্চর্য দ্রুততায় ভুলে যায়। আল্লাহ তাঁর বান্দাকে শুধু মনেই রাখেন না, তাকে পরম ভালোবাসায় লালন পালন করেন। কিছুদিন নয়, সারাজীবন। টেনে তুলতে চান বান্দাকে ভুলের ঘূর্ণিপাক থেকে। কেউ কেউ ফিরে আসে তাঁর রাব্বের পথে। বুঝতে পারে তার উপর বর্ষিত হওয়া অজস্র নি'আমাত, চোখ ভিজে আসে তার। "উল্টো নির্ণয়" বইটি এমনই এক আল্লাহর বান্দার কিছু লেখনীর সংকলন। যে লেখাগুলোর প্রতিটি শব্দ মহান আল্লাহর প্রতি বান্দার কৃতজ্ঞতা, তাঁর প্রতি আনুগত্য ও সত্যান্বেষী মনোভাবের সাক্ষ্য বহন করছে।
উল্টো নির্নয়। সুন্দর ক্যাচি একটা নাম। সরাসরি যুক্তি দিয়ে না বুঝিয়ে উল্টো দিক দিয়ে যুক্তি দেওয়ার কারনেই হয়ত নাম এমন। অন্যান্য ইসলামী যুক্তিবিদ্যার বই এর মতন সরাসরি নাস্তিকতার বিরুদ্ধে এখানে তেমন ভাবে না বলা হলেও এই বই এর লেখায় ফুটে উঠেছে কেন আমাদের আল্লাহর রাস্তায় থাকা উচিত আর আমরা কিভাবেই তার নিয়ামত গ্রহন করে যাচ্ছি। ছোট ছোট অনেক গুলো পরিচ্ছেদ নিয়ে বইটি। প্রতিটি চ্যাপ্টারই স্বতন্ত্র। পরিশেষে, অনেক সুখপাঠ্য একটি বই।
অবশ্যপাঠ্য একটি যুগপোযোগী বই। বইটি মূলত লেখকের (তোহায়া আকবর ভাইয়ের) আমাকে/আপনাকে নিয়ে তার কিছু অভিজ্ঞতা ও অনূভূতির সমষ্টি বলা যেতে পারে কিন্তু প্রতিটি চ্যাপ্টারে রয়েছে শিক্ষনীয় অনেক কিছু যারা সত্যিই শিখতে চায়। পড়ার অনুরোধ থাকলো অন্তত একবার হলেও.....
বইটা পড়া হইছে অনেক দিন আগে।হঠাৎ আজকে বইটার কথা মনে হলো,তাই একটু সাহস করে রিভিউ লিখে ফললাম। বীজগণিতের অংক করার সময়, বেশির ভাগ অংক বাম পক্ষ করলেই ডান পক্ষ মিলে যেত । তবে মাঝে মাঝে দুই একটা অংক কিন্তু উল্টো ডান পক্ষ থেকে শুরু করতে হয়। ঠিক তেমনি মোহাম্মদ তোয়াহা আকবর ভাই " উল্টো নির্ণয় " বইয়ের যুক্তি গুলা একটু উল্টা থেকে মিলিয়েছেন। তার প্রতিটা যুক্তি অত্যন্ত মনমুগ্ধকর। বইটা পড়া শুরু করেছিলাম অনেক আগ্রহ নিয়ে এবং শেষ টা হয়ে ছিল চোখের পানি দিয়ে। তাছাড়াও ভাইয়ের ফেসবুকের লেখা গুলা আমার মনে সবসময়ই দাগ কাটত। বইটা আমার মনে হয় সবারই পড়া উচিত। মহান আল্লাহ ভাইকে এই ভাবে লেখে যাওয়ার তৌফিক দান করুন।
গল্পটা জীবনের। অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরা, মরতে মরতে বেঁচে যাওয়া, হারতে হারতে জিতে যাওয়া, এক সার্থক জীবনের। পথভোলা এক শ্রান্ত পথিকের নীড়ে ফেরা অভিযানের প্রতিটি ক্ষণ, প্রতিটি মুহূর্তের আগাগোড়া নির্ণয়নের। সেই গল্পে কোন কপটতা নেই। শঠে শঠাৎ কৃত্রিমতা নেই। নেই কোন অসততা কিংবা ছলচাতুরী কল্পকথাও। বরং সেটা সত্যের। শুধুই সত্যের। এবং সত্যের...
