What do you think?


ব্যোমকেশ #1
Satyanweshi: Byomkesh Bakshi
Satyanweshi also spelled Satyanveshi, is a detective story written by Sharadindu Bandyopadhyay featuring the Bengali detective Byomkesh Bakshi and his friend, assistant, and narrator Ajit Bandyopadhyay.
47 pages, Kindle Edition
First published June 13, 1970
About the author
Sharadindu Bandyopadhyay
187 books477 followersSharadindu Bandyopadhyay (Bengali: শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায়; 30 March 1899 – 22 September 1970) was a well-known literary figure of Bengal. He was also actively involved with Bengali cinema as well as Bollywood. His most famous creation is the fictional detective Byomkesh Bakshi.
He wrote different forms of prose: novels, short stories, plays and screenplays. However, his forte was short stories and novels. He wrote historical fiction like Kaler Mandira, GourMollar (initially named as Mouri Nodir Teere), Tumi Sandhyar Megh, Tungabhadrar Teere (all novels), Chuya-Chandan, Maru O Sangha (later made into a Hindi film named Trishangni) and stories of the unnatural with the recurring character Baroda. Besides, he wrote many songs and poems.
Awards: 'Rabindra Puraskar' in 1967 for the novel 'Tungabhadrar Tirey'. 'Sarat Smriti Purashkar' in 1967 by Calcutta University.
He wrote different forms of prose: novels, short stories, plays and screenplays. However, his forte was short stories and novels. He wrote historical fiction like Kaler Mandira, GourMollar (initially named as Mouri Nodir Teere), Tumi Sandhyar Megh, Tungabhadrar Teere (all novels), Chuya-Chandan, Maru O Sangha (later made into a Hindi film named Trishangni) and stories of the unnatural with the recurring character Baroda. Besides, he wrote many songs and poems.
Awards: 'Rabindra Puraskar' in 1967 for the novel 'Tungabhadrar Tirey'. 'Sarat Smriti Purashkar' in 1967 by Calcutta University.
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 30 of 82 reviews
April 27, 2019
আজ খুব ইচ্ছা হচ্ছিল একটা গোয়েন্দা কাহিনী পড়ার। কোনটা পড়ব ভাবতে গিয়ে প্রথমেই মাথায় আসলো সত্যান্বেষী র কথা। আর তাই ২য় বারের মতো গ্রহন করলাম। আসলে ধুতি পাঞ্জাবি পরেও যে দুধর্ষ গোয়েন্দা হওয়া যায় সেটা শরদিন্দুবাবু প্রমান করে ছেড়েছেন। ব্যোমকেশ বক্সী কিশোরদের জন্য সৃস্ট চরিত্র নয়, বড়দের জন্যই। কিছুটা শার্লক হোমসএর মিল আছে বিশ্লেষণী ক্ষমতার ক্ষেত্রে কিন্তু সেটা একেবারই মানানসই বাঙালি পরিবেশের জন্য। শার্লক দাম্ভিক ছিলেন কিন্তু ব্যোমকেশ ক্ষুরধার বুদ্ধিমান কিন্তু বিনয়ী আর দশজন বাঙালির মতই।
November 19, 2020
আহ ব্যোমকেশ! এ যেনো কখনো পুরনো হওয়ার নয়।
November 20, 2022
অজিতবাবু, অনুকুল বাবুর বাসায় ভাড়া থাকেন রুমমেট অতুল চন্দ্র মিত্র সহিত।
অনুকুল বাবু পেশায় একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক।
এই বাসায় আরো দুইজন থাকেন, ঘনশ্যাম বাবু এবং অশ্বিনী বাবু।
এলাকায় হঠাৎ করেই খুব খুনখারাপি শুরু হইছে, এলাকায় কোকেনের ব্যাবসা খুব রমরমা।
হঠাৎ অশ্বিনীবাবু র খুন।
বেশি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটলো এর পর।
আহা! ছোটবেলার সেই বোমকেশ পড়তেছি, কি দারুন!
রেটিংঃ৫/৫
২০ নভেম্বর ২০২২
অনুকুল বাবু পেশায় একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক।
এই বাসায় আরো দুইজন থাকেন, ঘনশ্যাম বাবু এবং অশ্বিনী বাবু।
এলাকায় হঠাৎ করেই খুব খুনখারাপি শুরু হইছে, এলাকায় কোকেনের ব্যাবসা খুব রমরমা।
হঠাৎ অশ্বিনীবাবু র খুন।
বেশি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটলো এর পর।
আহা! ছোটবেলার সেই বোমকেশ পড়তেছি, কি দারুন!
রেটিংঃ৫/৫
২০ নভেম্বর ২০২২
January 28, 2017
ছুটিতে গেলেই সমগ্র টা এক বার হাত এ নেওয়া হয়। আর প্রত্যেকবারই গল্প নং ১ থেকে শুরু করার দরুণ এই গল্প টা ইতোমধ্যে ৫ এর অধিক বার পড়া হয়ে গেছে। কিন্তু খারাপ লাগে নি একবার ও। তবে এইবার বইয়ের পাতায় প্রতিজ্ঞা করে এসেছি আগামিবার এই গল্প থেকে আর শুরু করছি না।
December 2, 2016
সেরকম Out of the box কিছু ছিল না, কিন্তু এরকম গোয়েন্দা গল্পে যে জিনিসটা বড্ড জরুরী, পাঠকের অকুণ্ঠ মনোযোগ, সেটা শরদিন্দু বাবু ভালোই ধরে রাখতে জানেন। একটানা পড়ে যেতে কোন সমস্যা হয় না। যাইহোক, একটু দেরিতে হলেও সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ বক্সীর সাথে পরিচয় হয়ে গেল। এবার খেলা জমার অপেক্ষা। :)
July 5, 2020
ছেলের খুব গোয়ান্দা গল্প শোনার শখ হয়েছে। তাই ছোটবেলার পর আবার ব্যোমকেশ পড়া শুরু করলাম। ছেলে বার বার জিজ্ঞেস করে যাচ্ছে, ' বাবা ব্যোমকেশ কেন আসছে না?' 🤓
April 23, 2021
এখনও মনে আছে। তখন সদ্য সদ্য আদিম রিপু নিয়ে একটি movie বেরিয়েছে, আমার বয়স তখন নেহাতই কম। ডিটেক্টিভ গল্প, বা thriller পড়তে ছোটবেলা থেকেই খুব ভাল লাগে, তাই মামা একদিন বেরিয়ে কিনে এনে দিল ব্যোমকেশ সমগ্র। সত্যি কথা বলতে প্রথম প্রথম সাধু ভাষাতে পড়তে একেবারেই ভাল লাগতো না। ভাগ্যিস জোর করে নিজেকে “পড়তে থাকি, নিশ্চয়ই বুঝতে পারবো , আর তারপর ভাল লাগবে” বলে পড়া শুরু করেছিলাম !
