রকিব হাসান বাংলাদেশের একজন গোয়েন্দা কাহিনী লেখক। তিনি সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত তিন গোয়েন্দা নামক গোয়েন্দা কাহিনীর স্রষ্টা। তিনি মূলত মূল নামে লেখালেখি করলেও জাফর চৌধুরী ছদ্মনামেও সেবা প্রকাশনীর রোমহর্ষক সিরিজ লিখে থাকেন। থ্রিলার এবং গোয়েন্দা গল্প লেখার পূর্বে তিনি অন্যান্য কাজে যুক্ত ছিলেন। তিনি রহস্যপত্রিকার একজন সহকারী সম্পাদক ছিলেন।রকিব হাসান শুধুমাত্র তিন গোয়েন্দারই ১৬০টি বই লিখেছেন। এছাড়া কমপক্ষে ৩০টি বই অনুবাদ করেছেন। তিনি টারজান সিরিজ এবং পুরো আরব্য রজনী অনুবাদ করেছেন। তাঁর প্রথম অনুবাদ গ্রন্থ ড্রাকুলা। রকিব হাসান লিখেছেন নাটকও। তিনি "হিমঘরে হানিমুন" নামে একটি নাটক রচনা করেন, যা টিভিতে সম্প্রচারিত হয়।
গত জন্মদিনে আপুর থেকে চীনদেশের উপকথা উপহার পাওয়ার পর থেকেই মাথায় ভূত চাপে বিভিন্ন দেশের উপকথা পড়ে তাদের প্রাচীন সঙ্স্কৃতি বিষয়ে ধারণা পাওয়ার। তারই সূত্র ধরে পড়ে ফেললাম এরাবিয়ান নাইটস।
অষ্টম শতাব্দীর দিকে রচিত এই কাহিনীগুলোর মাধ্যমে তৎকালীন আরব সভ্যতার বেশ কিছু দিক আন্দাজ করে নেয়া যায়। সব গল্পেরই নায়ক বা মূল চরিত্র বাদশা বা সওদাগর এর ছেলে- ধন সম্পদ বা রূপ সৌন্দর্্য - কোনটারই অভাব তাদের নেই। বইয়ের পাতা জুড়ে তাদের সাথে একই রকম ধনী, অপরূপা সুন্দরী উজির কন্যাদের ভাব ভালোবাসার কথা। অথচ চীনা উপকথাগুলোতে মূল চরিত্রগুলো সাধারণত পাহাড়ে ঘুরে বেড়ানো অকুতোভয় শিকারী শ্রেণীর, যাদের রূপ সৌন্দর্্যের চেয়ে সাহসিকতাই অধিক গুরুত্ব পেয়েছে
আরেকটি লক্ষণীয় বিষয় ইসলাম ধর্মের সাথে প্রাচীন লোকজ সংস্কৃতির জগাখিচুড়ি! যে শাহজাদা কিছুক্ষণ আগেই আল্লাহর উপাসনায় নিয়োজিত ছিল সে যেভাবে স্বল্প-চেনা যুবতীর বাহুডোরে আবদ্ধ হয়, কিঙ্গবা গণকের কথায় বিশ্বাস করে বসে- ব্যপারটা হজম করা বেশ শক্ত। আর কথায় কথায় যেভাবে সবাই গর্দান নেয়া কিংবা চাবুক পেটা করার জন্য হই হই করে ওঠে, কিঙ্গবা চেহারা ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে রাজত্ব রাজকন্যা বিলি করে দিতে চায়- তা আরবদের বাউন্ডুলেপনা আর অবিমৃষ্যকারিতারই পরিচায়ক। অবশ্য জামাল খাসোগির হত্যার পর এ বিষয়ে কারো সন্দেহ থাকার কথা না।
কাহিনীর ভিত্তিতে মূল্যায়ন করলে বইয়ের রেটিং ১.৫ এর বেশী কিছুতেই হয় না। কিন্তু এটি আরব সভ্যতার এক দলিলও বটে। আরব স্বাচ্ছন্দ্য অনুবাদের জন্য কিছুটা কৃতিত্ব রকিব হাসানের অবশ্য প্রাপ্য।
আরব্য রজনীর গল্প সবাই ছোট বেলায় শুনেছে হয় মায়ের কাছে অথবা দাদি বা নানির কাছে। তবে এ সেগুলো বাচ্চাদের জন্য ছোট গল্পের মত। আসলে গল্প সব অনেক প্রাপত বয়স্কদের জন্য। তাও এই সব প্রাপ্ত বয়স্ক অংশ বাদ দিলেও গল্পরের আসল মজাটা থেকে যায়। এইবইটা পুরা অনুবাদ নই। লেখক মার্জিত ভাষায় সম্পুর্ন গল্পটাকে রেখেছে যাতে প্রাপ্ত বয়ক্সরা সবাই পড়তে পারে। কলকাতায় একটা সম্পুর্ণ আনুবাদ আছে তার তুলনায় অনেক মার্জিত। এদেশে এটা একমাত্র প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য আরব্য রজনী বাকি সব বাচ্চা দের জন্য। Must read for all. Nostalgia অনুভব দিবে একটা।