ফ্ল্যাপে লেখা-- কবিতাকে তিনি বলতেন 'পদ্য'। আর এই পদ্য রচনায় শক্তি চট্যোপাধ্যায় ছিলেন কিংবদন্তী-প্রতিম। চূড়ান্ত খ্যাতির অধিকারী এই কবি বিভিন্ন সময়ে অনুবাদ করেছেন অসংখ্য কবিতা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তূলনামূলক সাহিত্যের ছাত্র থাকাকালীন বুদ্ধদেব বসু, সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সান্নিধ্য তাঁকে বিদেশি কবিদের কবিতা অনুবাদে উদ্বুদ্ধ করে। বিভিন্ন সময়ে তিনি অনুবাদ করেন অমর খৈয়াম, গালিব, কালিদাস, হাইনে, লোরকা, মায়াকোভস্কি, রিলকে, পাবলো নেরুদা, প্রীতিশ নন্দীর কবিতা। গীতা অনুবাদে তার উৎসাহ ছিল বরাবর। ভারতীয় ভিন্নভাষী কবিদের কবিতা বাংলাভাষায় অনুবাদ করার প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করেছিলেন তিনি। শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের গ্রন্থাকারে প্রকাশিত এবং অগ্রন্থিত সব অনুবাদের অমূল্য সংকলন 'অনুবাদিত পদ্য'। কবিতাপাঠকের কাছে এই গ্রন্থের গুরুত্ব অসীম।
শক্তি চট্টোপাধ্যায়-এর জন্ম ২৫ নভেম্বর ১৯৩৩, বহড়ু, চব্বিশ পরগনা। শৈশবে পিতৃহীন। বহড়ুতে মাতামহের কাছে ও বাগবাজারে মাতুলালয়ে বড় হন। পড়াশোনা: বহড়ু হাইস্কুল, মহারাজা কাশিমবাজার স্কুল, প্রেসিডেন্সি কলেজ; যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্যে অধ্যয়ন অসমাপ্ত। বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকায় ‘যম’ কবিতা লিখে (১৯৫৬) সাহিত্যজগতে প্রবেশ। যুক্ত ছিলেন কৃত্তিবাস পত্রিকার সঙ্গে। ‘কবিতা সাপ্তাহিকী’ পত্রিকা প্রকাশ করে আলোড়ন তুলেছিলেন কবিতাজগতে৷ প্রণীত, অনূদিত-সম্পাদিত কবিতা ও গদ্যগ্রন্থের সংখ্যা শতাধিক, তা ছাড়া অজস্র অগ্রন্থিত রচনা ছড়িয়ে আছে পত্রপত্রিকায়। পেয়েছেন আনন্দ পুরস্কার, সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার, সম্বলপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গঙ্গাধর মেহের পুরস্কার, মরণোত্তর রবীন্দ্র পুরস্কার। জীবিকাক্ষেত্রে সাংবাদিক হিসেবে যুক্ত ছিলেন আনন্দবাজার পত্রিকার সঙ্গে। অতিথি-অধ্যাপক হিসেবে বিশ্বভারতীতে সৃষ্টিশীল সাহিত্যের অধ্যাপনায় রত থাকাকালীন অকস্মাৎ হৃদরোগে শান্তিনিকেতনে মৃত্যু, ২৩ মার্চ ১৯৯৫।
জাভেদ হুসেনের অনুবাদে উর্দু কবিতা পড়ার আগে অনুবাদিত কবিতা সেরকম পড়া হয়নি। অনভ্যস্ততাহেতু নাকি অনুবাদ ভালো হয়নি সেটা; বুঝলাম না। স্মুথলি পড়তে পারলাম না কবিতাগুলো।