পুরো চারবার পড়েছিলাম পুরো বইটা, তারপর সাধ মিটেছিল। অনেকদিন পর আবার পড়া শুরু করলাম, এখনও একই রকম ভাল লাগে। যদিও বা ভাল মতই জানি যে এর পর কি হতে চলেছে , অপরাধী আসলে কে। আশ্চর্য রকমের সাবলীল ভাষা। আর অদ্ভুত রকমের ঘরোয়া বলার ধরন। অবশ্য এটিকে ঠিক গল্প বলা যায় না, উপন্যাস তো কোনো ক্রমেই না। পাঠকদের কাছে অজিত ও বক্সীবাবুর introduction হিসেবে গণ্য করাই শ্রেয়।
পুরো চারবার পড়েছিলাম পুরো বইটা, তারপর সাধ মিটেছিল। অনেকদিন পর আবার পড়া শুরু করলাম, এখনও একই রকম ভাল লাগে। যদিও বা ভাল মতই জানি যে এর পর কি হতে চলেছে , অপরাধী আসলে কে। আশ্চর্য রকমের সাবলীল ভাষা। আর অদ্ভুত রকমের ঘরোয়া বলার ধরন। অবশ্য এটিকে ঠিক গল্প বলা যায় না, উপন্যাস তো কোনো ক্রমেই না। পাঠকদের কাছে অজিত ও বক্সীবাবুর introduction হিসেবে গণ্য করাই শ্রেয়।
November 13, 2019
বাংলা সাহিত্যের অনন্যসাধারণ গোয়েন্দা ব্যোমকেশ। থুক্কু, গোয়েন্দা বলা যাবে না। উনি সত্যান্বেষী। যদিও কাজ ওই একই। এই গল্পের মাধ্যমেই যাত্রা শুরু ব্যোমকেশের। আর অজিতের সাথেও ব্যোমকেশের এই গল্পেই পরিচয়। গল্পটা খুব ছোট। যদিও অপরাধ আর অপরাধী অনেক বড়। কলকাতায় কোকেনের ব্যাবসা নিয়েই মূলত গল্পটা গড়ে উঠেছে। এই কোকেনের ব্যাবসায়ীদের পেছনে লেগেই তাদের পুলিসের হাতে তুলে দেয়ার মাধ্যমে গল্প শেষ। পাচতারা দিয়েছি একটা অনন্যসাধারণ যাত্রার শুরু হিসেবে। কারণ যখন পড়েছিলাম তখন খুবই ভাল লেগেছিল।
February 25, 2021
ব্যোমকেশের সাথে তার সহচরীর সাক্ষাৎ করানো তো বটেই তার উপর একসাথে ডিটেকটিভ ফিলও দেওয়া। পরিচয় পর্ব সহ গল্পটা এতোটা সুন্দর হবে ভাবিনি। প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তো এটাতে শুধু ব্যোমকেশের সহচরী লেখক অজিত বাবুর সমন্ধেই বলা হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মন ভরে গেলো
April 3, 2017
সবকিছু ভালোই চলছিলো, হঠাৎ খুবই দ্রুত শেষ হয়ে গেলো মাথা পরিষ্কার হতে না হতেই। এজন্যই কেবল পাঁচটি তারা দিতে পারলুম না। :(
তবে দেরিতে হলেও "সত্যান্বেষী"-র সাথে পরিচয় সেরে ফেললুম।
তবে দেরিতে হলেও "সত্যান্বেষী"-র সাথে পরিচয় সেরে ফেললুম।
January 28, 2021
থ্রিলিং টা আলাদারকমের ছিল। প্রথমে বুঝতে ই পারি নাই গোয়েন্দা কে আর কি নিয়ে ই কাজ কারবার। পরে যদিও পরিষ্কার হয়েছে! তবে ব্যোমকেশ#১ হিসেবে বেশ আলাদারকম স্বাদ পেলাম বলে মনে হল//
October 9, 2015
এমন একখানা ক্লাসিকের কি আর আলাদা করে রিভিউ করার দরকার আছে? তবে ওঙ্কারনাথের আঁকায় এবেলা-তে প্রকাশিত স্মার্ট আর ঝকঝকে কমিক স্ট্রিপটা এবার বই হয়ে বেরোলে মন্দ হবে না বলেই মনে হয়|
April 28, 2021
অস্থির অস্থির ♥♥ ব্যোমকেশ বক্সীর প্রথম গল্পই অস্থির। এ যেন ধূতি পান্জাবি পরিহিত বাংলার শার্লক হোমস।
April 29, 2022
খুব সুন্দরভাবেই বাংলার শার্লক হোমস-ওয়াটসন জুটির পরিচয় হলো এই গল্পের মাধ্যমে💜💜
September 13, 2020
বৈঠকখানায় বসে চায়ে চুমুক দিতে দিতে যখন "সত্যান্বেষী" ব্যোমকেশ বক্সী কাহিনীর জট খুলতে শুরু করলেন, আমিও তখন আমার চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে হিসেব মিলিয়ে নিলাম। অনেকদিন পর ডিটেকটিভ বই পড়ার উত্তেজনা উপভোগ করছি।
