What do you think?


আন্না কারেনিনা
- GenresFiction
504 pages, Hardcover
Published January 1, 2014
About the author
Leo Tolstoy
8,765 books30.3k followersLev Nikolayevich Tolstoy (Russian: Лев Николаевич Толстой; most appropriately used Liev Tolstoy; commonly Leo Tolstoy in Anglophone countries) was a Russian writer who primarily wrote novels and short stories. Later in life, he also wrote plays and essays. His two most famous works, the novels War and Peace and Anna Karenina, are acknowledged as two of the greatest novels of all time and a pinnacle of realist fiction. Many consider Tolstoy to have been one of the world's greatest novelists. Tolstoy is equally known for his complicated and paradoxical persona and for his extreme moralistic and ascetic views, which he adopted after a moral crisis and spiritual awakening in the 1870s, after which he also became noted as a moral thinker and social reformer.
His literal interpretation of the ethical teachings of Jesus, centering on the Sermon on the Mount, caused him in later life to become a fervent Christian anarchist and anarcho-pacifist. His ideas on nonviolent resistance, expressed in such works as The Kingdom of God Is Within You, were to have a profound impact on such pivotal twentieth-century figures as Mohandas Gandhi and Martin Luther King, Jr.
See also:
French → Léon Tolstoï
Spanish → León Tolstói
His literal interpretation of the ethical teachings of Jesus, centering on the Sermon on the Mount, caused him in later life to become a fervent Christian anarchist and anarcho-pacifist. His ideas on nonviolent resistance, expressed in such works as The Kingdom of God Is Within You, were to have a profound impact on such pivotal twentieth-century figures as Mohandas Gandhi and Martin Luther King, Jr.
See also:
French → Léon Tolstoï
Spanish → León Tolstói
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 1 of 1 review
June 16, 2026
আন্নার ভালোবাসা শুরু হয়েছিল মুক্তির আস্বাদে, এক নিষ্প্রাণ দাম্পত্যের কারাগার থেকে পালানোর আকাঙ্ক্ষায়। কিন্তু ভ্রনস্কির সাথে সম্পর্ক যত গভীর হয়, তত বেশি তা আন্নাকে গ্রাস করে সমাজের প্রত্যাখ্যান, সন্তান থেকে বিচ্ছিন্নতা, আর দিন দিন বেড়ে চলা সন্দেহ-অবিশ্বাস তাকে ভেতর থেকে ক্ষয় করতে থাকে।