বইয়ের নাম— উল্টো নির্ণয়। লেখক— মোহাম্মদ তোয়াহা আকবর শার’ঈ সম্পাদনা— শায়খ আল্লামা নাছিরুদ্দিন (খাকী)। সম্পাদনা— ওমর আল জাবির, শরীফ আবু হায়াত অপু। প্রকাশনী— পরিপূরক প্রকাশন। পৃষ্টাসংখ্যা— ২৪০। মুদ্রিত মূল্য— ৩০০৳
সময়টা চলছে ভ্রান্তির। ধোঁকার। ভ্রমের। চোখদুটো খুলে আপনি যেদিকেই তাকাবেন বিভ্রান্ত ছাড়া আর কিছু হবেন না। আপনার মাথাটাকে আউলে দেবার জন্য আমাদের সমাজটাই যথেষ্ট। একজন নিজেকে মুসলিম দাবি করছে। কিন্তু তার চলনে বলনে ইসলাম নেই। ইসলাম যে আসলে কী, কোথায়, কখন- এই সম্পর্কে তার ধারণাও নেই। কিন্তু তার কাছে এটাই সত্য। এটাই ঠিক। আরেকজন এদিক দিয়ে পুরো এক কাঠি সরেস! তিনি ইসলাম মানবেন দূরে থাক, সৃষ্টিকর্তা একজন আছেন এটাই মানেন না। নিজেকে পরিচয় দেন এথেইস্ট, এগনোস্টিক হ্যানত্যান ইত্যাদি নামে। ধর্মের নামে কুসংস্কার তার কাছে থোড়াই কেয়ার! শুধু এতটুকুই না, ধর্ম বিশেষত ইসলামকে গালি দেয়ার বেলায়ও তিনি সিদ্ধহস্ত। অথচ যাকে সর্বদা গালি দিচ্ছেন, অবহেলা করছেন, তার সম্পর্কে যে তিনি জ্ঞান রাখেন শূন্যের কোঠায়, এটাও তার খেয়ালে নেই। কিন্তু এখানেও এটাই তার কাছে সত্য। এটাই প্রকৃত বাস্তবতা। এই যখন অবস্থা, তখন আসল সত্যকে নিরূপণ করবে কে? প্রত্যেকেই তো নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত, সত্যকে নির্ণয়নের সময় কোথায়? বলতে পারেন, সত্যকে নির্ণয়নেরই বা এতো কী দরকার? এটা ছাড়াই কি চলছে না? এটা ছাড়াই কি আমরা চলাফেরা করছি না দিব্যি?! তবে যাই বলেন, যতকিছুই করেন, সত্যকে কিন্তু বেছে নিতেই হবে। নইলে যে দুনিয়ার পর আরেকটা দুনিয়া অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য, সেখানে নিশ্চিত ধরা! ‘উল্টো নির্ণয়’ বইটি মূলত আপনাকে এই উপলব্ধিটাই জাগিয়ে তুলবে। উপরের প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়ার পাশাপাশি আরও দেখাবে বর্তমান এঅবস্থায়ও কীভাবে পুরো উল্টো করে সত্যকে নির্ণয় করা যায়। বর্তমান যুগে যখন সকলেই আমরা নিজেদেরকে সত্য সত্য বলে গলা ফাটাচ্ছি, ‘উল্টো নির্ণয়’ তখন আপনাকে চিনাবে- সত্য আসলে কোনটা। বোঝাবে- সত্য সত্যই, সে কারও মুখাপেক্ষী নয়। দেখাবে সত্য চিরদিনই সত্য, এর কোন ব্যত্যয় নেই। আপনি আমি যতই তাকে পাশ কাটিয়ে যাই, যতই তাকে অপছন্দ করি, কিন্তু ‘উল্টো নির্ণয়’ আপনাকে প্রমাণ করে দেখাবে সত্য সবসময়ই পরম। এর কোন ব্যতিক্রম হয় না...
