পার্থ চট্টপাধ্যায় কত্ত সহজভাবে মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন। লেখকের নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব এবং আরও অনেককিছুর উদাহরণ এর মাধ্যমে লেখক যেন মানুষ হিসেবে আমাদের ভুল-ভ্রান্তির আর পদ্মপাতার জলের মতো মনের মনোবিশ্লেষণ করেছেন।
উপকারী একটা বই পড়ে শেষ করলাম। আসলে পৃথিবীর মানু্ষকে চিনতে হলে সবার সাথে আলাদা আলাদাভাবে মিশতে হবে। যেহেতু আমাদের সে সুযোগ নেই সেহেতু অন্য মানুষকে চেনার চেষ্টা না করে আমরা যদি শুধু আমাদের নিজেদেরও চিনতে পারি তাহলেও আমরা মানুষ চেনার পথে খানিকটা সফল হব।
মানুষ কত ভুলভাবে মানুষকে বিচার করে সেটা চিন্তা করলে আমার পৃথিবী ধ্বংস করে দিতে ইচ্ছে হয়(মজা করলাম)।
হে অনুমানপ্রিয়, সন্দেহবাতিক, অবিশ্বাসী পৃথিবীর মানুষেরা তোমরা ভালো থেকো তোমাদের নিয়ে, আমি নাহয় থাকব বইয়ের সাথে৷
হে অন্যের দুঃখে খুশি হওয়া মানুষেরা তোমরা ভালো থেকো তোমাদের নিয়ে, আমি নাহয় থাকব কবিতার সাথে।
দশ হাজার বই পড়ে একটা বই লিখে তারপর পান্ডুলিপি পুড়িয়ে মরে যাব, তোমরা ভালো থেকো তোমাদের নিয়ে।
মনস্তত্ত্ব একটা জটিল বিষয়। তেমনি মজারও। কীভাবে মানুষ চেনা যায়, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আগ্রহী নন এমন মানুষ কমই আছেন৷ আবার জটিল বলেই উচ্চমার্গীয় মনস্তত্ত্বের বই প্রথমেই শুরু করলে খেই হারিয়ে ফেলার সম্ভাবনা। ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায় এর এই বইটি বেশ সহজ ভাষায় লেখা। প্রাথমিক পাঠ হিসেবে বইটিকে রাখা যেতে পারে তাই। ব্যক্তিত্ব সম্পর্কিত বিশ্লেষণ এবং নানা পরিস্থিতিতে মানুষের আচরণের পেছনের কারণ অনুসন্ধান করা হয়েছে এতে। প্রচুর উদাহরণ এর মাধ্যমে আলোচনা করায় বুঝতেও সহজ হয়েছে৷ বইটি পড়তে পড়তে অনেক মানুষের চেহারাও যেন ভেসে ভেসে উঠছিল। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নিজেকে চেনা। আমরা তো নিজেদেরই চিনি না ঠিকমতো। কী আমাদের ক্ষমতা, কোন বিষয়ে আমাদের আগ্রহ সেইসব ব্যাপার নিজেরা জানি না, চেষ্টাও করিনা। পাঁচজনকে দেখে একটা কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ি, অথচ সেটা করার যোগ্যতা আমার আছে কিনা বিচার করিনা। হয়তো অন্য কোন কাজে আমার শ্রেষ্ঠত্ব, কিন্তু নিজের কারণে, পরিবার বা পরিবেশের কারণে গোটা জীবদ্দশাতেই সেগুলো আর অনুসন্ধান করা হয়ে ওঠে না। ফলে কাটিয়ে যেতে হয় এক ব্যর্থ জীবন।
সহজ সরল ভাষায় লেখা মোটামুটি ভালো একটা বই। যে কোন মানুষই পড়তে পারবে। বইয়ের মূল বিষয়বস্তু আলাদা শিরোনামে বিভক্ত করে পয়েন্ট আকারে লেখা আছে। যেটা পাঠককে বুঝতে সাহায্য করেছে। স্যাটিসফাইড।