চায়ের সাথে ব্যোমকেশ— নতুন রুটিন।
চায়ের সাথে ব্যোমকেশ— নতুন রুটিন।
July 29, 2019
দেরীতে হলেও, ব্যোমকেশ শুরু করলাম।
January 5, 2026
প্রথম বই (২০২৬)
আমি টুকটাক কুসংস্কারে বিশ্বাসী। এজন্য প্রতিটা বছরই আমার মাঝে একটা টেন্ডেন্সি কাজ করে যে, বছরের শুরু এবং শেষের বইটা যেন কোয়ালিটি ফুল হয়। তাহলে হয়ত "শেষ ভাল যার-সব ভাল তার" বা "শুরুতে গলদ" ইত্যাদি ইত্যাদি এড়ানো যাবে। এজন্য বছরের প্রথম বইটা যে কী পড়ব বা কী পড়া যায় এ নিয়ে বেশ ভালই একটা ডাউটের মাঝে ছিলাম। তার মধ্যে আমার আবার চলছে অনার্স তৃতীয় বর্ষের ইয়ার ফাইনাল। এখানে মর-মর অবস্থা। কিন্তু তবুও শতততবাধাঁকে মিডিল ফিংগার দেখিয়ে সেলফের সামনে গিয়ে বই চুয়ুজ করতে লেগে পড়লাম।
উহু... এতত এততত বই না পড়া/নতুন কেনা! এর থেকে কোয়ালিটি ফুল একটা কিভাবে চুয়ুজ করব! তার উপর আবার, আমার হাতে সময় নাই যে কয়েকদিন নাওয়াখাওয়া ভুলে বইয়ে মুখ গুঁজে বসে থাকব। ছোট সাইজের বই খুঁজতে খুঁজতে ডাউস সাইজের একটা বের করে ফেলি। এই তো, এই ডিসেম্বরেই কিনেছিলাম, ব্যামোকেশ সমগ্র। উহু বহুত ঝামেলা পোহায় কিনতে হইছিল, বইয়ের আজকাল যে দাম। সে যাইহোক, কিন্তু এই সর্ট টাইমে তো এ বই শেষ করা সম্ভব না। কিন্তু পৃষ্ঠা উল্টিয়ে দেখলাম বইয়ের প্রথম গল্পটার সাইজ আহামরি বড় না, ছোটই বলা যায়। তো সূচি দেখতে দেখতে দাড়িয়েই পড়া শুরু করে দি। এরপর...
ব্যোমকেশ বোক্সী, বাংলার দ্বিতীয় সবচেয়ে সমাদৃত ডিটেকটিভ কিংবা তার নিজের ভাষায় বললে... "সত্যান্বেষী"। দ্বিতীয় বললাম শুধুমাত্র নিজের গায়ের জ্বোর খাটিয়ে। পাঠকমহলের অধিকাংশই হয়ত আমার সহিত দ্বিমত পোষণ করবেন। কিন্তু আমার জন্য স্টিল, বাংলার সবচেয়ে প্রিয় গোয়েন্দা হচ্ছে আমাদের ফেলু মিওির। এখন হয়ত পাশ দিয়ে কেউ গালি দিয়ে বলতে পারেন, ব্যোমকেশ আমার মতন বাচ্চাকাচ্চাদের জন্য না। ব্যোমকেশ ম্যাচিয়োর পাঠকের জন্য। এডাল্ট না হলে এই বই পড়ে কিছুই বুঝব না, এরুপ তকমা দিলে সেক্ষেত্রে আমার নিজেকে ডিফেন্স করার মতন খুব বড়সড় ঢাল আপাতত আমার হাতে নাই। আমি শুধু বলব, আমি যখন ফেলুদা পড়ি...আমার মনে হয় আমি বই চিঁড়ে, ফেলু মিত্তিরের জগতে চলে গেছি, আমার একপাশে আছে তোফসে আরেক পাশে জটায়ু আর সামনে হেঁটে চলছেন শ্রী শ্রী প্রদোষ কুমার মিত্র, P. C. Mitter! উহু, ভাবতেও গুসবামস আসে।
আসলে বিষয়টা হচ্ছে, আমাকে ফেলুদা ইমোশনালি বেশ কানেক্ট করে ফেলছে এজন্য তাকে সবার উপরে না রাখতে পারলে কেন জানি অস্বস্তি কাজ করে মনের মাঝে।
এসব আবগী বিবাগী কথা থাক। কাজের কথায় আসি, ব্যোমকেশের সহিত প্রথম যাত্রা ছিল আমার এটা। প্রথম যাত্রায় আমরা সত্যান্বেষী মহাশয়ের পরিচয় আর দারুণ এক কেস সলভিং দেখতে পাই। যথেষ্ট ইনজয় করেছি। আর আগে আরো আরো কেস সলভিং পড়ার জন্য তীব্র আগ্রহ নিয়ে বসে আছি। আশা রাখি এবছরে খন্ড খণ্ড করে পড়ে, ইনশাআল্লাহ ব্যোমকেশ সমগ্রটা শেষ করে ফলতে পারবো।
তো, বছরটা আমার শুরু হলো, সত্যান্বেষীর সহিত...তবে বাকি বছরটা কেমন কাটতে চলেছে আমার? কতখানি বই পড়তে পারবো এই বছর! এ হাওয়া...আমায় নিবে কতদূর...
