❝হুজুর❞ শব্দটি কুরআন-হাদীসে আমরা কোথাও পাই না। একসময় শব্দটি দিয়ে শুধুমাত্র মাদ্রাসার আলিম ও তালিবুল ইলমদের বোঝানো হতো। তবে পরবর্তীকালে কিছু নির্দিষ্ট ইসলামী চিহ্নধারী (যেমনঃ দাড়ি, টুপি, পায়জামা, পাঞ্জাবি, জোব্বা; আর নারীদের ক্ষেত্রে বোরকা, হিজাব, নিকাব ইত্যাদি) সকল মানুষকেই ❝হুজুর❞ বলে ডাকা প্রচলিত হয়ে যায়। তার মানে মাদরাসা বা জেনারেল শিক্ষিত - যে কেউই এখন ❝হুজুর❞ বলে পরিচিত হতে পারে। . বেশ ক'বছর আগে যাত্রা করে ❝হুজুর হয়ে❞ পেইজ। যার উদ্দেশ্য ছিলো দ্বীনদার ভাই-বোনদের দ্বীনে চলার পথে উৎসাহের যোগান দেওয়া, দ্বীনের পথে বাধা দানকারীদের বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে প্রতিহত করা এবং গল্পের মাধ্যমে কিছুটা হালাল বিনোদন দেওয়া। . গল্পগুলোতে বিভিন্ন মতাদর্শের প্রতিনিধিত্বমূলক কিছু কাল্পনিক চরিত্র উপস্থাপিত হয়েছে। ইসলামের প্রতিনিধিত্বকারী চরিত্রগুলো স্বভাবতই বুদ্ধির খেলায় প্রতিপক্ষদের চূর্ণ করে দিয়েছে। ইসলামবিরোধী মতাদর্শের ধারক-বাহকরা তাদের প্রচারমাধ্যম ব্যবহার করে মুসলিমদের অন্তরে এতদিন যে ক্ষত সৃষ্টি করে আসছিল, সেগুলোর কাউন্টার-ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়েছে মাত্র। . ❝হুজুর হয়ে❞ পেইজে প্রকাশিত সেসব গল্প থেকে কিছু সিলেক্টিভ গল্প নিয়েই সাজানো হয়েছে ❝হুজুর হয়ে হাসো কেন?❞ বইটি।
জন্ম ইসায়ী ১৯৯৫ সালের ২২ আগস্ট ৩৬০ আউিলয়ার স্মৃতিধন্য, দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ির দেশ সিলেটে। লেখাপড়া করেছেন রাজধানীর নামকরা দুটো প্রতিষ্ঠানে। অনন্যসাধারণ মেধাবী এ তরুণ আলিম ছাত্রজীবেন তার মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন বাংলােদশ কওিম মাদরাসা শিক্ষাক্ষােবার্ড বেফাকের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় হিফজ বিভােগ ১ম, ফজিলতে ১২তম এবং তাকিমল ফিল হাদিসে ৬ষ্ঠ স্থান অধিকার করে। এরপর দু-বছর সময় ব্যয় করেছেন ফাতওয়া বিভাগে। শিক্ষা সমাপনের পর ২০১৭ সালে প্রবেশ করেন কর্মজীবনে বর্তমানে তিনি এক স্বনামধন্য মাদরাসায় সিনিয়র মুহাদ্দিস পদে কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি ফাতওয়া বিভাগের সহযোগী মুফতি হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছন। শিক্ষকতা ছাড়াও লেখক, অনুবাদক, সম্পাদক, আলোচক ও খতিব হিসাবেও নিয়িমত কাজ করেছন। বিশুদ্ধ তাওহিদ ও মিল্লাতে ইবরাহিমের দিকে আহ্বানকারী বক্তাদের মধ্যে তার নাম অন্যতম। আলী হাসান উসামা সমেয়র প্রতিশ্রুতিশীল তরুণেদর অন্যতম। ঈর্ষণীয় ইলমি