আল্লাহর রাসূলকে ﷺ একটা চমৎকার গুণ দেওয়া হয়েছিল -জাওয়ামি আল-কালাম -অর্থাৎ অল্প কথায় গভীর ভাব ব্যক্ত করার ক্ষমতা। আমাদের এ যুগে রাসূলের সেই গুণটি যারা সংরক্ষণ করেছেন তাদের একজন শাইখ আব্দুল আযীয আত তারিফী. তাঁর কথাগুলো কুরআনে ভাষায় যেন সূরা ইবরাহীমের সেই ‘একেকটি বৃক্ষ, সুদৃঢ় যার মূল, আকাশছোঁয়া তার শাখা-প্রশাখা … আর আল্লাহ তাআলা মজবুত কথা দ্বারা মু’মিনদের মজবুতি দান করেন…’ . আমরা শাইখের অমূল্য সেসব কথা দিয়ে একটি বন সাজিয়েছি, সবুজ পাতার বন। শাইখের হৃদয়ে শিহরণ জাগানো আর ঈমানে স্ফুলিঙ্গ জ্বালানো কথামালা এই বনের এক একটি বৃক্ষ। আছে সুশোভিত ডালপালা, ফলফলাদি আর ফুলের সুবাস। আকীদার বুনিয়াদি বিষয় থেকে শুরু করে আত্মশুদ্ধি, শাসক-শাসিতের প্রতি নসিহত, আলেমের মানহাজ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ধ্যান ধারণা, উম্মাহর দুর্দশা, পশ্চিমা আগ্রাসন, মডারেট ইসলামের মিথ্যে খোলস সব বিষয়েই প্রিয় শাইখের হৃদয় জাগানিয়া এবং শিহরণ জাগানো বাক্যের গাঁথনি যেন এই বাগানের একটি সুবজ পাতা।
টুক টুক করে অনেকদিন ধরে পড়ে শেষ করলাম বইটা, আলাহামদুলিল্লাহ!! এর কারণ এটা নয় যে বইটা খুব বিরক্তিকর বা এরকম কিছু। আমার প্রতিক্রিয়া বরংচ সম্পূর্ণ বিপরিত। আসলে বইটা শাইখ আবদুর রহমান আযীয আত-তারিফী হা. এর ছোট ছোট অনেকগুলো বাণীর সংকলন। আর এ প্রত্যেকটি বাণীই প্রজ্ঞাপূর্ণ আর প্রত্যেকটিতেই রয়েছে আমাদের জন্য চিন্তার খোরাক। আবার অন্যান্য বইয়ের মতো বড় বড় প্রবন্ধ না থাকায় আর বাণীগুলোর মধ্যে ধারাবাহিকতা না থাকায়ও এক বসায় খুব বেশি পড়া কঠিন।
আলেমগণের জ্ঞানের প্রধান উৎস কোরআন ও আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাদিসমুহেরও প্রচুর উল্লেখ এসেছে ছোট ছোট এই বাণীগুলোতে। যা সংক্ষিপ্তভাবে কোরআনের এই আয়াতগুলোর ও হাদিসে গুলোর মর্ম বুঝতেও সাহায্য করবে ইন শা আল্লাহ। তাই বুঝতেই পারছেন বইটি টানা পড়ে শেষ করা একটু কঠিন, অন্তন আমার তা মনে হয়েছে। তাই প্রতিদিন দুই,চার,ছয় পৃষ্ঠা এরকম করে পড়েছি। আপনারা আবার এটাকে বইয়ের নেতিবাচক দিক ভাববেন না। আসলে বইটা বোধহয় এরকমই, সাইড টেবিলে থাকবে দীর্ঘ দিন আপনার বন্ধু হয়ে, সাথী হয়ে।
শাইখের উক্তিগুলো কোনো কোনো সময় নিজেকে নিয়ে ভাবাবে, কোনো সময় সমাজকে নিয়ে, সমাজের প্রতি নিজের দায়িত্ব, আলেম সমাজ, আমাদের নেতৃবৃন্দ এরকম নানান বিষয় নিয়ে ভাবতে শেখাবে এবং সাথে সাথে সঠিক দিক-নির্দেশনাও দিবে। বিষয়সমূহের উপর ভিত্তি করে আবার এ বাণীগুলোকে সাতটি অধ্যায়ে বিভক্ত করা হয়েছে। অধ্যায়গুলো হলোঃ- বিশ্বাসের ভিত্তি,সত্য মিথ্যার চিরন্তন দ্বন্দ্ব, ইবাদাত ও আত্মশুদ্ধি, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ, অন্তরের ব্যাধিসমূহ, চিন্তার স্বাধীনতা নয় নফসের শিকল এবং সবশেষে মূল্যবান উপদেশ।
ইতিমধ্যে সিরাত পাবলিকেশন আমার একটি প্রিয় প্রতিষ্ঠান হয়ে গিয়েছে। তাদের মানসম্মত, রুচিশীল কাজ আমাকে মুগ্ধ করেছে। আল্লাহ তাদের সংশ্লিষ্ট সকলকে উত্তম প্রতিদান দিন, দৃঢ় রাখুন ও কাজে বারাকাহ দিন। আর আল্লাহ শাইখ আবদুল আযীয আত-তারিফী হা. কে উত্তম প্রতিদান দিন ও জালিমের হাত থেকে শীঘ্রই মুক্তি দান করুন।আমীন। অবশেষে বইটি থেকে দু'টি কথা...