০৫ জানুয়ারি ২০২৬
খুলনা, বয়রা
আমি টুকটাক কুসংস্কারে বিশ্বাসী। এজন্য প্রতিটা বছরই আমার মাঝে একটা টেন্ডেন্সি কাজ করে যে, বছরের শুরু এবং শেষের বইটা যেন কোয়ালিটি ফুল হয়। তাহলে হয়ত "শেষ ভাল যার-সব ভাল তার" বা "শুরুতে গলদ" ইত্যাদি ইত্যাদি এড়ানো যাবে। এজন্য বছরের প্রথম বইটা যে কী পড়ব বা কী পড়া যায় এ নিয়ে বেশ ভালই একটা ডাউটের মাঝে ছিলাম। তার মধ্যে আমার আবার চলছে অনার্স তৃতীয় বর্ষের ইয়ার ফাইনাল। এখানে মর-মর অবস্থা। কিন্তু তবুও শতততবাধাঁকে মিডিল ফিংগার দেখিয়ে সেলফের সামনে গিয়ে বই চুয়ুজ করতে লেগে পড়লাম।
উহু... এতত এততত বই না পড়া/নতুন কেনা! এর থেকে কোয়ালিটি ফুল একটা কিভাবে চুয়ুজ করব! তার উপর আবার, আমার হাতে সময় নাই যে কয়েকদিন নাওয়াখাওয়া ভুলে বইয়ে মুখ গুঁজে বসে থাকব। ছোট সাইজের বই খুঁজতে খুঁজতে ডাউস সাইজের একটা বের করে ফেলি। এই তো, এই ডিসেম্বরেই কিনেছিলাম, ব্যামোকেশ সমগ্র। উহু বহুত ঝামেলা পোহায় কিনতে হইছিল, বইয়ের আজকাল যে দাম। সে যাইহোক, কিন্তু এই সর্ট টাইমে তো এ বই শেষ করা সম্ভব না। কিন্তু পৃষ্ঠা উল্টিয়ে দেখলাম বইয়ের প্রথম গল্পটার সাইজ আহামরি বড় না, ছোটই বলা যায়। তো সূচি দেখতে দেখতে দাড়িয়েই পড়া শুরু করে দি। এরপর...
ব্যোমকেশ বোক্সী, বাংলার দ্বিতীয় সবচেয়ে সমাদৃত ডিটেকটিভ কিংবা তার নিজের ভাষায় বললে... "সত্যান্বেষী"। দ্বিতীয় বললাম শুধুমাত্র নিজের গায়ের জ্বোর খাটিয়ে। পাঠকমহলের অধিকাংশই হয়ত আমার সহিত দ্বিমত পোষণ করবেন। কিন্তু আমার জন্য স্টিল, বাংলার সবচেয়ে প্রিয় গোয়েন্দা হচ্ছে আমাদের ফেলু মিওির। এখন হয়ত পাশ দিয়ে কেউ গালি দিয়ে বলতে পারেন, ব্যোমকেশ আমার মতন বাচ্চাকাচ্চাদের জন্য না। ব্যোমকেশ ম্যাচিয়োর পাঠকের জন্য। এডাল্ট না হলে এই বই পড়ে কিছুই বুঝব না, এরুপ তকমা দিলে সেক্ষেত্রে আমার নিজেকে ডিফেন্স করার মতন খুব বড়সড় ঢাল আপাতত আমার হাতে নাই। আমি শুধু বলব, আমি যখন ফেলুদা পড়ি...আমার মনে হয় আমি বই চিঁড়ে, ফেলু মিত্তিরের জগতে চলে গেছি, আমার একপাশে আছে তোফসে আরেক পাশে জটায়ু আর সামনে হেঁটে চলছেন শ্রী শ্রী প্রদোষ কুমার মিত্র, P. C. Mitter! উহু, ভাবতেও গুসবামস আসে।
আসলে বিষয়টা হচ্ছে, আমাকে ফেলুদা ইমোশনালি বেশ কানেক্ট করে ফেলছে এজন্য তাকে সবার উপরে না রাখতে পারলে কেন জানি অস্বস্তি কাজ করে মনের মাঝে।
এসব আবগী বিবাগী কথা থাক। কাজের কথায় আসি, ব্যোমকেশের সহিত প্রথম যাত্রা ছিল আমার এটা। প্রথম যাত্রায় আমরা সত্যান্বেষী মহাশয়ের পরিচয় আর দারুণ এক কেস সলভিং দেখতে পাই। যথেষ্ট ইনজয় করেছি। আর আগে আরো আরো কেস সলভিং পড়ার জন্য তীব্র আগ্রহ নিয়ে বসে আছি। আশা রাখি এবছরে খন্ড খণ্ড করে পড়ে, ইনশাআল্লাহ ব্যোমকেশ সমগ্রটা শেষ করে ফলতে পারবো।
তো, বছরটা আমার শুরু হলো, সত্যান্বেষীর সহিত...তবে বাকি বছরটা কেমন কাটতে চলেছে আমার? কতখানি বই পড়তে পারবো এই বছর! এ হাওয়া...আমায় নিবে কতদূর...
