প্রফেসর ড. বেরি ফিল (১৯১৭-১৯৯৪) এর বিখ্যাত ’Saga America 1980' গ্রন্থ উন্মোচন করেছে প্রাচীন আমেরিকায় মুসলিমদের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ। ১৯৮৩ সালের ১২ জুলাই Three Rivers Press থেকে বইটি প্রকাশিত হওয়ার পরে আমেরিকার বুদ্ধিবৃত্তিক মহলে সৃষ্টি হয় ভিন্নরকম বিতর্ক। ড. ফিল বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক যুক্তি, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখান, প্রি-কলম্বিয়ান আমেরিকায় অন্তত দশটি স্থানে মাদরাসার অস্তিত্ব ছিলো। সবচে’ প্রসিদ্ধ মাদরাসা ছিলো নেভাদা, নিউ মেক্সিকো, কলোরাডো ও ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে। এসব মাদরাসা প্রতিষ্ঠার অনুমিত সময়কাল ৭০০ থেকে ৮০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে। ড. বেরি প্রাচীন দস্তাবেজ ও নকশা দ্বারা প্রমাণ করেন, প্রাচীন আমেরিকায় মাদরাসা শিক্ষা লাভ করেছিলো প্রভূত প্রসার ও উন্নতি।
দীর্ঘ একটা সময় পৃথিবীতে ইসলামের শাসন ছিলো। তারপর তারা পরাজিত হয় ইউরোপীয় শক্তির কাছে। আমরা সবাই জানি এবং মানি ইতিহাস লিখে বিজেতারা। তাই উভয় পক্ষের ইতিহাস পড়া উচিত বলে আমরা মত দেই।
তবে শুধু ইসলামের ব্যাপারে এটা আমরা মানি না। আর এই গ্রুপে তো সেটার প্রশ্নই উঠে না। ইসলাম এত বছর শাসন করে সামান্য হলেও যে কিছু করেছে তার এক আনাও আমরা স্বীকার করি না। শুধু মাত্র একপাক্ষিক বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে আমরা সব সময় ইসলামকে টেনে নামিয়ে ধরি। এই গ্রুপে তো হামলে পড়ে অনেকে। যদি বলা হয় আপনি বইটি পড়েছেন? বা সূত্রটি মিথ্যা প্রমাণ করতে পারবেন? তখন সে প্রশ্নের উত্তর বেশির ভাগ সময় আসে না৷
আমি বলতেছি না মুসলমানরাই সব করেছে বা অন্যদের কোনোই ভূমিকা নেই। বর্তমানে হিসেবে করলেও তারা অনেক বেশিই এগিয়ে। এক কথায় একচেটিয়া। তবে অই দীর্ঘসময়টা একদম বসে খেয়ে কাটায়নি সব মুসলিম। অনেকেই কাজ করেছে হয়তো বেশি কিছু করতে পারেনি তবে চেষ্টা চালিয়েছে৷ এই এতটুকু কথা আমরা স্বীকার করি না। করতে চাইও না। শুধু ইসলামের ক্ষেত্রে আমাদের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড। এতে আমি অন্যদের দোষ দিবো না। কারণ এই বিরোধীরা আমাদের ধর্মের ফ্যামিলি গুলো থেকেই বেশি জন্ম নিয়েছে।
ছোট এই বইতে লেখক বিভিন্ন বই, প্রতিবেদন, ভার্সিটি শিক্ষকদের উক্তি ব্যবহার করেছেন। যেখানে বলা আছে কলম্বাসের আগেই সেখানে মুসলিমদের অস্তিত্বের কথা। বিভিন্ন শহরের নাম আরবিতে ছিলো বলেও দাবি করা হয়েছে যা পরবর্তীতে পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছিলো। তাছাড়া কলম্বাসের অত্যাচার, সেখানকার মানুষদের দাসে পরিণত করা, গণহত্যাও উঠে এসেছে বইটিতে। এই আরেকটি ব্যাপার হলো ইসলামের বিরুদ্ধে থাকা মানুষগুলো কখনো পশ্চিমাদের হত্যাগুলোকে দোষ হিসেবে দেখে না৷ তার প্রমাণ কিন্তু সাম্প্রতিক কালের করোনায় নিহতদের প্রতি সমবেদনা আর গত ১০ বছর চলা মুসলিম হত্যার তুলনা করলেই বুঝা যাচ্ছে৷ বই থেকে কিছু উদ্ধৃতি দিয়ে দিলামঃ