‘উল্টো নির্ণয়’- লেখক বইটা শুরু করেছেন নিজের জীবনের গল্প দিয়ে। অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরার গল্প। এরপর ক্রমান্বয়ে বলে গেছেন ঈমানের গল্প, কুরআনের গল্প, ভালোবাসার গল্প, নিজের নানা উপলব্ধির গল্প। রচনাগুলোতে যেমনি আছে আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ, তাঁর বড়ত্বের প্রমান, তাঁর নিপুণ কারিগরির প্রমাণ। তেমনি আমরা আল্লাহর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে কীভাবে তিলেতিলে ধ্বংস হচ্ছি তাঁর প্রমাণ, আমাদের ভণ্ডামির প্রমাণ, প্রত্যেক নির্ণয়নের বাস্তবিক প্রমাণ। তবে বইয়ের ব্যতিক্রমী দিকগুলোর কথা যদি বলতে হয়, বলবো- অন্তর থেকে আসা কথা নাকি স্থান নেয় অন্তরেই। এ কথাটির যথার্থতাও বইয়ের পাতায় পাতায়, শব্দে শব্দে। বইটির কিছু কিছু জায়গায় এমন ধাক্কা খেতে হয়েছে, ঈমান আগের চেয়ে বেড়েছে কিনা জানি না, তবে তার রেশ রয়ে যাবে বহুদিন। রচনাগুলো যখন পড়ছি, উৎসর্গ পাতার সেই শব্দটিই শুধু মনে হয়েছে- ‘আপনাকে’। মানে আমাকে! যেন আমাকেই বলা হচ্ছে। বইয়ের প্রতিটি কথা যেন আমার জন্যই লেখা হয়েছে। শুধু আমার জন্য। রচনাগুলোর শিরোনামগুলোও বড়ো অদ্ভুত। দেখলেই পড়তে ইচ্ছে করে এমন। এছাড়া বইটির বর্ণনাতেও রয়েছে বৈচিত্র্য। পড়ার সময় মোটেও মনে হয় নি, কোন বই পড়ছি। সামনে বসে যেন কোন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি পরম স্নেহে, আদরে আমায় বোঝাচ্ছেন। একটা কঠিন বিষয় খুব সুন্দর করে সহজ ভাষায় যেন বর্ণনা করছেন। মাঝে মাঝে প্রয়োজনে এমন এমন উদাহরণ টানছেন, আমি হেসে ফেলছি। তার বুদ্ধিচাতুর্যে মুগ্ধ হয়ে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি তাঁর দিকে!
যাহোক, এভাবে বলতে থাকলে শেষ হবে না। শুধু শুধু দীর্ঘ হবে রচনা। সাথে এটাও ঠিক যে, আপনি না পড়লে বুঝবেনও যে বইটা আসলে কতটা অসাধারণ। মিষ্টির স্বাদ নিশ্চয় মুখের কথায় বোঝা যায় না! তবে হ্যাঁ! মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। একমাত্র আল্লাহরই সব কাজ নিখুঁত। আর মানুষ মাত্রই ভুল হবে, খুঁত থাকবে এটাই স্বাভাবিক। বইটির যদি কোন দুর্বল দিক থেকে থাকে, সেটা হচ্ছে বানান। বানান ভুলের ব্যাপারটা একটু বেখাপ্পা ঠেকেছে আমার কাছে। তবে ক্লাসরুমে টিচার মশাইয়ের গায়ের ময়লা জামাটায় যেমন তার যোগ্যতা, গুরুত্ব কিংবা গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে না, তেমনি এখানেও নিশ্চয় বানান ভুলের ব্যাপারটা কারও পঠনে সমস্যা করবে না। কেননা এটা কোন সাহিত্য গ্রন্থ না।
পরিশেষে লেখক তোয়াহা আকবরের জন্য দোয়া। আল্লাহ যেন তার এ কাজকে কবুল করে নেন। আ-মি-ন..........
This is one of the books which I recommended to my roommate with each chapter ending. Not that I do that very often. This book is kind of a self help book. That will make your brain play. Or it'll force to play, if I'm honest. It shows how subconsciously we're living with our perspectives full of errors. How we are denying the truth that lies in front of our eyes.
For example, we are at the age of time where we try to prove Islam on the basis of science. But who doesn't know that those scientific theories, hypothesis keep changing with each nanosecond? Again, famous writers and authors get credits for writing a few things in Palindromes. But uneducated, illiterate Prophet Muhammad (PBUH) recited Quran with amazing Palindromes 1400 years ago. And it was so incomparable that people then couldn't believe it can be written by a human. Of course, it wasn't. It's the direct orders from the Creator Himself that still lies unchanged. This book is a challenge. A challenge for you to accept the truth. A challenge that'll grow you. Are you ready to accept that challenge now?