০৫ জানুয়ারি ২০২৬
খুলনা, বয়রা
September 15, 2026
শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সত্যান্বেষী’ গল্পটি বাংলা গোয়েন্দা সাহিত্যের ইতিহাসে এক মাইলফলক, কারণ এর মাধ্যমেই আত্মপ্রকাশ ঘটে কালজয়ী গোয়েন্দা চরিত্র ব্যোমকেশ বক্সীর। নিজেকে সাধারণ "গোয়েন্দা" না বলে "সত্যান্বেষী" বা সত্যের রূপ উদ্ঘাটনকারী হিসেবে পরিচয় দেওয়া ব্যোমকেশের এই স্বতন্ত্র দর্শনই গল্পটিকে অনন্য করে তুলেছে।
গল্পের প্রেক্ষাপট মেসবাড়ির একটি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রচিত। বন্ধু অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়ানে ঘটনার টানটান বর্ণনা পাঠকদের শুরু থেকেই রহস্যের গভীরে টেনে নিয়ে যায়। কেবল অপরাধীকে ধরা নয়, বরং অপরাধের পেছনের মনস্তত্ত্ব এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিকে সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ও তীক্ষ্ণ যুক্তিবোধ দিয়ে বিশ্লেষণ করার দক্ষতা ব্যোমকেশকে অন্যান্য প্রথাগত গোয়েন্দা চরিত্র থেকে আলাদা করেছে।
শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাবলীল ভাষা, নিখুঁত চরিত্রায়ণ এবং আবহ তৈরির অসাধারণ ক্ষমতা গল্পটিকে অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও সাবলীল করে তুলেছে। অনাবিল কৌতূহল এবং চিরায়ত আভিজাত্যের মিশেলে ‘সত্যান্বেষী’ রহস্যপ্রেমী যেকোনো পাঠকের জন্য একটি চিরসবুজ সৃষ্টি।
গল্পের প্রেক্ষাপট মেসবাড়ির একটি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রচিত। বন্ধু অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়ানে ঘটনার টানটান বর্ণনা পাঠকদের শুরু থেকেই রহস্যের গভীরে টেনে নিয়ে যায়। কেবল অপরাধীকে ধরা নয়, বরং অপরাধের পেছনের মনস্তত্ত্ব এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিকে সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ও তীক্ষ্ণ যুক্তিবোধ দিয়ে বিশ্লেষণ করার দক্ষতা ব্যোমকেশকে অন্যান্য প্রথাগত গোয়েন্দা চরিত্র থেকে আলাদা করেছে।
শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাবলীল ভাষা, নিখুঁত চরিত্রায়ণ এবং আবহ তৈরির অসাধারণ ক্ষমতা গল্পটিকে অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও সাবলীল করে তুলেছে। অনাবিল কৌতূহল এবং চিরায়ত আভিজাত্যের মিশেলে ‘সত্যান্বেষী’ রহস্যপ্রেমী যেকোনো পাঠকের জন্য একটি চিরসবুজ সৃষ্টি।
May 18, 2025
ভারতীয় সাহিত্যে গোয়েন্দা চরিত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী নামগুলোর একটি হলো ব্যোমকেশ বক্সী। তাঁর সৃষ্টিকর্তা হলেন বিখ্যাত লেখক শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। ব্যোমকেশকে লেখক শুধুমাত্র একজন "গোয়েন্দা" হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেননি, বরং তাঁকে বলেছেন "সত্যান্বেষী", অর্থাৎ একজন সত্যের সন্ধানকারী। এই পরিচয় থেকেই বোঝা যায়, ব্যোমকেশ কেবল অপরাধী ধরার জন্য নয়, বরং সত্য উদ্ঘাটনের জন্য কাজ করেন। প্রথমবারের মত ব্যোমকেশ পড়লাম। ভালোই লেগেছে। সবসময় টিভির পর্দায় দেখেছি আজ বইয়ের পাতায় পড়লাম। অন্যরকম এক অনুভূতি।
April 20, 2021
বহুবার পড়া গল্পটা আবার পড়তে গিয়ে একটা খটকা লাগলো। ডাক্তার ধরা পড়ার পরে তার কামরা খানাতল্লাশি করে মজুত কোকেন বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। অথচ ইতিপূর্বে উল্লেখ আছে অশ্বিনীবাবু খুন হলে মেসের প্রতিটি রুম চিরুনিতল্লাশি করা হয়েছিল। সেই সময় ডাক্তার কী করে কোকেন লুকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন তার ব্যাখ্যা পেলাম না।
September 4, 2022
ফেলুদার চাইতে ব্যোমকেশ নাকি বেশি জমে? কয়জনকে বলতে শুনে আজন্ম ফেলুদা-প্রেমী আমি কথাটা মিলিয়ে নিতে চাইলাম।
ব্যোমকেশ কে প্রথম পড়া।ফ্যাসিনেটেড না হলেও রোমাঞ্চিত হলাম।
ব্যোমকেশ কে প্রথম পড়া।ফ্যাসিনেটেড না হলেও রোমাঞ্চিত হলাম।
April 16, 2017
ব্যোমকেশ বক্সীর সঙ্গে পরিচয় বেশ অনেকদিনের হলেও ৮-১০টার বেশি গল্প পড়া হয়ে ওঠেনি, তাই এবার সমগ্রটা কিনে ফেললাম। একদম গোড়া থেকেই শুরু করলাম।
অজিত আর ব্যোমকেশের পরিচয়টা বেশ ভালোভাবেই হয়ে গেল, যদিও আরও ভালো হওয়ার সুযোগ ছিল। তবে শুরু হিসেবে সার্থকতা সবচেয়ে বেশি এই জায়গায় যে, পরের গল্পে টেনে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপার আগ্রহী করে তুলেছে।