প্রফেসর ড. বেরি ফিল saga america, 1980 গ্রন্থে বলেছেন, প্রি-কলম্বিয়ান আমেরিকায় অন্তন দশটি স্থানে মাদরাসার অস্তিত্ব ছিলো।
জে এইচ ক্রেমার্স- মুসলিম ভৌগলিক মতবাদ নতুন বিশ্ব(আমেরিকা) আবিষ্কারে একটি হিস্যা দাবি করতে পারে।
রেনেসাঁ যুগের ইউরোপ মুসলমানদের সূত্র ছাড়া অন্ধকার মহাদেশের অভ্যন্তর ভাগ সম্পর্কে কিছুই জানত না- জে এইচ ক্রেমার্স
ক্রিস্টোফার কলম্বাস- তাদের মাথায় ছিলো রঙিন রুমালে বাঁধা, ঠিক যেন স্পেনিশ মুসলিমদের পাগড়ি
কলম্বাসের নৌবহরের চিকিৎসক - এই বাসাগুলোতে স্পেনীয়দের ব্যবহার্য অনেক জিনিসই দেখা গেলো। তা আর যাইহোক পণ্য বিনিময়ের ফলে তা এখানে এসেছে বলে মনে হয় না
চার্লস গডফ্রে লেলান্ড দাবি করেন হিজরি প্রথম শতকেই মুসলিমরা আমেরিকাতে এসেছিলো।
বইটিতে আরো অনেক গুলো রেফারেন্স দেয়া হয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান আমেরিকা মুসলিমদের আবিষ্কার বলে ঘোষণা দিয়েছেন বলেও দাবি করেন প্রকাশক।
ইতিহাস বরাবরই লিখিত হয় বিজয়ীদের দ্বারা। তারা তাদের খেয়ালখুশিমতো ইতিহাসকে সাজায়। কখনো মাটিচাপা দিয়ে দেয় চরম সত্যকেও আবার ভণ্ডামিকেও প্রতিষ্ঠিত করে অপরিবর্তনীয় সত্য হিসেবে। আমেরিকান ভূখণ্ড আবিষ্কার আর এতে একচেটিয়াভাবে কলম্বাস আর স্পেনকে🇪🇸 স্বীকৃত দেওয়া নিয়ম হয়ে গেছে। কারণ, তারা নিজেদের মতো করেই ইতিহাস লিখেছে, তা প্রচার করেছে। তুরস্কের🇹🇷 প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান যেদিন ঘোষণা করেন আমেরিকা🇺🇸 মুসলিমদের আবিষ্কার, সেদিন অনেক অমুসলিমের পাশাপাশি অনেক মুসলিমও হতবাক হন। এটি আবার কিভাবে সম্ভব? নিজেদের ইতিহাসের সাথে মুসলিম জাতির সম্পর্ক কত কম, তা বুঝতে হলে এ নজিরই যথেষ্ট। আমেরিকার মাটিতে পদার্পণ পঞ্চবিংশ শতাব্দীতে নয়। প্রাগৈতিহাসিক যুগেই সেখানে মানুষের আগমন ঘটেছিলো। কিন্তু নয়া যুগে ইউরোপিয়ানদের অনেক আগেই মুসলিমরা সেখানে আধিপত্য বিস্তার করেছিলো। তাদের নিজেদের নামকে ইতিহাসে অক্ষুণ্ণ রাখার অভিপ্রায় ছিলনা, কারণ, তাঁরা মনেপ্রাণে ছিলেন আল্লাহর গোলাম। তাই আজ এতো দ্বিধাবিভক্ত আমরা মুসলিম ঐতিহ্য নিয়ে। তাঁরা বাড়াবাড়ি কিছু করতেননা, তাই আমরাও পশ্চিমাদের দেখানো বীরত্বের ছবি অম্লান বদনে মেনে নেই। এই বইটি প্রচুর তথ্যবহুল এবং প্রচুর রেফারেন্স সমৃদ্ধ। অর্থার, এই একটি বই পড়লে আরও অন্তত ১০ টা এ বিষয়ক বই পড়তে আপনার মন খুটখুট করবে। এই বইতে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, পশ্চিমাদেরই গবেষণা দিয়ে যে, কলম্বাসের আমেরিকা বা নতুন ভূমি আবিষ্কারের উদ্দেশ্য মোটেও বাণিজ্য করা ছিলনা। তার অভিপ্রায় ছিল রত্ন, সোনা, আর উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা করা। যাতে সে সফলও হয়েছলো। সবই সে করেছিলো নির্মম নিষ্ঠুরতার সাথে। কিন্তু তাকেই এখন বীর হিসেবে মেনে নিয়ে সবাই মস্তক অবনত করে।
This entire review has been hidden because of spoilers.