সত্য সহজাত। সত্য উজ্জ্বল। সত্য সুন্দর। তাও মানুষ সত্য চিনতে ভুল করে। সত্যের পথ ভুলে যায়। সত্য গ্রহণে দেখায় অসীম অনীহা। সত্য নির্ণয়ে ভুল করে সে হারিয়ে যায় মিথ্যার ঘনকালো দুনিয়ায়। তখন প্রয়োজন হয়ে পড়ে সত্যকে নির্ণয় করার। আর সেটা এমনভাবে যাতে করে সত্যটা মানুষের চিন্তারজগতে ধাক্কা দেয়, তাকে জাগিয়ে তোলে অজ্ঞানতার ঘুম থেকে। 'উল্টো নির্ণয়" বইটি এই ভুলে যাওয়া সত্যটাকেই নির্ণয় করার একটি প্রয়াস, যেখানে লেখক সত্যকে নির্ণয় করতে চেয়েছেন উল্টো করে। চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চেয়েছেন সত্যের অবস্থান, সেই সাথে আমাদের বর্তমান অবস্থা। এই বই কিসের বই? এটা এক পথহারা বান্দার আল্লাহর দিকে ফিরে আসার পরের গল্প। আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ এক বান্দার আল্লাহর প্রতি।মুগ্ধতার বিবরণ। মানুষকে আল্লাহর পথে আহবানের আকুতি নিয়ে লেখা কিছু অন্তর নিংড়ানো কথামালা। এইসব কিছু নিয়েই এই বই। বইয়ের শুরুতে শ্রদ্ধেয় তোয়াহা ভাই বলেই দিয়েছেন এটা একাডেমিক কোন বই না। এটা তাঁর অনুভূতির সারনির্যাস দিয়ে লেখা কিছু কথামাত্র। সত্য খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাওয়া তারপর আবার হাঁটতে থাকা, এই নিয়েই বইটি লেখা। মোট উনসত্তরটি শিরোনামে ছোট বড় লেখা দিয়ে সাজানো হয়েছে এই বইটি। একেকটি লেখা একেকটি মাস্টারপিস! তবুও আলাদাভাবে কয়েকটি লেখার কথা বলতে বাধ্যই হচ্ছি একপ্রকার! এগুলোকে বলা যায় "Masterpieces in the Midst Of Masterpieces". এই লেখাগুলো যেকোন পাঠককেই নাড়িয়ে দেবে নিঃসন্দেহে। আলোড়িত করবে পাঠকের মানসজগতকে, প্রচণ্ডভাবে। এই তালিকায় প্রথমেই যে লেখাটির কথা বলা যায় সেটা হচ্ছে এই বইয়ের তৃতীয় লেখা। বলা।যায় বইটির মূল লেখা "উল্টো নির্ণয়"। লেখাটিকে লেখকের জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশের দুর্দান্ত বিবরণ হিসেবেই আখ্যায়িত করতে হয়। বই প্রেমিক, তীব্র কৌতুহলী এবং সত্যান্বেষী এক যুবকের সত্যের খোঁজে এক অবিরাম আর রোমাঞ্চকর অভিযানের গল্প এটি। সত্যকে চিনতে গিয়ে, বুঝতে গিয়ে এক পর্যায়ে আশ্রয় নিয়েছেন নাস্তিকতার কাঁচের ঘরে। কিন্তু বিশ্বাস অবিশ্বাসের ক্রমাগত যুদ্ধে ভেঙে যায় সেই কাঁচের ঘর। বেরিয়ে আসেন নাস্তিকতার পাতকুয়ো থেকে বিশ্বাসের খোলা আকাশে বুক ভরে বাতাস নিতে। এই তো শুরু! শুধু নিজে সত্য চিনেই থেমে যাওয়া নয়, চারপাশের মানুষগুলোকেও সত্য চেনানোর আকুতি থেকে এই লেখাতেই তিনি তুলে ধরেন স্রষ্টা সম্পর্কিত এক অসাধারণ আলোচনা। এরই ধারাবাহিকতায় "সত্যের ব্যাপারে সত্য", "আত্মঘাতী কথাবার্তা", "হিউমের ভুল" এই লেখাগুলো এসেছে। এখানে বিশেষ করে আমি বলতে চাই "হিউমের