সেই ১৯৫২ সালের স্কুলবয় শাহ্ মোয়াজ্জেম এলো ঢাকা জেলে। তারপর জীবনের বিভিন্ন সময় মিলে প্রায় ২০ বছর জেলেই কাটিয়েছেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ শাহ্ মোয়াজ্জেম হোসেন। এই কারাজীবনের বেশিরভাগ সময় স্থান জুটেছে রাজবন্দীদের সেল " ছাব্বিশ সেলে"। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর জেলহত্যা মামলায় আবারও ছাব্বিশ সেলে হাজির শাহ্ মোয়াজ্জেম। জেলহত্যা মামলার আসামী হিসেবে কারাবাসের স্মৃতিই " ছাব্বিশ সেল "। তাতে মিশে আসে বঙ্গবন্ধুসহ অনেক রথী,মহারথীদের সাথে কারাজীবনের অম্ল-মধুর অতীত। যা নির্ভেজাল তো নয়ই, অনেকক্ষেত্রে তা অম্লান বদনে মিথ্যা বলবার মতো মনে হয়েছে।
ভাষা আন্দোলনে ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অবস্থান ছিল। শাহ্ মোয়াজ্জেম ছাত্রলীগের তিনবারের সভাপতি, প্রথম সংসদের চিফ হুইপ, মোশতাকের মন্ত্রী, এরশাদের উপপ্রধানমন্ত্রী এবং সবশেষে বিএনপিতে আছেন। বুঝতেই পারছেন শাহ্ মোয়াজ্জেমের প্রোফাইল কতটা হাই।
জেলহত্যা মামলায় খালাস পেয়েছিলেন বাগ্মী নেতা শাহ্ সাহেব। ৯৬' এর শেখ হাসিনা সরকার তাকে নাহক কষ্ট দিচ্ছে দাবি করে যে ভাষায় তিনি আক্রমণ করেছেন তা অত্যন্ত অশালীন। বারবার নারীনেতৃত্বের 'কুফল' কে সামনে এনেছেন। তার সহকারাবন্দীদের সবার অপরাধে সাজাপ্রাপ্তিকে তিনি দেখেছেন তৎকালীন সরকারের কূটচাল হিসেবে!
মুক্তিযুদ্ধে সংগঠকের কাজ করেছেন (তার দাবি),প্রথম সংসদের চিফ হুইপ ছিলেন। অথচ বইয়ের পদে পদে শেখ মুজিব ও তার পরিবারের দোষ খুঁজে পেয়েছেন। তবুও বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় বড় পদধারী ছিলেন শাহ্ সাহেব। বঙ্গবন্ধুর এতই অপরাধ থাকলে কেন তাঁর চিফ হুইপ হলেন, এমপি হলেন তার ব্যাখা নাই। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক দাবি করা শাহ্ মোয়াজ্জেম যেভাবে মুক্তিযুদ্ধকে কলঙ্কিত করতে চেয়েছেন এই বইতে তা প্রায় অবিশ্বাস্য। খালেদা জিয়াকে বকাবকি করলেন অথচ বর্তমানে তিনি বিএনপির বড় পদধারী!
জেলজীবনের এমন কিছু স্মৃতি আছে যা শুধু জেলেই মেলে।
শাহ্ সাহেব আক্ষরিকঅর্থেই রাজনীতিক। তিনি জানেন, কখন মিথ্যা লিখতে হয়। বোঝেন যে সত্য সবাই কমবেশি জানে কখন কলম হাতে পেয়ে তা নির্দ্বিধায় অস্বীকার করতে হয়। সাধু! সাধু!