Rizia Rahman was an Indian-born Bangladeshi novelist. She had a number of novels and short stories to her credit. Her works cut across all genres.
She wrote in various genres since the late sixties: novels, short stories, essays, literary criticism, belles-lettres, and juvenile fiction. Beginning with straight forward narratives, she moved on to magic realism and multilayered structures. She explored important human issues in a sympathetic and engaging manner.
"হরিয়া পাতা তুলছে। হরিয়ার হাত আশান্বিত । হরিয়া পাতা তুলছে। হরিয়ার হাত দৃপ্ত যৌবনমত্ত । হরিয়া পাতা তুলছে। হরিয়ার হাত শ্রান্ত । হরিয়া পাতা তুলছে। হরিয়ার হাত অবসন্ন। হরিয়া তবু পাতা তুলছে। হরিয়ার হাত দুটোতে যুগ যুগান্তরের ক্লান্তি ভর করছে। শিরদাঁড়া বাঁকা পৌঢ় হরিয়া মাথা নীচু করে ঘাড় গুঁজে পাতা তোলে। হরিয়া এখন সোজা হয়ে ওপরে তাকাতে ভুলে গেছে। হরিয়া দাঁড়িয়ে আছে সেই পুরনো মাটিতে । হরিয়ার পরণে ছেঁড়া ধুতির টুকরো। সারাদিনে পেটে পড়েছে এক পেয়ালা লবণ গোলা রং চা, আর একমুঠো ছাতু ।কাল হরিয়া তলব পাবে। তার সবটাই চলে যাবে মহাজনের কাছে আর পাট্টায়। হরিয়ার অনেক ধার। হরিয়ার ছেলেটা বাগানের গরুর পাল নিয়ে জঙ্গলে চরায়। চামেলী পাতা তোলে । আঙুল কেটে ঝরলে চায়ের পাতা ছিঁড়ে ঘসে দেয় আঙুলে । তবু ফোঁটা ফোঁটা রক্ত ঝরে । জড়িয়ে যায় দুটি পাত একটি কুঁড়ির সবুজ শরীরে। চামেলীর হাতের রক্ত করে, বাংলাদেশে, ভারতে, শ্রীলংকায়। চায়ের পেয়ালায়।" বইয়ের সবচেয়ে সুন্দর অংশ এটুকু। পুরো বইটিই যদি এমন হোতো! রিজিয়া রহমানের আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহের লেশমাত্র নেই। চা বাগানের শ্রমিকদের জীবনধারা ও ইতিহাস নিয়ে তিনি যা লিখেছেন তা গুরুত্বপূর্ণ। সমস্যা হচ্ছে, উপন্যাসের ঘটনাপ্রবাহে প্রাণ নেই। চরিত্রগুলো সবাই একেকটা "টাইপ।" এজন্য বিয়োগান্ত পরিণতিও মনে দাগ কাটতে পারে না। শুধু সত্য দিয়ে শিল্পকে সবসময় বাঁচানো যায় না।এজন্য যে মহৎ মিথ্যার দরকার হয় তা এখানে অনুপস্থিত। উপন্যাস হিসেবে নয়, ইতিহাস জানার জন্য বইটি তাৎপর্যবাহী।