ভুল" লেখাটিকে নিয়ে। লেখক অসাধারণ বুদ্ধিদীপ্ত স্টাইলে হিউমের কথা দিয়েই হিউমকে ভুল সাব্যস্ত করেছে। এর পর "আমি কে,আমি এখানে কেন" এই লেখাটিতে ফুটে উঠেছে মানুষের আসল পরিচয়ের ব্যাপারে কিছু মুল্যবান কথাবার্তা। নাস্তিকদের কাছে স্রষ্টার অনস্তিত্বের সপক্ষে ডারউইনের বিবর্তনবাদ রীতিমত ঐশী বাণীর মত। "নানান রূপের ইভোলিউশন", "প্রিয় লেজ" এই লেখাগুলোতে ফুটে উঠেছে এই তথাকথিত বিজ্ঞানের অনর্থকতা। "বুদ্ধিমান স্বত্ত্বা" রচনাটি এমন একটি লেখা যেখানে অত্যন্ত সহজিয়া ভংগিতে, সহজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে আল্লাহর অস্তিত্বের কথা। লেখক দেখিয়েছেন অনন্যসাধারণ বুদ্ধিমান এক স্বত্ত্বা বিরাজ করছেন প্রতিটি অসাধারণ জিনিসের সৃষ্টির পেছনে। এই বইয়ের অসাধারণতম কোন লেখার কথা বললে "ইজাজুল কুরআন" লেখাটার কথা অবশ্যই বলতে হবে। কুরআনের একজন আগ্রহী ছাত্র হিসেবে কুরআনের অসাধারণ কিছু ব্যাপার লেখক প্রাঞ্জল ভাষায় উপস্থাপন করেছেন। যেমন,...থাক। সব আমি বললে কি আর হবে নাকি? শুধুমাত্র এই লেখাটি পড়ার জন্যই বইটি একবার পড়া উচিত। কুরআনের বহুমাত্রিক শ্রেষ্ঠত্বের চমকপ্রদ আরো কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে "ঘোষণা কর শ্রেষ্ঠত্বের" আর "সূরা রুমের অলৌকিকত্ব" লেখা দুইটিতে। এই বইয়ের যে লেখাটি আমাকে তীব্রভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে সেটি হল "বার্তাবাহকের মর্যাদা"। লেখাটি শুরুই হয়েছে মহান আল্লাহ 'আযযা ওয়া জালের পক্ষ থেকে আসা এক তীব্র সতর্কবাণী দিয়ে। সূরা আহযাবের ৩৬ নং আয়াতের রেফারেন্স দিয়ে লেখক বারবার আমাদের দেখিয়ে দিয়েছেন কিভাবে আমরা প্রকাশ্য পথভ্রষ্টদের দলের একজন হয়ে যাচ্ছি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে। এই ব্যাপারটা একজন পাঠক হিসেবে আমাকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। আয়াতটা আগে পড়া থাকলেও এভাবে চিন্তায় আসেনি কখনোই। এখানে রাসূলের আনুগত্যের যে গুরুত্ব কত বেশি সেটা স্বার্থকভাবেই ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন লেখক। "আমি ভণ্ড নইতো" লেখাটি যেকোন সচেতন পাঠককে লজ্জায় ফেলে দিবে। "এলার্ম, এলার্ম" লেখাটি সাবধান করিয়ে দেয় আমাদের গন্তব্যের দিকে যাত্রার ব্যাপারে। মনে করিয়ে দেয় অনন্ত যাত্রার কথা। আমরা জেগে জেগে ঘুমাচ্ছি না তো? ওদিকে কিন্তু এলার্ম বাজছে,বেজে চলেছে। আমরা বেহুঁশ। লেখক যেন ধাক্কা দিয়ে আমাদের ঘুম ভাঙাতে চেয়েছেন। আমাদের মত আলসে মানুষদের কাছে পর্বত জয় করার মত এক ব্যাপার হল ফজরের সালাত আদায় করা। "ফজরের সালাত চ্যালেঞ্জ" লেখাটিতে চমৎকার চারটি উপায় বলে দিয়েছেন লেখক। "আপনি ফিরবেন বলে" - যেকোন অনুভূতিসম্পন্ন মানুষকে