বিংশ শতাব্দীর শুরুতেই বদলে গেল পদার্থবিদ্যার ইতিহাস। জন্ম হলাে নতুন এক বিজ্ঞানের। প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্বের হাত ধরে পথ চলা শুরু বিজ্ঞানের নবতম শাখাটির বিজ্ঞানী নীলস বাের একঝাঁক তরুণ শিষ্য নিয়ে ঝাপিয়ে পড়লেন অতি পারমাণবিক জগতের রহস্যভেদ করতে। জন্ম হলাে কোয়ান্টাম বলবিদ্যার। নতুন এই বিজ্ঞান তছনছ করে দিল প্রকৃতির চিরচেনা নিয়মগুলােকে। অনিশ্চয়তাই হয়ে উঠল আধুনিক পদার্থবিদ্যার মূল ভিত্তি। এই বইয়ে পদার্থবিদ্যার নতুন ও জটিলতম শাখাটিকে সাধারণ পাঠকের বােধােগম্যের ভেতরে আনার চেষ্টা করা হয়েছে সহজ-সরল প্রাঞ্জল গদ্যে। সেই সাথে উঠে এসেছে কালের গর্ভে গুমরে মরা আধুনিক বিজ্ঞানের অনেক অজানা ইতিহাস।
যদিও এখন আমি বিজ্ঞানের ছাত্র নই কিন্তু জেএসসির পর ভালোবেসেই বিজ্ঞান নিয়েছিলাম। তখন ' জিরো টু ইনফিনিটি' নামে একটি বিজ্ঞান পত্রিকা বের হতো, সেটা নিয়মিত সংগ্রহ করতাম। তারপর ব্যাপন, বিজ্ঞানচিন্তা যা ই পেতাম খুব আগ্রহ নিয়ে পড়তাম। জীবন ও জগৎ কে জানবার যে জিজ্ঞাসা তার উত্তর একমাত্র বিজ্ঞানের কাছেই পাবো, সে তথ্য কিভাবে কিভাবে যেনো কৈশোরেই বোঝে গিয়েছিলাম। আর আমার বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির পিছনে আরেকটা মানুষ ছিলেন, তিনি হচ্ছেন হুমায়ূন আহমেদ। বিজ্ঞানের প্রতি অসীম ভালোবাসা আর কৌতূহল কৈশোরেই মনে প্রোথিত হয়ে গিয়েছিলো। তো, বিজ্ঞান নিয়ে তো নিলাম কিন্তু যে আগ্রহ আর উৎসাহ নিয়ে নিয়েছিলাম সেটাতে পানি ফেলতে দেরি করেনি আমাদের এডুকেশন সিস্টেম। নাইন-টেন দুবছরে মাত্র তিনবার প্র্যাকটিকেল ক্লাস হয়েছিলো। ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত উঠতে উঠতে সৃজনশীল প্রশ্ন সমাধান করতে করতে সব সৃজনশীলতা নষ্ট করতে কসুর হয়নি। ইন্টারমিডিয়েটের পর গণিত আর বিজ্ঞান এত অসহ বোধ হলো যে ন্যাশনালে ফিজিক্স আসবার পরও ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নেই।
আমার পাঁচালী আপাতত থাকুক। কোয়ান্টাম ফিজিক্স বিজ্ঞানের অন্যতম রহস্যময় কিন্তু জটিল এক বিষয়। এটা নিয়ে পপ-সাইন্সের বই লেখা বেশ দূরহ বলেই বিদ্বানরা মনে করেন। যারা আমার মতো গণিত আর জটিল ইকুয়েশন ভয় পান কিন্তু কোয়ান্টাম ফিজিক্সের রহস্যময় জগতে ঢুঁ মারতে ইচ্ছুক তাদের জন্য উক্ত বহি লিখিত। লেখক একদম গোড়া থেকে শুরু করেছেন। লেখনী বেশ সাবলীল আর সুখপাঠ্য। গল্পবলার ঢঙে লেখা বলে পড়তে বেশ আনন্দ লেগেছে। আমার কাছে বইটি খুব গোছানো লেগেছে।
বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা আরো বেশি করে হোক সেই প্রত্যাশা রাখি। একেকজন বিজ্ঞান লেখক আমার কাছে একেকজন যোদ্ধা বলে মনে হয়।কারণ তারা ই একটি জাতিকে তমসা থেকে উদ্ধার করবার কাজে নিয়োজিত। অন্ধ কুসংস্কার আর কূপমণ্ডূকতা ভেদ করে বিজ্ঞানের আলো আমাদের ছুঁয়ে যাক..