"Khajuraho was a place of temples. Vidyadhar, the king of Chandel, had ordered to construct a kandariya temple infused with erotic sculptures. For that, the women are bought in here to be the sculptors’ muse. The stones were marked with the helpless cry of the women. Such a beauty is Mitrabrinda. One of the soldiers, Rahil falls in love with her. This love brings them to an unimaginable situation. What happens then? The prince of Chittor is Maharana Kumbho. His wife is Meerabai who has fallen for the god Krishna. She knows nothing beside him. But the prince still searches for love. Lust for female body manipulates him. Since he is a normal man. Will the prince find the woman of her desire?"
আলোচ্য বইটি দুটি লেখার সংগ্রহ। প্রথম লেখাটি হল উপন্যাস: "খাজুরাহো সুন্দরী"। খাজুরাহো মন্দিরের ভাস্কর্য ভারতের শিল্পে ও স্থাপত্যে সম্ভবত সর্বাধিক আলোচিত এবং বিতর্কিত বিষয়। আনুমানিক ৯০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১১৫০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে, চান্দেল্ল রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত হয়েছিল এই মন্দিরগুলো। এদের মধ্যে শাস্ত্রীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চৌষট্টি যোগিনীর মন্দির। সৌন্দর্যের দিক দিয়ে অনন্য কাণ্ডারিয় মহাদেব মন্দির। কিন্তু যে মন্দিরটির টানেই অধিকাংশ পর্যটক, ফটোগ্রাফার, শুচিবায়ুগ্রস্ত প্রবীণ, এবং আধুনিকতা মদগর্বী নবীন খাজুরাহোতে আসেন তা হল লক্ষ্মণ মন্দির। কেন বলুন তো? কারণ 'ইরোটিক স্কাল্পচার' দিয়ে গুগল-এ খোঁজ করলেই উঠে আসে এই মন্দিরগাত্রের ফ্রেমের পর ফ্রেম। গবেষক প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত-কে উদ্ধৃত করেই বলি, "...যদি শুধুমাত্র মৈথুন মূর্তি বা মিথুন দৃশ্যই বিচার্য বিষয় হয়, তাহলে বলতে হবে, খাজুরাহোর লক্ষ্মণ মন্দিরে এমন সব মূর্তি আছে, তথাকথিত অশ্লীলতার মাপকাঠিতে সেগুলির ধারে কাছে পৌঁছতে পারবে না খাজুরাহোর অন্য যেকোনো মন্দিরের মূর্তি।" এই উপন্যাস সেই লক্ষ্মণ মন্দির নির্মাণের একটি বিশেষ সময় নিয়ে রচিত। মন্দিরের গায়ে সুরসুন্দরী ও মিথুন মূর্তি নির্মাণের জন্য ভাস্করদের মডেল হওয়ায় জন্য দাসবাজার থেকে নিয়ে আসা হল সর্বাঙ্গসুন্দর, এবং আক্ষরিক অর্থে অতুলনীয় দেহসৌষ্ঠবের অধিকারিণী নারীদের। তারা যাতে মন্দির ছেড়ে পালাতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য মোতায়েন হল এক সেনাদল। নারীদের