নাড়া দেবে। পাঠক অন্তর থেকে উপলব্ধি করবেন আপনার প্রতি আল্লাহ সুব'হানাহু ওয়া তা'আলার ভালবাসা। আপনার প্রতি তাঁর অপরিমেয় ভালোবাসাকে অনুভব করতে পারবেন আপনি, যা হয়তো তাঁর দিকে আপনাকে ফিরে আসতে সাহায্য করবে। "সাফল্য" রচনায় উঠে এসেছে সত্যিকারের সাফল্যের কথা। আমাদের তৈরি করা সাফল্যের ভুল তত্ত্বের ব্যবচ্ছেদ করা হয়েছে এই লেখায়। "আমরা কি সেই পথেই হাঁটছি", "হৃদয়ের অবাধ্যতা" লেখাগুলো ভেতর কাঁপিয়ে দেওয়ার মত। "সুন্নাহ" লেখাটি কলেবরে একেবারে ছোট হলেও ভাবের দিকে বিশাল ব্যাপ্তির অধিকারী। "ওহ, এটা তো সুন্নাহ" - বলে বলে যে কত সুন্নাহ আমরা অবলীলায় ছেড়ে দিচ্ছি সেই ভয়া���হ সত্য উঠে এসেছে এই লেখায়। "জীবন্ত মিরাকল" লেখায় উঠে এসেছে সেই বিস্ময়মানবের কথা, যাঁর প্রতি মুগ্ধতার রেণু আজও ছড়ায় বিশ্বের দিকে দিকে। সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এই লেখাটিতে তুলে ধরা হয়েছে তাঁর কাছে আসা সেই মহাগ্রন্থের অলৌকিক ক্ষমতা, মিরাকলের ফিরিস্তি যা আজও রয়েছে একই রকম জীবন্ত। বইয়ের শেষের দিকে এসে এমন একটি লেখা পড়ার সুযোগ পাঠকের হবে যে লেখাটি পাঠককে নতুন করে ভাবাবে, বিশেষ করে সালাতের মাধ্যমে। আমরা যে সালাত আদায় করি, অন্তত অধিকাংশের ক্ষেত্রেই বলা চলে ওটা স্রেফ সালাতের কংকাল মাত্র। এটাই অনেকে ঠিকঠাক মত করতে পারেন না। এই সালাত কি সেই সালাত যে সালাতের ব্যাপারে আল্লাহ 'আযযা ওয়া জাল কুরআনুল কারীমে অসংখ্য বার বলেছেন? "স্পিরিট আর রিচুয়াল" লেখাটিতে এই ব্যাপারটি নিয়েই করা হয়েছে প্রাঞ্জল এক আলোচনা। এটা যেকোন মুমিনের জন্যই অত্যন্ত জরুরি এক আলোচনা। "টর্চার" লেখাটি এই সময়ের প্রতিচ্ছবি। ইসলামের মহান চার ইমামের উপর চালানো অকথ্য নির্যাতন যেন আমাদেরকে এই সত্যেরই মুখোমুখি করিয়ে দেয় যে সত্যপথযাত্রীদের চলার পথ বন্ধুর হয়। আর এটাই প্রমাণ করে যে আমি বা আপনি সত্য পথে আছি। এ যুগে ইসলাম আঁকড়ে ধরা মানেই যে গুরাবা! "পরীক্ষা আর পরীক্ষা" লেখায় ফুটে উঠেছে এক নিদারুণ বাস্তবতা। সদ্য দ্বীনের পথে আসা কেউ যখন বিভিন্নমুখী বিপদ আপদের সম্মুখীন হয়, তখন অনেকেই বেসামাল হয়ে অভিযোগ করে বসে কেন তার সাথেই এরকম হচ্ছে। লেখক শক্তভাবে এই কথার জবাবে মনে করিয়ে দিয়েছেন বান্দার প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে অপার অজস্র নি'আমাতের কথা। পরামর্শ দিয়েছেন ধৈর্যের, অবিচলতার। "রিজিক্বের ভয়" লেখায় উঠে এসেছে রিজিক্ব নিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা আর ইসলামের দৃষ্টিভংগি। এই বইয়ের অসাধারণ লেখার তালিকায় যে বইটি নিশ্চিতভাবেই থাকবে সেটি হল "হাল ছাড়বে?"