কসুমকুমারীকে ভালবেসেও বিয়ে করতে না পেরে হরিদাস আজীবন অকৃতদার ছিলেন। তবু তার এক সন্তান জন্মেছিল মৈথিলী ব্রাহ্মণ কন্যা পুষ্পর গর্ভে-হরিপ্রিয়। কুসুমকুমারীর সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল শিবনাথের। তাদের কন্যা বন্দনা। প্রেমের স্রোত প্রবাহিত হয়ে এসেছে দ্বিতীয় প্রজন্মে। কিন্তু জীবনের যাত্রাপথ সতত অনির্দিষ্ট। তাই হরিপ্রিয় ও বন্দনার মিলন লগ্ন অধরা থেকে যায়। কিন্তু কেন? ঠিক এমনই, সিনেমা ও যাত্রার নামকরা অভিনেতা নবীন কুমার নিত্য নতুন মেয়েদের সঙ্গিনী করে এ-গ্রাম ও-গ্রাম দাপিয়ে বেড়িয়ে কোথাও স্থিতু হতে চায়। বহুগমনতাকে ক্লান্ত করে তোলে। অতিসাধারণ মেয়ে অলকার মধ্যে হঠাৎ সে আবিষ্কার করে আশ্রয় ও আশ্বাসের দ্বীপভূমি। তার মনেহয়, অলকাই সেই আলো, যার জন্যে সে এতটা পথ পাড়ি দিয়ে এসেছে। সত্যিই কি তাই? দুটি মিতায়তন কাহিনী নিয়ে গড়ে উঠেছে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের এই মরমী উপন্যাস।
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় একজন ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক।
তিনি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত ময়মনসিংহে (বর্তমানে বাংলাদেশের অংশ) জন্মগ্রহণ করেন—যেখানে তাঁর জীবনের প্রথম এগারো বছর কাটে। ভারত বিভাজনের সময় তাঁর পরিবার কলকাতা চলে আসে। এই সময় রেলওয়েতে চাকুরিরত পিতার সঙ্গে তিনি অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের বিভিন্ন স্থানে তাঁর জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি কোচবিহারের ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। শীর্ষেন্দু একজন বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকা ও দেশ পত্রিকার সঙ্গে জড়িত।
তাঁর প্রথম গল্প জলতরঙ্গ শিরোনামে ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সাত বছর পরে সেই একই পত্রিকার পূজাবার্ষিকীতে তাঁর প্রথম উপন্যাস ঘুণ পোকা প্রকাশিত হয়। ছোটদের জন্য লেখা তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি।
"পিদিমের আলো "ও "জন্মান্তর" - দুটি ছোট উপন্যাস নিয়ে মূলত বইটি প্রকাশিত হয় । দুটি উপন্যাসই যথেষ্ট রোম্যান্টিক । পিদিমের আলো ভালো লেগেছে।তবে জন্মান্তর পরে আমি স্তব্ধ হয়ে কিছুক্ষন বসে থাকি । আমার মনে হচ্ছিল আমি এই পৃথিবীতে নেই - আমি অন্য এক রোম্যান্টিজমে আক্রান্ত হই। পড়তে পড়তে বইয়ের প্রতিটি চরিত্রের সাথে মধুর এক কাল্পনিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। এটি এমন একটি উপন্যাস যার ভিতরে নির্দ্বিধায় বিচরন করা যায়,চাইলে চরিত্র গুলোকে ছুয়েও দেখা যায়, রোম্যান্টিজমে ভরপুর এক জগতে নিজেকে নতুনভাবে গঠন করা যায় । শুধু অসাধারন বললেও কম বলা হবে । হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো একটি বই ❤️
পিদিমের আলো এবং জন্মান্তর দুইটি বড়গল্প নিয়ে এই বই। পিদিমের আলো গল্পে যাত্রার স্টার নবীনকুমার ও তার সঙ্গী অলকার মধ্যে পিদিমের আলো হয়ে যোগাযোগ সূত্র হয় অভাবী কিন্তু উচ্চাকাঙ্খী পালাকার মানিকলাল। দ্বিতীয় গল্পে কুসুমকুমারী দেবী ও হরিদাস বাবুর অসফল বাল্যপ্রেম তাদের উত্তরসূরীদের মধ্যে সঞ্চালিত হয়েও যেন অপূর্ণ আরেকটি প্রেমগাথা রচিত হয়। দুটি গল্পই প্রাঞ্জল ভাষায় রচিত।
This entire review has been hidden because of spoilers.
'পিদিমের আলো' আমার পড়া শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের প্রথম বই। তার লেখার অলংকার আমার খুবই ভালো লেগেছে। পিদিমের আলোর নেরেটিভ খুবই আকর্ষীধর্মী ছিলো। আর জন্মান্তর ভিন্নধর্মী ছিলো আমার জন্যে। শেষের দিকে ভালো লেগেছে।
পিদিমের আলো বই এর দুটি ছোট উপন্যাস আছে , পিদিমের আলো আর জন্মান্তর --- কেন জানি জন্মান্তর টা অদ্ভুত ভাবে ছুয়ে গেছে , লেখার ধরন তাও কিছুটা ভিন্ন --- শেষ করে কিছুক্ষন বসে ভাবার মতো একটি বই । :)