বাছাইপর্ব চলাকালীন দাস হিসেবে আনীত পরমাসুন্দরী মিত্রাবৃন্দার সঙ্গে নাটকীয়ভাবে 'আলাপ' হয় সেনাদলের প্রধান রাহিল-এর। ক্রমে রাহিলের মতো আমরাও বুঝতে পারি, পাথরে কুঁদে মূর্তি বা মন্দির গড়া নয়, ওখানে আয়োজিত হতে চলেছে এক রক্তক্ষয়ী নাটক। মন্দিরনগরীর প্রধান পুরোহিত অনুদেব, প্রধান ভাস্কর চিত্রবান, দাসীদের কলানৈপুণ্য শেখানো ও শাসন করায় নিয়োজিত বৃহন্নলা বিকর্ণা, বৃদ্ধ ভাস্কর মাহবা, মানবনারীর যোনিলোভী কৃষ্ণবানরের দল, এরা প্রত্যেকে দাবার ঘুঁটির মতো নড়াচড়া করেছে এই আদ্যন্ত দ্রুতগামী উপন্যাসে। একেবারে শেষে চমকিত পাঠক আবিষ্কার করেন, রিরংসা, করুণা, লোভ, ও প্রেমের পাগলা হাওয়া এই কাহিনির নৌকোকে পৌঁছে দিয়েছে তার ট্র্যাজিক, কিন্তু অনিবার্য পরিণতিতে। এই উপন্যাসের ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়ে আমার বিস্তর সংশয় আছে।ভাষাগত দুর্বলতার জন্য একে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলতেও আমার কিছু আপত্তি আছে। তবে ইতিহাসের পটভূমিতে এক গতিময় এবং কঠোরভাবে প্রাপ্তমনস্ক উপাখ্যান হিসেবে এই উপন্যাস অতি উৎকৃষ্ট, এবং আমার মতে, না পড়লে লোকসান।
এই বইয়ের দ্বিতীয় লেখাটি একটি নভেল্লা, "একা কুম্ভ"। এই কাহিনির কেন্দ্রে আছেন এক বৈপরীত্যে ভরা মানুষ, চিতোরের রাজা মহারানা কুম্ভ। শরীর জুড়ে প্রৌঢ়ত্বের করাঘাত, নিজপুত্রের বিশ্বাসঘাতকতা ও লোভ, এই দুই শত্রুর সঙ্গে তাঁকে দুর্বল করে তুলেছিল তাঁর একান্ত ভালোবাসার মানুষটিও। রাজমহিষী মীরা তখন কৃষ্ণপ্রেমে সবাইকে ভুলে চলে যেতে চাইছেন সুদূর বৃন্দাবনে। আবার, ঠিক তখনই কুম্ভ-র একান্ত স্নেহভাজন ও সুহৃৎ রাঠোররাজের বিবাহ সন্নিকট। মহারানা কুম্ভ কি পারলেন তাঁর দিশাহীন একাকিত্ব জয় করতে? নাকি রক্ত ও অশ্রুর আড়ালে ঢাকা পড়ে গেল আরো কিছু বৃষ্টিভেজা রাত আর ভোরের রক্তরাগ-মাখা মিঠে হাওয়ার স্মৃতি? ইতিহাস নয়। বরং অতীতের পটভূমিতে লেখা দুটি কাল্পনিক উপাখ্যান হিসেবেই বইটা পড়ুন। দেখবেন, তাহলেই আর এই যুগল প্রেমোপাখ্যান উপভোগে কোনো অসুবিধে হবে না। পড়ে ফেলুন।
প্রথমেই বলে নিই, আমি কিন্তু ঐতিহাসিক বই খুব একটা পছন্দ করিনা। সেইমতই আমি আমার পাঠ্য প্রতিক্রিয়া জানাবো। এখনও পর্যন্ত যা যা ঐতিহাসিক বই পড়েছি তার মধ্যে সেরা লেগেছে হুমায়ূন আহমেদের "বাদশাহ নামদার।" হিমাদ্রি কিশোর আমার পছন্দের লেখকদের মধ্যে অন্যতম, তাই ওনার এই ঐতিহাসিক বইটি বাদ দিতে পারলাম না, তাই পড়া। ২টি ইতিহাস নির্ভর আখ্যানের সমাহার এই বই। বইএর প্রচ্ছদ আকর্ষণীয়, নাম না দেখলেও খাজুরাহর ভাস্কর্যের কথাই স্মরণে আসে। ১) খাজুরাহ সুন্দরী ঃ (৪/৫) খাজুরাহর বিখ্যাত কান্ডারীয় মন্দিরকে কেন্দ্র করেই এ কাহিনী। এখানে বর্ণিত হয়েছে মন্দির গাত্রের মূর্তি নির্মাণের জন্য কথা থেকে দাসী কিনে আনা হত, কিভাবে সুরসুন্দরীদের নির্বাচন করা হত, কিভাবে তাদের মিথুনবদ্ধ অবস্থায় থাকতে বাধ্য করা হত ও সেই মিথুনরত মূর্তি ভাস্কররা নির্মাণ করতো। এর সাথেই আছে এক দাসী মিত্রাবৃন্দা ও সেনাধ্যক্ষ রাহিলের প্রেম কাহিনী। 🔺 ইতিহাসপ্রেমী না হয়েও আমি বলছি কাহিনীটি বেশ ভালো লেগেছে। সুরসুন্দরীদের ভাগ্যের কথা ভেবে খুব খারাপ লাগছিলো। খাজুরাহের কান্ডারীয় মন্দির সম্পর্কে বহু কিছু জ্ঞান অর্জন করলাম।
২) একা কুম্ভ ঃ (২.৫/৫) চিতোরের সর্বশ্রেষ্ঠ নরপতি মহারানা কুম্ভের একাকীত্বের কাহিনী এটি।যিনি নির্মাণ করেছিলেন চিতোরের শৌর্য বীর্যের প্রতীক বিজয় স্তম্ভ। কুম্ভের প্রিয় মহিষী মীরা, অথচ মীরা কৃষ্ণপ্রেমে বিভোর।ওদিকে পুত্র সিংহাসনের লোভে পিতাকে মারতে উন্মুখ।আর অন্যদিকে কুম্ভ বিবাহ করতে চায় ঝিলকুমারীকে, অথচ ঝিলকুমারী ভালোবাসে রাঠোররাজ চন্দ্রকান্তকে। 🔺 কুম্ভের একাকীত্বের পাশাপাশি রাজা ভীম সিং ও রাণী পদ্মিনীর কাহিনীও উঠে এসেছে, এবং সেটি খুবই ভালো লেগেছে পড়তে। এ প্রসঙ্গে মনে পড়ে যাচ্ছিল বলিউডের ফেমাস একটি মুভি "Padmaavat" -র কথা, ওখানে গল্পে বর্ণিত ঘটনাটা দেখানো হয়েছে। কাহিনী প্রথম থেকে ধীর গতির মনে হয়েছে, আর রাঠোররাজের প্রতি ঝুলকুমারীর প্রেমের সততা দেখে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি।সেভাবে আপ্লুত হতে পারিনি গল্পটি পুরোটা পড়ে তাই এত কম রেটিং।
ভারতের ইতিহাসের পটভূমিতে রচিত দুই ভিন্ন ঐতিহাসিক প্রেম কাহিনী 'খাজুরাহো সুন্দরী' এবং 'একা কুম্ভ' রয়েছে এই উপন্যাসটিতে। রাজা মহারাজাদের বীরত্ব, পরাক্রম প্রভৃতি গুণাবলীর সাথে থাকে নারী শরীরকে ভোগ করার এক আদিম কামুক মনোভাব তা উঠে এসেছে এই উপন্যাসে।
✓খাজুরাহো সুন্দরী চান্দেলরাজ বিদ্যাধরের নির্দেশে রাজধানী খর্জুরবাহকে নির্মিত হয় এক কন্দরীয় মহাদেব মন্দির। মন্দির বা স্থাপত্যে মিথুন মূর্তি থাকলে নাকি বজ্রপাত হয় না। তাই মন্দিরের বিভিন্ন খোপ ভরাট করা হয়েছিল সুরসুন্দরী ও মিথুন মূর্তি দিয়ে। বৃহন্নলা বিকর্ণার তত্ত্বাবধানে ভিনদেশি এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২৮ জন দেবদাসীকে কেনা হয় মন্দিরের সুরসুন্দরীদের মূর্তি নির্মাণ কাজের জন্য। মগধ, উজ্জয়িনী, কামরূপ, কনজ, ত্রিপুরীর দাস বাজার থেকে এদের নিয়ে আসা হয়েছ�� এদের দেখে মিথুন ভাস্কর্য ও যৌন ভাস্কর্য নির্মাণ করার জন্য। এই অসহায় নারীদের সম্পূর্ণ বস্ত্রহীন করে তাদের নগ্নমূর্তি রচনা করেন ভাস্কররা। পাথরে খোদিত হয় তাদের নিখুঁত দেহসৌষ্ঠব। এদের মধ্যে একজন ছিল অপরূপ রূপ যৌবনের অধিকারিণী মিত্রাবৃন্দা। সে প্রথম রাজি ছিল না এই মৈথুন ভাস্কর্য এর মডেল হতে। তাই সে আত্মহত্যা করতে নিজের বুকে ছুরি গাঁথতে যায়। কিন্তু কর্তব্যরত সৈনিক রাহিল তাকে বাঁচিয়ে নেয়। এই ভাবে তারা পরিচিত হয় একে অপরের সাথে।
