Ibrahim Kha or Ibrahim Khan (often referred as Principal Ibrahim Khan; c. 1894 – March 29, 1978) was a Bangladeshi litterateur. He was awarded Ekushey Padak in 1977 by the Government of Bangladesh.
Khan was born in Shabaj Nagar in Tangail District. He passed the Entrance examination from Pingna High School and FA from Ananda Mohan College in 1912 and 1914 respectively. He earned his bachelor's from St. Paul's Cathedral Mission College in 1916 and master's from Calcutta University as a private candidate. He obtained his law degree in 1918.
Khan received the titles of "Khan Sahib" and "Khan Bahadur" from the British government and the "Sitara-i-Imtiaz" from the Pakistani government. He won the Bangla Academy Literary Award in 1963 for his contribution to drama and the Ekushey Padak in 1977 for literature. Khan had one daughter, Khaleda Habib. Writer and filmmaker Humayun Ahmed married Khan's granddaughter Gultekin Khan.
পঞ্চাশের দশকের গোড়ায় ইব্রাহীম খাঁ পূর্ববঙ্গের আইনসভার সদস্য ছিলেন। সেই সুবাদে এই প্রতিনিধিদলের অংশ হয়ে ১৯৫১ সালে তুরস্ক, মিশর, সিরিয়া, সৌদি আরব ও ইরান সফরের মওকা পান। সেই ভ্রমণের বর্ণনা দিয়ে বিভিন্নজনকে চিঠি লেখেন। এই চিঠিগুলো 'দৈনিক আজাদ' পত্রিকায় ছাপা হয়। যা পরবর্তীতে 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে। ১৭২ পাতার বইটির প্রকাশক সুচয়নী পাবলিশার্স।
উড়োজাহাজে করে তুরস্কে পৌঁছান ইব্রাহীম খাঁ। ততদিনে আতার্তুক গত হয়েছেন। তবুও তার প্রণীত নিয়মকানুন তুরস্ক থেকে রহিত হয়নি। যেমন: সবাইকে বাধ্যতামূলক ইউরোপীয় পোশাক পরিধান, আরবির বদলে রোমান হরফে লেখা ইত্যাদি। তবে আতার্তুক তুরস্কের মাদারি জবানে আজান দেওয়ার বিধান জারি করেছিলেন। ইব্রাহীম খাঁ তা দেখেননি। তিনি আরবিতেই আজান শুনেছেন। তবে ধর্মনিরপেক্ষ তুর্কির তুলনায় ধর্মপন্থি তুর্কির উত্থানের একটা লক্ষণ তার চোখ এড়ায়নি।
মিশর ও সিরিয়া প্রাচীন সভ্যতার দেশ। এই দেশ দুইটিতে সফর লেখককে কতখানি সমৃদ্ধ করেছে, সেটি সুন্দরভাবে লিখেছেন। সিরিয়াতে লক্ষ করেছেন মাত্র ৪০ লাখ মানুষ। অথচ রাজনৈতিক দল অনেকগুলো। আবার, দেশটির একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ২৫ শ ছাত্রছাত্রীর মধ্যে প্রায় ৫ শ ছাত্রী। যা ইব্রাহীম খাঁকে মুগ্ধ করেছে।
এই বইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ সৌদি আরব সফর। পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের সদস্য সৌদি বাদশার অতিথি হিসেবে হজব্রত পালন করেছেন ইব্রাহীম খাঁ। ১৯৫১ সালের সৌদি আরবের সঙ্গে আজকের সৌদি আরবের তুলনা করলে বিস্মিত হতে হয়। তখন চরম দারিদ্র্যপীড়িত একটি দেশ ছিল সৌদি আরব। সেই সময়ে হজে ব্যবস্থাপনা বলে কিছুর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়াই মুসকিল। ইব্রাহীম খাঁ মদিনা নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন এভাবে,
