বইটির নাম দেখেই এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে বুঝতে পারছেন নিশ্চই। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে খুব সুন্দর একটি বই। বইটি আকারে ছোট হলেও এই সংক্ষিপ্ত পরিসরেই শায়েখ অনেক গুরুত্বপূর্ন কথা বলে ফেলেছেন। বর্তমান ফিতনার সময়ে যে কথাগুলোর মূল্য অনেক অনেক বেশি।
বইটির লেখক শায়েখ উসাইমীন সম্পর্কে নতুন করে কি বলবো! সউদী আরবের খ্যাতিমান আলেম, ফকীহ, মুফতী ও সউদী সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদ সদস্য শায়খ উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) আধুনিক মুসলিম বিশ্বের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর উর্ধ্বতন চতুর্থ পুরুষ উসমান, তাঁকে উসাইমীন বলা হত। সে হিসেবে তাঁরা উসাইমীন হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। আজীবন দরস-তাদরীস ও দাওয়াতী কাজে নিবিষ্টচিত্ত এই খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর খেদমতের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৪১৪ হিজরী/ ৮ই ফেব্রুয়ারী ১৯৯৪ খৃষ্টাব্দে বাদশাহ ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হন। এই স্বনামধন্য ও বিশ্ববরেণ্য আলেমে দ্বীন দীর্ঘ দিন ইসলামের খেদমত আন্জাম দেয়ার পর ১৪২১ হিঃ শাওয়াল মাসের ১৫ তারিখ মাগরিবের নামাযের সামান্য পূর্বে ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তা’আলা শায়খের সমস্ত দ্বীনি খেদমত কবূল করুক এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউসে স্থান প্রদান করুক।
মতভেদ আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে এক অতি স্বাভাবিক বিষয়। মৌলিক ভাবে এক হলেও মূলত আমরা প্রত্যেকেই একেকজন আলাদা সত্ত্বা। স্বকীয় ব্যক্তি হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই কিছু পছন্দ অপছন্দ রয়েছে। জীবনে চলার পথে তাই আমরা বিভিন্ন বিষয়ে একে অপরের সাথে মতভেদ করে থাকি। এর মধ্য দিয়েই মূলত জীবন সমাজ এগিয়ে চলে। জীবনের অন্যান্য বিষয়ের মতো শরীয়তের বিষয়াবলীতেও অনুরূপ দ্বিমত থাকা অস্বাভাবিক নয়, বরং তা স্বাভাবিক।তবে এই উম্মতের উপর আল্লাহর বড় একটি নেয়ামত যে, দ্বীনের মৌলিক বিষয়াদি এবং মূল উৎসগুলো নিয়ে তাদের মাঝে কোন মতভেদ নেই; বরং এমন কিছু বিষয়ে মতভেদ রয়েছে- যা মুসলিমদের প্রকৃত ঐক্যে আঘাত হানে না। আর সাধারণ এই মতভেদ হওয়াটাই স্বাভাবিক। দ্বীনের কিছু ক্ষেত্রে এই যে মতভেদ দেখতে পাওয়া যায় তা স্বাভাবিক হলেও এসব নিয়ে বাড়াবাড়ি করা, হক জানার পর তা প্রত্যাখ্যান করা বা তার দিকে প্রত্যাবর্তন না করা, বরং তা নিয়ে কলহ-বিবাদ, লাঠালাঠি, যুদ্ধ যুদ্ধ আবহ তৈরি করাটা স্বাভাবিক নয়। দুঃখজনক হলেও বর্তমানে আমরা এই অস্বাভাবিক ব্যাপারটাকেই স্বাভাবিক বানিয়ে ফেলেছি। ঐক্যের নামে অনৈক্যের পথকে খুলে দিচ্ছি। এই যে একটা স্বাভাবিক বিষয়কে আজ আমরা অস্বাভাবিক বানিয়ে ফেলেছি, শায়েখ উসায়মীনের মতে এর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে, বর্তমানে প্রচার মাধ্যমগুলোতে শরী‘আতের বিধিবিধানের প্রচার ও প্রসার ব্যাপক আকারে বেড়ে গেছে এবং একজনের কথার সাথে অন্যজনের কথার অমিল বিশৃংখলার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে; বরং অনেকের মাঝে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে সাধারণ জনগণ- যারা মতভেদের উৎস ও কারন সম্পর্কে জানে না। এই সন্দেহ আরো বেড়ে যাচ্ছে যখন তারা প্রকাশ্যে এক পক্ষের আলেমদের সাথে অপর পক্ষের আলেমদের ঝগড়া, একে অপরের নামে কটুক্তি করা দেখতে পাচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবেই আলেমদের প্রতি সাধারন মানুষের যে আস্থার জায়গা তাতে ফাটল ধরছে।