। লেখক তার নিজের ছাত্রজীবনের গল্প করেছেন পাঠকের সাথে। দেখিয়েছেন কিভাবে শেষ হাসিটা তিনিই হেসেছিলেন। আজকের এই আত্মহনন প্রবণতার যুগে নিঃসন্দেহে অত্যন্ত সময়োপযোগী লেখা যেখানে কমবয়সী ছেলে মেয়েরা সামান্য রেজাল্ট খারাপের কারণেই আত্মহত্যা করে বসে। বইয়ের শেষ পৃষ্ঠায় ছোট্ট একটি লেখা - "মশাল নিয়ে শেষকথা"। পুরো বই জুড়ে যে আলোর কথা বারবার করে বলেছেন লেখক, সেই আলোকে ছড়িয়ে দেবার আহবান করেছেন, মশাল থেকে মশালে। যাতে আলোকিত হয় ধরণী, মুছে যায় আঁধারের কালিমা।
এই বইটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যের কথা বললে প্রথমেই যে বিষয়টি উঠে আসবে সেটা হল লেখকের সত্যান্বেষী মনোভাব। এর পরেই আসবে প্রাঞ্জল ভাষা, সাধারণ কেতাবি ভাষা নয়। একেবারে ঘরোয়া ঢংয়ে, বৈঠকি আলাপের ধাঁচে লেখা। এটা বইটিকে ভিন্ন এক মাত্রা দিয়েছে। তৃতীয় যে ব্যাপারটি উঠে আসে সেটা হল লেখকের চিন্তার তীক্ষ্ণতা। মোটকথা "উল্টো নির্ণয়" এমন এক মুক্তোখনি যেটা আপনাকে বিনোদিত করবে আর তার চেয়েও বেশি দেবে চিন্তার খোরাক। যা হয়তো আপনার জীবনপথের বাঁক বদলের সূচনাবিন্দু হয়ে যেতে পারে।
ছোটখাটো কিছু মুদ্রণ প্রমাদ আর বাইন্ডিং এর ক্ষেত্রে কিছু ভুল ভ্রান্তি কিছুটা হলেও বইটার অংগহানি করেছে। প্রচ্ছদের ব্যতিক্রমী উপস্থাপন অবশ্য বইটির আকর্ষণ বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। মুহাম্মদ মাসুম আনসারী এই চমৎকার প্রচ্ছদটির জন্য পাঠকের দু'আর হক্কদার, নিঃসন্দেহে। পরিপূরক প্রকাশনীও এই দু'আয় শামিল হবার দাবি রাখে এত চমৎকার একটি বই পাঠকদের উপহার দেবার জন্য।
লেখক সম্পর্কে অল্প হলেও কিছু বলতেই হয়। মোহাম্মদ তোয়াহা আকবর, অসাধারণ মেধাবী একজন ছাত্র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের, যিনি ছাত্রাবস্থায় থাকাকালেই তার গবেষণা কর্ম স্থান পেয়েছে আন্তর্জাতিক জার্নালগুলোতে। নাস্তিকতার আঁধার মাড়িয়ে আসা এই স্বাপ্নিক আর আন্তরিক মানুষটি একজন সত্যিকারের মুসলিম হবার আন্তরিক চেষ্টায় রত। আল্লাহ তার প্রচেষ্টা কবুল করুন,আমীন। ও হ্যাঁ, আমাদের প্রিয় এই ভাই নিজ ফ্যাকাল্টি এবং একই সাথে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ রেজাল্টধারী হওয়ার সুবাদে প্রধানমন্ত্রীর কাছে থেকে পেয়েছেন স্বর্ণপদক।
এই বইয়ের আলো ছড়িয়ে যাক প্রতিটি অন্তরে। এই বই আমাদের নিয়ে যাক সেই বইয়ের কাছে যে বই আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে সাত আসমানের ওপার থেকে। আল্লাহ তোয়াহা ভাইকে কবুল করে নিন। তাকে ও আমাদেরকে তার এই বইয়ের মাধ্যমে উপকৃত হওয়ার তাওফীক্ক দান করুন। আমীন ইয়া রাব্বী।
নাম দেখে ভড়কে গেলেন! আয়নার সামনে ধরলেই বুঝে যাবেন। বইয়ের নাম উল্টো নির্ণয় হলেও বইয়ের ভাষা কিন্তু সোজা, সরল, সাবলীল এবং মারাত্মক!