অজিত আর ব্যোমকেশের পরিচয়টা বেশ ভালোভাবেই হয়ে গেল, যদিও আরও ভালো হওয়ার সুযোগ ছিল। তবে শুরু হিসেবে সার্থকতা সবচেয়ে বেশি এই জায়গায় যে, পরের গল্পে টেনে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপার আগ্রহী করে তুলেছে।
August 20, 2026
বাংলা সাহিত্যের গোয়েন্দা চরিত্রগুলোর মধ্যে ব্যোমকেশ বক্সী নিঃসন্দেহে সবচেয়ে স্বতন্ত্র ও জনপ্রিয় নামগুলোর একটি। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৃষ্ট এই চরিত্রকে কেবল ‘গোয়েন্দা’ বললে যেন তার প্রতি কিছুটা অবিচারই করা হয়। কারণ ব্যোমকেশ নিজেকে গোয়েন্দা হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। তার নিজের ভাষায় সে ‘সত্যান্বেষী’ বা সত্যের অনুসন্ধানকারী। আর এই পরিচয়ের মধ্যেই লুকিয়ে আছে চরিত্রটির মৌলিকত্ব। ‘সত্যান্বেষী’ গল্পের মধ্য দিয়েই পাঠকের সঙ্গে ব্যোমকেশের প্রথম পরিচয়।
গল্পের শুরুটা হয় অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে
। তার ভাষাতেই গল্প এগিয়ে চলে। কলকাতায় বাসস্থান খুঁজতে গিয়ে অজিত একটি মেসে ওঠে। সেই মেসেই তার পরিচয় হয় এক অদ্ভুত যুবকের সঙ্গে নাম অতুলচন্দ্র মিত্র। প্রথম দেখায় মানুষটির মধ্যে এমন কিছু বিশেষত্ব চোখে পড়ে না, কিন্তু তার আচরণ, কথাবার্তা এবং চারপাশের ঘটনাবলি সম্পর্কে তার অস্বাভাবিক সচেতনতা ধীরে ধীরে অজিতের কৌতূহল বাড়িয়ে তোলে। কে এই যুবক? কোথা থেকে এসেছে? মেসের মধ্যে আড়ালে ঘটে চলেছে আরো কিছু অজানা ঘটনা। এবং অতুলকে সেই ঘটনার সাথে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। অজিত অবাক হয় আবারো। কী তীক্ষ্ণ বুদ্ধি দিয়ে, যুক্তি উপস্থাপন করলো সে। অতুলের বিস্তারিত পরিচয় এবং মেসের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে হবে।
সত্যান্বেষী গল্প থেকেই শুরু হয় ব্যোমকেশ ও অজিতের দীর্ঘ সঙ্গযাত্রা। পরবর্তী গল্পগুলোতে যে সম্পর্ক আরও গভীর ও পরিণত হবে। ব্যোমকেশের তীক্ষ্ণ যুক্তি ও পর্যবেক্ষণকে অজিতের সহজ-সরল দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ফলে গল্পের রহস্য যেমন উপভোগ্য হয়, তেমনই ব্যোমকেশের চরিত্রটিও ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয়।
‘সত্যান্বেষী’ গল্পের অন্যতম আকর্ষণ হলো এর পরিবেশ। কলকাতার মেসজীবন, অপরিচিত মানুষের সহাবস্থান, রাতের নিস্তব্ধতা এবং তার আড়ালে লুকিয়ে থাকা অপরাধ মোটকথা সবকিছু মিলিয়ে শরদিন্দু এমন এক আবহ তৈরি করেছেন, যেখানে সাধারণ জীবনের মধ্যেই অস্বাভাবিকতার জন্ম হয়। এই সাধারণতার আড়ালেই রহস্যকে লুকিয়ে রাখার কৌশল শরদিন্দুর অন্যতম বড় সাফল্য।
গল্পের রহস্যের কেন্দ্রে রয়েছে একটি অপরাধ এবং তার সঙ্গে যুক্ত মানুষের জটিল মনস্তত্ত্ব। ব্যোমকেশের পরিচয়ে বোঝা যাবে তার অনুসন্ধান শুধু বাহ্যিক প্রমাণের ওপর নির্ভর করে না। সে মানুষের আচরণ, কথাবার্তা, মানসিক দুর্বলতা এবং পরিস্থিতির সূক্ষ্ম অসঙ্গতিগুলোও খেয়াল করে। তার অনুসন্ধান তাই গভীরে খতিয়ে দেখার মতো করে এগিয়ে চলে। বরং কেন অপরাধ ঘটল, অপরাধের পেছনে মানুষের কী প্রবৃত্তি কাজ করল সেই প্রশ্নও তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
এই দিক থেকেই ‘সত্যান্বেষী’ নামটির তাৎপর্য গভীর। ব্যোমকেশের উদ্দেশ্য কেবল অপরাধীকে পু*লিশের হাতে তুলে দেওয়া নয়। সে সত্যকে তার পূর্ণাঙ্গ রূপে জানতে চায়। সত্য কখনো কখনো অত্যন্ত অস্বস্তিকর, কখনো নির্মম, আবার কখনো মানুষের সামাজিক পরিচয়ের আড়ালে চাপা পড়ে থাকে। ব্যোমকেশ সেই চাপা পড়া সত্যের কাছেই পৌঁছাতে চায়।
শরদিন্দুর লেখার আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো তার ভাষা। ‘সত্যান্বেষী’-তে ভাষা পরিমিত, স্বচ্ছ এবং মার্জিত। অযথা নাটকীয়তা সৃষ্টি না করেও তিনি রহস্যের আবহ তৈরি করতে পেরেছেন। কোথাও উত্তেজনা, কোথাও নিস্তব্ধতা, কোথাও আবার হালকা রসিকতা। সবকিছুই অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে গল্পের সঙ্গে মিশে আছে। অজিতের বর্ণনাভঙ্গি গল্পটিকে আরও সহজপাঠ্য করে তুলেছে।
ব্যোমকেশ চরিত্রটিও প্রথম গল্পেই বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য নিয়ে পাঠকের সামনে উপস্থিত হয়। সে বুদ্ধিমান, আত্মবিশ্বাসী এবং পর্যবেক্ষণক্ষম। কিন্তু অহংকারী নন। তার মধ্যে যুক্তিবাদী মন যেমন আছে, তেমনই আছে নৈতিকতার বোধ। অপরাধের রহস্য সমাধানের পাশাপাশি সে সত্যের প্রতি এক ধরনের নৈতিক দায়বদ্ধতা অনুভব করে। এ কারণেই তার ‘সত্যান্বেষী’ পরিচয়টি নিছক একটি নাম নয়। এটি তার জীবনদর্শনেরও পরিচয়।