যোগ্যতার পাশাপািশ তার মধ্যে একত্র হয়েছে সহজ-সরল অসাধারণ রচনা ও অনুবাদ-দক্ষতা। তার স্বরচিত ফিতনার বজ্রধ্বনি এবং সুরা ফাতিহার আলােকে ইসলামি আকিদা ও মানহাজ ও মুক্ত প্রাণের হে সন্ধানী বইগুলো ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। অনূদিত বইেয়র মধ্যে রয়েছে তাওহিদের মর্মকথা, মিল্লাতে ইবরাহিমের জাগরণ, দাসত্বের মহিমা, আল-আকিদাতুল হাসানাহসহ আরও গোটা দশেক বই। সম্পাদনার অঙ্গনেও তার রয়েছে যথেষ্ট সুনাম। স্বল্পসময়ে বেশ কয়েকটি বেস্টসেলার বইেয়র জন্য গুণীজনের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
সাহিত্যের ধাচ চিন্তা করলে বইটি মূলত প্রহসন ঘরানার। বইয়ের দুটি অংশ - জেনারেল কিছু গল্প/নাটিকা আর ফুলান সিরিজ। দুটি অংশই খুব হাস্যরসাত্মক ভাষায় লেখা। বিশেষ করে গায়ক ও হুজুরের গল্পটি পড়ে বেদম হাসি হেসেছি। ফুলান সিরিজ পড়তে পড়তে একটু একঘেয়েমি চলে এসেছিলো। তবে সামগ্রিক দিক চিন্তা করে এমন বই আরো বেশি দরকার। সাহিত্যের গলিতে ঢুকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইসলামের বাণী ছড়িয়ে মানুষকে শান্তি ও সত্যের পথে আহ্বান খুবই দরকার। আল্লাহ আমাদের চলার পথ সহজ করুন, আমিন।
‘হুজুর হয়ে’ পেইজটা ফলো করা শুরু করি ২০১৯ এ(যতদূর মনে পড়ে)। কোনো একজনের প্রোফাইলে পেইজটা মেনশন করা ছিল। সেই থেকে নিয়মিত তাদের লিখালিখি পড়া শুরু করি। বাংলায় হালাল মিম অনেকেই তৈরি করেন। ফেসবুক টুইটারে অনেক জনপ্রিয় পেইজ-প্রোফাইল ও আছে এর জন্য। কিন্তু ‘হুজুর হয়ে’-র সেন্স অব হিউমার একদম আলাদা। অনেকটা প্রথমবার পড়ে বুঝে উঠতে পারলে আপনি হাসবেন, এরপর দ্বিতীয়বার সেটা নিয়ে অনেক্ষণ ভাববেন। আর যদি আপনি ‘না-বুঝ’দের দলের কেউ হন, তবে আপনাকে বেশ খানিকটা ব্রেইনস্টোর্মিং সহ্য করতে হবে।
‘হুজুর হয়ে হাসো কেন’- বইটি মূলত কিছু সিরিজের সমন্বয়। সিরিজগুলো পর্যায়ক্রমে পেইজ এডমিন ভাইয়েরা পোস্টাকারে আপডেট করেন। পরে সমর্পণ ভাইয়ারা তাদের সিলেক্টিভ লিখাগুলোর সমন্বয়ে বই প্রকাশ করার ইচ্ছা করেন।
সিরিজের দুই খ্যাতনামা হিউমারাস চরিত্র হলো- ‘আবু ফুলান’ আর ‘ইবনে ফুলান’ অর্থাৎ অমুকের বাবা আর তমুকের ছেলে। এই দুই হাস্যরসাত্মক চরিত্রের মাধ্যমে বাঙালি অজ্ঞ মুসলিম সমাজের কিছু ভ্রান্তির চিত্র যেমনি তুলে ধরা হয়েছে, তেমনি ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো কিটদের বিরুদ্ধে ছুড়ে মারা হয়েছে উচিত জবাব। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, বাংলাদেশের সুপরিচিত টিভি চ্যানেল বিটিভি-র সুপরিচিত কার্টুন চরিত্রগুলোয় হালাল হাস্যরসাত্মক ফিচার আনার মাধ্যমে এই ভ্রান্তি আর প্রতিবাদের চিত্রগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এতে আরেকটি বিষয় প্রকাশ পায় যে, লেখক হুজুরগণ সেই সময়কার কিশোর যখন বিটিভির এই ব্যঙ্গচিত্রগুলো জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ছিল।