"মদীনা শরীফের বর্তমান অবস্থা পরম বেদনাদায়ক। মুছলিম রাষ্ট্রের সর্বপ্রথম রাজধানী এই মদীনা—এইখানে বসে শাসন শক্তি পরিচালন করেছেন মহানবী নিজে, তারপর হজরত আবু বকর, তারপর মহাবাহু ওমর, তারপর হজরত ওছমান । প্রবল-প্রতাপ 'রোমক সম্রাটের দূত এইখানে এসে আমীরুল মুমেনীন ওমরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন । জাকাতের পয়সা গ্রহণের মত গরীব মদীনায় খুঁজে না পেয়ে খলীফা একবার বাইরে জাকাতের মাল পাঠাতে বাধ্য হয়েছিলেন। আর আজ মদীনাময় ফকীর মিছকীন।পথে ঘাটে চলতে ফিরতে ছেলেরা এসে হাত পাতে, মেয়েরা এসে হাত পাতে। মছজিদে ঢুকতে, মছজিদ হতে বের হতে দেখি রাস্তার দুইপাশে দাঁড়িয়ে ফকীর মিছকীনের সুদীর্ঘ কাতার। একটা মহল্লার ভিতরে গেলাম। বাড়ীঘর সবই পাকা; এক একটা দুয়ারের পাল্লা বিরাট-তার উপর ফুলের কাজ—কালো হয়ে গেছে—কতদিনের পুরানো কে জানে? এখানে বৃষ্টি নাই, বর্ষা নাই, শিশিরপাত নাই; কাজেই এখানকার শক্ত কাঠের জিনিষ পুরান হতে জানে না । মনে হয়, এসব বাড়ীর মালিকেরা এক কালে ধনে জনে সুখী ছিল । আর আজকের বাসিন্দা? দুনিয়ায় এদের মত দুঃখী বুঝি আর কোথাও নাই । পথ দিয়ে আমরা চলেছি-পায়ের আওয়াজ শুনে এরা বুঝেছে, হাজীরা যাচ্ছে। অমনি পাঠিয়ে দিয়েছে ছোট ছেলে মেয়ে- কিছু চাইতে। সুন্দর ফুটফুটে রং, পিয়ারা চেহারা-নিঃসন্দেহে ভাল ঘরের সন্তান। যে বাড়ীতে ছেলেমেয়ে নাই, সে বাড়ীর বাইরে দুয়ারের মধ্যে এক মস্তবড় গোলাকার ছিদ্র। সেই ছিদ্র পথে বেরিয়ে এসেছে একটি তরুণীর হাত-পাতা হাত-চিকন, সুডৌল গৌরবকান্তি, অলঙ্কারহীন- সুন্দর। আহা! "
মক্কার জান্নাতুল মালা কবরস্থান দেখতে যান ইব্রাহীম খাঁ। সেখানে গিয়ে দেখেন,
" ১৫ই সেপ্টেম্বর জান্নাতুল-মালা দেখতে গেলাম । জান্নাতুল-মালা মক্কার অদূরে অবস্থিত এক বিখ্যাত কবরস্তান । কবরখানাটি আকারে বিরাট । কোন এক কালে এর চারিদিকে প্রাচীর ছিল; এখন তার ভগ্নাবশেষ আছে মাত্র । অনেক কবরের উপরই পাকা ছাদ বা অমন কিছু ছিল; এখন সে সব কিছুই নাই, তার ভাঙা টুকরা এখানে সেখানে কিছু জড়িয়ে আছে । কবর খানার স্থানে স্থানে মলের দুর্গন্ধ পাওয়া গেল; মানুষকে পেশাব করতে নিজ চোখে দেখলাম। আগে কবরখানা অটুট ছিল; বহু লোক জিয়ারত করতে আসত। তাদের অনেকে নাকি কবরে ছেজদা করত । তাই পরে এসব ভেঙ্গে-চুরে একাকার করে দেওয়া হয়েছে, যাতে কবর কেউ চিনতে বা তার পারে ছেজদা করতে না পারে। কবরখানার ভিতরে অনেক পথ গেলাম-মাঝে মাঝেই নাকে রুমাল দিতে হল। "
সৌদি আরবের পর পারস্যে বাদশাহ রেজা শাহ পাহলভির আতিথ্য গ্রহণ করেন। স্বৈরাচারদের এই এক কৌশল, তারা বিদেশি মেহমানের সামনে সব সময় জনদরদি ও সুশাসক সাজার নিখুঁত অভিনয়ের চেষ্টা করে৷ ফলে সাময়িক সময়ের জন্য মেহমানের চোখে ধূলা দেওয়া যায়। ইব্রাহীম খাঁ-ও এই বিভ্রান্তিতে পড়েছিলেন। তার বয়ান পড়লে প্রত্যয় হবে রেজা শাহ পাহলভির মতো শাসক হয় না! তিনি লাখে এক। একই সময়ে ইরানের তেলখনি জাতীয়করণ নিয়ে বাদশাহের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোসাদ্দেকের বিরোধ চলছিল। ইব্রাহীম খাঁ এই সংকটের কথা উল্লেখ করেছেন। তার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী মোসাদ্দেকের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছিলেন। সেটি স্মৃতিচারণ করেছেন।