এমনকি মতভেদের গোলক-ধাঁধায় পড়ে অনেকেই উলামাদের প্রতি কটুক্তি পর্যন্ত প্রয়োগ করে থাকেন এবং এর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। সাধারন মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে, আমাদের আল্লাহ এক, নবী এক, কিতাব এক, কিবলাহ এক তবে এত মতভেদ কিসের ও কেন? কেন উলামাগন একমত নন? কেন এত মাযহাব ও দলাদলি? এরকম এক পরিস্থিতির মধ্যে বিষয়ের যথেষ্ট গুরুত্বের কথা ভেবে শায়েখ উসায়মীন রাহিমাহুল্লাহ তার এই ছোট্ট গ্রন্থে মূলত সাধারন মানুষের মনে উদিত এ সকল প্রশ্নের কিছু কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। জটিল কোন আলোচনা না করে সহজবোধ্য ভাষায় শায়েখ এই গ্রন্থে মানুষের বোঝার সুবিধার্থে উলামাদের মতানৈক্যের বিভিন্ন কারনের মধ্য থেকে প্রধান কিছু কারন উল্লেখ করেছেন এবং সেই সাথে এই বিষয়ে আমাদের কর্তব্য কি হবে সেই বিষয়ে কিছু দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রথমেই শায়েখ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম-এর সময়ে সাহাবায়ে কেরামের মাঝে যে মতভেদ দেখা যেতো তার স্বরূপ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম-এর যুগে যেটা হতো তা হচ্ছে, কোন মতপার্থক্য হলে সকলে তাঁর কাছেই ফিরে যেতেন। ফলে তিনি তাঁদের মাঝে ফায়সালা করতেন এবং তাঁদেরকে হক্ব বলে দিতেন- চাই সেই মতানৈক্য আল্লাহর কালাম নিয়েই হোক বা আল্লাহ প্রদত্ত এমন কোন বিধিবিধান নিয়েই হোক- যা এখনও অবতীর্ণ হয়নি। অনেক ক্ষেত্রেই তাই দেখা যেতো পরবর্তীতে সেই বিধান বর্ণনা করে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। আর এ জন্যই আমরা পবিত্র কুরআনের বহু জায়গায় পড়ে থাকি ‘তারা আপনাকে অমুক বিষয়ে জিজ্ঞেস করে’। শায়েখ কুরআন থেকে এ ধরনের অনেকগুলো আয়াত এনে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম এর ইন্তিকালের পর আর এটি সম্ভব ছিলো না। তবে এখানে একটা বিষয় শায়েখ স্পষ্ট করে বলেছেন। তা হচ্ছে আমরা এ কথা দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি যে আল্লাহ তা’আলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম-কে হেদায়েত এবং সঠিক দ্বীন দিয়ে প্রেরণ করেছেন। এ কথার অর্থ হচ্ছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম এই দ্বীনকে সুস্পষ্ট ও পরিপূর্ণভাবে বর্ণনা করে গেছেন- যার পরে আর বর্ণনার প্রয়োজন নেই। তাই দ্বীনের মৌলিক বিষয়ে কোন মতভেদ দেখতে পাওয়া যায় না, আর এর কোন সুযোগও নেই। বরং উম্মতে মুহাম্মাদী শরী‘আতের এমন সব বিধিবিধানের ক্ষেত্রে মতভেদ করেছে- যা শরী‘আতের মৌলিক বিষয়াবলীতে এবং মূল উৎসগুলোতে আঘাত হানে না। মূলত এই ধরনের মতভেদের কারন নিয়েই শায়েখ আলোচনা করেছেন। প্রথমেই শায়েখ একটা বিষয় স্পষ্ট করেছেন, যেটা না বোঝার কারনে না বুঝেই আমরা অনেক সময় অন্য মতের আলেমদের সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করে বসি। সেটা হচ্ছে, আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে, যাঁদের ইলমে, আমানতদারিতায় এবং দ্বীনদারিতায় নির্ভর করা যায়- এমন সব আলেমের কাউকে পাওয়া যাবে না, যিনি ইচ্ছাকৃতভাবে পবিত্র কুর...
محمد بن صالح العثيمين الوهيبي التميمي، أبو عبدالله. عالم فقيه ومفسر، إمام وخطيب وأستاذ جامعي، عضو في هيئة كبار العلماء ومدرس للعلوم الشرعية وداعية سعودي، من مواليد عنيزة في منطقة القصيم.
Such a nice and clear book! After reading books related to Sufism and that kinda stuff, I realized that it is not what I should read since most of them are based on unauthentic Hadiths. I came across this book the other day and decided to read it today. The points in this book are all supported by authentic Hadiths. Ibn Uthaymeen explains the reason why scholars sometimes disagree with each other and have different opinions.