হুজুর শব্দটা কুরআনিক কিংবা আরবি কোনো শব্দও নয়। বাংলাদেশে এর ব্যবহার শুধু আলিম বা ত্বলিবুল ইলমদের জন্য, যদিও এর অর্থ তা নয়। আর যাদের হুজুর বলা হয়, মডারেট বাঙালি মুসলিমরা মনে করে দ্বীন ইসলাম পালন শুধু তাদের জন্যই। অথচ যেটা তাদের জন্য করণীয় তা সকল মুসলিমের জন্যই করণীয়, আর যা তাদের জন্য বর্জনীয় তা সকল মুসলিমের জন্যই বর্জনীয়।
বইটি আমি পড়েছিলাম প্রচণ্ড একঘেয়েমির সময়টাতে- যখন আমার এডমিশন প্রস্তুতির সময়। অফুরন্ত সময় ছিল আমাদের হাতে। তবে এই হিউমারাস বইয়ের বিপরীতে তাদের প্রকাশিত আরেকটি বই আছে, যে বইয়ের অনুচ্ছেদগুলো মানুষের প্রকৃত শেকড় নিয়ে ভাবায়, সংশয়বাদী মনকে ধাবিত করে সত্য সনাতনের দিকে প্রকৃত সত্যের খোঁজে। সে সনাতনের গল্প হবে আরেকদিন ইন শা আল্লাহ্।
প্রিয় পাঠক, সবশেষে আপনাকে আমি এতোখানি নিশ্চয়তা দিতে পারি, আপনি যদি পড়তে রাজি থাকেন তো, ১২০ পৃষ্ঠার এই বইটি আপনাকে হালাল ধাঁচে মুচকি হাসতে বাধ্য করবেই।
"মজাদার হাস্যরসে মাধ্যমে প্রচারিত হয়ে আসছে অনেক কিছুই। আবার ব্যঙ্গাত্মক পদ্ধতিতে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার রীতিটাও অনেক পুরনো। ইসলামের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের কারনেই একসময় মনে হতো মুসলিমদের পক্ষে এ দুটি কাজ করা অসম্ভব। তাই বলে এমন কোনো প্রচেষ্টা যে কখনোই হয়নি, তা নয়। যেমন আশরাফ আলী থানভি (রাঃ) সংকলিত 'মুসলমানের হাসি'। . তবুও বর্তমান প্রজন্মের শহুরে আধুনিক শিক্ষিত মুসলিমদের তৃপ্তি মেটানোর প্রয়াস অপ্রতুল। হুজুর বলতে একসময় মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরকে বুঝানো হতো। তবে বর্তমানে হুজুরের তালিকায় যোগ হয়েছে দাড়ি, টুপি, পাঞ্জাবিওয়ালা স্কুল-কলেজ-ভার্সিটি পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। আর বোরকা,আবায়া, হিজাব, নিকাব পরা নারীদেরকে বলা হচ্ছে মহিলা হুজুর কিংবা হুজুরনী। .
কথাপ্রসঙ্গে অনেক সময় চলে আসে হুজুরদের এই সমস্যা তো ঐ সমস্যা। হুজুররা আস্তে হাটলে কেউ কেউ বলে তারা আজকে মনে হয় বেশি খেয়ে ফেলছেন এজন্য হাটতে পারছেন না আর জোরে হাটলে কেউ কেউ বলেন তাদের আজ কোথাও দাওয়াত আছে হয়তো এজন্য তাড়াহুড়ো! .