যারা বলে ধর্মকে রাজনীতি থেকে পৃথক রাখা উচিত, তারা হয় আল্লাহকে স্রষ্টা বলে মানে না, অথবা নিজেকে আল্লাহর সৃষ্টি মনে করে না, আর নয়তো বাস্তবতাকে অস্বীকার করে। কারণ যুক্তি বলে যে, সৃষ্টির ব্যাপারে স্রষ্টাই সবচেয়ে ভালো জ্ঞান রাখেন। মানুষকে আর মানুষ যে দুনিয়া দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সেটা সৃষ্টি করলেন আল্লাহ। এখন সে-ই আল্লাহকে বলছে, "আমাদের দুনিয়ায় আপনার দ্বীনের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই!"
"মানুষ ধ্বংস হোক! সে কেমন কুফরিকারী!" (সূরাহ আবাসা ৮০ঃ১৭)
"তিনি শুক্রকীট থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন, অথচ সে প্রকাশ্য ঝগড়াটে সেজে বসলো!" (সূরাহ আন-নাহল ১৬ঃ৪)
-শাইখ আব্দুল আযীয আত-তারিফী -সবুজ পাতার বন
সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধকারীদের (মুসলিহ) দ্বারাই আল্লাহ উম্মাহকে রক্ষা করেন, সাধারণ নেককারদের (সালিহ) দ্বারা নয়। আল্লাহ বলেন,
"তোমার প্রতিপালক এমন নন যে তিনি অন্যায়ভাবে কোনো জনপদ ধ্বংস করবেন এমন অবস্থায় যে, তার অধিবাসীরা সংশোধনকারী।" (সুরাহ হুদঃ-১১৭)
-শাইখ আব্দুল আযীয আত-তারিফী -সবুজ পাতার বন
সমস্ত প্রশংসা এই বিশ্বজাহানের একক স্রষ্টা ও প্রতিপালক আল্লাহর!!!
শাইখের প্রত্যেকটা কথা অমূল্য মাশাআল্লাহ। কোরআন, হাদীস ও সাহাবীদের জীবনী থেকে শিক্ষাগুলো কি সুন্দর করেই না বলেছেন অল্প কথায় স্পষ্ঠভাবে! একেকটা উপদেশ যেন আমাদের সাবধান করে দেয়, নিজের রূপ দেখিয়ে দেয় আবার আশাও জাগিয়ে দেয় ঘুরে দাঁড়ানোর। আল্লাহ শাইখকে হিফাজত করুক, উনার সকল গুনাহ মাফ করে দিক, জান্নাত দান করুক। বইটার পেছনে কাজ করা সকল ভাইদের আল্লাহ বারাকাহ দান করুক, উনাদের পরিশ্রম কবুল করে নিক।
বইটা ১৬০ পাতার, চাইলেই একটানে পড়ে ফেলা যায়। আমার মত স্লথ রিডারও হয়ত ৪ দিনে পড়ে ফেলতে পারবে বইটা। কিন্তু বইটা শেষ করতে আমার বিশদিন মত লেগেছে; আমিই নিয়েছি সময়।
বইটা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লেখনির সমষ্টি। মাঝে মাঝে তিন লাইনের এসব লেখনি মিনিট দশেক ধরে আমাকে ভাবিয়েছে। নিজের ফিতরাতের সাথে যায় এমন সব লেখনিতে ভর্তি। কিছু প্যারা পড়ে ভেবেছি হয়ত আমাকেই উদ্দেশ্য করে বলছেন লেখক, কিছু কথা মনে হচ্ছে আমি বলতে চাই এমন সব কথা। পচ্ছন্দের সারির উপরে দিকে থাকবে বইটা।
আলহামদুলিল্লাহ, নিজের ও আশপাশের বিভিন্ন বিষয়ে নতুন করে ভাবনা সৃষ্টির জন্য বইটা এক মূখ্য উপাদান হতে পারে। বইটা আল-কুরআন ও হাদীসের সার-নির্যাস দিয়েই লেখা, চিন্তার খোরাক অবশ্যই। চিন্তাশীল মুসলিম পাঠকদের জন্য সুখপাঠ্য হবে ইনশা-আল্লাহ। আল্লাহ পাক , লেখকের মুক্তি তরাণিত্ব করুন, আমীন।
ইসলামিক ব্যক্তিত্ব শাইখ আব্দুল আযীয আত তারিফী এর মূল্যবান বক্তব্য নিয়ে সাজানো বইটি। পবিত্র আল কুরআন ও হাদিস এর রেফারেন্স দিয়ে শাইখ তাঁর বক্তব্য পেশ করেছেন।
বইটিতে আছে ৭টি অধ্যায়। ৭টি অধ্যায়ে ইসলামের মূল স্তম্ভগুলো, মুমিনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট, পশ্চিমাদের মূল নিশানা গুলো নিয়ে আলোচনা সহ মুল্যবান উপদেশ দিয়ে সাজানো হয়েছে। বইটি আমাদের ইসলামের পথে চলার পাথেয় হিসেবে কাজে দিবে ইনশাআল্লাহ্।