সুবিধার জন্য ব'লে দেই— এটি একটি ইসলামি বই। যারা ইসলামকে ভালোবাসেন এবং যারা ইসলামকে ভালোবাসেন না বইটি উভয় শ্রেণির জন্যেই ওষুধের মতো কাজ করবে।
বইটিতে গল্প লেখা হয়েছে; প্রবন্ধও আছে অনেক। লেখক কোথাও গল্পের ছলে প্রবন্ধ আর প্রবন্ধের ছলে গল্প এঁটে দিয়েছেন। বিশেষ ক'রে বলতে হয় এ-বইতে ব্যবহৃত ভাষার কথা। আগেই বলেছি সহজ, সরল, প্রাঞ্জল ভাষা। তবে এর মধ্যে লুকিয়ে ছিলো সাহিত্যের কিছু অনুষঙ্গ। যেখানে সাহিত্যপ্রেমী পাঠকও তার পাঠের পূর্ণ স্বাদ আস্বাদন করতে পারবে ব'লে আমার বিশ্বাস।
ও হ্যাঁ, বইটিকে কেনো মারাত্মক বলেছিলাম? যারা একটু চিন্তা করেছেন, দ্বিতীয় প্যারায় তারা এর কিছুটা আভাস পেয়েছেন। অবিশ্বাসীদের ভিত্তি নাড়ানোর মতো কিছু লেখা পেয়ে যাবেন বইটির শুরুর দিকে। বইয়ের ফ্ল্যাপে লেখা শরীফ আবু হায়াত অপুর কথার সাথে তাল মিলিয়ে বলতে হয়ঃ "যারা নাস্তিক বা অজ্ঞেয়বাদী, তাদের জন্য পড়া ঠিক হবে না।"
পরবর্তী প্রায় সবটুকু অংশই লেখা হয়েছে মুসলিমদের জন্যে। তবে ভিন্ন ভাবে। গতানুগতিক ধারার বিভিন্ন বই বাজারে আছে, তার চেয়ে আলাদা। চ্যাপ্টার বা অধ্যায় বিচারে লেখা রয়েছে মোট সত্তরটি। এর মধ্যে আমার কাছে খুবই চমৎকার লেগেছে ষোলোটি। নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতেও এগুলো খুব সহায়ক ছিলো।
লেখকের কিছুকিছু কথার সাথে দ্বিমতপোষণ করলেও, অধিকাংশ আলোচনাই ছিলো মনোমুগ্ধকর। লেখক বার বার বার বার জোর দিয়েছেন কুরআন অর্থসহ পড়ার প্রতি। বিভিন্ন বইও সাজেস্ট করেছেন। কুরআনের ভাষাগত সৌন্দর্যের কথা উপস্থাপন করেছেন যা আরবি জানা থাকলে আপনি উপলব্ধি করা যায়।
সবশেষে বলবো বইটি হাতে নিয়ে পড়ুন। বিশ্বাস এবং বাস্তবতার মাঝে মিল খুঁজে পাবেন। ঈমান বৃদ্ধি পাবে এবং জীবনের মানে খুঁজে পেতেও সাহায্য করবে।
Good book. Very thought provoking indeed. Writer, in simple words, has beautifully expressed himself, his thoughts and his desire to do good for own-self and for others. May Allah give barakah in his writing.
"যারা ইসলামকে নিজের জীবনযাপনের পদ্ধতি হিসেবে গ্ৰহণ করেছেন, তাদের প্রত্যেকেরই তো ভয়াবহ পড়ুয়া হওয়ার কথা। আরে, আল কুরআনের প্রথম যে শব্দ, যে আদেশ এসেছে আমাদের জন্য, তা ছিল: “পড়ো।”
সেই আমরাই যদি বই-ই না পড়ি তাহলে..."
বইটার এরকম কিছু কিছু লাইন খুব মন ছুঁয়ে গেছে। ইসলামিক বই হওয়া সত্ত্বেও লেখক নামাজ-রোযা ইত্যাদির প্রয়োজনীয়তা জোর করে চাপিয়ে না দিয়ে খুব সুন্দরভাবে এগুলোর গুরুত্ব বুঝিয়েছেন।
গতানুগতিক "নামাজ পড়, যাকাত দাও ইত্যাদি ইত্যাদি" টাইপ ছাঁচাছোলা, রসকষহীন আলোচনা বরাবরই বিরক্ত লাগতো বলে ইসলামিক বইগুলো একরকম এড়িয়ে যেতাম। সম্প্রতি বেশকিছু ইসলামিক বই পড়ে আমার চিরায়ত সেই ধারণায় ছেদ পড়েছে। এই বইটাও সেই তালিকায় পড়ে। দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের সাথে সাথে ভাবনার গণ্ডি আরেকটু বিস্তৃত করার জন্য অবশ্যপাঠ্য বই। লেখকের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি। আল্লাহ সবাইকে সাহায্য করুক। আ-মীন।