কারণ, এই বইয়ে নবীগণের কাহিনীর বাহুল্যতা নাই। কেবল মাত্র পবিত্র কোরআন এবং বিশ্বস্ত তাফসীর সমূহে যেসব কথা বর্ণিত আছেই তাইই এখানে তুলে ধরা হয়েছে।
সেইসাথে, এতযুগ ধরে আমরা যেসব কাহিনী জানতাম, তার একটা নতুন দিক দেখানো হয়েছে। নবীগণ সম্বন্ধে আমরা কোরআন ব্যতীত যেসব বর্ণনা পাই তা ইহুদী-নাসারা কর্তৃক ইসরাইলী উপকথা মাত্র, এসবের কোনো বিশ্বস্ত ভিত্তি নেই।
একই সাথে লেখক, প্রতিটি ঘটনার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন, যদিও সেসবই তার নিজস্ব মতামত। কিন্তু যৌক্তিকতা যথেষ্ট।
"এদের কাহিনীসমূহে বোধশক্তিসম্পন্ন মানুষদের জন্য শিক্ষণীয় বিষয় আছে। এ কুরআন কোন মিথ্যে রচনা নয়, বরং তাদের পূর্বে আগত কিতাবের প্রত্যয়নকারী আর যাবতীয় বিষয়ের বিস্তারিত বিররণে সমৃদ্ধ, আর মু’মিন সম্প্রদায়ের জন্য পথের দিশারী ও রহমাত।" (12: 111) "রসূলদের যে সব সংবাদসমূহ আমি তোমার কাছে বর্ণনা করলাম, এর দ্বারা আমি তোমার দিলকে মযবুত করছি, এতে তুমি প্রকৃত সত্যের জ্ঞান লাভ করবে আর মু’মিনদের জন্য এটা উপদেশ ও স্মারক।" (11: 120)
কুরআনে বর্নীত ২৫ জন নবীর কাহিনী জানার জন্য অপূর্ব একটি বই, যার প্রথম খন্ড এটি যেখানে সৃষ্টির শূরে থেকে কুরআনে বর্নীত ধারাবাহিকভাবে প্রথম ১৩জন নবীর কাহীনি এবং সেই সময়ের অবস্থা বর্নিত হয়েছে।
বইটির বিশেষত্ব হল এই যে, এখানে কুরআন, হাদিস ও বিশুদ্ধ রেওয়াতের আলোকে কাহীনি গুলো বর্নিত হয়েছে। তাই এতোদিন ধরে জেনে আশা বহুল প্রচলিত ভূল ভ্রান্তি গুলো ভেঙ্গে যাবে। তাই যারা নবীদের কাহীনি আগে থেকেই জানেন বলে মনে করেন, তারাও নতুনভাবে অনেক কিছু জানতে পারবেন।
আর আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ "তাদের এ কাহিনীগুলোতে অবশ্যই বুদ্ধিমানদের জন্য রয়েছে শিক্ষা, এটা কোন বানানো গল্প নয়, বরং তাদের পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যায়নকারী এবং প্রতিটি বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ। আর হিদায়াত ও রহমত ঐ কওমের জন্য যারা ঈমান আনে।" (সূরাঃ ইউসুফ, আয়াতঃ ১১১)
কুরআন হাদীসের আলোকে নবীদের জীবনী আলোচনা করা হয়েছে। ইসরাইলী উপকথা ও ইহুদি বর্ণনা পরিহার করা হয়েছে। ফলে রসালো বানোয়াট কাহিনী যা কিনা নবীদের চরিত্রের কালিমা লেপন করেছে এমন ঘটনা বাদ দেয়া গেছে। খুব সুন্দর বই। অবশ্যই রিকমেন্ন্ডেড।