চান্দেলরাজের প্রধান সেনাপতি মহাসৈনাধ্যক্ষ উগ্ৰায়ুধ। প্রকটাক্ষ মন্দিরে রক্ষী বাহিনীর প্রধান। এই মন্দির নগরীতে যত মন্দির আছে তাদের পুরোহিতদের অধিপতি হলেন পুরোহিত শ্রেষ্ঠ অকৃতদার অনুদেব। সব রিপুকে তিনি জয় করেছেন। সত্যি কি তাই? যেসব নারীদের ধর্ষণ-মৃত্যু হয় সবই কি কৃষ্ণ বর্ণের দীর্ঘ রোমের বানরদের কাজ? বৃদ্ধ ভাস্কর মাহবা বা প্রধান ভাস্কর চিত্রবান কি আদৌ অনুগত? গভীর রাতে তান্ত্রিক যোগী কি যক্ষ হয়ে ঘুরে বেড়ায়?
সকলের অগোচরে ঠিক হয়, সুরসুন্দরীদের ভাস্কর্য নির্মাণ হয়ে গেলে তাদের হত্যা করা হবে, যাতে ওই নারীদের ভাস্কর্য আর না কেউ বানাতে পারে। তাই তাদের জন্য খনন হচ্ছে কূপ যাতে নিক্ষপ করা হবে। কিন্তু রাহিল এই চক্রান্তের কথা জানতে পেরে যায়। শেষপর্যন্ত রাহিল ও মিত্রাবৃন্দার ভালোবাসা কি পরিণতি পেয়েছিল? মিত্রাবৃন্দা কি সত্যিই মুক্তি পেয়েছিল? নাকি এই প্রেম তাদেরকে এক ভয়ঙ্কর পরিণতির দিকে নিয়ে যায়? এই সুরসুন্দরীদের মানসিক যন্ত্রণা ও তাদের শোষণের এই কাহিনী চিত্রিত হয়েছে এই উপন্যাসে। অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া নারী এবং দুর্ভাগা ভাস্করদের কথাও লেখক প্রকাশ করেছেন তার কাহিনীতে। এই ভাস্কররা হারিয়ে যান ইতিহাসের পাতা থেকে, শুধুমাত্র থেকে যান ক্ষমতাশালী মহারাজ। ইতিহাস শুধু তাকেই মনে রাখবে, সব কৃতিত্ব যেন তারই। প্রাপ্তবয়স্ক কাহিনী হলেও, শব্দ চয়ন এতোই যথাযথ যে, তা কখনই আপত্তিকর হয়ে ওঠেনি। টানটান উত্তেজনায় ভরা এই উপন্যাসের আছে ইতিহাস ও প্রেমকাহিনীর এক সুন্দর মেলবন্ধন।
✓একা কুম্ভ মীরাবাঈ এর চিন্তনে মননে শুধুমাত্র গিরিধারী। মীরা তাঁর ইহকাল পরকাল সবকিছুই সমর্পণ করেছেন গিরিধারীর শ্রীচরণে। কিন্তু তাঁর স্বামী চিতোররাজ মহারাণা কুম্ভও মীরার প্রেম ভালোবাসা পেতে চায়। প্রিয়তম পত্নীর ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হতে হতে তিনি হয়ে ওঠেন অসহিষ্ণু। রাঠোর রাজ চন্দ্রকান্ত আর মহারানা কুম্ভ অসম বন্ধু। রাঠোর রাজের বাগদত্তা ঝুলকুমারী। কৃষ্ণ প্রেমে মগ্ন মীরাকে কী মেনে নেয়া যায় একজন আদর্শ স্ত্রী হিসাবে? ভালোবাসার মর্যাদা কি সত্যিই দিতে পেরেছিলেন মীরা? শেষ পর্যন্ত কী মহারাণা কুম্ভ পান তাঁর ইপ্সিত নারীকে?