বইয়ের নাম: "আমেরিকা মুসলিমদের আবিষ্কার" লেখক: মুসা আল হাফিজ বিষয়: গবেষনাধর্মী ইতিহাস প্রকাশক: কালান্তর প্রকাশনী মুদ্রিত মূল্য: ২০০/- প্রকাশকাল: এপ্রিল ২০১৭
> ১৪৯২ সাল, অক্টোবরের ১২ তারিখ,শুক্রবার সকাল।কলম্বাস এসে নামলেন বাহামা দ্বীপপুঞ্জের শান্ত রৌদ্রময় বালুময় উপকূলীয় এক দ্বীপে।একই বছরের ২রা জানুয়ারি যিনি ছিলেন ফার্ডিন্যান্ড ও ইসাবেলার ক্রুসেডার বাহিনীর একজন অনুগত সৈনিক। ২রা জানুয়ারি মুসলিম শাসিত স্পেনের পতনের পর কলম্বাসের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণের পালা। অনেক কষ্টে রাজা ও রাণীকে বুঝাতে সক্ষম হন তিনি। এর আগে হাজারবার তাদের কাছে ধরণা দিলেও পাননি কোনো পাত্তা। কিন্তু সময় বদলেছে। ক্রুসেডার পাদ্রীরাও চাচ্ছিলেন নতুন ভূমিতে অভিযান করার কথা।যাতে তাদের ঈশ্বরের পবিত্র নাম ছড়িয়ে দেওয়া যায়। তাই অভিযানের অভিপ্রায়েই নতুন ভূমি জয় করতে কলম্বাস রওয়ানা হয়েছিলেন আটলান্টিকের পশ্চিম দিক ধরে। কারণ পূর্ব দিকের পথ ততদিনে আবিষ্কৃত হয়ে গিয়েছিল। আর তাই আটলান্টিকের পশ্চিম তীর ধরে ছুটছিলেন নতুন ভূমি জয়ের নেশায়। বহু বিপদসংকুল পথ অতিক্রম করে পশ্চিম তীর ধরে ছুটতে ছুটতে দেখা পান এক বালুময় ভূমির।
পাশ্চাত্যের ইতিহাস তাকে এই ভূমির আবিস্কারক বললেও এর পিছনে রয়ে যায় এক সূক্ষ্ম কুটচাল। কারণ বালুময় এই প্রান্তে আগেই এসে বসবাস করছিলো মানুষরা। কলম্বাসের ভাষায় "রেড ইন্ডিয়ান"। কিন্তু তারা তো আর আকাশ থেকে আসেনি। কারা ছিলো এরা,কী এদের পরিচয়? এরকম রোমাঞ্চকর গবেষণাধর্মী এক ইতিহাস নিয়েই লেখা " আমেরিকা মুসলিমদের আবিষ্কার" বইটি। পাশ্চাত্যের ইতিহাস যখন কলম্বাসের যাত্রাকে গ্রাহ্য করে মুসলিমদের আবিষ্কারকে চেপে যায় তখন পাশ্চাত্যের চাকে ঢিল ছোড়া কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়।আর তাই উস্তায "মূসা আল হাফিজ" রচনা করেছেন ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য গবেষণাধর্মী এই বই। যা ইতিহাসের আঁধারে থাকা প্রত্যেকটা পাঠককে আলোর পথ দেখতে বাধ্য করবে। ঘুরে আসা যাক ইতিহাসের এই তরীতে-
> বইটির লেখক উস্তায " মূসা আল হাফিজ "। জন্ম সিলেটের বিশ্বনাথে। যার চেতনালোক সম্পর্কে বলতে গেলে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের এক লেখায়ই যথেষ্ট। যা বইটির ফ্লাপে উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে। নিরন্তর গবেষণা আর পরিশ্রমের ফল বক্ষমান এই গ্রন্থটি। এছাড়াও "শতাব্দীর চিঠি", "সহস্রাব্দের ঋণ" সহ আরোও অসংখ্য জনপ্রিয় গবেষণাধর্মী বইয়ের গ্রন্থপ্রণেতা তিনি। বাস্তবেই তার বই থেকে পাঠক কিছু নিতে পারে। নিজের বিবেক,নিজের সুপ্ত বোধকে জাগানোর জন্য তাঁর বই এক কথায় অসাধারণ।
