রবিশংকর বল-এর লেখা ‘নায়িকারহস্য’ একটি উপন্যাস। ‘কেমন তার চুল? মৃগবতীর? বৃদ্ধা সেবিকাকে যুবরাজ বলছেন, মৌমাছির মতো তার কালো চুল চন্দনগন্ধী গ্রীবায় কেউটে সাপের মতো জড়িয়ে আছে। কেমন তার কপাল? পূর্ণিমা রাতের চাঁদের মতো। তার ভ্রূ অর্জুনের ধনুকের মতো, যার দিকে তাকাবে, তাকেই বিদ্ধ করবে। তার ভ্রূপল্লব? যেন বিষমাখানো তিরের মতো সারা শরীরে ঢুকে যায়। চোখের কথা কী আর বলব? যেন পদ্মের পাপড়ির ওপর বসে থাকা কালো ভ্রমর। দুরন্ত, চকিতে তার দৃষ্টি বদলায়, কখন কোথায় তার চেয়ে থাকা, বোঝাই যায় না।’ এ-এক রক্তমাংসময়, কিন্তু ঐশী-চেতনার প্রেমের কাহিনি। পাখির ডাক ছুঁয়ে ছুঁয়ে কাহিনি এগিয়ে চলে তার নিয়তির দিকে। নিষাদশোকগ্রস্ত এমন প্রেমকাহিনি রবিশংকর বল-ই লিখতে পারেন।
রবিশংকর বল পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতনামা কথাসাহিত্যিক। জন্ম ১৯৬২ সালে। বিজ্ঞানে স্নাতক। ২০১১ সালে দোজখনামা উপন্যাসের জন্য বঙ্কিম স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছেন।
গল্পগ্রন্থ দারুনিরঞ্জন রবিশঙ্কর বল এর গল্প আর্তোর শেষ অভিনয় জীবন অন্যত্র ওই মণিময় তার কাহিনী সেরা ৫০ টি গল্প
উপন্যাস নীল দরজা লাল ঘর পোখরান ৯৮ স্মৃতি ও স্বপ্নের বন্দর পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন মিস্টার ফ্যান্টম বাসস্টপে একদিন মিলনের শ্বাসরোধী কথা নষ্টভ্রষ্ট এখানে তুষার ঝরে দোজখনামা আয়নাজীবন আঙুরবাগানে খুন জিরো আওয়ার
কবিতা ত্রস্ত নীলিমা ঊনপঞ্চাশ বায়ু
প্রবন্ধ সংলাপের মধ্যবর্তী এই নীরবতা কুষ্ঠরোগীদের গুহায় সংগীত মুখ আর মুখোশ জীবনানন্দ ও অন্যান্য
সম্পাদিত গ্রন্থ সাদাত হোসেইন মন্টো রচনাসংগ্রহ
জাহিদ সোহাগ : মানে আমি বলছি এই কারণে যে, আমাদের বাংলাদেশে রবিশংকর বলকে চেনা হচ্ছে দোজখনামা দিয়ে। এটাকে আপনি কীভাবে দেখবেন? মানে এখানেও একটা ট্যাগ আছে। রবিশংকর বল : এটা বলা কঠিন, তবু যদি বলো তবে আমি বলব, আমার "মধ্যরাত্রির জীবনী" উপন্যাসটা পড়া উচিত, "বাসস্টপে একদিন" উপন্যাসটা পড়া উচিত, "এখানে তুষার ঝরে" উপন্যাসটা পড়া উচিত। "স্মৃতি ও স্বপ্নের বন্দর", "ছায়াপুতুলের খেলা" অবশ্যই। এই কটা লেখা অন্তত। আর "পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন" এই লেখাটা।
রক্তমাংসময় কিন্তু ঐশী চেতনার প্রেমের কাহিনীটা কী? তুমুল আগ্রহে বইটি কিনেছিলাম। শেষে যখন দেখলাম যে এটি একটি উপন্যাস, শ্রী রাধিকার অষ্ট নায়িকার রূপ আজকের নারীর ভেতরে জেগে উঠার এক কাহিনী, একটু যে হতাশ হলাম না তা নয়। কিন্তু পড়তে পড়তে তলিয়ে গেলাম সম্পূর্ণই অন্য এক জগতে। প্রাপ্তবয়স্ক এবং প্রাপ্তমনস্ক একই সাথে খুব বেশি বই হয় না। রগরগে উপাদান অনেক বইয়ের থাকলেও মনের গভীরে একটা বোধ জাগিয়ে তোলার ক্ষমতা আবার সব বইয়ের থাকে না। এই উপন্যাসটির পটভূমিটাও এক অপার্থিব স্থানে, সিমলা। এক ষাটোর্ধ্ব সাহিত্যিক অর্জুন সেন আর এক পরস্ত্রী মঞ্জরীর হঠাৎ পড়া প্রেমের কাহিনী। যাদের দুজনেরই জীবনে রয়েছে ব্যক্তিগত নানান জটিলতা, অতীতের প্রেম পাওয়া, হারানোর কাহিনী। এই দুজন মানুষ এক হয় এক নির্দিষ্ট লক্ষ্যে, যার মূলে একই সাথে থাকে কাম এবং ভালোবাসা। আবার শ্রী রাধিকার ধাপে ধাপে শ্রীকৃষ্ণের প্রেমে মোহিত হওয়ার উন্মাতাল হওয়া কাহিনীও সমানতালে এগিয়েছে। বইয়ের ফ্ল্যাপের ভাষায়, ' মিনিয়েচার চিত্র, সংগীত, দূরাগত আখ্যান, কবিতা, পাহাড়, তুষার, পাখির ডাক ছুঁয়ে ছুঁয়ে কাহিনী এগিয়ে চলে তার নিয়তির দিকে। যেন একের পর এক আয়নামহল পেরিয়ে যাওয়া।' কিছুটা পরাবাস্তবতার ছায়াও রেখেছেন লেখক। নিয়ে এসেছেন অতীত এবং সমসাময়িক নানান লেখকের কথা, এমনকি নিজের কথাও। শরীরী প্রেম থেকে মানসিক প্রেম, খেলা থেকে ভালোবাসা, নিঃসঙ্গতা থেকে আরো নিঃসঙ্গতায় তলিয়ে যাওয়ার এই কাহিনীর বিষাদ শোকগ্রস্ত করে। কেমন যেন বিষণ্ণ এক ভাবনায় তলিয়ে দেয়। মনে করিয়ে দেয়, সকল নক্ষত্রেরই একদিন মরে যেতে হয়!