'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' অতুলনীয় কোনো সফরনামা নয়। তবে ইব্রাহীম খাঁ বরাবরই সহজসরল গদ্যে লেখেন। এই গুণপনার কারণে বইটা পড়তে মন্দ লাগবে না। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পারস্যে ভ্রমণপর্ব ইতিহাসের এক দলিল হতে পারে। এই অংশটুকুর জন্য পাঠক বইটা পড়ে দেখতে পারেন।
ইব্রাহিম খাঁ একটা সময় পাকিস্তান আইনসভার সদস্য ছিলেন। সে সূত্রে তিনি ১৯৫১ সালে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ইন্টার পার্লামেন্টেরিয়ান অধিবেশনে পাকিস্তানের পক্ষে যোগদানের সুযোগ পান। এ সময় তিনি তাঁর আপনজনদের কাছে বেশকিছু চিঠি পাঠান। সে-সব চিঠির সংকলন এ বইটা।
এ উপলক্ষে তিনি তাঁর সহকর্মী দুজনের সাথে ইস্তাম্বুলে পৌঁছান। পথিমধ্যে তিনি লেবানন, সিরিয়া হয়ে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে উপস্থিত হন। লেখকের বর্ণনায় ষাটের দশকে সিরিয়া, লেবাননের প্রকৃত চিত্র উঠে এসেছে। তিনি সিরিয়ার শিক্ষিতের হার দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। এ সময় তিনি আলেপ্পো, হোমস, দামেস্কের মতো নগরী ঘোরাঘুরি করার সুযোগ পান।
অধিবেশনটি ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হওয়ায় পুরো ইস্তাম্বুল ও এর আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেছেন। তখন কামাল আতাতুর্কের মৃত্যু ঘটেছে। কিন্তু তাঁর গৃহীত সংস্কার কার্যক্রম চলমান ছিল। লেখক ইস্তাম্বুলে পশ্চিমা সংস্কৃতির ছাপ দেখতে পান। এ সময়টাতে লেখক তুরস্কের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা ঘুরে দেখেন।
ফেরবার সময় লেখক মক্কা শরীফে হজ্জ পালন করেন। সে সময়টাতে বাদশাহ্ আল সৌদ জীবিত ছিলেন। তখন কেবলমাত্র আরব উপদ্বীপে খনিজ তেলের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর ফলশ্রুতিতে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ছাপ লেখক পর্যবেক্ষণ করেন। তাসত্ত্বেও সৌদি আরবের অনেক জায়গা তখনও কঠিন দারিদ্র্যে নিমজ্জিত ছিল। লেখক মদিনায় ছোট ছোট বাচ্চাদের ভিক্ষাবৃত্তির কথা সরাসরি উল্লেখ করেছেন। এছাড়া সৌদি আরবে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার বেহাল অবস্থার কথা লেখক দুঃখের সাথে লিখেছেন।
হজ্জ পালন করে তাঁরা ইরানের তৎকালীন ব���দশার আতিথ্য গ্রহণ করেন। স্বৈরশাসকরা সবসময় আসলে বিদেশীদের কাছে নিজের মহানুভবতা দেখাতে চান। মনে হচ্ছে ইব্রাহিম খাঁ সাহেব লেখকের বাদশাহ্ র এ জারিজুরিতে বেশ বিভ্রান্ত হয়েছেন।
ষাটের দশকে মধ্যপ্রাচ্যের অবস্থার প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায় এ বইয়ে। বিশেষত তেলসম্পদ আবিষ্কৃত হওয়ার আগের বাস্তব ছবিটা বোঝা যায়। সহজ-সরল ভাষায় লেখকের বর্ণনা বেশ চমৎকার লেগেছে।