বইটিতে কৌতুকছলে সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি, ডাবল স্ট্যান্ডার্ড তুলে ধরা হয়েছে। আমাদের সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন উৎসব(যেমন: বড়দিন, এপ্রিল ফুল, ভ্যালেন্টাইন'স ডে, নিউ ইয়ার, বৈশাখী ইত্যাদি) উদযাপনের পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ডগুলো ইবনে ফুলান আর আবু ফুলান রসাত্মকভাবে ইন্টার্ভিউ নিয়েছেন। . বিটিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠানগুলোকে প্যারোডি চরিত্রের মাধ্যমে (যেমন: মিনা-রাজু, সিসিমপুর, ইত্যাদির নানা-নাতি, মামা-ভাগ্নে) বেশ রসাত্মকভাবে বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। টিভির চরিত্রে তারা যেমন সমাজের অসঙ্গতি (!) তুলে ধরেন, এই বইতেও তাদের চিরচেনা ভঙ্গিতে তারা অসঙ্গতির পাশাপাশি ডাবল স্ট্যান্ডার্ডটাও তুলে ধরেন।
যখন মন খারাপ থাকবে তখন বইটা পড়তে পারেন। আশা করা যায়, হাসতে হাসতে মন কিছুটা হালকা হয়ে যাবে। নিঃসন্দেহে শেষ হাসি তো প্রকৃত হুজুরদেরই।"
বইটিতে কৌতুকছলে সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরা হয়েছে। বিটিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠানগুলোকে তুলে ধরা হয়েছে রসাত্মকভাবে প্যারোডি চরিত্রের মাধ্যমে (যেমন: মিনা-রাজু, সিসিমপুর, ইত্যাদির নানা-নাতি, মামা-ভাগ্নে)।
ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া কিছু রসাত্মক লাইন (যেমন: বসেন বসেন...বইসা যান) গল্পে এমন জায়গায় জুড়ে দেওয়া হয়েছে, পড়তে গিয়ে হাসি থামানোর উপায় থাকে না।
প্রথম কিছু পেইজ যেখানে মিনা , সিসিমপুর সহ এরকম কিছু চরিত্র নিয়ে কৌতুক করার চেষ্টা করা হয়েছে , ওই অংশটুকু ভালো লাগে নি । বাকি অংশ ঠিক আছে । কখনো কখনো শব্দ করেও হেসেছি ।
একাত্তর টিভির একটা টকশোতে চার-পাঁচজন সেকুলার বক্তার মাঝে এক হুজুরের(!) অসহায়তা দেখে একবা��� খুব খারাপ লেগেছিলো। হুজুরটিকে কিছু বলারই সুযোগ দেয়া হচ্ছিল না, সেকুগুলা নিজেরাই প্রশ্ন করে নিজেরাই উত্তর দিচ্ছিলো। এই বইয়ের হুজুর টিভির সাক্ষাৎকার অংশে এর বিপরীত চিত্রটা এক্কেবারে ফাটাফাটি ছিল। যদিও আফসোস। এখনও মিডিয়ায় ইসলাম নাই। মিনা রাজু, পারুল বাউলের অংশটুকু তেমন জমে নাই মনে হয় । কিন্তু ফুলান পরিবারের অংশটা খুব ভালো লেগেছে। গ্রীক মিথোলজির উৎস , হ্যালোউইন , ভ্যালেন্টাইনস ডে, থার্টি ফার্স্ট নাইট, পহেলা বৈশাখ ; এক কথায় আবহমান বাংলার হাজার বছরের তথাকথিত ঐতিহ্যবাহী প্রায় সব উৎসবেই বাঙালি মুসলমানের অংশগ্রহণ যে কতটা স্ববিরোধী, খ্রীষ্টানদের সব উৎসবই যে কোনো না কোনো ভাবে প্যাগানদের থেকে আসছে হুজুর টিভির ইন্টারভিউ দেখে হাসতে হাসতে একটু জানা হলো আরকি। শর্টকাটে ইতিহাস পর্যালোচনা।
