সেবা প্রকাশনীতে অনুবাদ করেছেন দীর্ঘকাল; নিবাস, নওগাঁ।
খসরু চৌধুরী ছোটবেলা থেকেই দক্ষিণ বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে জীবজন্তুর সঙ্গে পরিচিত হবার সুযোগ পান। ১৯৭১ সালের মহান মক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন কলেজ-ছাত্র অবস্থায়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য অনুষদের ছাত্র অবস্থায় ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মামা শিকারি আকতারুজ্জামানের হাত ধরে সুন্দরবন গিয়ে ভালোবেসে ফেলেন জল-জঙ্গলার বাঘ। ১৯৮৫ সালে অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক রোববার পত্রিকায় সুন্দরবন সংক্রান্ত লেখা দিয়ে তার লেখার জগতে প্ৰবেশ। তারপর দেশের উল্লেখযোগ্য প্রায় সব কটি পত্রিকায় বাঘ বা সুন্দরবন নিয়ে লিখেছেন। ছাত্র রাজনীতি করেছেন, সাংস্কৃতিক আন্দোলন, চলচ্চিত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সাংবাদিকতা করেছেন। দেশের অগ্রগণ্য বাঘ বিশেষজ্ঞ হিসেবে বাঘ বাঘ রক্ষায় নিতয় চেষ্টা করে চলেছেন।
চমৎকার একটা বই। খসরু চৌধুরী অনুবাদক হিসেবে আমার খুবই পছন্দের, ওনার লেখা ভৌতিক অভিজ্ঞতার ঘটনাগুলোর কয়েকটা এর আগে রহস্যপত্রিকায় পড়া হয়েছে, এবার সবগুলো একসাথে পড়ে বেশ আনন্দ পেলাম। তবে আমার কাছে বইটা বেশি ভালো লেগেছে স্মৃতিকথা হিসেবে; নওগাঁ, বগুড়া, রাজশাহীর ৬০/৭০/৮০ দশকের বর্ণনা, লেখকের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতি, অসাধারণ সুন্দর গ্রামীণ প্রকৃতি আর সহজ সরল সাহসী মানুষ, জীবনের কঠিন বাস্তবতা, সন্তান হারানোর বেদনা, সেবা প্রকাশনী, বিখ্যাত কাজিদা, অনুবাদ, গানের আসর, বৃষ্টি, আড্ডা, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সব উঠে এসেছে ঝরঝরে ভাষায়।
বাহুল্য কথা অনেক বেশি৷ গল্প বলতে গিয়ে অপ্রাসঙ্গিক বর্ণনা না থাকলে ৪ তারা দেয়াই যেত৷ মা কিংবা দাদী-নানীদের মুখে গল্প শোনার সৌভাগ্য ২০২৩ সালের ছেলেপিলেদের না হওয়াটাই স্বাভাবিক৷ সেই প্রজন্মের জন্যই এই বইটা উপযুক্ত৷ অন্তত জানতে তো পারবে যে গ্রাম-গঞ্জে আগে কেমন করে ভৌতিক উৎপাত সাথে নিয়েই জীবনযাপন করতো মানুষ৷
ভুতের গল্প কম, পারিবারিক গল্প কথা বেশি। তাও মোটামুটি লেগেছে, কারণ দাদী নানীর কাছে ভুতের গল্প শোনার অভিজ্ঞতা কেমন হতে পারে, সেটা বোঝা গেছে। ভুতের চেয়ে বরং মানুষগুলো কেমন ছিলো সেটাই টেনেছে বেশি। লেখক দরদের সাথে পারিবারিক স্মৃতিচারণ করেছেন, আর একেকজনের সাথে সম্পর্কিত একেকটা ভুতের গল্প শুনিয়েছেন। আরেকটা জিনিস ভালো লেগেছে, আগের দিনে যে ভুত প্রেতের 'উপস্থিতি' মোটামুটি সাধারণ একটা বিষয় ছিলো, কেউ এটা নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামাতো না, এটাও উঠে এসেছে।