এই ট্র্যাজেডির বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে কিটি আর লেভিনের গল্প। কিটি প্রথমে ভ্রনস্কির প্রতি মুগ্ধ হয়ে লেভিনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, কিন্তু ভ্রনস্কির অবহেলায় ভেঙে পড়ার পর যখন আবার লেভিনের সাথে দেখা হয়, ধীরে ধীরে জন্ম নেয় এক নিরহংকার, প্রাত্যহিক জীবনের গভীরে প্রোথিত প্রেম। উপন্যাসের শেষে লেভিন স্ত্রী আর সন্তানকে নিয়ে এক প্রকৃত প্রশান্তির জীবন খুঁজে পান যেন তলস্তয় দেখাতে চাইলেন, প্রেমের সবচেয়ে টেকসই রূপ জ্বলন্ত আবেগে নয়, বরং সাধারণ জীবনের নিষ্ঠা আর শ্রমেই নিহিত।
এদিকে স্তিভার বিশ্বাসঘাতকতার পরও ডলী তাকে ক্ষমা করে নতুন করে বাঁচার পথ খুঁজে নেন। স্তিভার অবিশ্বস্ততা সমাজে প্রায় স্বাভাবিক বলেই গণ্য হয়, কোনো রকম মূল্য না দিয়েই তিনি পার পেয়ে যান, অথচ একই "অপরাধে" আন্নাকে দিতে হয় সর্বস্ব সমাজ, পরিবার, এমনকি শেষে জীবনও।
নারী-পুরুষের নৈতিকতার এই দ্বিমুখী মানদণ্ডই তলস্তয়ের সবচেয়ে তীক্ষ্ণ সামাজিক সমালোচনার একটি জায়গা, আর এই অসমতাই তোমার পর্যবেক্ষণকে আরও জোরদার করে স্তিভা সত্যিই এক অর্থে যেন ভাগ্যবান।
আর আলেক্সেই আলেক্সান্দ্রোভিচ কারেনিন, যিনি একসময় ক্ষমার চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়েছিলেন আন্না যখন প্রসবকালে প্রায় মৃত্যুর মুখোমুখি, তখন তাকে ক্ষমা করে, তাকেই শেষ পর্যন্ত বহন করতে হয় সবচেয়ে দীর্ঘ যন্ত্রণা।
সেই ক্ষমা সত্ত্বেও আন্না শেষমেশ ভ্রনস্কিকেই বেছে নেন, আর করেনিন একা পড়ে থাকেন তাঁর ভেঙে যাওয়া সামাজিক অবস্থান নিয়ে।
এই বহুস্তরীয় কাঠামোই আন্না কারেনিনাকে নিছক প্রেমের গল্প থেকে অনেক বড় করে তোলে — বিবাহ, বিশ্বাস, কৃষিজীবন বনাম নগরজীবন, আর রুশ সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা কপটতার ছবি একসাথে ধরা পড়ে এতে।
তলস্তয় তাঁর জীবদ্দশায় দুটি মহাকাব্যিক উপন্যাস লিখে গেছেন ওয়ার এন্ড পিস এর পর আন্না কারেনিনা, এবং নিজে তিনি যুদ্ধ ও শান্তি কে উপন্যাসের চেয়েও বেশি কিছু বলে মনে করলেও, আন্না কারেনিনাকেই তিনি তাঁর প্রথম "সত্যিকারের উপন্যাস" বলে গণ্য করতেন। ১৮৭৩ সালে পুশকিনের একটি গল্পগ্রন্থের শুরুর বাক্যের ছন্দে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন তলস্তয় যে স্ত্রীকে বলেছিলেন, লেখার এই-ই তো সঠিক ধরন সেই মুহূর্তের তাড়না থেকেই জন্ম নেয় এই লিখাটি।
তাই এই ক্লাসিক পড়ার পর মন কিছুক্ষণ বিষাদে ডুবে থাকে যেন দেড়শো বছর পরও চরিত্রগুলো এত জীবন্ত মনে হয় যে তাদের সুখ-দুঃখ নিজেদেরই অনুভূতির মতো ছুঁয়ে যায়।
ভালোবাসার এত রকম রূপ ধ্বংসাত্মক, ক্ষমাশীল, প্রশান্ত একই উপন্যাসে এমন পাশাপাশি দাঁড় করিয়ে তলস্তয় বোধহয় এটাই বলতে চেয়েছেন: ভালোবাসা নিজে কোনো গন্তব্য নয়, বরং তার সাথে সততা আর সামাজিক প্রতিশ্রুতির সম্পর্কটাই ঠিক করে দেয় সে সুখ বয়ে আনবে, নাকি বিষাদ।