লেখকের কাহিনী বিন্যাস এবং ঘটনার টানটান বুননে এক অমোঘ আকর্ষণ তৈরি হয়েছে এই উপন্যাসে। বেশ উত্তেজনায় ভরা গতিময় কাহিনী।
ভাস্করদের শিল্পসৃষ্টির নেপথ্যে অমানবিক নির্যাতনের এক অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে এই উপন্যাসে। যেখানে দাসীদের উলঙ্গ মূর্তির ন্যায় দাঁড় করিয়ে রাখা হতো সৈনিক, মজদুর ও পণ্ডিতদের সামনে। মন্দিরের মূর্তি নির্মাণের জন্য অপরিচিত দাসের সঙ্গে দাসীদের মিথুন অবস্থায় দাঁড় করানো হতো। সুন্দরী দাসী বাছাইয়ের প্রতিও রয়েছে বিশেষ রীতি। এসবের দায় মূলত কাদের এবং স্বার্থ কি, এগুলো বইটার এক গুরুত্বপূর্ণ দিক।
তবে, এই কঠোর বাস্তবতার পাশাপশি লেখক অত্যন্ত নিপুণভাবে এক সৈনিকের সঙ্গে এক সুন্দরীর প্রেমকাহিনী বর্ণনা করেছেন। এই প্রেমকাহিনীকে এক মনোহর মোড়কে উপস্থাপন করেছে যা পাঠকের মন কেড়ে নিবে। অন্যান্য সুন্দরীদের দৈহিক সৌন্দর্যের বর্ণনায় লেখক মানসিক ভাবে পরিপক্কদের জন্য তেমন ভাষায় বর্ণনা করেছেন। মূলত, 'খাজুরাহ সুন্দরী' বইটি পরিণত মনের পাঠকদের জন্যই রচিত।
এই উপন্যাসের মতো প্লট নিয়ে আমার আগে কোনো বই পড়া হয়নি। এটি সম্পূর্ণ এক নতুন অভিজ্ঞতা সহ দারুণ দুটি গল্প পড়া হলো। এতটাই আকর্ষণীয় যে, পড়তে পড়তে কখন সময় কেটে যায় তার হুঁশই থাকে না। প্রথম গল্পটি দ্বিতীয়টার চেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। লেখকের বর্ণনাশৈলী বেশ চমৎকার। ইতিহাস এবং কল্পনার মিশেলে লেখা এই বইটি পাঠককে মুগ্ধ করবে এমনটাই আমার বিশ্বাস।
খাজুরাহ সুন্দরী :মন্দিরময় খাজুরাহ নগরীতে চান্দেলরাজ বিদ্যাধরের নির্দেশে তৈরী হচ্ছে কান্ডরীয় মন্দির।সেখানে মিথুন ভাস্কর্য নির্মাণকাজের জন্যদাসবাজার থেকে কিনে আনা হয় নারীদের।তারপর তাদেরকে নগ্ন করে মূর্তি রচনা করেন ভাস্কররা।তেমনই এক সুরসুন্দরী মিত্রাবৃন্দার প্রেমে বিভোর হয় সৈনিক রাহিল।কি হবে সেই প্রেম পরিণতি?