অজিতের সঙ্গে ব্যোমকেশের সম্পর্ক গল্পটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। অজিত ব্যোমকেশের তুলনায় অনেক বেশি সাধারণ মানুষ। ফলে ব্যোমকেশের অসাধারণ পর্যবেক্ষণক্ষমতা ও বুদ্ধির বিপরীতে অজিতের বিস্ময়, কৌতূহল এবং কখনো কখনো সরল ভুলগুলো পাঠকের সঙ্গে এক ধরনের সেতুবন্ধন তৈরি করে। তাদের বন্ধুত্বের মধ্যে কোনো কৃত্রিমতা নেই। বরং রহস্যের পাশাপাশি এই বন্ধুত্বই পরবর্তী ব্যোমকেশ কাহিনিগুলোর অন্যতম প্রাণ হয়ে ওঠে।
এটি শুধু একটি রহস্যগল্প নয়, বরং একটি স্মরণীয় চরিত্রের জন্মকাহিনি। এখানে শরদিন্দু এমন একজন অনুসন্ধানী মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, যিনি পাশ্চাত্যের প্রচলিত গোয়েন্দা চরিত্রগুলোর অনুকরণ নন। ব্যোমকেশ বাঙালি সমাজ, বাঙালি মধ্যবিত্ত জীবন এবং ভারতীয় সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তার অনুসন্ধানের ক্ষেত্রেও তাই কেবল অপরাধ নয়, মানুষ ও সমাজের নানা স্তর উঠে আসে।
‘সত্যান্বেষী’ শুধু ব্যোমকেশ সিরিজের একটি গল্প নয়। এটি বাংলা রহস্যসাহিত্যের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। এই গল্পের মাধ্যমে পাঠক পেয়েছে ব্যোমকেশকে, পেয়েছে অজিতকে এবং পেয়েছে এমন এক রহস্যভেদী ধারার সূচনা, যেখানে বুদ্ধি, যুক্তি, মনস্তত্ত্ব ও মানবিকতা একসঙ্গে কাজ করে। শরদিন্দুর ‘সত্যান্বেষী’ পড়ার অভিজ্ঞতা শুধু একটি রহস্যের সমাধান জানার আনন্দ নয়। বরং ব্যোমকেশের সাথে পরিচিত হয়ে ধীরে ধীরে যেন তার সব কে*সের সঙ্গী হয়ে যাওয়া।
🧀 বইয়ের নাম: "সত্যান্বেষী"
🧀 লেখক: শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
গল্পের শুরুটা হয় অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে
। তার ভাষাতেই গল্প এগিয়ে চলে। কলকাতায় বাসস্থান খুঁজতে গিয়ে অজিত একটি মেসে ওঠে। সেই মেসেই তার পরিচয় হয় এক অদ্ভুত যুবকের সঙ্গে নাম অতুলচন্দ্র মিত্র। প্রথম দেখায় মানুষটির মধ্যে এমন কিছু বিশেষত্ব চোখে পড়ে না, কিন্তু তার আচরণ, কথাবার্তা এবং চারপাশের ঘটনাবলি সম্পর্কে তার অস্বাভাবিক সচেতনতা ধীরে ধীরে অজিতের কৌতূহল বাড়িয়ে তোলে। কে এই যুবক? কোথা থেকে এসেছে? মেসের মধ্যে আড়ালে ঘটে চলেছে আরো কিছু অজানা ঘটনা। এবং অতুলকে সেই ঘটনার সাথে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। অজিত অবাক হয় আবারো। কী তীক্ষ্ণ বুদ্ধি দিয়ে, যুক্তি উপস্থাপন করলো সে। অতুলের বিস্তারিত পরিচয় এবং মেসের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে হবে।
সত্যান্বেষী গল্প থেকেই শুরু হয় ব্যোমকেশ ও অজিতের দীর্ঘ সঙ্গযাত্রা। পরবর্তী গল্পগুলোতে যে সম্পর্ক আরও গভীর ও পরিণত হবে। ব্যোমকেশের তীক্ষ্ণ যুক্তি ও পর্যবেক্ষণকে অজিতের সহজ-সরল দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ফলে গল্পের রহস্য যেমন উপভোগ্য হয়, তেমনই ব্যোমকেশের চরিত্রটিও ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয়।
‘সত্যান্বেষী’ গল্পের অন্যতম আকর্ষণ হলো এর পরিবেশ। কলকাতার মেসজীবন, অপরিচিত মানুষের সহাবস্থান, রাতের নিস্তব্ধতা এবং তার আড়ালে লুকিয়ে থাকা অপরাধ মোটকথা সবকিছু মিলিয়ে শরদিন্দু এমন এক আবহ তৈরি করেছেন, যেখানে সাধারণ জীবনের মধ্যেই অস্বাভাবিকতার জন্ম হয়। এই সাধারণতার আড়ালেই রহস্যকে লুকিয়ে রাখার কৌশল শরদিন্দুর অন্যতম বড় সাফল্য।
গল্পের রহস্যের কেন্দ্রে রয়েছে একটি অপরাধ এবং তার সঙ্গে যুক্ত মানুষের জটিল মনস্তত্ত্ব। ব্যোমকেশের পরিচয়ে বোঝা যাবে তার অনুসন্ধান শুধু বাহ্যিক প্রমাণের ওপর নির্ভর করে না। সে মানুষের আচরণ, কথাবার্তা, মানসিক দুর্বলতা এবং পরিস্থিতির সূক্ষ্ম অসঙ্গতিগুলোও খেয়াল করে। তার অনুসন্ধান তাই গভীরে খতিয়ে দেখার মতো করে এগিয়ে চলে। বরং কেন অপরাধ ঘটল, অপরাধের পেছনে মানুষের কী প্রবৃত্তি কাজ করল সেই প্রশ্নও তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
এই দিক থেকেই ‘সত্যান্বেষী’ নামটির তাৎপর্য গভীর। ব্যোমকেশের উদ্দেশ্য কেবল অপরাধীকে পু*লিশের হাতে তুলে দেওয়া নয়। সে সত্যকে তার পূর্ণাঙ্গ রূপে জানতে চায়। সত্য কখনো কখনো অত্যন্ত অস্বস্তিকর, কখনো নির্মম, আবার কখনো মানুষের সামাজিক পরিচয়ের আড়ালে চাপা পড়ে থাকে। ব্যোমকেশ সেই চাপা পড়া সত্যের কাছেই পৌঁছাতে চায়।
