Rizia Rahman was an Indian-born Bangladeshi novelist. She had a number of novels and short stories to her credit. Her works cut across all genres.
She wrote in various genres since the late sixties: novels, short stories, essays, literary criticism, belles-lettres, and juvenile fiction. Beginning with straight forward narratives, she moved on to magic realism and multilayered structures. She explored important human issues in a sympathetic and engaging manner.
রিজিয়া রহমান আমার সবচেয়ে প্রিয় লেখকদের কাতর থেকে আর একদমই দূরে নেই।
এ গল্প চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গিবাজারের সেইসব মানুষদের যারা বিশ্বাস করে বহুযুগ আগে এই বন্দরে বানিজ্য করতে আসা পর্তুগীজদের বংশধর তারা। রক্তে যেমন তাদের সেই ফিরিঙ্গি নাবিকদের উন্মাদনা, তেমনি পূর্বপুরুষদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত যেন তাদের ললাট লিখন। অদেখা মাতৃভূমি পর্তুগাল বিশেষ করে লিসবনের জন্য তাদের মন পোড়ে। তাদের মেয়েরা লিসির মত বন্দরে নোঙর করা বিদেশী নাবিকদের প্রেমে পড়ে, ভাবে এইতো এই লোকটিই বুঝি তাকে ফিরিঙ্গিবাজারের নোংরা ময়লা পরিবেশ থেকে মুক্তি দেবে। মুক্তিতো মেলেই না বরং তাদের দূর্বলতার সুযোগ নেয় বন্দরে বন্দরে ঘোরা এসব নাবিকেরা ক্ষণিকের আনন্দের জন্য। বনির মত ফিরিঙ্গিবাজারের কোন কোন ছেলে এখনও পায় নীল চোখ, দীর্ঘদেহ, সোনালি চুল -অনেকটা সেই সব নাবিকদের মত যারা একদিন হত্যা আর লুটের রাজত্ব চালিয়েছিল এই দেশে। শুধু তফাত এই যে দেখতে বোম্বেটেদের মত মনে হলেও ভাগ্যদেবী তাদের প্রতি অতটাও প্রসন্ন নন! এ গল্প অ্যান্টনি ড্রিক্রুজেরও, যে প্রতি রোববার চার্চের পর পতেঙ্গা সৈকতে যেত বিদেশী নাবিকদের তাঁর "দেশের" জ্ঞাতি বলে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে যারা তাকে একটা "শ্যাবি বেগার" এর চেয়ে বেশি কিছু ভাবত না। অ্যান্টনি ড্রিক্রুজের মত লোকের সন্তানেরা, হতে পারে পর্তুগীজদের বংশধর, কিন্তু তারা কখনই হতে পারে না মাদামকুরি হেলেন কেলার বা খুব ফেমাস কেউ। খুব জোর তারা হয় বন্দরে বেড়া নাবিকদের মনোরঞ্জনকারিনী আর নয়ত ড্রাগ স্মাগলার।
লেখকরা তাদের প্রথম দিকের উপন্যাসে সাধারণত এক্সপেরিমেন্টাল কাজ খুব কম করেন। রিজিয়া রহমান তার ২য় উপন্যাস 'উত্তর পুরুষে' (১৯৬৯) সেই সাহসী কাজটা করেছেন। গল্পটা পর্তুগীজ উত্তর পুরুষ- ফিরিঙ্গীদের বাংলাদেশে জীবনযাপন নিয়ে। ষাটের দশকের সমসাময়িক ঘটনার সাথে ঐতিহাসিক ঘটনার ফ্ল্যাশব্যাক বেশ ভাল লাগলো। ফিরিঙ্গীদের নিয়ে লেখার জন্য লেখকের ভাষা ও আঙ্গিক উভয়ক্ষেত্রেই অভিনব। রিজিয়া রহমানের চূড়ান্ত রকমের নিরাসক্ত সমাপ্তি পাঠক মনকে একদম মুচড়ে দেয়।