গত কয়েক শতাব্দীতে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় সার্বিকভাবে যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে, এবং বিশেষত আধুনিক প্রযুক্তিবিদ্যা প্রয়ােগের মাধ্যমে যত দ্রুততার সাথে বিশ্বের এক স্থান থেকে অন্য যে কোন স্থানে তথ্যের আদান-প্রদান সম্ভবপর করা গেছে, তা বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যকার পারস্পরিক নির্ভরশীলতাকে আগের চেয়েও অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া বর্তমান বিশ্ব মানুষের নিজের সৃষ্ট ও প্রকৃতির হুমকিজাত যে সকল মারাত্মক সমস্যা দ্বারা আক্রান্ত তা মােকাবেলা করতে কোন রাষ্ট্রের একক প্রচেষ্টা তেমন কার্যকরী নয়, বরং এ জন্য প্রয়ােজন বিভিন্ন জাতির মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহযােগিতা ও সহমর্মিতা। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নামক অধীতব্য বিষয়টি মানুষের আচরণের এ বিশেষ দিকগুলাে নিয়ে আলােচনা করে বলেই বিষয়টির গুরুত্ব অনস্বীকার্য। বর্তমান গ্রন্থে ধারণাগত ও তত্ত্বগত দিক থেকে এগুলাের উপর সংক্ষিপ্ত আলােচনা স্থান পেয়েছে। প্রথমেই এ অধীতব্য বিষয়টির প্রকৃতি, পরিধি, দৃষ্টিভঙ্গি, বিশ্লেষণের পর্যায় ও পাঠের পদ্ধতির উপর আলােকপাত করা হয়েছে। এরপর জাতীয় শক্তি, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ব্যবস্থা, পরিবেশগত বিচার্য বিষয়াবলি ও ভূ রাজনীতির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হয়েছে। অতঃপর তত্ত্বীয় দিক থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক অনুধাবনের চেষ্টায় বিভিন্ন তত্ত্ব ও তত্ত্বগত চিন্তাধারা, যেমন। বাস্তববাদ, আচরণবাদ, বিচারবাদ, ক্রীড়াতত্ত্ব, সিস্টেম তত্ত্ব, সংহতি তত্ত্ব , পার্শ্বীয় চাপ তত্ত্ব, ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়েছে। পরিশেষে পররাষ্ট্রনীতি, আন্তর্জাতিক সমাজের মাধ্যম ও প্রতিষ্ঠান, এবং বিশ্বায়ন সম্পর্কে আলােচনার মাধ্যমে গ্রন্থটির পরিসমাপ্তি টানা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে হাতেখড়ির জন্য বেশ ভালো একখানি সংযোজন। লেখকের চেষ্টায় কোনরূপ ত্রুটি অনুপস্থিত। বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ যথার্থ বলা যেতেই পারে। অনেকগুলো তত্ত্ব এবং নীতির আলোচনায় ভারাক্রান্ত হওয়াতে পাঠ্যবই হিসেবেই অধিকতর গ্রহণযোগ্য বোধ করি।