> একশ বারো পৃষ্ঠার এই বইটিকে ভাগ করা হয়েছে মোট সাতটি অধ্যায়ে। যার প্রতিটি অধ্যায়ে পাঠক দেখতে পাবেন নিরন্তর এক গবেষণার ছাপ। এত তথ্য আর এত রেফারেন্সে ভরপুর বইটিকে রিভার্স করা দুঃসাধ্য এক ব্যাপার।
• বইটির প্রথম অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে,কলম্বাসের আমেরিকা অভিযান সম্পর্কে। যেখানে মূলত উঠে এসেছে কীভাবে কলম্বাস আটলান্টিকের পশ্চিম তীর ধরে ভারত যাওয়ার অভিপ্রায় নিয়ে যাত্রা শুরু করে আমেরিকা গিয়ে পৌঁছালেন, কলম্বাস কীভাবে রাজা ফার্ডিন্যান্ড ও রানী ইসাবেলাকে এই অভিযানের ব্যাপারে রাজি করালেন,কী উদ্দেশ্য নিয়ে আটলান্টিকের পশ্চিম তীর ধরে এত বিপদ সংকুল পথ ধরে তিনি গিয়েছিলেন সেই ভূমিতে? এছাড়াও এর পূর্বে কলম্বাস কোথায় ছিলেন,কার অধীনে কাজ করতেন এবং রাজা ফার্ডিন্যান্ড ও রাণী ইসাবেলার স্পেনের ধ্বংস চিত্রের একটুকরো চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে অধ্যায়টিতে।
• দ্বিতীয় অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে অভিযানের প্রেরণা নিয়ে। যেখানে শুধু কলম্বাসের আলোচনায়ই করা হয়নি, পুরো চৌদ্দ থেকে আঠারো শতকের পর্তুগিজ ও ইউরোপীয় নৌ-ক্রুসেডারদের ইতিহাসও মোটামুটি চলে এসেছে। মূলত এই অভিযানগুলো ছিলো ক্রুসেড যুদ্ধ থেকে প্রাপ্ত অনুপ্রেরণার ফল। কারণ আরব এবং তুর্কীদের চাপে যখন স্থলপথে ক্রুসেডাররা কিছুই করতে পারছিলো না তখন হানা দেয় নৌ পথে। আমাদের এই ভারতবর্ষেও পর্তুগিজ নৌ-ক্রুসেডারদের যে দৌরাত্ম্য ছিলো তা ইতিহাস খুব ভালো করেই বলে দেয়। মূলত বিভিন্ন দেশে নৌ-ক্রুসেডারদের এইসব অভিযানের পিছনে কোন প্রেরণা কাজ করছিলো তাই উঠে এসেছে এই অধ্যায়টিতে। যেখানে স্বয়ং কলম্বাস কোন প্রেরণা নিয়ে অভিযানে বেরিয়েছিলেন তাও উল্লেখ করা হয়েছে অধ্যায়টিতে।