এই ট্র্যাজেডির বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে কিটি আর লেভিনের গল্প। কিটি প্রথমে ভ্রনস্কির প্রতি মুগ্ধ হয়ে লেভিনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, কিন্তু ভ্রনস্কির অবহেলায় ভেঙে পড়ার পর যখন আবার লেভিনের সাথে দেখা হয়, ধীরে ধীরে জন্ম নেয় এক নিরহংকার, প্রাত্যহিক জীবনের গভীরে প্রোথিত প্রেম। উপন্যাসের শেষে লেভিন স্ত্রী আর সন্তানকে নিয়ে এক প্রকৃত প্রশান্তির জীবন খুঁজে পান যেন তলস্তয় দেখাতে চাইলেন, প্রেমের সবচেয়ে টেকসই রূপ জ্বলন্ত আবেগে নয়, বরং সাধারণ জীবনের নিষ্ঠা আর শ্রমেই নিহিত।
এদিকে স্তিভার বিশ্বাসঘাতকতার পরও ডলী তাকে ক্ষমা করে নতুন করে বাঁচার পথ খুঁজে নেন। স্তিভার অবিশ্বস্ততা সমাজে প্রায় স্বাভাবিক বলেই গণ্য হয়, কোনো রকম মূল্য না দিয়েই তিনি পার পেয়ে যান, অথচ একই "অপরাধে" আন্নাকে দিতে হয় সর্বস্ব সমাজ, পরিবার, এমনকি শেষে জীবনও।
নারী-পুরুষের নৈতিকতার এই দ্বিমুখী মানদণ্ডই তলস্তয়ের সবচেয়ে তীক্ষ্ণ সামাজিক সমালোচনার একটি জায়গা, আর এই অসমতাই তোমার পর্যবেক্ষণকে আরও জোরদার করে স্তিভা সত্যিই এক অর্থে যেন ভাগ্যবান।
আর আলেক্সেই আলেক্সান্দ্রোভিচ কারেনিন, যিনি একসময় ক্ষমার চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়েছিলেন আন্না যখন প্রসবকালে প্রায় মৃত্যুর মুখোমুখি, তখন তাকে ক্ষমা করে, তাকেই শেষ পর্যন্ত বহন করতে হয় সবচেয়ে দীর্ঘ যন্ত্রণা।
সেই ক্ষমা সত্ত্বেও আন্না শেষমেশ ভ্রনস্কিকেই বেছে নেন, আর করেনিন একা পড়ে থাকেন তাঁর ভেঙে যাওয়া সামাজিক অবস্থান নিয়ে।
এই বহুস্তরীয় কাঠামোই আন্না কারেনিনাকে নিছক প্রেমের গল্প থেকে অনেক বড় করে তোলে — বিবাহ, বিশ্বাস, কৃষিজীবন বনাম নগরজীবন, আর রুশ সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা কপটতার ছবি একসাথে ধরা পড়ে এতে।
তলস্তয় তাঁর জীবদ্দশায় দুটি মহাকাব্যিক উপন্যাস লিখে গেছেন ওয়ার এন্ড পিস এর পর আন্না কারেনিনা, এবং নিজে তিনি যুদ্ধ ও শান্তি কে উপন্যাসের চেয়েও বেশি কিছু বলে মনে করলেও, আন্না কারেনিনাকেই তিনি তাঁর প্রথম "সত্যিকারের উপন্যাস" বলে গণ্য করতেন। ১৮৭৩ সালে পুশকিনের একটি গল্পগ্রন্থের শুরুর বাক্যের ছন্দে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন তলস্তয় যে স্ত্রীকে বলেছিলেন, লেখার এই-ই তো সঠিক ধরন সেই মুহূর্তের তাড়না থেকেই জন্ম নেয় এই লিখাটি।
তাই এই ক্লাসিক পড়ার পর মন কিছুক্ষণ বিষাদে ডুবে থাকে যেন দেড়শো বছর পরও চরিত্রগুলো এত জীবন্ত মনে হয় যে তাদের সুখ-দুঃখ নিজেদেরই অনুভূতির মতো ছুঁয়ে যায়।
ভালোবাসার এত রকম রূপ ধ্বংসাত্মক, ক্ষমাশীল, প্রশান্ত একই উপন্যাসে এমন পাশাপাশি দাঁড় করিয়ে তলস্তয় বোধহয় এটাই বলতে চেয়েছেন: ভালোবাসা নিজে কোনো গন্তব্য নয়, বরং তার সাথে সততা আর সামাজিক প্রতিশ্রুতির সম্পর্কটাই ঠিক করে দেয় সে সুখ বয়ে আনবে, নাকি বিষাদ।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Displaying 1 - 1 of 1 review