মূলত সেকুলার আর সরল মনা বাঙালি মুসলমানের হাস্যকর কিছু লজিক আর চিন্তাধারা যে কতটা অসার, হাস্যরসের মাধ্যমেই আবু ফুলান আর ইবনে ফুলান তাদের ইন্টারভিউয়ে মাধ্যমে তুলে ধরেছে।
সব সময় আমাদের বর্তমান সমাজে হুজুর বলতে যে একটা ভুরু কুচকান ভাব চলে আসে, তাদের নিয়ে, তাদের কাজ নিয়ে বিভিন্ন রকম ডাবল স্ট্যান্ডার্ড তৈরি করি, সেটার সুন্দর মার্জিত জবাব দেবার চেষ্টা।
বাংলা ইসলামি লেখার একটা নতুন ধারা তৈরি করা হয়েছে। অনেকটা ইসলামি প্রহসন বললে ভুল বলা হবে না।
হুজুর হয়ে হাসো কেন? বইটি হুজুর সম্পর্কে গতানুগতিক ধারনা পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছে। কৌতুক বা হাস্যরসের ছলে প্রাত্যাহিক জীবনে ঘটে যাওয়া ইসলামের নামে কুসংস্কার বা অজ্ঞধারণার ইতি টানার প্রয়াসে লিখিত হলেও ইসলামিক আদর্শের বিবেচনায় কিছু স্থানে বিনোদনকেন্দ্রিক উধাহরনগুলোর কিঞ্চিৎ নমনীয়তা প্রত্যাশিত। তবে লেখকের সৎ প্রচেষ্টা এবং নতুন আঙ্গিকে টিভি উপস্থাপকের ভুমিকায় একটি হুজুর টাইপ টিমকে হাজির করানোর চেষ্টা দৃষ্টিআকর্ষণীয়।
মানুষকে হাসানো সহজ নয়। আবার অনেক সময় মানুষ হাসাতে সত্য মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়। হুজুর হয়ে টিম খুব সুন্দর ভাবে এ বিষয় থেকে এড়িয়ে গিয়েছে। দ্বীন মেনে মানুষকে হাসানোর তাদের এই প্রচেষ্টা আল্লাহ কবুল করুন।
"হুজুর" নামটি শুনলেই এদেশের একশ্রেণির মানুষের মুখ কুঁচকে যায়। কি কারণে অপছন্দ হয়তো সে নিজেও জানে না। বইটি এক উপস্থাপক হুজুর ও তার ক্যামেরাম্যানের। একটি হাস্যরসপূর্ণ ব্যাঙ্গাত্মক বই এটি। মন খুশি করার জন্য একটানে পড়ার মতো বই।
- আসছে হুজুর! এইরকম কতো দেখছি। - হুজুর হয়ে এটা করো কেন, ওটা করো কেন? - হুজুর হইছো নাকি?
দাড়ি রাখলে, টাখনুর ওপর কাপড় পড়লে, পর্দা করলে আপনাকেও শুনতে হয় নাকি এমন কথা? কথা শুনতে শুনতে ত্যক্ত-বিরক্ত-হতাশ? তাহলে আর নয় হতাশা, আপনার জন্য থাকছে সমর্পণ প্রকাশনের "হুজুর হয়ে হাসো কেন?"। এক ফাইলই যথেষ্ট। মাত্র ১৭৫ ৳। আর নিশ্চিত ৩০-৩৫% ডিসকাউন্ট তো থাকছেই।
রম্য রচনার রিভিউতে যদি একটু রম্য না থাকে তাহলে চলে না। অন্তত এই ১১৮ পৃষ্ঠার বইটা পড়ার পরও যদি লেখায় একটু রসবোধ না আসে তাহলে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করার দরকার।
হুজুর কথাটির কীভাবে সমাজে প্রচলন তা আমার জানা নেই। একসময় তালিবুল ইলম/ আলেমদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হলেও, এখন দাড়িয়ালা দেখলেই হুজুর আর পর্দা করা মেয়ে দেখলেই হুজুরনী বলে ডাক দেয়। প্রশংসার উদ্দেশ্যে যে বলা হয় না তা তো স্পষ্ট। তবে, আমাদের হুজুরদের বয়েই গেছে ওনাদের কথায় মাইণ্ড খাইতে।
