বহুবার, বহুদিন ভেবেছি, রবিবাবুদের বাড়ির কন্যারা কেমন ছিলেন। তারা কেমন করে কাটাতেন তাদের সময়? সেই আগ্রহটা মিটেছিল চিত্রা দেবীর "ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহল" বইটা পড়ে। অবশ্য মিটেছিল না বলে বলা ভালো বেড়েছিল। নানা বই এর উল্লেখ পেয়েছিলাম। যা পড়বার আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। মীরা দেবীর "স্মৃতিকথা" তাই চোখে পড়তেই নিয়ে নিলাম। রবিবাবুর কন্যা বলে কথা। কি থাকে স্মৃতি কথায়? আমি ভাবতাম থাকবে তার বড় হয়ে ওঠার কথা, পিতার কথা। কিন্তু এ একেবারেই অন্য ছন্দে লেখা। আমাদের চারপাশের যে মানুষ গুলো আমাদের জীবনে নিবিড় ভাবে জড়িয়ে থাকেন, তাদের কর্মে, ভালোবাসায় ; তাদেরই কথা পরম মমতায় বলে গিয়েছেন মীরা। মানুষ গুলো চিনতে গিয়ে তাকে খুজে নেই, খুজে পাই পিতা কে। মায়ের ভালবাসার অভাব যিনি বুঝতে দেননি। খুজে পাই ভিন্ন ধারা শিশু শিক্ষার প্রবর্তক কে। শান্তিনিকেতনের গড়ে ওঠা।বাগান করতে ভালোবাসতেন মীরা দেবী। পড়তে পড়তে আমার মনে ভেসেছে এক নম্র ঠান্ডা মেয়ের মুখ। তবু বাবার যে সিদ্ধান্ত তার ভালো লাগেনি, বলেছেন। দাদার বই এ আছে "পিতা রবীন্দ্রনাথ" কে নিয়ে। তাই যতটুকু নইলে নয়, রবীঠাকুর ঠিক ততটুকু এসেছেন তার লেখায়। অসম্ভব ভালো লেগেছে। এবার পুত্রের লেখা বই খানা পড়তে চাই।