Hasan Azizul Huq (Bengali: হাসান আজিজুল হক) is a Bangladeshi writer, reputed for his short stories. He was born on 2 February, 1939 in Jabgraam in Burdwan district of West Bengal, India. However, later his parents moved to Fultala, near the city of Khulna, Bangladesh. He was a professor in the department of philosophy in Rajshahi University.
Huq is well known for his experiments with the language and introducing modern idioms in his writings. His use of language and symbolism has earned him critical acclaim. His stories explore the psychological depths of human beings as well as portray the lives of the peasants of Bangladesh.
He has received most of the major literary awards of Bangladesh including the Bangla Academy Award in 1970.
এ গল্প এক যাযাবরের; গল্প রুক্ষ, ঊষর, বিবর্ণ , মুমূর্ষু এক জনপদের। এই জনপদে প্রাণী আছে কিন্তু প্রাণ নেই, গাছ আছে কিন্তু সবুজ নেই। এখানে আসলে সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা বাংলার অলৌকিক স্বপ্নে বিভোর লেখক মহোদয়রা চরম ধাক্কা খাবেন।কারণ এখানকার মানুষের দারিদ্র্যে কোনো মাহাত্ম্য নেই, গৌরব নেই ;আছে শুধু তিক্ততা আর বেঁচে থাকার বন্য প্রয়াস। "চালচিত্রের খুঁটিনাটি" তুলে ধরে হাসানের গল্প লেখার পেছনের গল্প আর তার মনোজগতের অন্তর্গত রহস্য।খুলনা নগরায়ণের হিংস্র ছোবলে কীভাবে ধ্বংস হোলো সেই বর্ণনা হাহাকার সৃষ্টি করে মনে। এ বইটা এতোদিন কেন পড়া হয়নি ভেবে আফসোস হচ্ছে।
একজন অনাহুতের মত বইটির মূল চরিত্র ভ্রমণ করে চলেছেন উত্তরবঙ্গের বিশুষ্ক ক্ষমাহীন প্রকৃতির মাঝখান দিয়ে। যেসব মানুষের মুখোমুখি হচ্ছেন, তাদের গ্রামের মানুষ হিসেবেই আমরা জানতাম, ওরা ঠিক দাঁড়িয়ে থাকবার উপায় জানেনা কিংবা উপায়হীন, কোনমতে ওরা টিকে আছে। এই অভাবের চালচিত্র করুণা উদ্রেককারী না বরং অস্থিমজ্জায় কেন যেন কাঁপন ধরিয়ে দেয়।
কখনও দীর্ঘদিন পর পরিত্যক্ত পিতা-মাতার ছাদের নিচে। কোন একদিন এক জমিদার বন্ধুর নিমন্ত্রণে গিয়ে আবিস্কার করা বাস্তবতার শেকলপরা প্রায় ক্রীতদাসদের। যেখানে মানুষ দু'বেলা খেতে পায়না, সেখানে রাজনৈতিক পালাবদল, অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি, শিক্ষার আলো - এসবের কী বা মানে আছে? বইটির মূল চরিত্র তা খুঁজে পান না, যেমন পাবেন না পাঠকও।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আলো তৈরির কারখানা যে গণমানুষের থেকে কতটা বিচ্ছিন্ন আর পোষাকি, সে প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষক হয়ে মূল চরিত্রটি তা আবিস্কার করেন এক ধরণের রসহীন হাহাকার নিয়ে। আর তারপর দেখি, লোকটি চলে গেছেন তার শৈশবের রাঢ়বঙ্গে, দাঁড়িয়ে আছেন ধুধু মাঠের এক প্রান্তে হলদে ঘাসে ছাওয়া ভূমির মাঝখানে এক উন্মুক্ত কবরের সামনে, শায়িত শাদা হাড়ের অবয়বটি যেন মানবজীবনকে কটাক্ষ করছে।
জীবিত আর মৃতের পার্থক্য পুরো বইটিতে আলাদা করার উপায় নেই।
কিছুটা প্রাণ আবিষ্কার হয় বৃহত্তরো দক্ষিণবঙ্গে। কিন্তু এক সজীব খুলনা ১৯৫৪ থেকে ষাটের দশকেই যে বদলে গেল নব্য ধনবানদের দুর্মর উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষার যাঁতাকলে, তা পরম হতাশা ও বিস্ময়ে টুকে রাখা হয়ে যায় এ বইয়ের পাতায়। শেষের দিকে মেশে সাঁওতাল জীবনের এক খন্ডচিত্র। দূরবীন নামের ওরাও ছেলেটি বলে, ওরা না খেতে পেয়ে পেয়েই শিখেছে কীভাবে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে হয়।
চালচিত্রের খুঁটিনাটির মূল চরিত্রট স্বয়ং হাসান আজিজুল হক। বইয়ের লেখাগুলো তার প্রান্তিক বাংলার সরেজমিন তদন্তের খন্ডচিত্র। ষাট ও সত্তরের দশকের গ্রাম-বাংলার এক দীর্ঘাংশকে জানতে এ বইয়ের চেয়ে ভাল টাইম-মেশিন আর হতে পারেনা।