• তৃতীয় অধ্যায়, যেখানে আলোচনা করা হয়েছে ভৌগলিক জ্ঞান বা মতবাদ নিয়ে অর্থাৎ মুসলিমরা জ্ঞান-বিজ্ঞানে যেসব অবদান রেখেছে যা এই নৌ-ক্রুসেডারদের চলার সঙ্গী হয়েছে এবং এর প্রভাব কীভাবে তাদের উপর পড়েছে এই নিয়েই রচিত এই অধ্যায়টি। মূসা আল খাওয়ারিজমী ভৌগোলিক সূত্র, ইদ্রিসির মানচিত্র,ভূমধ্যসাগরের সামুদ্রিক চার্ট,আরবদের কম্পাস যা ছিলো নাবিকদের নিত্য সঙ্গী। মুসলিমদের আবিস্কার ব্যবহার করে কীভাবে তারা অগ্রসর হচ্ছিলো,কলম্বাস কীভাবে মুসলিম চিন্তাধারায় তাড়িত হয়ে এই অভিযান পরিচালনা করেছিলেন এ নিয়ে এক বিস্তর আলোচনা অধ্যায়টিতে।
• চতুর্থ অধ্যায়টিতে আলোচনা করা হয়েছে কলম্বাসের আগে আমেরিকায় মুসলিম আগমন নিয়ে। কলম্বাসের আগমনের ৩০০ বছর পূর্বে আরবরা এই অঞ্চলে উপনীত হন। এছাড়াও কলম্বাসের এই সাফল্যের পিছনে যে মরিস্কু মুসলিমরা সহায়তা করেছিলেন। কারণ এই মরিস্কু নাবিকরা আটলান্টিক পারি দেয়ায় ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার লালন করছিলেন। এছাড়াও লেখক অধ্যায়টিতে বহু তথ্য,ঐতিহাসিক সূত্র তুলে ধরেছেন যা দ্বারা পরিপূর্ণ স্পষ্ট হওয়া যায় যে, কলম্বাসের আগে মুসলিমরাই সর্বপ্রথম আমেরিকার মাটিতে পা ফেলেছিলো।
• পঞ্চম অধ্যায়টিতে আলোচনা করা হয়েছে আমেরিকা মুসলিমদের আবিষ্কার সম্পর্কিত আলোচনা নিয়ে। যেখানে মূলত আমেরিকা যে মুসলিমদের আবিষ্কার এটাই তথ্য, উপাত্ত ও রেফারেন্সের মাধ্যমে ভালো করে সাজানো হয়েছে।এ অধ্যায়টির তথ্য,উপাত্ত,রেফারেন্স সাধারণ পাঠকের মাথা ঘুরিয়ে দিতে বাধ্য।
• "আমেরিকা মুসলিমদের শিকড়" এভাবেই চমকপ্রদ নাম দিয়ে শুরু করা হয়েছে ষষ্ঠ অধ্যায়। যেখানে আলোচনায় এসেছে আমেরিকায় মুসলিমদের বিভিন্ন নিদর্শন সম্পর্কে। ড.বেরি ফিলের গবেষণায় উঠে আসা আমেরিকায় মুসলিমদের অবস্থান সম্পর্কে এক বিস্তর আলোচনা উঠে এসেছে অধ্যায়টিতে।
• সপ্তম অধ্যায় মূলত আমেরিকায় ইসলামের সংক্ষিপ্ত কালপঞ্জি নিয়ে। যেখানে ৯৪০ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আমেরিকায় ইসলাম ও মুসলিমদের ইতিহাস নিয়েই এই সংক্ষিপ্ত দিনপঞ্জি।
> কারা পড়বেন এবং কেন পড়বেন...??বইটি তারাই পরবেন যারা ইতিহাসের অন্ধকার দরজায় কুঠার আঘাত হেনে আলোর পথে ফিরে আসতে চান। পাশ্চাত্যের পক্ষপাতিত্বমূলক ইতিহাসকে ছুঁড়ে ফেলে সত্য জানতে চান তাদের জন্যই এই বইটি। ব্যক্তিগতভাবে ইতিহাসের উপর এত গবেষণাধর্মী বই খুবই কম পড়া হয়েছে। এত তথ্য, রেফারেন্স সাধারণত সাইন্স বা ধর্মতত্ত্ব সংশ্লিষ্ট বইগুলোর মধ্যে পাওয়া যায়। ইতিহাসের মধ্যে কালে ভদ্রে এরকম বই পাওয়া যায়। এককথায় মাস্টারপিস একটা বই।
মাআসসালাম.......
- মুহাম্মাদ তামিমুল ইহসান
This entire review has been hidden because of spoilers.