একা কুম্ভ:চিতোরেশ্বর মহারানা কুম্ভের স্ত্রী কৃষ্ণপ্রেমে বিভোর।কিন্তু মহারানা তো রক্তমাংসের মানুষ।তাই খুঁজে বেরান নারীপ্রেমকে। শেষ পযর্ন্ত কি করবেন মহারানা কুম্ভ?তিনি কি খুঁজে পাবেন তার ইপ্সিত নারীকে?
🔖পাঠ্য অনুভূতিঃ
ভালো দিকঃ 🖋এটা আমার লেখকের পড়া দ্বিতীয় বই।লেখকের লেখনীশৈলীতে আমি মুগ্ধ। 🖋লেখকের লেখা অত্যন্ত সহজ এবং সরল। 🖋ঐতিহাসিক কাহিনীর প্রেক্ষাপটে লেখা দুটি উপন্যাসই আমার দারুন লেগেছে।
বহুদিন পর সকালে শুরু করে একটানা পরে সন্ধ্যেয় একখানি বই শেষ করলাম , সাধারণত ভাবে ঐতিহাসিক উপন্যাসে যে সাধু ভাষার প্রয়োগ লক্ষ করা যায় তা এই বইতে অনুপস্থিত । আর সেটিকেই যদি কেউ ঐতিহাসিক উপন্যাসের প্রধান শর্ত বলে মান্য করেন তবে এই বইয়ের দুটি উপন্যাসকে হয়তো ঐতিহাসিক উপন্যাস বলা চলবেনা । লেখকের নিজের বয়ানেও এ হলো ইতিহাসের পটভূমিকায় রচিত কাল্পনিক গল্প । অতীব গতিময়, মেদহীন লেখনী , সুন্দর চরিত্র চিত্রায়ন এর দৌলতে এই বইয়ের দুটি গল্পই একদম uputdownable ।
ইতিহাস নির্ভর ২টি কাহিনী। প্রথমটা পড়লাম। খাজুরাহে কোনদিন যাওয়া হয়নি। কিন্তু বইটা পড়ে মানসভ্রমন করা হয়ে গেলো। এখন মনে হচ্ছে আমি তো ছিলাম, যখন এই মন্দিরটা নির্মাণ করা হয়েছিল। আমিতো সেখানেই দারিয়ে সব দেখেছি যেভাবে মন্দিরের ভাস্কর্যগুলো তৈরি হয়েছিল। আর এটাই লেখার গুণ।
হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্তের লেখা প্রথম পড়লাম। এক মলাটে দুই ঐতিহাসিক উপন্যাস। খাজুরাহ সুন্দরী বেশ ভালোই লেগেছে, কিন্তু একা কুম্ভটা তেমন ভালো লাগে নি। দুইটা মিলিয়ে ঝিলিয়ে ৩/৫।
We appreciate art for its beauty. But there is always so much pain, tears, sweat, blood, cry in there of so many people who has lost forever in the history.
খাজুরাহো সুন্দরী-5/5 একা কুম্ভ-3/5 ( A little show-going, and I have no idea whereas the basic history is followed or not. Currently I am in search of truth among the myths. I'll update my review then.)
FINALLY a bengali novel!!! The poise, the beauty, the detailing, the composure of nervous romantic tales of turmoil and impatience...this book isn't the finest...but definitely a work of art..
ইতিহাসের ছাত্রী নই, তাই একেবারে বুক ফুলিয়ে জোর গলায় প্রশ্ন তুলতে খানিকটা কিন্তু কিন্তু লাগছে, কিন্তু ওই যুগের মডেলদের vital statistics মাপার চিত্তাকর্ষক উপায়টি, যেটি এই বইখানিতে আস্ত একটি দৃশ্য হিসেবে উঠে আসে, লেখক মহাশয় কোন পুঁথি টুথি ঘেঁটে পেলেন তা জানতে বড় কৌতূহলী রইলাম ।