শরদিন্দুর লেখার আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো তার ভাষা। ‘সত্যান্বেষী’-তে ভাষা পরিমিত, স্বচ্ছ এবং মার্জিত। অযথা নাটকীয়তা সৃষ্টি না করেও তিনি রহস্যের আবহ তৈরি করতে পেরেছেন। কোথাও উত্তেজনা, কোথাও নিস্তব্ধতা, কোথাও আবার হালকা রসিকতা। সবকিছুই অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে গল্পের সঙ্গে মিশে আছে। অজিতের বর্ণনাভঙ্গি গল্পটিকে আরও সহজপাঠ্য করে তুলেছে।
ব্যোমকেশ চরিত্রটিও প্রথম গল্পেই বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য নিয়ে পাঠকের সামনে উপস্থিত হয়। সে বুদ্ধিমান, আত্মবিশ্বাসী এবং পর্যবেক্ষণক্ষম। কিন্তু অহংকারী নন। তার মধ্যে যুক্তিবাদী মন যেমন আছে, তেমনই আছে নৈতিকতার বোধ। অপরাধের রহস্য সমাধানের পাশাপাশি সে সত্যের প্রতি এক ধরনের নৈতিক দায়বদ্ধতা অনুভব করে। এ কারণেই তার ‘সত্যান্বেষী’ পরিচয়টি নিছক একটি নাম নয়। এটি তার জীবনদর্শনেরও পরিচয়।
অজিতের সঙ্গে ব্যোমকেশের সম্পর্ক গল্পটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। অজিত ব্যোমকেশের তুলনায় অনেক বেশি সাধারণ মানুষ। ফলে ব্যোমকেশের অসাধারণ পর্যবেক্ষণক্ষমতা ও বুদ্ধির বিপরীতে অজিতের বিস্ময়, কৌতূহল এবং কখনো কখনো সরল ভুলগুলো পাঠকের সঙ্গে এক ধরনের সেতুবন্ধন তৈরি করে। তাদের বন্ধুত্বের মধ্যে কোনো কৃত্রিমতা নেই। বরং রহস্যের পাশাপাশি এই বন্ধুত্বই পরবর্তী ব্যোমকেশ কাহিনিগুলোর অন্যতম প্রাণ হয়ে ওঠে।
এটি শুধু একটি রহস্যগল্প নয়, বরং একটি স্মরণীয় চরিত্রের জন্মকাহিনি। এখানে শরদিন্দু এমন একজন অনুসন্ধানী মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, যিনি পাশ্চাত্যের প্রচলিত গোয়েন্দা চরিত্রগুলোর অনুকরণ নন। ব্যোমকেশ বাঙালি সমাজ, বাঙালি মধ্যবিত্ত জীবন এবং ভারতীয় সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তার অনুসন্ধানের ক্ষেত্রেও তাই কেবল অপরাধ নয়, মানুষ ও সমাজের নানা স্তর উঠে আসে।
‘সত্যান্বেষী’ শুধু ব্যোমকেশ সিরিজের একটি গল্প নয়। এটি বাংলা রহস্যসাহিত্যের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। এই গল্পের মাধ্যমে পাঠক পেয়েছে ব্যোমকেশকে, পেয়েছে অজিতকে এবং পেয়েছে এমন এক রহস্যভেদী ধারার সূচনা, যেখানে বুদ্ধি, যুক্তি, মনস্তত্ত্ব ও মানবিকতা একসঙ্গে কাজ করে। শরদিন্দুর ‘সত্যান্বেষী’ পড়ার অভিজ্ঞতা শুধু একটি রহস্যের সমাধান জানার আনন্দ নয়। বরং ব্যোমকেশের সাথে পরিচিত হয়ে ধীরে ধীরে যেন তার সব কে*সের সঙ্গী হয়ে যাওয়া।
🧀 বইয়ের নাম: "সত্যান্বেষী"
🧀 লেখক: শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
June 20, 2023
ভেবেছিলাম, এ গল্প জুড়ে শুধু পরিচয় পর্ব থাকবে। পরিচয়ের সাথে যে সুন্দর একটা গল্প থাকবে বুঝি নি।
অনুকূলবাবুর মেস বাসায় থাকেন ঘনশ্যামবাবু, অশ্বিনীবাবু আর অজিত। একদিন হুট করে মেসের খোঁজে আসেন অতুল। ঘর খালি না থাকায়, অজিত তার সাথে অতুলকে থাকতে বলেন। ভালোয় ভালোয় সাপ্তাহখানেক কাটার পর, মেসে নানা বিচিত্র ঘটনা ঘটা শুরু করলো।
আগে থেকেই এ এলাকায় একের পর এক খুন হতো, কোকেনের ব্যবসা চলে এমন গুঞ্জনও পাওয়া যাচ্ছিলো।এর মাঝেই খুন হলেন অশ্বিনীবাবু। অশ্বিনীবাবুর খুনের রহস্য সমাধান করতে গিয়ে বোমকেশ বক্সী সত্যান্বেষীর পরিচয় এবং কোকেন ব্যবসা ও আগের খুনগুলোর রহস্য উন্মোচন!
অনুকূলবাবুর মেস বাসায় থাকেন ঘনশ্যামবাবু, অশ্বিনীবাবু আর অজিত। একদিন হুট করে মেসের খোঁজে আসেন অতুল। ঘর খালি না থাকায়, অজিত তার সাথে অতুলকে থাকতে বলেন। ভালোয় ভালোয় সাপ্তাহখানেক কাটার পর, মেসে নানা বিচিত্র ঘটনা ঘটা শুরু করলো।
আগে থেকেই এ এলাকায় একের পর এক খুন হতো, কোকেনের ব্যবসা চলে এমন গুঞ্জনও পাওয়া যাচ্ছিলো।এর মাঝেই খুন হলেন অশ্বিনীবাবু। অশ্বিনীবাবুর খুনের রহস্য সমাধান করতে গিয়ে বোমকেশ বক্সী সত্যান্বেষীর পরিচয় এবং কোকেন ব্যবসা ও আগের খুনগুলোর রহস্য উন্মোচন!
March 27, 2020
পরিচয় সেরে নিলুম ব্যোমকেশের সাথে। তবে আমার কাছে প্রেডিক্টেবল ছিল! তবে পাঠকের মনযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা যে অতুলনীয় ছিল তা মানতেই হবে।
May 9, 2021
সানডে সাসপেন্সে শুনতে বেশ ভালোলাগে ফেলুদা,ব্যোমকেশ।
October 4, 2021
I don't have anything to say about this marvellous creation.
December 15, 2021
আহ সত্যান্বেষীর সত্যান্বেষণ!!
June 11, 2026
শুরুতেই দারুন। 👌
September 5, 2026
Certainly grabbed and kept my attention.
Displaying 1 - 30 of 82 reviews






























