টাঙ্গাইলের কাঞ্চনপুর গ্রাম। হঠাৎই সেখানে অদ্ভুত এক চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিল। দেখতে দেখতে সেটা মহামারীর দিকে চলে যাচ্ছে দেখে আতঙ্কে এলাকা ছাড়া শুরু করল সবাই। সরকারী কর্মকর্তা আজফার সাহেব তাঁর দুই সন্তানসহ ঢাকায় তাঁর স্ত্রীর কাছে রওনা দিতে যাচ্ছেন, এমনি সময় বাসায় এসে উপস্থিত সেই কাঞ্চনপুর নিবাসী এক দুর্সম্পর্কের ভাই। তাঁর ছেলের নাকি কী অসুখ। ওদিকে ঢাকা ছেড়ে যাবার পথে পরদিন থেকে শুরু হলো একের পর এক বিপত্তি। হঠাৎই অদ্ভুত বেশের এক রহস্যময় সন্ন্যাসীকে দেখা গেল আশেপাশে। শহর ছাড়ার ঠিক আগে নামল দারুণ ঝড়। ভেঙে পড়ল সেতু, সবাই আটকা— ওদিকে পোড়ো জঙ্গলের যাকে বলে ‘শয়তানের থান’ সেদিক থেকে অদ্ভুত গোঙানির আওয়াজ আসছে, তবে কি ফকির বাড়ির সেই গল্পটাই সত্যি? পিশাচ জেগে উঠছে সাতশো বছর পর? পিশাচ কাহিনী, হরর ট্রিলজির প্রথম বই।
ঢাকা কমিকস-এর এখন পর্যন্ত পড়া সিরিজ গুলোর মাঝে এটা প্রথম দিকে রাখছি। এই সিরিজটা অল্প সিনের মাঝে বেশ ভালো গোছানো ছিলো। আঁকা আর ডায়লগ গুলোও ছিলো পার্ফেক্ট। হঠাৎ করে পুরনো এক শক্তিকে শত শত বছর পর জাগিয়ে তোলার গল্প এটা। গল্পের শুরু থেকেই হরর ভাবটা ছিলো। মাঝে বাস্তব দুনিয়ায় মহামারি, প্রতিকূলতা, পরিস্থিতির চিত্র গল্পটাকে দিয়েছে প্রাণ। ব্যাকস্টোরি দেখানোটাও ছিল সুন্দর। এই ধরণের পরিপক্ক কাজ চাই। অল্প কথা হলেও গল্প হোক ছিমছাম।
শুরু হিসেবে চমৎকার। পরের পর্ব পড়বার ইচ্ছা তৈরি করতে পেরেছে। তন্ত্রমন্ত্রে আগ্রহ থাকলে ইচ্ছাটা আরো বাড়তে পারে।
গ্রাফিক্সের আঁকা ভাল কিন্তু কেমন যেন হিজিবিজি হিজিবিজি লেগেছে। লেখা আর আঁকা এত বেশি মিলেমিশে গেছে যে চোখের উপর চাপ পড়ে। আঁকার যে ধরণ তাতে কালার গ্রাফিক্স হলে ভাল হত সম্ভবত।
এমন কমিকস বাংলাদেশে আগে পাইনি। অসাধারণ লেগেছে! তবে দৈর্ঘ্যটা আরেকটু বাড়ালে জমবে বেশ! ঢাকা কমিকসের ফেসবুক গ্রুপে বলেছি, এখানেও বলছি—বিভূতিভূষণের ভৌতিক ও অলৌকিক গল্পগুলো কমিকে রূপান্তর করলে তা হবে পড়ার মতো জিনিস!
ট্যুরে যাওয়ার সময় বাসে বসে পড়ছিলাম। বাসের ঝাকুনির মধ্যেও কাহিনী হরর আর থ্রিলার পাগল মনকে ভালো নাড়া দিতে পেরেছে। প্রথম পর্ব শেষ করার সাথে সাথেই দ্বিতীয় পর্ব পড়ার তীব্র ইচ্ছা অনুভব করেছি।