বইটিকে তিনভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। বিটিভি সমগ্র, নাটিকা এবং ফুলান সিরিজ। বিটিভি সমগ্র মূলত হলে বিটিভিতে প্রকাশিত তথাকথিত দর্শক নন্দিত কিছু অনুষ্ঠানের ইসলামিক ভার্সন। যেমনঃ মীনা, নানা-নাতি ইত্যাদি। তবে, এখানে হিমুর নামেও একটা লেখা আছে " হিমুর মুখে ১০৮ টি আজওয়া খেজুর"। এর সাথে বিটিভির কি সম্পর্ক বোধগম্য হয়নি। তবে, প্রত্যেকটি লেখাই খুব উপভোগ করেছি।
দ্বিতীয় অংশ ছিল নাটিকা। হুজুর এবং গায়ক সম্ভবত এক মেসে থাকে। হুজুরের জ্বালায় গায়কের জীবন পুরাই ত্যানা-ত্যানা অবস্থা। গায়ক যখনই কোনো গান ধরে, তখন হুজুর কীভাবে যেন সেখানে ইসলাম ঢুকিয়ে দেয়। একটা উদাহরণ দিই।
বাগানে একটা ভ্রমর খুঁজছিল গায়ক। না পেয়ে শেষে একটা মৌমাছিকে একটা কৌটায় আটকাল। তারপর সেটাকে নাকের কাছে ধরে গান গাইতে লাগল, "ভ্রমর কইয়ো গিয়াআআআআ…" পেছন থেকে হুজুর গেয়ে উঠল, "জাহান্নামের গরম অনলেএএএ…" গায়কের অসাবধানতায় কৌটা থেকে মৌমাছি বেরিয়ে গায়কের গায়ে হুল ফুটিয়ে চলে গেল। "অঙ্গ যায় জ্বলিয়া রে" বলে চিৎকার করতে করতে সারা বাগানে দৌড়াতে লাগল গায়ক।
না, না এখনই হাসবেন না। মূল আকর্ষণ এখনো বাকি। জি, হ্যাঁ ফুলান সিরিজ। রিপোর্টার আবু ফুলান এবং ইবনে ফুলান। একের পর এক ধরাশায়ী করে ভ্যালেন্টাইনস ডে, পয়লা বৈশাখ, নিউ ইয়ারসহ আরও বিভিন্ন সামাজিক ব্যাধিকে। বইয়ের সব থেকে ভালো অংশ হলো এটি। কারণ, এখানে সৃজনশীল কাজ করা হয়েছে। ১ম অংশে প্যারোড��র মতো কাজ ছিল, ২য় অংশেও গানের ব্যবহার হয়েছে। কিন্তু ৩য় তথা ফুলান সিরিজের অংশটি সম্পূর্ণ মৌলিক। অনুরোধ থাকবে "হুজুর হয়ে টিম" যেন এই ফুলান সিরিজটি চলমান রাখে।
বইয়ে বানান ভুল সংক্রান্ত তেমন কোনো ভুল ছিল না। তবে, ৫৯ পৃষ্ঠায় বড়দিন পর্ব শুরু করা হয়েছে। আবার ৬০ পৃষ্ঠায়ও আবারও বড়দিন পর্ব শুরু করা হয়েছে। "সমর্পণ প্রকাশন" এর কাছে অনুরোধ থাকবে পরবর্তী সংস্করণে যেন এ বিষয়টি সংশোধন করা হয়।
যারা এতোক্ষণ কষ্ট করে পড়লেন আপনাদেরকে অবশ্যই বলবো বইটা পড়তে। শুধু সময় কাটানোর জন্যই না বরং কিছু বিষয় জানার এবং এখনই সচেতন হওয়ার জন্য। কারণ, আমাদের সমাজে এমন অনেক অপসংস্কৃতি সংস্কৃতির নাম নিয়ে ঢুকে গেছে যে কোনটা কুফফারদের অনুষ্ঠান আর কোনটা আমাদের ঐতিহ্য বুঝে ওঠা দায়। এ সম্বন্ধে চমৎকার বিষয় জানার জন্য হলেও বইটা পড়া দরকার। পরিচিত হওয়া দরকার হুজুর আবু ফুলান আর ইবনে ফুলানের সাথে। জাযাকুমুল্লাহ খাইর।
ইসলামী সাহিত্যে প্রহসনমূলক রচনা থাকতে পারে ভাবতেও পারিনি। যাই হোক, অনেকদিন পর মীনা, ১ ২ ৩ সিসিমপুর, ইত্যাদির নানা-নাতি, মামা-ভাগিনা দেখলাম।... থুক্কু, পড়লাম। নিছক বিনোদনের জন্য পড়া যেতে পারে, তবে এ থেকেও শেখার আগে অনেক কিছু। কিছু কিছু গল্প আছে বিশেষ করে হুজুর টিভির অনুষ্ঠানগুলোতে আবু ফুলান আর ইবনু ফুলানের গল্পগুলো পশ্চিমা, সেক্যুলার, পোগতিশীল সমাজের চেতনায় আঘাত হানার মত। তবে প্রহসনের আদলে লেখা গল্পগুলোর চেতনায় আঘাতের ভার অত বেশি নয়।